Posts

মা হয়েছি

 মা হয়েছি  খাদিজা বেগম  আমি যখন মা হয়েছি  তখন থেকেই তুচ্ছ আমার ব্যথা,  মাথার ভেতর সদয় থাকে  সন্তানদেরকে ভালো রাখার কথা।। সন্তানের মল মূত্রের ভয়ে  মা সন্তানকে রেখে দেয় না দূরে, যত্ন করে বুকের মাঝে  লালান করে ভালোবাসায় মুড়ে। মায়ের স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ  সবকিছুতে সন্তানের সুখ গাঁথা।। সন্তান যদি বিপথে যায়  মা ভাঙ্গে যায় নদীর কূলের মত,  সন্তানের সুখ মায়ের স্বস্তি  অসুখে হয় মায়ের বুকে ক্ষত।। সন্তান যদি মাকে কাঁদায়  তবুও মা চায় সন্তানের হাসি,  সন্তানের সুখ বাঁচাতে মায়  নিজের সুখের গলাতে দেয় ফাঁসি। সন্তানের সুখ প্রার্থনাতে  মা দুঃখিনী সেজদায় লুটায় মাথা।।

দুঃখ

 দুঃখ  খাদিজা বেগম  দুঃখ আমার বড় সম্পদ  তাইতো কাউকে এই দুঃখের ভাগ দেবো না, দুঃখ আমার শিক্ষা গুরু এই দুঃখকে নেতিবাচক ভেবো না।। অবিচ্ছেদ্য অংশ দুঃখ  দুঃখ আমার ব্যক্তিগত ক্ষমতা, দুঃখ আমায় দান করেছে  ক্ষমা ধৈর্য ভালোবাসা মমতা। দুঃখ আমার জীবন মরণ  দুঃখ ছাড়া আমি বেঁচে রবো না।। দুঃখের প্রেমে মন ডুবেছে  দুঃখ ছাড়া অন্য কিছু বুঝি না, দুঃখের মাঝে এতটা সুখ  তাইতো আমি সুখের ভুবন খুঁজি না।। জীবন ছাড়া মাটির কায়া  শুয়ে পড়ে যায় না তারে জাগানো, দুঃখ ছাড়া মানব জীবন  সত্যি কারের কাজে যায় না লাগানো।  দুঃখের মাঝেই সুখের খনি  তাইতো দুঃখ ছাড়া অন্য কিছু নেবো না।।

শোনো মেয়ে

 শোনো মেয়ে  খাদিজা বেগম  শোনো মেয়ে যে যাই বলুক  কারো কথায় কান দিও না কভু,  সবার আগে তুমি মানুষ  তোমাকেও জ্ঞান দিয়েছেন প্রভু।। তুমি এলে বাবার কোলে  এর পরেতে ভাইয়ের আদর স্নেহ, তার পরেতে স্বামী ছাড়া  তোমায় রক্ষা করবে না আর কেহ। পুরুষ মানুষ দেখতে মানুষ  তার ভিতরে দানব থাকে তবু।। যেই দুনিয়ায় স্বামী-স্ত্রীর  সম্পর্কের নাই নিশ্চয়তা কোনো, সেই দুনিয়ায় তুমি কেন  বন্ধু বেশী শত্রুর কথা শোনো।। নিজের সম্মান রক্ষা কর  তা দিও না কারো হাতে ছেড়ে,  অতিরিক্ত প্রশংসাতে  তোমারে বিবেক নেই না যেন কেড়ে। জীবন যুদ্ধে বিজয় নিশ্চিত  যদি কোন মায়ায় না হও কাবু।।

ক্ষত বিক্ষত মন

 ক্ষত বিক্ষত মন  খাদিজা বেগম আমার ক্ষত বিক্ষত মন তা থেকে হয় শুধু রক্ত ক্ষরণ  সেই ক্ষরণে যায় ভেসে যায়  খড়ের মত অসহায় এই জীবন।। জীবন আমার ধূপ ছিলনা  তবু আমি পুড়ছি ধূপের মত, উজ্জল হাসির আড়াল করে  ঢেকে রাখছি অগণিত ক্ষত।  রাত গভীরে জেগে জেগে  অশ্রু জলে ভিজে আমার নয়ন।। বিশ্বাসগুলো উড়ে গেছে  মেঘের মত অজানায় এক দেশে,  কাঁচের মত ভাঙছে হৃদয় বিশ্বাস ভাঙ্গা স্মৃতি গুলো এসে।। কেমন করে প্রাণ বাঁচাবো  শ্বাস-নিঃশ্বাসে অনেক কষ্ট লাগে,  যেন আমায় ডাকছে মরণ  বারে বারে মরণের সাধ জাগে। দুই নয়নে ক্ষণে ক্ষণে  খুব নীরবে ঝরে পড়ে শ্রাবণ।।

তুমি আসবে

 তুমি আসবে  খাদিজা বেগম  আজ এই দেহ মন খুব শান্ত  যেমন শান্ত থাকে ঝড়ের আগে,  মন বলেছে তুমি আসবে  দেখা হবে প্রেমের অনুরাগে।। খুলে যাবে খোঁপার বাঁধন  উড়ে যাবে বেনারসির আঁচল, ভেঙে যাবে কাঁচের চুড়ি ঢেউয়ে ঢেউয়ে নদী হবে চঞ্চল। সেই নদীতে নাও ভাষাতে  মনে মনে বড় ইচ্ছে জাগে।। রাত আর দিনের মিলন ক্ষণে  পৃথিবীর বুকে রংধনুর রং ছড়ায়, ভালোবাসার আলিঙ্গনে  একে অন্য জনার মাঝে হারায়।। তেমন করে মন হারাবো ভালো বেসে বেসে তোমার ভিতর, একটু নেবো একটু দেবো  উষ্ণ উষ্ণ ভালবাসার আদর। আজ যেন মন কেমন কেমন যা দেখি সব রঙিন রঙিন লাগে।।

ভিক্ষাতে নাই ভালোবাসা

 ভিক্ষাতে নাই ভালোবাসা  খাদিজা বেগম  ভিক্ষাতে নাই ভালবাসা ভালো করে গড়ো তোলো স্বভাব, হও পবিত্র পরিশ্রমী আর হবেনা ভালবাসার অভাব।। প্রেমো তৃষ্ণায় কাতর হয়ে  মন ডুবলে প্রেমের রসে রসে, মানুষ কি আর মানুষ থাকে  হারিয়ে যায় ভালবাসার বশে। জীবন মরণ এর ভিতরে  কানায় কানায় ভালোবাসার প্রভাব।। ভালোবাসা পাবার আশা  শিশু কিশোর বৃদ্ধ যুবক সবার,  বিষের চেয়েও বিষাক্ত খুব ভালোবাসা ছাড়া দামি খাবার।। ভালোবাসা বন্দি নয় তো  নরো নারীর ভালোবাসার মাঝে,  ভালোবাসা প্রকাশ করো তোমার সকল কথা এবং কাজে।  স্মরণ রেখো কাজের আগে  সকল কাজের দিতে হবে জবাব।।

মিলনের সুখ

 মিলনের সুখ খাদিজা বেগম  মিলনে সুখ যতটা রয় বিচ্ছেদে হয় আরো বেশি যন্ত্রণা,  মিলন নেশায় বেহুশ যে জন  তার বিরহে সে পাবে না সান্তনা।। এই মন কেন ভুলে থাকে মিলনের পর আসবে আবার বিরহ, সুস্থতার পর অসুস্থতায়  ধীরে ধীরে পতিতহয় এই দেহ। স্বাভাবিক এই নিয়ম নীতি  আগে থেকেই কি এ হৃদয় জানতো না।। তবে কেন দুঃখ পেলে  মন ভরে যায় বিষন্নতার বাতাসে,  তবে কেন সূর্য লুকায়  অন্ধকারে মেঘ ভরে যায় আকাশে।। ভালোবাসায় আগুন আছে  হয়তো দেবে ক্ষণে ক্ষণে পুড়িয়ে,  তাই বলে কি ভালোবাসার  মিষ্টি ছোঁয়ায় মন নেবো না জুড়িয়ে। যদি শুধু সুখের জীবন হতো  তবে দুঃখের আঘাতে মন ভাঙতো না।।