Posts

Showing posts from May, 2026

ভাঙবে না ঘুম

 ভাঙবে না ঘুম  খাদিজা বেগম  প্রতিটা রাত সকাল হবে  একদিন আমার ভাঙবে না ঘুম চোখের,  সেদিনও গান গাইবে পাখি  আমার আঁখি দেখবা না ভির লোকের।। সেদিনও ফুল ফুটবে বনে পুব আকাশে উঠবে সোনার রবি,  সেদিনও ঘ্রান ছড়াবে ফুল  গান কবিতা লিখতে বসবে কবি।  সেদিন তাদের গলবে অশ্রু  যারা আমার কলিজায় এই বুকের।। আগের মতই উঠবে জোয়ার  কানায় কানায় ভরে যাবে সাগর,  আমার বুকের মানিক রতন  পাইবেনা আর মায়ের হাতের আদর।  আমার সন্তান তোমার জিম্মায়  দুঃখ থেকে আড়াল করে রেখো, আল্লাহ তুমি করুনাময়  ওদের অভিভাবক হয়ে থেকো। মুছিয়ে দাও চোখের অশ্রু  ঘুচিয়ে দাও ব্যথা সকল শোকের।।

প্রতি রাতে

 প্রতি রাতে  খাদিজা বেগম  কিছু কিছু রাত অন্ধকার প্রতি রাতে পূর্ণিমা চাঁদ থাকে না,  কিছু কিছু প্রতারক লোক  তারা বিশ্বাস এর মর্যাদা রাখে না।। তাই বলি মন যাকে তাকে  ভালোবেসে নয়ন ভরে কেঁদোনা,  ভুল মানুষকে বাসলে ভালো  সইতে হবে জীবন ভরে বেদনা। বসন্ত না এলে মনে  মন বাগানে বসে কোকিল ডাকে না।। মানুষ কোন গাছের ফুল নয়  ফোঁটার পরে ঝরে যাবে শুকিয়ে,  মানুষের প্রেম ভালবাসা  যত সম্ভব রাখতে হবে লুকিয়ে।। বৃষ্টির আবাস দিয়ে যায় মেঘ  ভালোবাসার আবাস মেলে ইশারায়,  সত্যি কারের প্রেমিক যারা  ভবিষ্যতের কথা ভেবে পা বাড়ায়।  প্রেম যদি হয় অন্ধের মত  কেহ কারো ক্ষতে মলম মাখে না।।

ভালোবাসায় জড়ালে

 ভালোবাসায় জড়ালে  খাদিজা বেগম ভুলে থাকতে পারে না মন একবার কারো ভালবাসায় জড়ালে, ঘুরে ফিরে মনে পড়ে শেষ বিকালে গোধূলি রং ছড়ালে।। হালকা হালকা সোনা রোদে  টেনে নিয়ে যায় মন তারি মায়াতে,  প্রেম অভাবে অভাবী মন  আশ্রয় খুজে পেতে চায় তার ছায়াতে। বিস্মিত মন প্রশ্ন করে  শূন্য এ বুক কেন প্রেমে ভরালে।। এক সাগর প্রেম দিয়ে তুমি  একদিন আমার তপ্ত হৃদয় জুড়ালে,  তার পরে এক সময়ে এসে  মন ভেঙেছে তোমার প্রেমের কুড়ালে।। আমায় তোমার খেলনা ভেবে  খেলা শেষে ভেঙ্গে চলে গিয়েছো,  আজ খুব জানতে ইচ্ছে করে এই মন ভেঙ্গে বলো না কি পেয়েছো? কেন এত কাছে এসে  ভালোবেসে দূর অজানায় হারালে?? 

একা একা

 একা থাকা  খাদিজা বেগম  পৃথিবীতে বাঁচতে হলে  বন্ধু, বান্ধব, প্রিয় মানুষ লাগে,  নিজের সম্মান নিজের মূল্য  রক্ষা করা লাগে সবার আগে।। সম্মান ছাড়া একটা মানুষ  ডাস্টবিনের ওই আবর্জনার মত,  বন্ধুবান্ধব প্রিয় মানুষ  একটা সময় হৃদয় করে ক্ষত। একা থাকা শিখে গেলে  হৃদয় মাঝে জান্নাতের সুখ জাগে।। নিজের চেয়ে অন্য জনকে  গুরুত্ব দাও যদি বেশি করে,  তারাই তোমায় দুঃখ দেবে  হয়তো একদিন আগে কিংবা পরে।। সময় নষ্ট করো না আর নিজের সময় নিজের কাজে লাগাও,  অন্যের ভাবনা না ভেবে আর নিজের বিবেক নিজের বুদ্ধি জাগাও। স্বপ্ন নামের বীজ বুনে যাও  তোমার কর্মফলের বাগে বাগে।। তোমার জীবন তোমার যুদ্ধ  একা একা লড়াই করে দাঁড়াও,  অন্যের পিছে না থেকে আর  নিজ সাহসে নিজের চরণ বাড়াও। সাদা কালো এই জীবনটা   ভরিয়ে দাও রঙিন স্বপ্নের দাগে।।

আমার পৃথিবী

 আমার পৃথিবী  খাদিজা বেগম তোমার আদর যত্নে আমার  পৃথিবীটা ফুলের মতো হাসে,  বাকি সময়গুলো থাকতে দিও  প্রিয় শুধু তোমার পাশে পাশে।। তুমি আমার সেই পৃথিবী  যেখানে নাই কোন চোখের পানি,  যেথায় শুধু তুমি রাজা  আমি তোমার ওই হৃদয়ের রানী। রাত গভীরে জোছনা হয়ে  আমার এ মন তোমার কাছে আসে।। তোমার কথায় এতো মধু  এমন কথা শুনিনি তো আগে, তোমার মুখের কথা শুনে  আমার প্রাণে জান্নাতের সুখ জাগে।। মরণ এলো মরি যেন  তোমার বুকের মধ্যখানে আমি, তুমি আমার কত আপন  তা জানে ওই আমার অন্তর্যামী।  দুঃখ কষ্ট সব ভুলে যাই  যখন আমি তোমাকে পাই কাছে।।

কিছু ক্ষত থাকে

 কিছু ক্ষত থাকে  খাদিজা বেগম  এমন কিছু ক্ষত থাকে  কোন উপায় থাকে না তা সারাবার, নীরবে হয় রক্তক্ষরণ নিঃশব্দে মন করে শুধু হাহাকার।। কেউ বোঝেনা কেউ জানে না  সে ক্ষতটার কি ভয়ংকর যন্ত্রণার, মরে মরে বেঁচে থাকা  কি নৃশংস কি যে নিষ্ঠুর সান্তনার। মনুষ্যত্ব মাথায় রেখে মরতে গিয়ে ফের আসতে হয় বারে বার।। এমনি এক ক্ষত নিয়ে  করে গেলাম ভাল থাকার অভিনয়, তব জীবন আনন্দময়  এই জীবনের প্রতি থাকি সবিনয়।। কিছু কিছু ব্যথা থাকে  যার থাকে না প্রতিষেধক কোন,  কিছু ক্ষত কিছু ব্যথা  এই নিয়ে মানব জীবন যেন। জেগে থাকে কিছু কষ্ট  কোন উপায় নাই তারে ঘুম পাড়াবার।।

অবিরত

 অবিরত  খাদিজা বেগম  তোমায় ছাড়া বেঁচে আছি  ঝরে পড়া ফুলের মত,  মরে মরে বেঁচে আছি  পানি ছাড়া নদীর মত।। তুমি ছিলে হৃদয় জুড়ে  সেই হৃদয়ে আজ শূন্যতা,  তুমি ছাড়া আমি চুপচাপ  গ্রাস করেছে এক মৌনতা।। তোমার শূন্যস্থান এখন  ভরা শত শত ক্ষত।। তোমায় ভেবে বুক ভেসে যায়  দুই নয়নের জলে জলে,  মুখ বলে না কোন কথা  প্রাণ মরণের দিকে ঢলে।। তুমি ছিলে দেহের মাঝে  অদৃশ্য এক আত্মা হয়ে, তোমায় ছাড়া এই দেহটা  আমার যাচ্ছে ক্ষয়ে ক্ষয়ে। তোমায় ছাড়া জীবন আমায়  যন্ত্রনা দেয় অবিরত।।

ইতি আনাস

 ইতি আনাস খাদিজা বেগম  মা আমি মিছিলে যাচ্ছি আমি তো নিজেকে আর আটকিয়ে  বাড়িতে রাখতে পারলাম না মা, তোমার কথাটি অমান্য করে  বেড়িয়ে গেলাম আমাকে ডেকো না।। ক্ষমা করে দাও হে আম্মাজান  তোমার কথাকে আমি অমান্য করেছি, স্বার্থপরের মত ঘরে বসে থাকতে পারি নাই   তাই তো মিছিলের পথটি ধরেছি।। আমাদের ভাইরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য  কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে  রাজপথে সংগ্রাম করে,  নিজেদের জীবন বিসর্জন দিচ্ছে অকাতরে।। মাসুম বাচ্চা প্রতিবন্ধী ল্যাংড়া মানুষ  যদি সংগ্রামে নামতে পারে,  তাহলে আমি কেন বসে থাকবো ঘরে মা মানুষ তো মরার জন্যই জন্ম গ্রহণ করে।। তাই মৃত্যুর ভয়ে আর ভীত না হয়ে  স্বার্থপরের মত ঘরে কোনে না থেকে, তাই সংগ্রামী বীরের মতন  আমি গুলি খেয়ে বিলাতে চাই নিজেকে।।  ইদুরের মত গর্তে লুকিয়ে হাজার বছর বাঁচার চেয়ে  বীরের মত এক মুহূর্ত বেঁচে থাকাই শ্রেয়, এই দেশ দেশের সম্মান আমার কাছে অতটাই প্রিয়, মা তুমি যতটা প্রিয়। মা আমি যদি আর বেঁচে না ফিরি কষ্ট পেয়ো না গর্বিত হয়ো তুমি, শহীদ হয়েও যেন মুক্ত করত পারি স্বৈরাচার থেকে আম...

মাতাল করা উষ্ণতায়

 মাতাল করা উষ্ণতায়  খাদিজা বেগম  ফাগুন হাওয়া আগুন হয়ে  যখন আমার বিরহী এই মন পোড়ায়, তখন আমার মন টানে খুব তোমার ঠোঁটের মাতাল করা উষ্ণতায়।। নিশি জাগা পাখির মতন  তোমায় ভেবে জেগে থাকে দুই নয়ন, দূরে দূরে আর থেকো না  প্রিয় আমার তোমাকে খুব প্রয়োজন। নিশি রাতের নীরবতায়  চুপি চুপি তোমার কথা বলে যায়।। অবিনশ্বর ভালোবাসা  হাজার কথা বলে বলেও ফুরায় না,  না পেলে মন তোমার ছোঁয়া  বরফ জলে ডুব দিলেও জুড়ায় না।। স্বর্গের সুখে ভরে এই মন তোমার আমার আত্মা হলে একাকার,  তুমি আমি ভিন্ন হলে  হৃদ মাজারে জেগে ওঠে হাহাকার। কি করে যে বলবো তোমায়  ভিক্ষারীনি হয়ে গেছি প্রেমের দায়।।

স্বাক্ষর করে দাও

 স্বাক্ষর করে দাও  খাদিজা বেগম  তোমার ঠোঁটের অক্ষর দিয়ে  স্বাক্ষর করে দাও কপালের মাঝে,  আদর মেখে ভরিয়ে দাও  আমার শূন্য মনের ভাঁজে ভাঁজে।। উষ্ণ ঠোঁটের আলিঙ্গনে  পাগল করে দাও আমাকে তুমি,  মন সাহারা প্রেম পিপাসায় জ্বলে পুড়ে ছাই হৃদয়ের ভূমি। তোমায় ভেবে উদাসী মন  তোমাকে চায় সকাল সন্ধ্যা সাঝে।। যেমন করে উর্মি এসে  আছড়ে পড়ে নীল সাগরের কূলে,  তেমন করে মন ভোমরা  আছড়ে পড়ে তোমার প্রেমের ফুলে।। তোমার হাতের তুলি দিয়ে  প্রেম মেখে দাও আমার অঙ্গে অঙ্গে,  যে প্রেমে মন বন্দী থাকে রাঙিয়ে দাও সেই প্রেমেরি রঙে। তোমায় নিয়ে ভাবতে গিয়ে  এই প্রেমিক মন হেসে উঠে লাজে।।

প্রেমের রঙে

 প্রেমের রঙে  খাদিজা বেগম  সাদা কালো এই জীবনটা  রঙিন হলো তোমার প্রেমের রঙে, আজো তোমার আঙ্গুলের ছাপ  অনুভব হয় আমার অঙ্গে অঙ্গে।। তোমার ঠোঁটের সিগনেচারে  আমায় তুমি তোমার করে নিলে,  পৃথিবীর সব খুশি যেন  তুমি আমার বুকে ঢেলে দিলে।  অন্য কিছু চাইনা আমি তুমি থাকলে আমার সঙ্গে সঙ্গে।। ভালোবাসা শুধু যেন  অস্তিত্বের টান ভিতর থেকে টানে,  না দেখিলে মন মরে যায়  দেখলে তোমায় শান্তি লাগে প্রাণে।। তোমার চোখের গভীর মায়ায়  সেইতো কবে মন হারালাম আমি, এই অন্তরে শুধু তুমি  তোমার চেয়ে নাই কিছু আর দামি। আত্মা আমার আকুল হলো  ডুবে যেতে তোমার প্রেমের গঙ্গে।।

আত্মাকে ছুঁয়ে

 আত্মাকে ছুঁয়ে  খাদিজা বেগম  তুমি ছুঁয়ে দিলে আমায়  যেন আত্মা যায় আত্মাকে ছুঁয়ে,  ঘুমন্ত প্রেম জেগে ওঠে  সতেজ হয় মন সমস্ত ঘুম ধুয়ে।। পাহাড় সমান স্থির এ মন  ঝর্ণার মতন চঞ্চল হয়ে ছোটে,  তোমার ছোঁয়ায় মন বাগানে  হাজারো ফুল ঘ্রান ছড়িয়ে ফোটে। পুইয়ের ডাগার মত এ মন  শুধু তোমার দিকেই থাকে নুয়ে।। পালের মাঝে হাওয়া লেগে  যেমন নৌকা ছোটে তালে তালে, তেমন তোমার ছোঁয়া লেগে  মন পেতে চায় তোমায় কালে কালে।। তোমার ছোঁয়া জাদুর মত  দুঃখ কষ্ট দূর হয়ে যায় তাতে,  সারা জীবন ভালোবেসে  রেখো আমায় তোমার সাথে সাথে। তোমার বুকেই যায় যেন প্রাণ  থাকি যেন চিরুনিদ্রায় শুয়ে।।

আমার আঙ্গুল গুলো

 তোমার আঙুল গুলো  খাদিজা বেগম  তোমার আঙ্গুল গুলো যখন  খুব যতনে আমায় ভালোবাসে,  আমার আত্মা সুখ খুঁজে পায় শান্তিতে চোখ বন্ধ হয়ে আসে।। না পেলে চোখ তোমার দেখা  এই মন পুড়ে একাকিত্বের জ্বরে, তুমি আমার থার্মোমিটার  আলতো করে এই মুখে দাও ভরে। তুমি থাকলে দূরে সরে  নয়ন আমার অশ্রু জলে ভাসে।। নীল সাগরের বুকে যেমন  দিবানিশি ঢেউয়ের খেলা চলে, তেমন আমার উদাসী মন দিবানিশি তোমার কথাই বলে। তুমি অসুখ তুমি ঔষধ  তুমি আমায় সুস্থ রাখার ডাক্তার,  তোমাকে চাই মনে প্রাণে  তোমাকে চাই ঘুরে ফিরে আবার।। অসুখ বিসুখ দূর হয়ে যায়  তুমি থাকলে আমার পাশেপাশে।।

আল্লাহ্

 আল্লাহ্  খাদিজা বেগম  আল্লাহ্ তোমার কাছে এই মোনাজাত  সত্যের উপর অটুট রেখো আমায়, আল্লাহ্ কোনদিনও কোন সময়  আমি যেন ভুলে না যাই তোমায়।। আল্লাহ্ আমায় তুমি যেখানে নাও নৈতিকতার ভিতর দিয়ে নিও,  আল্লাহ্ আমার কাছে তুমি ছাড়া  যেন অন্য কিছু হয় না প্রিয়। আমার এই মন যেন নতো থাকে  অবিরত আল্লাহ তোমার সেজদায়।। আল্লাহ্, ধুয়ে মুছে ছাপ করে দাও  এই হৃদয়ের সব অহংকার বিদ্বেষ, যেন আমার কাছে সবার আগে  অটল থাকে তোমায় দেয়া আদেশ।। তুমি আমার অন্তর্যামী  এই অন্তরের সকল কথা জানো,  ভুলে ভরা এই জীবনটা  তবু আমায় তোমার কাছেই টানো।  তুমি আমার পথ প্রদর্শক  নইলে আমার থাকতো না তো উপায়।।

নতুন সূর্য

 নতুন সূর্য  খাদিজা বেগম  নৈতিকতার নতুন সূর্য  ঢেকে দিল একটা মেঘের দল,  বর্জ্য হয়ে গর্জে ওঠো  যাক বয়ে যাক রক্তে রক্তের ঢল।। বুক চিতিয়ে ফের দাড়াবো  জীবন দিয়ে রক্ষা করব দেশ,  শহীদ হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে  আমরা করব স্বৈরাচারীর শেষ। মৃত্যুর ভয়ে কাঁপে না বীর  মা গো মুছে ফেলো চোখের জল।। মিথ্যার মেঘে সত্যের সূর্য  ঢেকে রাখতে পারেনি তো কেউ,  মেঘে ঝরে যায় বৃষ্টি হলেই  তখন ছড়ায় সূর্যের আলোর ঢেউ।। আমরা বৃষ্টি, সৃষ্টি, ধ্বংস  আমরা আগুন পুড়ে করি ছাই,  দুর্নীতিবাজ দেশের গাদ্দার  ওদের শাস্তি ছাড়া ক্ষমা নাই।  ওদের মুখের কথার থেকেও  অনেক দামি পশু পাখির মল।।

তোমার কাছেই আসব

 তোমার কাছেই আসব  খাদিজা বেগম ধুয়ে মুছে বিরহের ক্ষণ আবার আমি তোমার কাছেই আসবো,  অপেক্ষার ক্ষণ হবে মধুর যখন এসে তোমায় ভালোবাসবো।। তোমার আমার মাঝে সেদিন  থাকবে না আর কোন বাঁধার দেয়াল, তোমার আমার দেখা হলে  থাকবে না আর এই পৃথিবীর খেয়াল। আবার আমরা ভালোবেসে ভালোবাসার প্রেম জোয়ারে ভাসবো।। বিরহের ঝড় থেমে যাবে  হৃদয় বাগান ফুলে ফুলে ভরবে,  যখন তুমি এই আমাকে  নয়ন বুঝে খুব জড়িয়ে ধরবে।। আর কিছু দিন ধৈর্য ধরো  তোমার যত প্রেম আছে বাকি,  ভালোবেসে সব মিটাবো  রেখে তোমার ঐ আঁখিতে আঁখি। দিন গুনে যাই আবার কবে  তোমার সাথে হৃদয় খুলে হাসবো।।

বিষ মাখানো কথা

 বিষ মাখানো কথা  খাদিজা বেগম  যে বিষের নাই প্রতিষেধক  সেই বিষাক্ত কথা তোমার মুখে, বিষ মাখানো কথার বিষে  ছটফট করে মন মরে যায় বুকে। তুমি যদি দেখতে একবার এই মন মরে যাওয়ার লাশের কাঁড়ি,  অনুশোচনার অশ্রুতে  পাষান হৃদয় করতো আহাজারি। অশ্লীল কথা বলতে না আর  নিজের কথা নিজেই দিতে রুখে।। পুষ্পের কথায় সুবাস ছড়ায়  জলের কথায় সুমধুর সুর বাজে,  পাখির কথায় আনন্দ হয়  বিষ কেন যে তোমার কথার মাঝে।। একটুখানি নরম সুরে  কথা বললে কি বা ক্ষতি হত, এই হৃদয়ে হতো নাতো তোমার কথায় রক্ত ঝরা ক্ষত।  তোমার কথার মিষ্টি পেলে  এই জীবনটা থাকতো অনেক সুখে।।

এ কি দেখলাম

 একি দেখলাম  খাদিজা বেগম  হঠাৎ করে এ কি দেখলাম  তারে দেখার পরে নয়ন সরেনা,  যতই দেখি স্বাদ মেটে না  তারে দেখে আমার নয়ন ভরে না।। হৃদয়ে চায় তারে পেতে  এই কথাটা কেমন করে বলি,  বলবো বলবো করে আমি  দিবানিশি তার পিছনে চলি। কেমন করে জানবো তারে কি পছন্দ করে আর কি করে না।। কি বললে সে খুশি হবে  সেই ভাবো না ভেবে পাগল এই মন, তারে ছাড়া অন্য কিছু  দেখতে চায় না আমার দুটি নয়ন।। প্রভু, আমায় দয়া করে  তার হৃদয়ে স্থান করে দিও,  আমি যেন হতে পারি  তার হৃদয়ের প্রিয় থেকে প্রিয়। তার প্রেমেতে মরে গেছি  তাই তো তারে দেখে পলক পড়ে না।।

প্রেম মরে যায়

 প্রেম মরে যায়  খাদিজা বেগম  তুমি আমার জীবন নও তো  তুমি আমার এই জীবনের অংশ,  তোমায় ছাড়া জীবন আমার  ধীরে ধীরে হয়ে যাবে ধংস।। তুমি আমার হৃদয় নও তো  তুমি আমার এই হৃদয়ের বায়ু,  তোমায় ছাড়া শেষ হবে সব আস্তে আস্তে নিভে যাবে আয়ু। তুমি থেকো মিথুন হয়ে  আমি হয়ে থাকবো তোমার হংস।। তুমি আমার অঙ্গের মত  অবিচল পথ চলা সঙ্গের সাথী,  তোমায় ছাড়া আলো হারা  অন্ধের মত জীবন আঁধার রাতি।। তোমার আমার এই সম্পর্ক  সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে তুলে রেখো,  সুখে দুঃখে অসুস্থতায়  সারা জীবন এই হাত ধরে থেকো। অবহেলায় প্রেম মরে যায়  ভালোবাসা খুন হয়ে যায় নৃশংস।।

নয়নে ক্ষুধা

 নয়নে ক্ষুধা  খাদিজা বেগম  দুই নয়নের ক্ষুধার জ্বালায়  আমার অঙ্গ জ্বলে পুড়ে ছাই,  যারে দেখতে পাগল নয়ন  সে তো আমার আশেপাশে নাই।। নয়ন ভরা এত ক্ষুধা  সে কথাটি জানা ছিল না, যারে এত দেখতে চায় মন  সে তো আমায় দেখা দিল না।  যেই নয়নে এত পানি  সেই নয়নের ক্ষুধায় পুড়ে যাই।। একটি নজর দেখবো বলে  দুই নয়নের ঝরে অশ্রু জল,  ভালোবাসার এই জ্বালাতন অনেক বেশি ভালোবাসার ফল।। বারে বারে মন কে বলি  এতো বেশি ভালোবেসো না,  যত বেশি ভালোবাসা  ততই বেশি হবে যন্ত্রণা।  সে তো আমায় দেখতে চায় না  আমি তারে যতই দেখতে চাই।।

ভালোবাসা মানে

 ভালবাসা মানে  খাদিজা বেগম  ভালোবাসা মানে হলো  বিনা সুতায় গাঁথা ফুলের মালা,  বিনা তারে বাজানো সুর  যাতে খুলে যায় হৃদয়ের তালা।। ভালোবাসা মানে হলো  এক অদৃশ্য টানে বাঁধা থাকা,  দুঃখ কষ্ট ঝড় তুফানে  একে অন্যজনকে ধরে রাখা।  ভালোবাসা মানে হলো  অন্যের তরে নিজের ত্যাগের পালা।। ভালোবাসা মানে হলো  মরুর বুকে প্রবল জোয়ার ওঠা,  মরে যাওয়া বৃক্ষ ডালে  আদর যত্নের ছোঁয়ায় পুষ্প ফোটা।। ভালোবাসা মানে হলো  দুজন মিলে ভালো থাকার চেষ্টা,  একের তরে অন্য জনা  প্রস্তুত করে রাখা নিজের বেশটা। কেহ যেন কারো কাছে  পায় না কভু প্রতারণার জ্বালা।।

মন চায়

 মন চায়  খাদিজা বেগম  মন চায় দিবানিশি তোমার  আপন করে ভালবাসতে,  হাজার বাঁধা ভেঙেচুরে  মন চায় তোমার কাছে আসতে।। মেঘের মত ভেসে বেড়াও  তুমি আমার মন আকাশে,  হাত বাড়ালে পাই না তোমায়  মন তোমাকে ভালবাসে। তুমি আমার প্রেমের সাগর  সে সাগরে মন চায় ভাসতে।। রাতের গায়ে জোছনা ঝরে  দিনের গায়ে রবির আলো,  তুমি আমার পাশে থাকলে  সব কিছুই লাগে ভালো।। তুমি থাকলে দূরে সরে হাজার কষ্ট ভাসে মুখে,  পাঁজর ভাঙা তুফান উঠে  যেন আমার শান্ত বুকে।  তোমায় পেলে কান্না ভুলে  হৃদয় খুলে পারি হাসতে।।

উৎসবমুখর দেহ

 উৎসবমুখর দেহ  খাদিজা বেগম  আজকের চঞ্চল উৎসবমুখর দেহ কালকে নিথর হয়ে থাকবে পরে,  তবু কেন তোমার ব্যবহারে  অন্য লোকের চোখের পানি ঝরে।। আজকের পলক ফেলা দুটি নয়ন  কালকে পলক ছাড়া হয়ে রবে,  তবু কেন অহংকারী তুমি তোমার কিসের এই অহংকার ভবে। জন্ম নিয়ে পৃথিবীতে এলে  চলে যেতে হবে মৃত্যুর ঘরে।। লাভ হবে না হিংসা নিন্দা পুষে ক্ষনিকের এই জীবন নিয়ে এসে,  তার চেয়ে ভাই এই জীবন টা কাটাই নীতি নৈতিকতা ভালোবেসে।। আজকের বিকট বজ্র কন্ঠ তোমার  কালকে খুব নীরবে পরে থাকবে,  না ফেরার পথ ধরে চলে যাবে  ফিরবে না আর যতই তোমায় ডাকবে।  যেন জীবন তরী ডুবে না যায়  তোমার নোংরা লোভ লালসার ঝড়ে।।

না বলা প্রেম

 না বলা প্রেম  খাদিজা বেগম  আমার আল্লাহ সাক্ষী আছে  ভালবাসি বলতে গিয়েও বলি নাই,  বারেবারে আমি তোমার  পাশাপাশি চলতে গিয়েও চলি নাই।। তোমার দিকে হাত বাড়িয়েও বারেবারে হাত গুটিয়ে এনেছি, যেদিন তোমায় প্রথম দেখি  সেদিন থেকেই আপন বলে মেনেছি।। তুমি আমার না ছোয়া প্রেম  যে প্রেম ভালবাসার কোন কলি নাই।। তোমাকে চোখ দেখতে গিয়ে  চোখের পাতা মুঝে ছিল নীরবে,  দু'চোখ বুজে যদি দেখা মেলে  বল তবে এই চোখ খুলে কি হবে।? হাতের ছোঁয়ায় কি আসে যায়  এই মন যদি তোমাকে রয় জড়িয়ে, ভালোবাসি না বলেও  যদি ভালোবাসায় মন রয় ভরিয়ে। বলার চেয়ে না বলা প্রেম  যদি অমর হয়ে রয় তাই বলি নাই।।

ফাঁকি

 ফাঁকি  খাদিজা বেগম  অন্য কিছু দেখার জন্য  ব্যস্ত থাকে তোমার দুটি আঁখি, অথচ এই আমি শুধু  তোমার দিকেই হাত বাড়িয়ে রাখি।। আমি দেখালে দেখি তোমায়  হাজার যত্ন ভালবাসা মেখে,  তবু তুমি যাও চলে যাও  অন্যদিকে আমায় একা রেখে।  শেষ বিচারের পার পাবে না যদি তুমি আমাকে দাও ফাঁকি।। কোথায় কোথায় প্রেম বিলিয়ে  আমার কাছে হয়ে থাকো পাথর, মনের চোখে দেখো আমায় আমার হৃদয় প্রেম পিপাসায় কাতর।। তুমি ছাড়া আর কেহ নাই  আর কেহ নাই আমার মনের মাঝে,  তোমাকে চাই আপন করে  আমার সকল সকাল- সন্ধ্যা সাঝে। তুমি থাকো শ্বাস-নিশ্বাসে তুমি যেন আমার প্রাণের পাখি।।

ভুলে গেছো

 ভুলে গেছো খাদিজা বেগম ভালোবেসে ভুলে গেছো  প্রেমের নামে করে গেছো ছল, তবু তোমায় মনে হলে  বাঁধ মানে না দুই নয়নের জল।। মনের মাঝে হুহু করে  রাত গভীরে কেঁদে ওঠে প্রাণ,  কান্না ছাড়া দাও নি কিছু  আমার ভালবাসার প্রতিদান। চোখের কোনে সারাক্ষণে  বিরহী জল করে টলোমল।। ঢেউয়ের মতো ছুটে ছিলাম  একটুখানি পাইতে তোমার কূল,  তোমার কূলে ঠাই না দিয়ে  বারে বারে বুঝেছিলে ভুল।। নতুন সঙ্গী পেয়ে তুমি  আমার কথা একবার ভাবো নাই,  তোমার বিয়াগো ব্যাথায় ব্যাথায়  আমার জীবন জ্বলে পুড়ে ছাই। এ তো আমার অভিশাপ নয়  তুমি পাবেই তোমার কর্ম ফল।।

অনেক কথা বলতাম

 অনেক কথা বলতাম  খাদিজা বেগম  অনেক কথা বলতাম আমি  তুমি যদি শুনতে ভালোবেসে,  তোমার অবহেলায় ঝড়ে  আমার সেসব কথা গেল ভেসে।। সারা জীবন চলতাম দুজন  তুমি যদি থাকতে আমার সাথে,  তোমার হাতে রেখে এই হাত  গল্প করতাম জেগে জেগে রাতে।  দুঃখগুলো ছুটি দিতাম  জীবন কেটে যেত হেসে হেসে।। তোমাকে চাই বৃষ্টির মত  তুমি বৃষ্টি হয়ে এসো বুকে, সাহারা বুক খাঁখাঁ করে  কাতর হলাম প্রেম পিপাসায় ধুঁকে।  ফুলের মত কথা আমার  দুই নয়নে অশ্রু হয়ে ঝরে, তোমার কথা ভেবে ভেবে  আমার হৃদয় কেঁদে কেঁদে মরে। তোমার দেয়া ব্যথা নিয়ে  যাচ্ছি চলে না ফেরার ঐ দেশে।।

নারী পুরুষ এক হলে

 নারী পুরুষ এক হলে  খাদিজা বেগম  পুরুষ বলো নারী বলো  একি সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি সকলে,  জন্ম থেকে সবাই স্বাধীন  কেউ রেখোনা কাউকে কারো দখলে।। মানুষ কোন বস্তুত নয়,  নয়তো কোন ক্রায় করা সম্পত্তি,  দখল করে রাখতে গেলেই  তখন দেখা দেবে বিরাট বিপত্তি।  দায়িত্ববোধ মাথায় রেখে  নিজের মতো চলবে সবাই ভোর হলে।। সবার উপর বিনয়ী হও কারো উপর কেউ করো না অত্যাচার,  ভুলে ভরা মানব জীবন  তাই বলে ভাই ক্ষমা করো বারে বার।। ভুল হলে ভুল শিকার কর  ক্ষমা চাইতে কোন লজ্জা পেয়ো না,  জেনে শুনে বারে বারে  নিজের ইচ্ছায় ভুল পথে আর যেয়ো না। একলা জীবন শূন্য লাগে  পূর্ণতা পায় নারী পুরুষ এক হলে।।

প্রথম প্রেম

 প্রথম প্রেম  খাদিজা বেগম  তুমি আমার সেই প্রথম প্রেম যেদিন প্রথম এসেছিলে স্বপনে, সেদিন এই মন শিহরিত  হয়েছিল ভীরু ভীরু কাঁপনে।। তোমার দেয়া সেই গোলাপটা  আগের মত নেই আর গেছে শুকিয়ে,  তবু তারে রাত গভীরে  চুম্বন করি এই দুটি ঠোঁট ঝুঁকিয়ে। আজও খুঁজি আগের মত  তোমাকে চাই একাকী খুব গোপনে।। যেদিন তুমি দিয়েছিলে  টকটকে লাল গোলাপের ফুল এই হাতে, সেদিন থেকেই আমায় রেখে  মন ছুটে যায় শুধু তোমার সাথে।। যে প্রেম যত গভীর থাকে  যেন সে প্রেম থাকে তত নিরবে, সে ভাবে না তার বর্তমান  ভবিষ্যতে ভালবাসার কি হবে। নির্ভাবনায় ভালোবেসে  দূরে থেকেও শান্তিতে রয় দুজনে।।

আমার একটা বাগান

 আমার একটা বাগান  খাদিজা বেগম  আমার একটা বাগান আছে  সেই বাগানে ফুল ফোটে না,  আমার একটা সাগর আছে  সেই সাগরে ঢেউ ছোটে না।। বল বল তুমি কি গো  মন বাগানের মালিক হবে,  তোমার প্রেমের ছোঁয়ায় ছোঁয়ায়  হাজার পুষ্প ফুটে রবে। আমার একটা আকাশ আছে  সেই আকাশে চাঁদ ওঠে না।। বল বল তুমি কি গো  হবে আমার পূর্ণিমা চাঁদ,  তোমার জোসনা মেখে মেখে  এই মন পাবে অমৃত স্বাদ।। আমার একটা বিকাল আছে  সেই বিকালের রংধনু নাই,  শেষ বিকালে আমি তোমায়  রংধনুর রঙ হিসেবে চাই। মনের মত একটা মানুষ  ভাগ্যে কেন যে জোটে না।।

একাকীত্ব আমার

 একাকীত্ব আমার  খাদিজা বেগম  সাধারণ লোক এর ভিড় থেকে তুমি যখন আমাকে নাও ডেকে,  তোমার সাথে মিশে মিশে হারিয়ে যাই আমি নিজে থেকে।। এই পৃথিবীর চেয়ে বড়  তোমার দেয়া একাকীত্ব আমার,  যখন আমি একা থাকি  চারি পাশে অনুভব হয় তোমার।  আমার আঁধার ভরা জীবন আলোকিত হয় তোমার নূর মেখে।। তুমি যদি পাশে থাকো  এই পৃথিবীর অন্য কিছু চাই না, ভুল করেও আমি যেন  তোমায় ছেড়ে অন্যদিকে যাই না।। আমায় তোমার দুই চরণের  জুতা করে রেখে দিও পায়ে,  মাথা যেন থাকে সেজদায়  আমি তোমার সৃষ্টি হওয়ার দায়ে। যেন ধন্য হতে পারি  এই নয়নে তোমায় দেখে দেখে।।

বুকের ক্ষত

 বুকের ক্ষত  খাদিজা বেগম  স্মৃতিগুলো এসে এসে  বুকের ক্ষত তাজা করে দিয়ে যায়,  এই বর্তমান থেকে আমায়  টেনেহিঁচড়ে সেই অতীতে নিয়ে যায়।। যেই অতীতে তুমি ছিলে  ভালোবেসে বুকেতে বুক মিলিয়ে,  ভালোবাসার সেই দিনগুলো  ছাই করেছ তোমার হাতে জ্বালিয়ে। হৃদয় কাঁদে অনুসূচনায়  আজ নিজেকে লাগে বড় নিরুপায়।। এখন আমি পাগল পাগল ছোট্ট বুকে আকাশ সমান কষ্ট, ভালোবেসে মন্দ হলাম  জীবন আমার হয়ে গেছে নষ্ট।। তবু চোখের জল লুকিয়ে  আমি ঘুরে বেড়াই হাসি মুখে,  আমি যখন একা থাকি  মনের ব্যথায় ঝড় উঠে যায় বুকে। ধীরে ধীরে শ্বাস ভারী হয় বুকের পাঁজর ভাঙ্গে নীরব যন্ত্রণায়।।

আত্মসম্মান

 আত্মসম্মান  খাদিজা বেগম  তোমায় ভালবাসতে গিয়ে আত্মসম্মান সব দিয়েছি বলিদান, তাইতো তুমি বারে বারে  ঘুরে ফিরে কর আমায় অপমান।। ভালোবাসি বলে তোমায়  এত বেশি অবহেলা দিও না,  ভালোবাসার বদলে তুমি  আমার থেকে যেন ঘৃণা নিয়ো না। ভালোবাসার বিপরীতে  তীব্র ঘৃণা থাকে আছে তার প্রমাণ।। কোনদিনও তুমি আমায়  আমার মত করে ভালবাসনি,  তাইতো দুঃখের সময় হলে  সরে গেছো দূরে কাছে আসোনি।। বৃষ্টি এলেই আসো তুমি  ভেজার ভয়ে আমার ছাতার তলাতে, অগ্নি খরার পোড়ার ভয়ে  আসো তুমি আমার প্রেমের জলাতে। পরিস্থিতির সাথে সাথে  তাইতো তুমি পাল্টাও তোমার অবস্থান।।

শোনো নারী

 শোনো নারী  খাদিজা বেগম  শোনো নারী তুমি সাম্যের পথে হাটলে  তোমায় দেখে কুকুরে শীশ বাজাবে,  কোন কোন প্রেমিক পুরুষ তোমায় নিয়ে স্বপ্নের বাসর সাজাবে।। তুমি তাতে কান দিও না  তোমার মত হেঁটে চলো সম্মুখে,  হাজার বাঁধা আসবে পথে  সাহস নিয়ে দিতে হবে তা রুখে। যে নারী তার লক্ষে স্থির বাঁধভাঙ্গা জল হয়ে লক্ষ্যের দিক যাবে।। বন্দী হয় না বাগানের ফুল ফুলের ঘ্রাণ ছড়িয়ে যায় বাতাসে,  মাটির বুকে জোছনা ছড়ায়  বন্দী হয় না পূর্ণিমার চাঁদ আকাশে।। তোমার কাজের ভিতর দিয়ে  তোমার মূল্য তুমিই কার নির্ধারণ,  পাখির মত উড়বে তুমি  তোমার বন্দি হয়ে থাকার নাই কারণ। নারীর প্রতি কু মনোভাব  আছে যার সেই জ্বলবে অগ্নি আজাবে।।

কথা ছিল

 কথা ছিল  খাদিজা বেগম  কথা ছিল তুমি আমি  সারা জীবন পাশাপাশি থাকবো,  ভুল করে কেউ চলে গেলে  অন্যজনে ধরে বেঁধে রাখবো।। কথা ছিল তুমি আমি  দুজন হব দুজনারি ছায়া, সেই কথায় আজ কোথায় গেল  কোথায় গেল আমাদের সেই মায়া। কথা ছিল চাঁদনী রাতে  একি সাথে চাঁদের আলো মাখবো।। আমি না হয় ভুল করেছি  তুমি কেন ভুল শুধরিয়ে দাও নি,  আমি না হয় সরে গেলাম  তুমি কেন কাছে টেনে নাও নি।। আজ তোমাকে চেয়ে চেয়ে  চোখের পানি নীরবে যায় ঝরে,  ভুলে যেতে পারি না তো  বারে বারে তোমায় মনে পড়ে।  কথা ছিল দুজন মিলে  গল্প করে করে রাত্রি জাগবো।। তুমি ছাড়া আমি কেন  একা একা বিরহী রাত জাগি,  এতো ভালোবেসে আমায়  ব্যথা দিলে বলো না কার লাগি।।

স্বামী মানে

 স্বামী মানে  খাদিজা বেগম  স্বামী মানে প্রবল বিশ্বাস  নির্ভরতার সেরা দৃঢ় স্থান, এই বিশ্বাসে সকল স্ত্রী  স্বামীর সাথে করে নিজের প্রস্থান।। স্বামীর জন্য ছাড়ে ভাই-বোন  পিতা-মাতা আর আত্মীয়-স্বজন,  স্ত্রীর কাছে স্বামীর চেয়ে  অন্য কেহ হয় না কভু আপন।  স্বামীর সাথে থাকার জন্য  হাসিমুখে মানে মহাপ্রয়াণ।। তবুওতো কিছু স্বামী  ভোমরার মতন ফুলে ফুলে উড়ে, স্বামী হলে বিশ্বাস ঘাতক  স্ত্রী তখন ভিতর থেকে পুড়ে।। সুখে থাকার অভিনয়ে  হাসির মেকাপ মেখে থাকে মুখে,  চরিত্রহীন স্বামীর ঘরে  কত স্ত্রী মরে ধুঁকে ধুঁকে। রাত গভীরে একা শুয়ে  অশ্রু জলে স্ত্রী করে স্নান।।

রক্ত ক্ষরণ

 রক্তক্ষরণ  খাদিজা বেগম  তুমি আমায় ঘরে রেখে  বাইরে বাইরে কাটাও সময়,  আমি যেন বন্দি পাখি  তোমার জীবন আনন্দময়।। আমি কভু চাইনা তুমি  আমার সাথে বন্দি থাকো,  আমি তো চাই তুমি আমায়  শুধু তোমার সাথে রাখো। তুমি দূরে দূরে থাকলে  মনে জাগে হারাবার ভয়।। প্রাণ গেলে যাক তা ভাবি না   নির্ভাবনায় মরে যাবো। হাড়িয়ে যাও যদি তুমি  আর কি তোমায় খুঁজে পাবো।। তুমি আমার মনের মানুষ  থাকো আমার মনটা জুড়ে,  অন্যের সাথে দেখলে তোমায়  মনের মাঝে জ্বলে পুড়ে। হৃদয়ে হয় রক্তক্ষরণ  বুকের ভেতর ঝড় তুফান হয়।।

প্রিয় তুমি আমার

 প্রিয় তুমি আমার  খাদিজা বেগম  শোনো প্রিয় তুমি আমার সেই প্রেম  হাত বাড়ালেও যাকে ছোঁয়া যায় না,  তবু মন বাড়িয়ে ছুঁয়ে থাকি  তোমার দেখা আমার চোখে পায় না।। প্রিয় তুমি আমার সেই বেদনা  যে বেদনা মধুর মধুর লাগে,  তুমি আমার মনের সেই বিরহ  যে বিরহ আগুন হয়ে জাগে। আমার মন ভিজিয়ে দাও প্রেম জলে এইতো আমার ছোট্ট মনের বায়না।। কভু উর্মি ছাড়া হয় না সাগর  মেঘ ছাড়া রয় না কোন বৃষ্টি, তুমি আমার প্রেমিক হৃদয়ের প্রেম  এই প্রেম শুধু তোমার জন্য সৃষ্টি।। আমায় তোমার প্রেমে পাগল করে  তুমি আমার সেই পাগলামী দেখো, কাছে থেকে চোখের আড়াল হয়ে প্রেমের চিঠি বারে বারে লেখো। আমার মন তোমাকে চায় তোমাকেই  তোমায় ছাড়া আর কিছুই মন চায় না।‌।

মনের মধ্যে খানে

 মনের মধ্যে খানে  খাদিজা বেগম  তোমার মনের মধ্য খানে  আমায় একটু জায়গা করে দিও,  দূরে দূরে রেখো না আমায় তোমার আপন করে নিও।। অভিমানে অবহেলায়  দূরে ঠেলে দিও না যে কভু,  তুমি আমার হৃদয়ের সুখ  প্রাণের নিশ্বাস তা জানে ঐ প্রভু। তুমি সবার চেয়ে দামি তুমি প্রিয় থেকেও আরো প্রিয় ।। ভালোবাসার তৃষ্ণায় তৃষ্ণায়  মরুভূমির হয় মন পুড়ে পুড়ে, তখন শ্রাবণ ধারার মতন ঝরে পড়ো মনের উঠান জুরে।। ঠিকানাহীন এদিক সেদিক  দিবানিশি আমি তোমায় খুজি,  তুমি যদি না দাও দেখা  চিরতরে যাব নয়ন বুজি। দুই নয়নের তৃষ্ণা তুমি  নয়ন ভরে তোমায় দেখতে দিও।।

যেমন খুশি তেমন

 যেমন খুশি তেমন  খাদিজা বেগম  যেমন খুশি তেমন ভাবে  না না তুমি আর চলনা,  কারো কারো নাই চলার পা আর করনা পাপ ছলনা।। কন্ঠহীন লোক বোবার কাছে  অনেক কিছু শেখার আছে, যারা বলো অতিরিক্ত  নোংরা অশ্লীল মিথ্যা ধাসে। যা খুশি তাই নিজের মুখে  না না তুমি আর বলো না।। সাপের চেয়েও বিষ বেশি হয়  অশ্লীল কথা বলা মুখে,  বিষের কথায় দেহের ভিতর  মন মরে যায় ধুকে ধুকে।। চোখের আলো আছে বলে  যা খুশি তা দেখতে হয় না,  বিবেক দিয়ে না দেখিলে  বিবেক কিন্তু বেঁচে রয় না।  স্বার্থের দুয়ার বন্ধ করে  বিবেকের চোখ আজ খোলো না।। হাত আছে তাই ইচ্ছে মতো  যা খুশি তাই যে ধরো না, অনেক কিছুই ধরা নিষেধ  মনে কেন তা করো না।। সব কথাতে কান দিও না  কিছু কথা যাও এড়িয়ে,  হাত পা চোখ কান সব গেলেও  সত্যের উপর রও দাড়িয়ে। সত্য ছাড়া হয়না মানুষ  হাত পা চোখ কান যদি থাকে, যারা মানুষ তারাই শুধু  এই সত্য কে মাথায় রাখে।।

আজ মন আন্দোলিত

 আজ মন আন্দোলিত  খাদিজা বেগম  আজ মন আমার আন্দোলিত  বৃষ্টি ভেজা ঠান্ডা ঠান্ডা বাতাসে, চমকে ওঠে ঘুমন্ত প্রেম  যখন দেখি বিদ্যুৎ চমকায় আকাশে।। অপেক্ষমান আমার এই কান  শুধু একবার ভালোবাসি কহ না, শেষ হয়ে যাক বিরহের দিন  এই জীবনে আসুক মিলন মোহনা।  হাত বাড়িয়ে নিয়ে যাও সব আমার বুকের মাঝে যত প্রেম আছে।। অলির মত পাখনা মেলে  দুলে দুলে ফুলের মধু করো পান,  কাছে এসে ভালোবেসে  জুড়িয়ে দাও জ্বলন্ত এই দেহ প্রাণ।। প্রজাপতি মন সেজেছে  রংধনুর ঐ সাতটি রঙের রং নিয়ে,  ক্রমাগত অপেক্ষমান  বসে আছি ভালবেসে দিল দিয়ে। ভাসমান এক ভেলার মতন  জলে ভিজে আমার প্রেমিক মন ভাসে।।  

জান্নাতের মেহমান

 জান্নাতের মেহমান  খাদিজা বেগম  পৃথীবিতে থাকতে চাই না  আমায় করে নাও জান্নাতের মেহমান,  আমার চাওয়া কবুল করো ওগো আমার আল্লাহ রহিম রহমান।। এই পৃথিবীর সাথে সাথে  তাল মিলিয়ে আমি চলতে পারিনা, নাই অভিযোগ নাই অভিমান  শুধু তোমায় পাবার আশা ছাড়িনা। এই জীবনে যা পেয়েছি  আমার প্রতি সবি তোমার মেহেরবান।। তোমার দানের শুকরিয়া  না করে রোজ পাপ করে যাই ফের আবার, আমি পাপি আমি দোষী  তবু তুমি মাপ করেছ বারেবার।। এই পৃথিবীর রঙ্গ মঞ্চে  আর পারিনা করে যেতে অভিনয়, মাপ করে দাও তুলে নিয়ে যাও তোমার কাছে এই অনুরোধ সবিনয়। এমন ভাবে নাও আমাকে  সেথায় গিয়ে হই না যেন অপমান।।

যদি ভালই বাসতে

 যদি ভালোই বাসতে  খাদিজা বেগম  আমাকে যদি ভালই বাসতে তুমি  কভু ধমক দিয়ে কথা বলতে না,  কারণে অকারণে আমায় ছেড়ে  অন্যজনার হাত ধরে পথ চলতে না।। আমাকে যদি ভালই বাসতে তুমি  অশ্রু জলে রোজ ডুবাতে পারতে না, আমাকে যদি ভালই বাসতে তুমি  বিষ মাখানো কথায় কথায় মারতে না।। আমাকে যদি ভালই বাসতে তুমি  আমার স্বপ্নগুলো তোমার পায়ে মলতে না।। এ কেমন ভালোবাসায় বাঁধলে তুমি  যার কারনে দুই নয়নে অশ্রু বয়,  সারাক্ষণ এই হৃদয়ের ভিতর থেকে  উপচে ওঠে অগ্নির মত কষ্ট ভয়।। আমাকে যদি ভালই বাসতে তুমি  আমি থাকতাম তোমার বুকে নিরাপদ,  আমাকে যদি ভালই বাসতে তুমি  না মানলেও শুনতে আমার মতামত। আমাকে যদি ভালই বাসতে তুমি  আমার সুখে আগুন হয়ে জ্বলতে না।।

প্রেমের নামে ফাঁদ

 প্রেমের নামে ফাঁদ  খাদিজা বেগম  অনেক ভালবেসে তোমার সাথে প্রেম করেছি করিনি তো মানা, তুমি প্রেমের নামে ফাঁদ পেতেছ  আমার কভু তা ছিলনা জানা।। তোমার প্রেমের ফাঁদে পড়ে আমি  দিবানিশি নয়ন জলে ভাসি, তোমার মিথ্যা প্রেমের ঝড় তুফানে ভেসে গেছে আমার মুখের হাসি। এখন বুকের ভেতর আগুন জ্বলে  মরণের স্বাদ জাগে ষোল আনা।। আমার কানায় কানায় সুখ ভরা বুক  তোমার ছোঁয়ায় হলো মরুভূমি, আমি উড়ন্ত এক পাখি ছিলাম  হঠাৎ করে শিকার করলে তুমি।। রক্ত ঝরা ক্ষত ভরা বুকে বেঁচে থাকার পাই নাই কোন উপায়,  তোমায় ভালোবেসে ভুল করেছি   প্রতারণার কষ্টে প্রাণ চলে যায়।। হঠাৎ আকাশ থেকে ফেলে দিয়ে তুমি ভেঙে দিলে মনের ডানা।।

হে মহিয়ান

 হে মহিয়ান  খাদিজা বেগম  হে মহিয়ান হে গরিয়ান  শোনো শোনো এই ফরিয়াদ,  শূন্য হাতে ফিরাইওনা  পূর্ণ করো আমার এই হাত।। মরণের ভয় তাড়িয়ে দাও  শৌর্য-বীর্য দিয়ে ভরে,  কানায় কানায় ভরে থেকো  তুমি থেকো এই অন্তরে।  অন্যের কাছে ভিক্ষা করে  হয় না যেন জীবন বরবাদ।। এই জীবনের সকল বাঁধা  আমি যেন পার হয়ে যাই, সকাল-বিকাল সেজদায় পড়ে  শুধু যেন তোমার গান গাই।। বিপদ এলে যেন ভুলে  না যাই তুমি আছো সাথে, আল্লাহ আমায় জড়িয়ে দাও  তোমার দয়ার মহিমাতে। ভয় করি না অন্ধকার রাত  তুমি দেবেই সোনার প্রভাত।।

একলা যাবে

 একলা যাবে  খাদিজা বেগম  ভুল গুলকে শুধরে নিয়ে  তৈরি থাকো এই দুনিয়া ছাড়িতে,  সময় হলে যেতেই হবে  ঠাই হবে না তোমার গড়া বাড়িতে।। কালো মনটা সাদা করো  ধুয়ে মুছে ভিতর রাখো পরিষ্কার, যার ভিতরে ন্যায়ের আলো থাকবে না তো তার কবরে অন্ধকার। আতর মাখো সুরমা মাখো  মনটা সাজাও সাদা রঙ্গের শাড়িতে।। খুশি মনে যেতে চাইলে  তুমি কারো খুশি কেড়ে নিও না, নিজে ভাল থাকতে চাইলে  তুমি কাউকে কোনো দুঃখ দিও না।। শুদ্ধ চিন্তা সুন্দর কাজে  এখন থেকে বাড়িয়ে দাও মনোযোগ, সময় গেলে পাবে না মন পাবে না আর সুবর্ণময় এই সুযোগ।  শেষ বিদায়ে একলা যাবে  সবাই থাকবে থেকে যাবার সারিতে।।

প্রেমের তীব্র তৃষ্ণা

 প্রেমের তীব্র তৃষ্ণা  খাদিজা বেগম  বুকের মাঝে উথাল পাথাল  মন তোমাকে কাছে পেতে চায়,  তোমার বুকে মাথা রেখে  ঘুমাতে চায় পরম মমতায়।। দূরে দূরে থাকলে তুমি  বুকের মাঝে জ্বলে দাবানল,  নিরবে মন কাঁদতে থাকে  বাঁধ মানে না দুটি চোখের জল। উদাসী মন বারে বারে ডুবে থাকে তোমার ভাবনায়।। তুমি এলে বৃষ্টি হবে  মন ময়ূরী গাইবে প্রেমের গান,  কষ্টগুলো ধুয়ে যাবে  ভিজে ভিজে মন করিবে স্নান। প্রেমের তীব্র তৃষ্ণা নিয়ে  মন মরে যায় তোমার প্রেমের দায়।।

প্রেম তরঙ্গ

 প্রেম তরঙ্গ  খাদিজা বেগম  ভেতর থেকে মন পুড়ে যায়  প্রেম তরঙ্গের সৃষ্টি তারনাতে, দিন কেটে যায় যেমন তেমন দুই নয়নে ঘুম আসেনা রাতে।। তবু থাকি তালা মুখে  প্রেমের কথা বলা নিষেধ আছে,  মন যারে চায় মনে মনে  মন শুধু যে তারেই ভালোবাসে। হাত পেতে চায় হাতের ছোঁয়া  থাকতে চায় মন তারি সাথে সাথে।। উচ্ছ্বাসিত উর্মি মালা  যেমন করে থাকে নদীর বুকে,  তেমন করে থাকতে দিও  তোমার বুকে ভালোবাসার সুখে।। পূর্ণিমার ওই আকাশ যেমন  ধ্রুব তারায় তারায় থাকে ছেয়ে, তেমন এ মন কানায় কানায়  ভরে ওঠে তোমায় কাছে পেয়ে। হাজারো ঝড় তুফান এলেও  তোমার ওই হাত রেখো আমার হাতে।।

মানুষ হবার পরীক্ষা

 মানুষ হবার পরীক্ষা  খাদিজা বেগম  মানুষ হবার পরীক্ষাতে  সেদিন মাথায় বেঁধেছিলাম কড়াই,  হাতে নিয়ে ঢাকনা বেলুন  অস্ত্রের মুখে করেছিলাম লড়াই।। বই খাতা পেন রেখে দিয়ে  দেশের জন্য ধরেছি প্রাণ বাজি, দেশমাতাকে রক্ষা করতে  হাজারো বার মরতে আমি রাজি। মুখে নিয়ে বজ্র কন্ঠ  হাতে হাতে বিজয় নিশান উড়াই।। আমি যখন জ্বলে উঠি  শত্রু ডুবে সেই আগুনের বন্যায়, একে একে জ্বলে পুড়ে  ছাই হয়ে যায় জালিমের সব অন্যায়।। ইঁদুর হয়ে ভয়ে ভয়ে  গর্তে ঢুকে চাইনা বেঁচে থাকতে, বীরের মত মরবো আমি  জন্মভূমি মায়ের সম্মান রাখতে। ছেলে থাকতে মায়ের ভয় নাই  তুমি করো বুক ফুলিয়ে বড়াই।।

পাথরের পথ

  পাথরের পথ খাদিজা বেগম পাথরের পথ যত কঠিন  তার চেয়েও আরো কঠিন তার মন,  বোঝেনা প্রেম ভালোবাসা  সে যে রেগে উঠে যখন তখন।। সূর্যের তীব্র তাপে তাপে  বরফও হয় গলে গলে পানি,  মৃত্যুর চেয়ে ভয়ংকর রাগ রাগ ধ্বংসের পথ এই কথাটি জানি। জেনেশুনে তবু কেন  তার মায়াতে কাঁদে আমার নয়ন।। তীব্র জলের চাপে চাপে  পাথরও যায় ধীরে ধীরে ক্ষয়ে, আমার জীবন যাচ্ছে কেঁদে  তবু তারি প্রেম হারাবার ভয়ে।। প্রতিবেশী যন্ত্রনা দেয় আমায় প্রশ্ন করে বারে বারে? কি দেখে যে প্রেম করেছি  কি দেখে যে ভালবাসি তারে? কোথায় আমার বিবেক বুদ্ধি  আবেগ এর নয় এটা বাস্তব ভুবন।।

বাচ্চামী

 বাচ্চামী  খাদিজা বেগম  স্বামীর কাছে স্ত্রী হবে  বাচ্চার মত করবে শুধু বাচ্চামী,  এটা সেটা বায়না ধরবে  বায়না গুলো পূরণ করবে তার স্বামী।। অল্প কষ্টে কান্না করবে  স্বামী তখন আদরে চোখ মোছাবে,  স্ত্রীর মনে ক্ষত হলে  যত্ন করে ভালোবেসে ঘোচাবে। এরি নাম প্রেম ভালোবাসা  স্বার্থপর লক বলে তারে পাগলামী।। স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কটা  খুব পবিত্র আনন্দময় সর্বদা,  স্বামী-স্ত্রীর মাঝে আরো  ভালোবাসা বৃদ্ধি করো হে খোদা।। মান অভিমান ঝগড়াঝাটি  রয় না যেন স্বামী-স্ত্রীর ভিতরে,  একে যেন অন্যের কাছে  সারা জীবন ধরে থাকে আদরে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা  সব সম্পর্কের চেয়ে সেরা আর দামি।।

তোমার নেয়ামত

 তোমার নেয়ামত  খাদিজা বেগম  তোমার দেয়া নেয়ামতে  কানায় কানায় জীবন ভরে উঠেছে,  নৈতিকতার সুবাস নিয়ে  মনে নানান রঙের আশা ফুটেছে।। এই ভরসায় ঘুমাতে যাই  তুমি আমার ঘুম ভাঙ্গাবে সকালে, যদিও ঘুম না ভাঙ্গে আর তোমার কাছে যাবো তোমার ডাকএলে। জেগে থাকি কিংবা ঘুমে  সর্বদা মন তোমারি প্রেম লুটেছে।। তোমার প্রেমের সৃষ্টি আমি  তোমার প্রেমে বেঁচে আছে এই জীবন,  তবু তোমার প্রেম পেতে চোখ  তোমার দিকে চেয়ে থাকে সারাক্ষণ।। যা দিয়েছো এই আমাকে  আমার জন্য তা তোমারি মহিমা, অন্ধকার এই জীবন পথে  রোজ দিয়েছো ঢেলে তোমার পূর্ণিমা। তোমার অসীম করুনাতে থেমে যাওয়া প্রাণ বারে বার ছুটেছে।।

নয়া বরের সাজে

 নয়া বরের সাজে  খাদিজা বেগম  আমার প্রেমের সমাধিটা  আজও আছে এই হৃদয়ের মাঝে, দুই নয়নের জলে জলে  ভিজাই তারে সকাল সন্ধ্যা সাঝে।। ভালোবেসে প্রেম করেছি সেই প্রেমিকের মিষ্টি কথা শুনে, আদর করে রেখেছিলাম  স্বপ্ন জুড়ে আদরের বীজ বুনে। না দেখে সে আমারি প্রেম  ব্যস্ত দেখায় নানা রকম কাজে।। একবার তারে দেখতে পারলে  মন ভরে যায় জান্নাতের ঐ সুখে,  মন কেবলি মনে মনে  হারাতে চায় তার মায়াবী বুকে।। এই মনে চায় তারে আমার  মনের সাথে ধরে বেঁধ রাখি, তার আসিবার পথের পানে  চেয়ে থাকে উদাসিনী আঁখি। তবুও সে যায় চলে যায় অন্যের বাড়ি নয়া বরের সাজে।।

মন তোমাকে ডাকে

 মন তোমাকে ডাকে  খাদিজা বেগম  বারে বারে মন তোমাকে ডাকে  পারিনা তো মুখে তোমায় ডাকতে,  আমি আর পারি না তোমার প্রতি  জেগে ওঠা প্রেম লুকিয়ে রাখতে।। নীল আকাশে মেঘ করেছে  পুকুরের জল বৃষ্টির জলে ভাসে, হাউসো মিথুন সেই জলেতে  মন ভিজিয়ে কি যে ভালোবাসে।  প্রেমময় এই দৃশ্য দেখে  আর পারি না একা একা থাকতে।। ফাগুন এলে পুষ্প ফোটে  পাখির ঠোঁটে সুমধুর গান ছড়ায়, প্রেম বিহনে প্রাণ বাঁচে না তাইতো সবার উপরে প্রেম ধরায়।। হাওয়ায় হাওয়ায় বার্তা আসে  অলির কাছে ফুলের ঘ্রানে ঘ্রানে, আমি কেমন করে বার্তা পাঠাই  তোমার জন্য প্রেম জেগেছে প্রাণে। ওরে আমারও তো ইচ্ছে করে  একটুখানি আদর সোহাগ মাখতে।।

দুনিয়াকে ত্যাগ কর

 দুনিয়াকে ত্যাগ কর খাদিজা বেগম  এই দুনিয়া তোমার নয়তো  তবু কেন এতো আপন লাগে, দুনিয়াকে ত্যাগ কর মন  সে তোমাকে ত্যাগ করিবার আগে।। যেই কবরে থাকতে হবে  সেই কবরে জ্বালাও ন্যায়ের আলো,  ধুয়ে মুছে সাফ করে দাও  নিজের মনের সমস্ত পাপ কালো।  যার ভিতরে ঈমান আছে  তার ভিতরে অপরাধবোধ জাগে।। তোমার আমার সৃষ্টিকর্তা  সৃষ্টির চোখে দেবে না তো ধরা, জগত জুড়ে যার আলামত  তবু সে জন ধরাতে অধরা।। ত্যাগে ত্যাগে ত্যাগী হয়ে প্রাণী গুলো মানুষ হয়ে ওঠে,  সত্য ন্যায় এর ঘ্রাণ ছড়িয়ে  মানুষ গুলো ফুলের মত ফোটে। তোমার জীবন শেষ করো না  অনিয়ন্ত্রণ লোভ লালসা রাগে।।

কথা দেবার মানুষ

  কথা দেবার মানুষ  খাদিজা বেগম  কথা দেবার মানুষ আছে  কথা রাখার কোনো মানুষ নাই,  কেউ তোমাকে কথা দিলে  খুশি হয়ে যেও না গো তাই।। কাছে আসার মানুষ আছে  কাছে থাকার কোন মানুষ নাই,  যখন স্বার্থ ফুরিয়ে যায়  অচেনা হয়, বাবা, মা, বোন, ভাই। নিজের কথা ভাবো রে মন  অতিরিক্ত কিছুর দরকার নাই।। স্বার্থপর লোক চেনা যায় না  ফেরেশতাদের মুখোশ পরে থাকে,  অনুসূচনায় কাঁদবে সেদিন যেদিন তুমি চিনতে পারবে তাকে।। এই দুনিয়ার সবাই ভালো হিসাব শেষে দেখবে তোমার ভুল, অতিরিক্ত বিশ্বাস করে জীবন নদীর ভেঙেছো দুই কূল। মন ভেঙ্গে দেয় সেই মানুষটায় মনের মাঝে যারে দিবা ঠাই।।

তোমার সুন্দর মুখ

 তোমার সুন্দর মুখ  খাদিজা বেগম  যদি আমার দুই নয়নে  রোজ না দেখি তোমার সুন্দর মুখ,  তবে আমি চাইনা ভুবন  চাইনা জীবন চাই না স্বর্গের সুখ।। এই জীবনে তুমি যে কে  নিজে থেকে বুঝে নিও প্রিয়,  ভুল যদি হয় বারে বারে  তবু তুমি আমায় শুধরে দিও। তুমি আছো হৃদ মাঝারে  তবু শূন্য শূন্য লাগে বুক।। মনে মনে লতার মত  তোমার সাথে জড়িয়ে যাই আমি,  তুমি ছাড়া এই অন্তরে  আর কেহ নাই জানে অন্তর্যামী।। তুমি আমার দেহের মাঝে  পবিত্রময় অদৃশ্য এক আত্মা,  তুমি আমার না দেখা প্রেম আমার ভালোবাসার সত্তা।  তোমায় ছাড়া এই জীবনের কানায় কানায় যন্ত্রণাময় দুখ।।

আজো একা

  আজো একা খাদিজা বেগম  আমি একা একা প্রেম করেছি তুমি করে ছিলে প্রেমের অভিনয়, তাই তো আজো একা একাই কাঁদি মেনে নিতে পারি না এই পরাজয়।। আমি এখন বাহির থেকে আছি ভিতর থেকে সেই তো কবে মরেছি, শুধু আমার দাফন কাফন বাকি মনে মনে মরনের পথ ধরেছি। বিষাক্ত সাপ হিংস্র বনের পশু মানুষ ছাড়া আর লাগেনা কিছুর ভয়।। যদি আমি তোমাকে না দেখতাম তোমার সাথে ভালোবাসা না হতো, কাঁচের মত ভেঙ্গে যেত না মন মনের মাঝে হতনা এত ক্ষত।। তোমার প্রেমে অন্ধ ছিলাম আমি তাইতো তোমায় যাচাই বাছাই করিনি, আমায় ছেড়ে চলে গেছো তুমি আমি আজো সেই প্রেম থেকে সরিনি। যেই হৃদয়ে ঠাই দিয়েছি তোমায় তুমি আজো আছো আমার সেই হৃদয়।।

স্মৃতির সিঁড়ি বেয়ে

 স্মৃতির সিঁড়ি বেয়ে  খাদিজা বেগম  তোমাকে খুব মনে পড়ে  জোছনা ভেজা চাঁদনী রাতে,  তোমার স্মৃতির সিঁড়ি বেয়ে  মন রাখে হাত তোমার হাতে।। বহু দূরে চলে গেছো  ভুলে গেছো এই আমাকে,  আজও দেখি মনের আয়নায়  স্মৃতির ভিড়ে সেই তোমাকে। শিশির ভেজা সবুজ ঘাসে  আমি হাঁটি তোমার সাথে।। নদীর বুকে উর্মি থাকে  ফুলের বুকে থাকে অলি,  আমি আজও একা একাই  এই শুন্য বুক নিয়া জ্বলি।। কথা ছিল সুখে দুঃখে  আমরা একি সাথে থাকবো,  একের ব্যথায় অন্যজনে  যত্ন করে মলম মাখবো। তুমি এখন অন্য কারো  তুমি নাই নিই এই বরাতে।

মন হারালাম

 মন হারালাম  খাদিজা বেগম  ও বন্ধুরে বন্ধু আমার  মন হারালাম তোমায় ভালবেসে, প্রেমের ঢেউয়ে ঢেউয়ে আমার  মন ভেসে যায় তোমার মনের দেশে।। মন ছাড়া এই দেহ আমার  জিন্দা মারার মত হয়ে থাকে,  তুমি কেন দাও না সাড়  মন তোমাকে ইশারাতে ডাকে। তোমার মনের মন মেশেছে   যেমন বৃষ্টি সাগর জলে মেশে।।  একটুখানি ভালবেসে  ঠাই করে দাও তোমার মনের নীড়ে, মরার পরে হাজার কেঁদেও  তুমি আমায় পাবে না আর ফিরে।। চাঁদ বিহনে রাত্রি যেমন  তেমন তোমায় ছাড়া আমার জীবন, তুমি ঠেলে দিলে দূরে  আমায় কাছে টেনে নেবে মরণ। জিন্দা মরা হতে হতেই  আমি কিন্তু মরে যাবো শেষে।।

নিভে যাবে না

 নিভে যাবে না  খাদিজা বেগম  বিষ পান করা মানুষ আমি  কথার বিষে আমার কিছু হবে না,  হয়তো মরে যাবে এই মন হাসিখুশি এই মানুষটি রবে না।। যেদিন তোমার প্রেমে পড়লাম  সেদিনি তো আমি বিষ পান করেছি,  সুখী সুন্দর এই জীবনটা  যন্ত্রণা আর কষ্ট দিয়ে ভরেছি। কথা শুনে বুঝে গেছি  তুমি কভু ভালো কথা কবে না।। তোমার কথার বজ্রপাতে  কত স্বপ্ন নিহত হয় আমার,  তবু আমি বেঁচে থাকি  মরা স্বপ্ন বুকে নিয়ে আবার।। মারতে চাইলেও মরবো না তো আমার মরার সময় হয়নি এখনো, চেষ্টা করে দেখতে পারো  ব্যর্থ যাবে তোমার চেষ্টা যেকোনো। সূর্যের মতো এই তপ্ত প্রাণ  তোমার মুখের ফুতে নিভে যাবে না।।

একতরফা প্রেম

 একতরফা প্রেম খাদিজা বেগম  মনে পরার অনুভূতি  তুমি বুঝবে কেমন করে,  যদি বারে বারে তোমার  আমাকে না মনে পড়ে।। দেখার তৃষ্ণা ভীষণ তৃষ্ণা  যে তৃষ্ণাতে নয়ন জ্বলে,  খুব নিরবে চিৎকার করে  তোমার নামটি বলে বলে।  এমন তৃষ্ণা থাকলে তোমার  থাকতে না তো দূরে সরে।। তোমার সঙ্গ পেতে অঙ্গ  দিবানিশি জ্বলে পুড়ে,  মন কেবলি কেঁদে বলে  আর থেকো না দূরে দূরে।। তোমার ছিল ক্ষণিকের প্রেম আমার কাছে প্রেম অনন্ত,  তাইতো আমার মন বাগানের  ফুলে ফুলে আজ বসন্ত। আজ বুঝেছি একতরফা প্রেম  অশ্রু হয়ে চোখে ঝরে।।

শুধু তোমার ছবি

  শুধু তোমার ছবি  খাদিজা বেগম  তোমায় দেখার পরে আমার  উল্টাপাল্টা হয়ে গেলো সবি,  বইয়ের পাতায় লেখার খাতায়  আমি দেখি শুধু তোমার ছবি।। রাতের আকাশ জুড়ে দেখি  চাঁদের জায়গায় তুমি আছো বসে,  সন্ধ্যা তারা হয়ে তুমি  পড়ছো আমার মনের মাঝে খসে। খুব সকালে পুব আকাশে  তুমি যেন আলোকিত রবি।। তোমায় দেখি জলের উপর  ঢেউয়ের মতো করছ তুমি খেলা,  তোমায় দেখে দেখে আমার  যাচ্ছে কেটে এই জীবনের বেলা।। যত দূরেই থাকো তুমি  তোমাকে পাই আমার চোখের কাছে, আকাশ জানে বাতাস জানে  মনের মাঝে একটা তুমি আছে। সেই তুমিটার প্রেমে পড়ে  এখন আমি হয়ে গেছি কবি।।

তুমি আমি

 তুমি আমি  খাদিজা বেগম  তুমি আমায় বাসতে দিলে  জনম জনম তোমায় বাসব ভালো,  রাত গভীরে দুজন মিলে  খুঁজে নেব ভালবাসার আলো।। তুমি আমি বাসবো দুজন  সন্ধ্যা হলেই খসে পড়বে তারা, ওই নয়নে চেয়ে চেয়ে  তুমি আমি হব দিশে হারা। আমায় তুমি বাসলে ভালো  ওই হৃদয়ে প্রেমের আগুন জ্বালো।। সেই আগুনে জ্বলে পুড়ে  মন পতঙ্গ জুড়াবে তার অঙ্গ, এরি নাম প্রেম লীলা খেলা  এরি নাম হয় ভালোবাসার রঙ্গ।। সুখে দুঃখে হাত ছেড়ো না  একবার যদি এই হাত ধরো আমার, আমি তোমায় ছাড়বো না তো  দুঃখ কষ্ট এলেও হাজার হাজার।  তোমার মাঝে নূর দেখেছি  তুমি ছাড়া সবি যেন কালো।।

হাত পেতো না

  হাত পেতো না খাদিজা বেগম  ভিক্ষুক হয়ে হাত পেতো না টাকা কিংবা ভালবাসার জন্য, যত পারো বিলিয়ে দাও দিয়ে দিয়ে জীবন করো ধন্য।। যতই বড় ভিক্ষুক হও না ভিক্ষুকের হাত সম্মানিত হয় না, সম্মান চাইলে ভিক্ষা ছাড়ো মান সম্মানের সাথে ভিক্ষা যায় না। যেভাবেই হোক কর্ম করো আল্লাহ তোমায় রাখে নি তো শূন্য।। হাত আছে তো, পা আছে তো আছে তোমার কথা বলার শক্তি, তবে কেন বান্দি রবে নিতে হবে তোমার নিজের মুক্তি।। তোমার দেহ, বুদ্ধি, বিবেক আজি কাজে লাগাও শোনো, পরের উপর নির্ভর করে জ্যান্ত মারা হয়ে থাকবে কেন?? ভিক্ষা করা, চাঁদা তোলা, যাকাত নেয়ার মাঝে নেই তো পূর্ণ।।

মা

  মা খাদিজা বেগম  মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে  পৃথিবীতে এনেছে যে মা,  যত্ন করে রেখ মা কে সেই মাকে কেউ দুঃখ দিও না।। মা জননী সেজদায় কাঁদে বুকের মানিক কাঁদে না যে তার, আল্লাহ তুমি নামিয়ে দাও  সন্তানের সব দুঃখ ব্যথার ভার।। কোন কিছুর বিনিময়ে মা জননীর ঋণ শোধ হবে না।। মায়ের স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ  তার সন্তানদের ঘিরে ঘিরে রয়, মা হিসেবে সফল তিনি  যার সন্তানে মহৎ মানুষ হয়।। হাজার রাত্রি না ঘুমিয়ে  একটা সন্তান বড় করে মায়, কত মা যে প্রাণ হারালো  সন্তান গর্ভে ধারণ করার দায়। একবার যদি মাকে হারাও কখনো আর ফিরে পাবে না।।

বাঁশরিয়া

 বাঁশরিয়া খাদিজা বেগম  মনের মাঝে বাঁশি বাজে  বাঁশরিয়া কেন দূরে দূরে? পাগল হালো আমার এই মন  সেই অচেনা বাঁশির সুরে সুরে।। শোনো শোনো বাঁশরিয়া  মন টেনে নেয় তোমার বাঁশির টানে, যেমন করে টানে আলি ফুল বাগানের ফোটা ফুলের ঘ্রাণে।  মনে নিয়ে প্রেম পিপাসা  আমি তোমায় খুঁজি ঘুরে ঘুরে।। যেমন পাগল হাওয়ায় হাওয়ায়  সাগরের ঢেউ পাগল হয়ে ছোটে,  সেই রকম ছোটে এই মন  যদি তোমায় এই কপালে জোটে।। কোথায় গেলে পাবো তোমায়  জানিনা সেই নাম ঠিকানা তোমার,  চিনি না তো কোনো ছবি  কি হতে কি হয়ে গেল আমার। তার পিরিতের আগুন লেগে ছাই হয়ে যায় হৃদয় পুড়ে পুড়ে।।

একটুখানি মায়া

 একটুখানি মায়া  খাদিজা বেগম  যার নয়নে দেখেছিলাম  আমার জন্য একটুখানি মায়া, তার মায়াতে মন টানে খুব  জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায় কায়া।। মায়া মায়া ওরে মায়া  ধরা যায় না ভোলা যায় না তারে,  মনটা জুড়ে তার ভাবনা  তারে মনে পড়ে বারে বারে। তার প্রেমেতে ডুবে গিয়ে  আমার এ মন হারালো তার হায়া।। অলির প্রেমে ফুল হারায় তার  যত্ন করে রেখে দেয়া মধু, তার প্রেমেতে সব হারাবো  সে যদি হয় আমার প্রাণের বধু।। বধু বধু ওরে বধু  মধুর সুরে বধু বলে ডাকবো,  সুখে দুঃখে সারা জীবন  আমি শুধু তোমারি তো থাকবো। যেমন করে মিশে থাকে কায়া র সাথে আপন আপন ছায়া।।

সেতো সস্তা নয়

 সে তো সস্তা নয়  খাদিজা বেগম  তুমি যাকে খুব সহজে  পেয়ে গেছো সে তো সস্তা নয়,  কত ব্যর্থ প্রেমিক কাঁদে  তার মন করতে পারেনি তো জয়।। না চাই তে যা পেয়ে গেছো  তাতো তোমার উপর ওয়ালার দান, নিঃসন্দেহে খুব ভালো সে  আর করো না তারে অপমান। সাহস সরল নিষ্পাপ হৃদয় ভাঙার আগে জাগাও স্রষ্টার ভয়।। স্রষ্টা যেসব দায়িত্ব দিল  তা পালনে হও দায়িত্ববান,  স্রষ্টার আদেশ মানে যারা  তাদের জন্য স্রষ্টা রহমান।।  মনের সাথে মন মেলে না  মতের সাথে মেলে না তো মত, তবু আমরা পথযাত্রী  সবার সামনে মরণ নামের পথ। যে মানে না স্রষ্টা আদেশ  মানুষরূপী সেই অমানুষ হয়।।

অলিক

 অলিক খাদিজা বেগম  পাখির মত থাকতো যদি  আমার সাথে দুটি রঙিন ডানা,  যেথায় খুশি সেথায় যেতাম  কোথাও যেতে থাকতো না তো মানা।। আকাশ মাটি সাগর পাহাড়  সকল কিছু দেখতাম উড়ে উড়ে, ডানাও নাই চরণও নাই  এখন সবি লাগে দূরে দূরে। ভাগ্য দোষেই দোষী আমি  যেমন ডানা ভাঙ্গা পাখির ছানা।। কত রকম সৃষ্টি তোমার  স্রষ্টা তুমি অসীম দয়ার মালিক,  দয়া করে ক্ষমা কর  তুমি ছাড়া আমার সবি অলিক।। পরের ঘরে থাকি আমি  আমার থাকার মত নাই তো বাড়ি, পরের মাথার বোঝা আমি  আমার চলার মত নাই তো গাড়ি।  কামাই রোজগার কিছুই নাই  মুখে দিতে হয় করুনার খানা।।

এক জীবনে সব পাবেনা

 এক জীবনে সব পাবে না  খাদিজা বেগম  সোনা যতই দামি হোক না   তবু তাতে জলের মত নাই প্রাণ, হীরা যতই উজ্জ্বল হোক না তবু তাতে ফুলের মত নাই ঘ্রাণ।। আখের গাছে মিষ্টি আছে  ফল ফুল কিছুই তাতে দেয়নি স্রষ্টা,  এক জীবনে সব পাবেনা  যে পেতে চায় সব সে তো পথ ভ্রষ্টা।  যে চন্দন গাছ সুবাসিত  তার থেকে ফুল ফল নিয়েছে ত্রাণ।। জ্ঞান পেয়েছে যে মানুষে  সে তো পায়নি নিজের বাড়ি গাড়ি,  মূর্খ লোকের কাজের মাঝে কাড়াকাড়ি ভাঙচুর মারামারি।। সত্যি কারের মানুষ যে জন  সে স্বাভাবিক ভাবে মানে অভাব, কিছু কিছু কমতির মাঝে  ফুটে ওঠে সৎ মানুষের স্বভাব।  এই অভাবের জন্য মানুষ কিছু অভাব থাকুক আল্লাহ তা চান।।

যুদ্ধ থামেনি

 যুদ্ধ থামেনি  খাদিজা বেগম  বীর বাঙালি জেগে ওঠো  এখনো তো বাংলার যুদ্ধ থামেনি, মুখোশ পরা দেশদ্রোহী  শত্রুদের দল এখনো তো দমেনি।।  দেশের জন্য জ্বলতে হবে  পুড়ে পুড়ে হতে হবে দাবানল,  দেশের জন্য বলতে হবে  তোরা বজ্র কন্ঠে কন্ঠে কথা বল। দুর্নীতিবাজ দালালের দল  ওদের সাহস এখনো তো কমেনি।। দেশের ক্ষতি করবে যারা  তাদের সাথে কোন আপোষ হবে না,  স্বৈরাচারী গাদ্দার যারা  দেশের বুকে তাদের চিহ্ন রবে না।। দেশের ভালো চায়না যারা  বর্তমানে তারাই দেশের মীরজাফর,  দেশ প্রেমিকদের খবর দে ভাই  তাদের জন্য খুঁড়তে হবে যে কবর। ওরা কালো অন্ধকার মেঘ  সোনার এই দেশ ধ্বংস করা যামিনী।।

তোমার অপেক্ষায়

 তোমার অপেক্ষায়  খাদিজা বেগম  কেন অসময়ে এলে তুমি  মনের দরজায় ধাক্কা দিলে অবেলায়,  সূর্য এখন ডোবার পথে যাচ্ছে  ক্ষণ ফুরালো শুধু তোমার অপেক্ষায়।। এতো ভালোবেসে কাছে এসে কেন তুমি চলে গেলে বহু দূর, আমি কেন তোমায় পাইনি খুঁজে  তুমি ছিলে কোন সে অচিনপুর। তোমায় ভালোবেসে হাত বাড়াবার সেই সাহস নেই দোর খুলবো ঘোর সন্ধ্যায়।। তুমি ছাড়া শূন্য হৃদয় আমার  কানায় কানায় রক্ত ঝরা ক্ষত, আরো আগে যদি আসতে তুমি  তোমার এমন কিবা ক্ষতি হত? হয়তো এখন নামবে রাত্রি  পুবের সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে, সেই শক্তি নাই ধরবো ওই হাত  প্রেম ভেসে যায় দুই নয়নের জলে। আবার ওই পারেতে দেখা হবে  আমি রবো তোমার প্রেমের প্রতীক্ষায়। 

তীব্র খরার জ্বালা

 তীব্র খরার জ্বালা  খাদিজা বেগম  বৃষ্টি হলে সব ভিজে যায়  বনের লতাপাতা ঘরের চালা,  এই হৃদয়ে মরুভূমি  সেথায় কেবল তীব্র খরার জ্বালা।। তুমি এলে বুক মাজারে  মন পাপিয়া মনের সুখে গাইতো,  তুমি ছাড়া নাই ভালো নাই  তাই তোমাকে বুকের মাঝে চাইতো। বুক ফেটে যায় প্রেমের তৃষ্ণায়  আমার মুখে লজ্জা নামের তালা।। তুমি এসো প্রিয় আমার  মন আকাশে মেঘের মতো উড়ে, তোমায় ছাড়া একলা জীবন  খুব নীরবে ছাই হয়ে যায় পুড়ে।। তোমার আমার এই জোড়াটা  জন্মের আগে হয়েছিল লেখা,  তবু কেন দূরে থাকো  কাছে এসে দাও না তুমি দেখা। তোমায় নিয়ে মনে মনে  মন গেঁথেছে হাজার কথার মালা।।

মরণ নামের চিঠি

  মরণ নামের চিঠি  খাদিজা বেগম  চুল পেকেছে দাঁত নড়েছে   হুশ হলো না তবু ওতো তোমার,  কত আপদ বিপদ গেলো মরণ থেকে বেঁচে এলে বারবার।। একের পরে একে একে  আসছে তোমার মরণ নামের চিঠি,  নিভু নিভু জীবন প্রদীপ  থেমে থেমে জ্বলে মিটিমিটি। মনে মনে মন বলেছে  মরণ এলে ছাড় দেবে না এবার।। চিরতরে নিভে যাবে কখন জানি জীবন প্রদীপ খানি, সম্পর্কের সব বাঁধন ছিড়ে  বন্ধ হবে তোমার মুখের বাণী। তাই বলে মন শুধরে চলো  ক্ষণ হারালে লাভ হবে না কেঁদে, মানবতার চাদর দিয়ে  নিজেকে লও নিজের হাতে বেঁধে। তোমার হাতে কারো ক্ষতি  এই জগতে হয় না যেন আবার।।

ভালোবাসার কথা

 ভালোবাসার কথা  খাদিজা বেগম  ভালোবাসার কথা বলে   আমায় তোমার বুকে টেনে নিলে, ভালোবাসি বলে বলে  আমায় তুমি বন্দি করলে দিলে।। জানিনা কি জাদু আছে তোমার ভালোবাসার আলতো ছোঁয়ায়, আমার কঠিন পাথরে মন যেন মোমের মত যারা গলে যায়। আজ যেন প্রাণ ফিরে পেলাম  তোমার সাথে প্রেম মোহনায় মিলে।। ফুলের ঘ্রাণে অলি যেমন  মাতাল মাতাল হয়ে ছুটে আসে, আমার মন নেই আগের মতন  পাগল হলো তোমায় ভালোবাসে‌।। আমি যেন হয়ে গেছি  তোমার হাতের একটা খেলনা পুতুল,  আমি যেন ভুলে গেছি  ভালো মন্দ ন্যায় অন্যায় ঠিক ভূল। তোমায় এত আপন লাগে  তুমি যেন যুগ যুগ আমার ছিলে।।

আপ ভাবি

 আপন ভাবি  খাদিজা বেগম  তোমাকে খুব আপন ভাবি  কিন্তু আপন করে নিতে পারি না,  নিতে পারি না বুকে টেনে  তবুও তো তোমার আশা ছাড়ি না।। তোমার আমার দোটানা প্রেম  তার ভিতরে নিভে নিভে জ্বলি,  পাবো কিনা তোমায় আমি তবু তোমার পিছু পিছু চলি। তুমি যদি ভালোবাসো  এই সমাজের কথার তো ধার ধারি না।। এখন সময় ভালোবাসার  মন বাগানে এসে গেছে বসন্ত,  তবু তোমার আমার মাঝে  পাহাড় সমান বাঁধার নাই অন্ত।। আমি যখন একা থাকি   তুমি থাকো আমার পাশাপাশি,  তখন তোমায় না দেখেও  ভালোবেসে অনেক ভালোবাসি।  তোমায় থেকে দূরে সরে  আমি আরতো বেঁচে থাকতে পারি না।।।

তুমি ভেবেছিলে

 তুমি ভেবেছিলে  খাদিজা বেগম  তুমি ভেবেছিলে খুব সহজে  এই আমাকে ভুলে থাকতে পারবে,  আমি না হয় ছেড়ে দিলাম তোমায় আমার স্মৃতি কি তোমাকে ছাড়বে।। যদিও যাও দৃষ্টির সীমা ছেড়ে  আমি বাঁধা দেবো না তো তাতে,  আমি তোমার মনের মধ্যখানে  খুব গোপনে রয়ে যাব সাথে। তবু আমায় তোমার মনে পড়বে।। রাত্রি জাগা পাখি হয়ে তুমি  শত স্মৃতির ডানা মেলে উড়বে,  বর্তমানে বাস করেও তুমি  আমায় ভেবে চলে যাবে পূর্বে।। এত গভীর ভালোবাসা আমার  ভুলতে গেলে হাজার জনম লাগবে, আমার স্মৃতি গুলো তোমার বুকে  ঢেউয়ের মত বারেবারে জাগবে। স্মৃতি হাওয়ায় তোমার ঐ মন নড়বে  আমার কাছে তুমি আবার ফিরবে।। সূর্য যেমন ভুল করে না কভু  খুব সকালে পুব আকাশে ভাসতে, তেমনি ফুল ভুল করে না কভু  ঘ্রাণ ছড়িয়ে পাপরি মেলে হাসতে। জানি তোমার ভুল হবেনা এমন  তুমি আবার এসে এই হাত ধরবে।।

তুমি চাইলে

 তুমি চাইলে  খাদিজা বেগম  তুমি চাইলে আমি চলব  জনম জনম ধরে তোমার সাথে, তুমি চাইলে আমি তোমায়  বাসবো ভালো জোছনা ভেজা রাতে।। তুমি চাইলে তোমায় নিয়ে  উড়ে যাব প্রেমের ডানা মেলে,  তুমি ছাড়া চাইনা কিছু  শুধু তোমায় আমার করে পেলে।  রাত নিশিতে ঘুম আসে না  তোমার ওই মুখ ভাসে আঁখি পাতে।। আকাশের মেঘ যেমন করে  হারিয়ে যায় বৃষ্টি ঝরে ঝরে,  তেমন করে হারাতে চাই  আমি তোমার ভালোবাসার তরে।। তুমি ছাড়া এই মন যেন  ডানা ভাঙ্গা আহতো এক পাখি,  ঝরা ফুলের মত জীবন  শুধু কবর মাঝে যেতে বাকি।  হাজার সুখে মন ভরে যায়  তোমার ঐ হাত রাখলে আমার হাতে।।

ভালোবাসা মানে

 ভালোবাসা মানে  খাদিজা বেগ  ভালোবাসা মানে হলো  চোখে চোখে কথা বলা,  দুজন মিলে নির্জন পথে  নির্বাক ঠোঁটে হেঁটে চলা।। ভালোবাসা মানে হলো  বৃষ্টির মাঝে এক চিমটি রোদ,  অগ্নি বালু মরুর বুকে  হঠাৎ করে জোয়ারের স্রোত। ভালোবাসা এমনি সুখ  যে সুখের নাই কোন তলা। ভালোবাসা মানে হলো  খুব গোপনে হৃদয়ের টান,  ভালোবাসা হারাবার ভয়  কেঁদে ওঠে অকারনে প্রাণ।। ভালোবাসা মানে হলো  আগনিত তারার মেলা,  ফুলে ফুলে দুলে দুলে  ফুল বাগানে ভ্রমরার খেলা। ভালোবাসা মানে হল  দুজন মিলে একা একলা।।

আমার চোখের পাতায়

 আমার চোখের পাতায়  খাদিজা বেগম তোমার মুখের ওই ছবিটি আমার চোখের পাতায় পাতায় আঁকা,  যেথায় তাকাই যে দিকে চাই  চোখে মেলে শুধু তোমার দেখা।। রাতের আকাশ জুড়ে দেখি  চাঁদের গায়ে আঁকা তোমার ছবি,  সোনার আলোয় ভরে দেওয়া  তুমি যেন মন আকাশের রবি।  তুমি ছাড়া শূন্য লাগে  পৃথিবীতে লাগে আমায় একা।। তুমি থাকলে পাশাপাশি  দুঃখ গুলো বাতাসে যায় উড়ে,  তুমি থাকলে দূরে দূরে  আমার বুকের মাঝে জ্বলে পুড়ে।। তোমাকে চাই শ্বাসে শ্বাসে   ভালোবেসে আমার অনেক কাছে,  যেমন বুকের মাঝে হৃদয় থাকে  লতা থেকে গাছ ছাড়িয়ে গাছে। আমি যারে খুব করে চাই  সে যেন রয় আমার ভাগ্যে লেখা।।

ভালোবাসার তৃষ্ণায়

 ভালোবাসার তৃষ্ণায়  খাদিজা বেগম  ভালোবাসার শুরু আছে  ভালোবাসার নাই তো কোন প্রান্ত, ভালো বাসলে মন পুড়ে যায়  না বাসলেও মন থাকে না শান্ত।। যেমন করে নীল সাগরে  অশান্ত ঢেউ উতাল পাতাল করে, তেমন করে অবুঝ এ মন  একটু খানি ভালবাসার তরে। প্রেম করে যে মন ভেঙেছে  তার কাছে প্রেম ভালোবাসা ভ্রান্ত।। এখনো যার প্রেম হলো না  তার কাছে প্রেম প্রাণের চেয়ে দামি, তার মন জুড়ে মনের মানুষ  এই কথাটি জানে অন্তর্যামী।। একলা জীবন ভাল লাগে না  বারে বারে মন পেতে চায় সঙ্গ,  অঙ্গে অঙ্গে বিদ্রোহ হয়  জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায় অঙ্গ। ভালোবাসার তৃষ্ণায় তৃষ্ণায়  এই দেহ মন হয়ে গেছে ক্লান্ত।।

রঙিন জালে ফাঁসে

 রঙিন জালে ফাঁসে  খাদিজা বেগম  থাকার জন্য কেউ আসে না  চলে যাবার জন্য সবাই আসে,  মনে রাখার জন্য নয়তো  ভুলে যাবার জন্যই ভালোবাসে।। নিজের উপর নাই ভরসা  প্রাণ কেবলি যাবো যাবো করে, ভালোবেসে বিশ্বাস করে প্রতারিত হলাম বারেবারে। যদি কভু আঁধার আসে  নিজের ছায়াও অন্ধকারে হাসে। তাই বলি মন ভুলে যা সব অতীতের প্রেম ভালবাসা মায়া,  কাঁদলে পরে লাভ হবে না  মাটি হবে তোমার সোনার কায়া।। কাদিস না রে কাঁদিস না মন  এটা মিথ্যা মায়ায় ভরা ভূবন, দুঃখ তোমার একার বোঝা  সুখের সময় চলে আসবে সুজন। এখানে সব সরলা মন  প্রতারণার রঙিন জালে ফাঁসে।।

বালুচর

 বালুচর  খাদিজা বেগম  যৌবন নদীর জল শুকিয়ে  জেগে জেগে উঠবে বালুচর,  কাছের মানুষ দূরে যাবে  আপন মানুষ হয়ে যাবে পর।। চোখের আলো শেষ হবে সব শেষ হবে ভাই হাতে পায়ের বল,  শেষ বেলাতে হিসাব করে  পাবে শুধু দুই নয়নের জল। মিথ্যে তোমার ভালোবাসা  মিথ্যে তোমার আপন বাড়ি ঘর।। যে বাতাসে নিঃশ্বাস আসে  সেই বাতাসে মরণ নামের সুর,  এই পৃথিবী ছাড়তে হবে  যেতে হবে অনেক অনেক দূর।। অদৃশ্য এই মায়ার বাঁধন  ধীরে ধীরে খুলছে মরণ টান,  ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকেই  চলে যাচ্ছে অদৃশ্য এই প্রাণ। সময় থাকতে শুধরে চলো  যদি দেখতে না চাও অগ্নি ঝড়।।

অটুট রেখো

  অটুট রেখো  খাদিজা বেগম  অটুট রেখো তোমার মুখের  বাঁধভাঙ্গা ঐ মিষ্টি মিষ্টি হাসি, প্রিয় ক্ষমা করে দিও আমি ফিরে আর যদি না আসি।। নিয়তির হাত ধরে যদি  আমি চলে যাই না ফেরার দেশে, সেদিন ও খুব ভালো থেকো  তোমার ঐ চোখ যায় না যেন ভেসে। এ কথাটি যেনে রেখ  আমি শুধু তোমায় ভালবাসি।। মরণ যদি নিয়ে যায় প্রাণ  আমি যদি চোখ বুঝে যাই চলে,  কাল আবারও উঠবে সূর্য  আজকের সূর্য যায় যদি যাক ডলে।। এই দেখাটা শেষ দেখা নয়  আবার দেখা হবে জয়ের ক্ষণে, তুমি আমি পাশাপাশি  তখন থাকবো কিন্তু তোমার সনে। মুখ করো না যেন মলিন  তোমার হাসির দিও না যে ফাঁসি।।।

আদেশ

 আদেশ খাদিজা বেগম  মায়ের আদেশ বাবার আদেশ  গুরুর আদেশ থেকে আরো বড়, আল্লাহর আদেশ শ্রেষ্ঠ আদেশ  সবার প্রথমে তা পালন কর।। অনেক রকম অনেক আদেশ  নিত্য তোমাকে বহু লোকে দেবে, কোন আদেশটা পালন করবে  তাহা তুমি ঠিক করে নিও ভেবে।। কাজের মানুষ বা কাজের বুয়া  তাদের এ নামে কভু ডাক দিও না,  কখনো কাউকে নিজের চেয়েও  অনেক আপন করে কভু নিও না।। মৃত্যু এলেও দায়িত্ব থেকে  কখনো কোথাও পালিয়ে যেও না,  ভুল করে কেউ দুঃখ দিলেও  তাতে তুমি কোন দুঃখ পেয়ো না।। বিব্রতকর পরিস্থিতি  তৈরী হয় না যে তোমার কারনে, কষ্ট হলেও পাপি হইয়ো না  তুমি সৎ থেকো আল্লাহর স্মরণে।। সৎ কৌশলে তোমাকে তোমার  নিয়ন্ত্রণে দিবানিশি রেখো, অতির ভিতরে ক্ষতি বেশি বেশি। তুমি অজানাকে চুপচাপ শেখো।। অস্তে অস্তে নম্রতা ভরে সুস্পষ্ট করে কথা বল, সভ্য সুশীল ভদ্রতার সাথে  কালো রেখে সদা সাদা পথে চল।। তোমায় মানুষ হতে হলে আগে  ব্যবহারে হতে হবেই বিনয়ী, সত্যবাদী জন পরিশ্রমী মন সূর্যের মতো হয় দিগ্বিজয়ী।। তোমার বিবেক তোমার বুদ্ধি  কারো চেয়ে নয় বিন্দু মাত্র ছোট, ...

ব্যর্থতায় কোন লজ্জা নয়

 ব্যর্থতায় কোন লজ্জা নয়  খাদিজা বেগম  শোনো ব্যর্থতায় কোন লজ্জা নয়  নয় কোনো ভয় পরাজয়,  ব্যর্থতার ভিতরেই শিক্ষা আছে  যে শিক্ষা এনে দেবে বিজয়।। পৃথিবীতে এসে শিশু কেঁদে ওঠে  হাসতে শেখে হাসি মুখ দেখে, বারে বারে পড়ে গিয়ে শিশু হাঁটে  ভুল করে করে শিশু লেখে।। ভুল আমাদের সঠিক শেখায়  ভুল সে তো কোন পাপ নয়,  অনিচ্ছায় ভুল হয়ে যায় হোক  তা নিয়ে রেখো না কোন ভয়।। কখনো ইচ্ছাকৃত ভুল করো না  ব্যর্থতা ডেকে এনোনা কভু,  বুঝে শুনে ভেবে জীবন চালাতে  তোমায় জ্ঞান দিয়েছে প্রভু।। সময় জীবনের অমূল্য ধন  যে মানুষ হেলাফেলা করে, এক সময়ে এসে সময়ে তারে খুব জোরে ছুড়ে মারে ধরে।। এমন ভাবে চুরমার হয় শেষে  আর পারে না উঠে দাঁড়াতে,  শেষে ধ্বংস হয়ে যায় সে মানুষ  সব কিছু হারাতে হারাতে।। সবার আগে সুস্থতা প্রয়োজন সুস্থ দেহে থাকে সুস্থ মন, সুস্থ মনে সুস্থ চিন্তা করা যায়  সুস্থ চিন্তায় সুন্দর এই ভুবন।।   প্রতিভার চেয়ে বড় সুশৃংখল কপালের চেয়ে বড় চেষ্টা,  নিয়ম মেনে চেষ্টা করে যে জন  আলোকিত হ...

হতেও পারে

 হতেও পারে  খাদিজা বেগম  হতেও পারে মান অভিমান  ভেঙে যেতে পারে হৃদয়,  হতেও পারে ভুল বোঝাবুঝি  তর্ক বিতর্ক ঝগড়াঝাটি।।  তবুও আমি দায়িত্ব থেকে  দূরে সরে যাব না তো,  আসতে পারে অভাব অনাটন  অসুস্থতা অবহেলা।।  হতেও পারে পরিস্থিতি ঘোলা  জলের মতন ঘোলা, অন্ধকারে ডুবে যেতে পারি  আসতে পারে অমাবস্যা।  তবুও আমি কর্তব্য থেকে  কভু সরে দাড়াবো না,  আমি সৃষ্টির সেরা মানুষ  অমানুষ না তো আমি।

ফুলের মত হাসে

 ফুলের মত হাসে  খাদিজা বেগম  তোমাকে দূর থেকে দেখে  হৃদয় আমার ফুলের মত হাসে,  তোমার চুলের সুভাসে মন  মেঘের মতন হাওয়ায় হাওয়ায় ভাসে।। তোমার মাঝে কি যে আছে তা জানিনা তা বুঝিনা আমি,  শুধু বুঝি তোমায় ছাড়া  আমার জীবন ধু ধু মরুভূমি। তোমার পরশ পেলে যেন  এই হৃদয়ে খুশির জোয়ার আসে।। রাত নিশেতে তোমায় ভেবে  মনের মাঝে জাগে প্রেমের দোলা, দিবানিশি তোমায় ভাবি  তোমার মুখের ছবি যায়না ভোলা।। নীল সাগরের বুকটা জুরে  যেমন বয়ে চলে ঢেউয়ের গর্জন,  আমার মনে তেমন তুমি  মনের মাঝে শুধু তোমার স্মরণ।  কেমন করে বুঝাই বল মন তোমাকে অনেক ভালোবাসে।।

গুমরে গুমরে কাঁদে

 গুমরে গুমরে কাঁদে  খাদিজা বেগম  আজ শুনেছি বাতাস  গুমরে গুমরে কাঁদে আর বলে এই সেই পৃথিবীটা  যেখানে নারীকে মায়ের স্থান দিয়ে, ভক্তি ভরে সম্মান করে  মাথা ঝুঁকিয়ে সালাম করে। নারীর পায়ের নিচে  শেষ আশ্রয় জান্নাত খোঁজে।  এই সেই পৃথিবীটা  যেখানে নারীকে স্ত্রীর রূপে  গ্রহণ করার পরে ফের  কাপুরুষ অত্যাচার করে।  এই সেই পৃথিবীটা  যেখানে নারীকে শিশুরূপে পেয়েও হায়নার দলে ছাড়ে না, অবুঝ শিশুর নিষ্পাপ ঐ দেহের নরম রক্ত মাংস  ছিঁড়ে ছিঁড়ে চুষে চুষে খায়।  এই সেই পৃথিবীটা  যেখানে নারীকে মা কালী সরস্বতী  রূপে পূজা করে ঝুঁকে ঝুঁকে। আবার ওই পূজারীরাই  দলবেঁধে নারীকেই করে ধর্ষণ। এই সেই পৃথিবীটা  এখানে প্রতিটা মানুষেই  নারীর গর্ভ থেকে আসে।  তবুও কিছু কিছু মানুষ  মানুষের রূপে কাপুরুষ আছে  ওরা নারীকে জানে না হৃদয় থেকে শ্রদ্ধা জানাতে,  ওরা জানেনা নারীকে  মন ঝুঁকিয়ে সম্মান করতে, নারীকে মানে না মানুষ বলে।  নারীকে ভোগ্য পণ্য হিসাবে  ওরা ভোগ করে ধ্বংস হয়ে যায়। এই সেই পৃথিব...

বাঁশি হতে চাই

  বাঁশি হতে চাই  খাদিজা বেগম  আমি তোমার দুটি ঠোঁটের মাঝে   একটি ভালোবাসার বাঁশি হতে চাই,  তোমার ভালোবাসার বিনিময়ে  আমি তোমার মনের দাসি হতে চাই।। তোমার দশ আঙ্গুলের আদর মেখে  বাঁশি জুড়ে ছড়িয়ে দাও প্রেমের সুর, দুটি হাতে ধরে রেখো তুমি  দিবানিশি বাজুক বাঁশি সুমধুর। এমন ভাবে নজর রেখ যেন ঐ ঠোঁট থেকে বাঁশি সরে না যাই।। আমি তোমার বুক সাগরের মাঝে জোয়ারের ঢেউ হয়ে আছড়ে পড়তে চাই, আমি তোমার মনের মধ্যখানে  একটা ভালোবাসার বাসা গড়তে চাই।। তোমায় নিয়ে অনেক স্বপ্ন আমার  অনেক আশার ঝড় উঠেছে মনে, যতটা ক্ষণ দেহে আছে জীবন  তত ক্ষণ চাই থাকতে তোমার সনে।। ধুয়ে মুছে সকল মলিনতা আমি তোমার ঠোঁটের হাসি হতে চাই।।

অশেষ কৃতজ্ঞতা

 অশেষ কৃতজ্ঞতা  খাদিজা বেগম  আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা  রেখে গেলাম তোমায় ডেকে ডেকে, বারে বারে তুমি আমায়  ফিরিয়েছ মরণ দুয়ার থেকে।। অবহেলা অনাদরে  আমি যখন জর্জরিত থাকি, তখন কোন কূল কিনারা  না পেয়ে রব সেজদায় তোমায় ডাকি। তখন তুমি এই আমাকে  তোমার ক্ষমার চাদরে দাও ঢেকে।। অসুস্থ এই দুর্বল দেহে চায় তোমারি রহমতের ছায়া, তুমি ছাড়া শূন্য আমি  তোমার মাঝে পূর্ণতা পায় কায়া।। তুমি হাসাও তুমি কাঁদাও  তুমি ভাসাও সুখ স্রোতের জলে,  তুমি আমায় ডুবিয়া দাও  তোমার শীতল ভালোবাসার তলে। আমায় যেন কষ্ট না ছোঁয়  আমাকে দাও রক্ষা কবচ মেখে।।

মনের মানুষ চাই

  মনের মানুষ চাই খাদিজা বেগম  মন কেবলি মনে মনে আমার একটা মনের মানুষ চাই, মন জানে না মনের মানুষ মন পুড়িয়ে করে দেবে ছাই।। বুক কেবলি খাঁখাঁ করে বুকের সাথে মিলাতে চায় বুক, বুক জানেনা বুকের মানুষ নষ্ট করে বুকের মাঝের সুখ। মনের মানুষ বুকের মানুষ দোষে ভরা সবাই সাধু নাই।। ডাকাত যেমন দোষ লুকিয়ে অনেক বেশি ভালো সেজে থাকে, তেমন করেই ভালো সেজে ফাঁকি দেবে ভালোবাসার ফাঁকে।। জ্বলতে চাইলে পুড়তে চাইলে মনের মানুষ খুঁজে নিও তুমি, একলা জীবন ইটের মতন দুজন হলে জীবন মরুভূমি।। সেই মরুতে জোয়ার আসে খুব অল্পতে যদি তৃপ্তি পাই।।

আমি ভিক্ষুক

 আমি ভিক্ষুক  খাদিজা বেগম  আল্লাহ তুমি রাজা মহারাজা  আমি তোমার রাজ্যে থাকা ভিক্ষুক,  আল্লাহ তুমি অসীম ক্ষমতাসীন  আমার জীবন ভরা অকৃতজ্ঞ অসুখ।।  তোমার রাজ্যে তোমার দ্বারে দ্বারে  ঘুরে ফিরে ভিক্ষা করী আমি,  তুমি তা দেখেছো তা জেনেছো  হে তুমি যে আমার অন্তর্যামী। তুমি থাকো এই অন্তরে আমার  তাই ভেবে পাই মনের ভেতরে সুখ।। আমি যখন ‌চোখ ভরা জল নিয়ে  আমার দুই হাত বাড়াই তোমার কাছে, তোমার ভিক্ষা দেওয়া দেখে তখন  আসমানের ঐ ফেরেশতারা হাসে।। তুমি রহিম হে রহমান আল্লাহ  অবিরাম চাই তোমার আশ্রয় থাকতে, তুমি আমার শ্বাস নিঃশ্বাসে থাকো  তবু ভালো লাগে তোমায় ডাকতে। না চাইতে দান করে দাও সব কিছু তবুও চাই দেখতে তোমার ওই মুখ।।

কানায় কানায় কৃতজ্ঞতা

 কানায় কানায় কৃতজ্ঞতা  খাদিজা বেগম  হে আল্লাহ, আজ এসেছি তোমার কাছে  কানায় কানায় কৃতজ্ঞতা নিয়ে, আমায় তুমি দান করেছো মুক্তি চোখের আলো মুখের কথা দিয়ে।।  আমি যদি অন্ধ মানুষ হতাম  তখন আমার জীবন হতো আঁধার ,  আবার হতাম যদি বোবা মানুষ  শিকার হতাম হাজার হাজার বাঁধার। তুমি আমায় যা দিয়েছো আল্লাহ রেখে দিও তুমি তা গুছিয়ে।। তোমার আশ্রয় না থাকিলে আমি  ধীরে ধীরে সব হারবো আমার, তুমি আমার রক্ষাকারী আল্লাহ  এই খুশিতে শুকরিয়া হাজার।। আল্লাহ তুমি খালিক তুমি মালিক  তুমি আমার জীবন মরণ দাতা,  তুমি সঠিক পথ নির্দেশক আল্লাহ  অদ্বিতীয় তুমি সৃষ্টিকর্তা।  আল্লাহ আমায় মাফ করে দাও  এই জীবনের সব পাপ দাও মুছিয়ে।।

স্পর্শ চাই

 স্পর্শ চাই  খাদিজা বেগম  সারা দিনের কাজের শেষে  আমি তোমার সান্নিধ্য চাই পেতে, তোমার জন্য প্রেম বুনেছি  আমার বুকের ভালবাসার ক্ষেতে। তোমাকে চাই হাঁটার সময়  তুমি আমার পাশাপাশি থাক,  খুব সকালে তোমাকে চাই  তুমি আমায় পাখির মত ডাক। তোমাকে খুব ভালো লাগে  তোমায় পেলে হৃদয় উঠে মেতে।। মাটির বুকে বৃষ্টি হলে  আকাশের মেঘ ধীরে ধীরে হারায়,  নীল সাগরে বাতাস এলে ঢেউ হয়ে জল কূলে কূলে বাড়ায়।। তোমাকে ছুঁই মন বাড়িয়ে  যখন তখন সকাল বিকাল রাতে, যত দূরেই থাকো তুমি  তোমাকে পাই আমার সাথে সাথে।  পৃথিবীকে জানিয়ে দাও আমি রাজি তোমার সাথে যেতে।।