Posts

এই বুক চিরে

 এই বুক চিরে  খাদিজা বেগম  এতো ভালোবাসলাম তোমায়  তবু চলে গেছো এই বুক চিরে,  অবুঝ এই মন আশায় থাকে  আবার একদিন তুমি আসবে ফিরে।। বুকের জমিন খাঁ খাঁ করে  তুমি এসো জোয়ারের জল হয়ে, ঢেউ খেলানো নদীর মত আর একটিবার এই বুকে যাও বয়ে। আজো একা বসে আছি  তোমার আশায় আমাদের এই নীড়ে।। ভুল যদি হয় শুধরিয়ে দাও  অন্যায় হলে দাও আমাকে শাস্তি, তোমায় ছাড়া বিষণ্ণ সব  এই জীবনের কোথাও নেই মাস্তি।। কাছে থেকে দুঃখ দিলেও  সে দুঃখটা সুখের মতো লাগে,  দূরে দূরে থাকলে সরে  যেন মনে মরণের সাধ জাগে।  ঘ্রাণ হারানো ফুলের মত  মন মরে যায় আমার ধীরে ধীরে।।

রক্তের বাঁধন

 রক্তের বাঁধন  খাদিজা বেগম  ক্ষুদ্র স্বার্থ কেন্দ্র করে  তোমরা কেহ রক্তের বাঁধন খুল না, এই সম্পর্ক ছিন্নকারী  জাহান্নামী এই কথাটা ভুল না।। রক্তের ভাই বোন বড় স্বজন  এর চেয়ে আর হয় না বড় আত্মীয়,  রক্তের বাঁধন ভিন্ন হয় না  প্রয়োজনে দূরে থাকে যদিও। ভালবাসার এই সম্পর্কে  পৃথিবীতে নেই তো কোন তুলনা।।  ভাই আর বোনের এই সম্পর্কে  কষ্ট হলেও কভু নষ্ট করো না,  অজানা কে ভাই বোন বলে  নিজের বুকে জড়িয়ে যে ধরো না।। সকল বোনের মোনের কোনে  ভাইয়ের জন্য থাকে তীব্র অপেক্ষা, ভাইয়ের দেখা পাওয়ার পরে  দুই নয়নে ভেসে যায় সব উপেক্ষা।  ছোট বেলার মত করে  সহজ ভাবে মিলে থাকি চলনা।।

করতে হবে প্রতিবাদ

 করতে হবে প্রতিবাদ  খাদিজা বেগম  শুধু ধৈর্য দিয়ে হয়না জীবন  প্রয়োজনে করতে হবে প্রতিবাদ,  সব কিছুরি সীমা আছে সীমা লংঘন কারীর ভাঙতে হবে হাত।। দিনের পর দিন যে মানুষে সহ্য করে অন্যজনার অত্যাচার,  এক ধরনের জালিম সেও  নিজের উপর নিজেই করে অবিচার। কলাকৌশল জানতে হবে  জীবন জুড়ে রয়েছে ঘাত প্রতিঘাত।। এই জীবনে কেউ দেবে না  ভালো থাকার সুযোগ তৈরি করে,  নিজের জীবন তাই নিজেকেই  নিতে হবে নিজের হাতেই গড়ে।। অত্যাচারী দমন করতে  শক্তি বাড়াও শারীরিক আর মানসিক,  পাশাপাশি শক্তি বাড়াও  বিবেক-বুদ্ধির সাথে আর্থিক সামাজিক।  যুদ্ধ করেই বাঁচতে হবে  লাশের মত জীবনের নাই প্রাণের স্বাদ।।

মা হয়েছি

 মা হয়েছি  খাদিজা বেগম  আমি যখন মা হয়েছি  তখন থেকেই তুচ্ছ আমার ব্যথা,  মাথার ভেতর সদয় থাকে  সন্তানদেরকে ভালো রাখার কথা।। সন্তানের মল মূত্রের ভয়ে  মা সন্তানকে রেখে দেয় না দূরে, যত্ন করে বুকের মাঝে  লালন করে ভালোবাসায় মুড়ে। মায়ের স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ  সবকিছুতে সন্তানের সুখ গাঁথা।। সন্তান যদি বিপথে যায়  মা ভেঙে যায় নদীর কুলের মত,  সন্তানের সুখ মায়ের স্বস্তি  অসুখে হয় মায়ের বুকে ক্ষত।। সন্তান যদি মাকে কাঁদায়  তবুও মা চায় সন্তানের হাসি,  সন্তানের সুখ বাঁচাতে মা নিজের সুখের গলায় দেয় যে ফাঁসি। সন্তানের সুখ প্রার্থনাতে  মা দুঃখিনী সেজদায় লুটায় মাথা।।

দুঃখ

 দুঃখ  খাদিজা বেগম  দুঃখ আমার বড় সম্পদ  তাই তো কাউকে এই দুঃখের ভাগ দেবো না, দুঃখ আমার শিক্ষাগুরু এই দুঃখকে নেতিবাচক ভেব না।। অবিচ্ছেদ্য অংশ দুঃখ  দুঃখ আমার ব্যক্তিগত ক্ষমতা, দুঃখ আমায় দান করেছে  ক্ষমা ধৈর্য ভালোবাসা মমতা। দুঃখ আমার জীবন মরণ  দুঃখ ছাড়া আমি বেঁচে রব না।। দুঃখের প্রেমে মন ডুবেছে  দুঃখ ছাড়া অন্য কিছু বুঝি না, দুঃখের মাঝে এতটা সুখ  তাইতো আমি সুখের ভুবন খুঁজি না।। জীবন ছাড়া মাটির কায়া  শুয়ে পড়ে যায় না তারে জাগানো, দুঃখ ছাড়া মানব জীবন  সত্যি কারের কাজে যায় না লাগানো।  দুঃখের মাঝেই সুখের খনি  তাইতো দুঃখ ছাড়া অন্য কিছু নেবো না।।

শোনো মেয়ে

 শোনো মেয়ে  খাদিজা বেগম  শোনো মেয়ে যে যাই বলুক  কারো কথায় কান দিও না কভু,  সবার আগে তুমি মানুষ  তোমাকেও জ্ঞান দিয়েছেন প্রভু।। তুমি এলে বাবার কোলে  এর পরেতে ভাইয়ের আদর স্নেহ, তার পরেতে স্বামী ছাড়া  তোমায় রক্ষা করবে না আর কেহ। পুরুষ মানুষ দেখতে মানুষ  তার ভিতরে দানব থাকে তবু।। যেই দুনিয়ায় স্বামী-স্ত্রীর  সম্পর্কের নাই নিশ্চয়তা কোনো, সেই দুনিয়ায় তুমি কেন  বন্ধু বেশী শত্রুর কথা শোনো।। নিজের সম্মান রক্ষা কর  তা দিও না কারো হাতে ছেড়ে,  অতিরিক্ত প্রশংসাতে  তোমারে বিবেক নেই না যেন কেড়ে। জীবন যুদ্ধে বিজয় নিশ্চিত  যদি কোন মায়ায় না হও কাবু।।

ক্ষত বিক্ষত মন

 ক্ষত বিক্ষত মন  খাদিজা বেগম আমার ক্ষত বিক্ষত মন তা থেকে হয় শুধু রক্ত ক্ষরণ  সেই ক্ষরণে যায় ভেসে যায়  খড়ের মত অসহায় এই জীবন।। জীবন আমার ধূপ ছিলনা  তবু আমি পুড়ছি ধূপের মত, উজ্জল হাসির আড়াল করে  ঢেকে রাখছি অগণিত ক্ষত।  রাত গভীরে জেগে জেগে  অশ্রু জলে ভিজে আমার নয়ন।। বিশ্বাসগুলো উড়ে গেছে  মেঘের মত অজানায় এক দেশে,  কাঁচের মত ভাঙছে হৃদয় বিশ্বাস ভাঙ্গা স্মৃতি গুলো এসে।। কেমন করে প্রাণ বাঁচাবো  শ্বাস-নিঃশ্বাসে অনেক কষ্ট লাগে,  যেন আমায় ডাকছে মরণ  বারে বারে মরণের সাধ জাগে। দুই নয়নে ক্ষণে ক্ষণে  খুব নীরবে ঝরে পড়ে শ্রাবণ।।