Posts

শিশুর মত

 শিশুর মতন  খাদিজা বেগম  অবুঝ ছোট্ট শিশুর মত  টলমল টলমল আমার পায়ের হাটা,  সদ্য ফোটা ফুলের মত  পাপড়ির নিচে নিচে আছে কাটা।। অহংকারী দাম্ভিক হয়ে  এই মাটিতে হয়নি আমার চলা, ফুলের মত নিষ্পাপ সেজে  হয়নি আমার মিথ্যে গল্প বলা।  আমার নদীর উল্টো স্রোত  সারা জীবন সেথায় শুধু ভাটা।। খুব সহজে মাড়িয়ে যাও  কারণ আমি পথে ফোঁটা ঘাসফুল, খুব সহজে ভাঙো আমায়  কারণ আমি জীবন নদীর দুই কূল।। তবু আমায় ভালোবেসে  জড়িয়ে রয় শীতল শিশির বিন্দু,  তবু উর্মি মালা হয়ে  আমার কাছে ছুটে আসে সিন্ধু। তবুও মন ঘৃণা করে  অনৈতিক পথ অন্যায়ের পা চাটা।।

মেঘ করেছে

 মেঘ করেছে  খাদিজা বেগম  নীল আকাশে মেঘ করেছে  হয়তো এখন নামবে বৃষ্টি,  হাওয়ায় হাওয়ায় তোমার গন্ধ  তোমায় খুঁজে বেড়ায় দৃষ্টি। বৃষ্টি ভেজা হাওয়া এসে  যখন লাগে আমার অঙ্গে,  তোমার স্মৃতির ঝড় তুফানে মন ভেসে যায় প্রেম তরঙ্গে। তুমি থাকলে পাশাপাশি  বৃষ্টির এই ক্ষণ হতো মিষ্টি।। থেকে থেকে মেঘ ডেকে যায়  মন মানেনা শাসন বারণ,  মেঘের ডাকে ঘুম ভেঙ্গে যায়  জেগে ওঠে আমার মরণ।। সঙ্গী ছাড়া একলা জীবন  যেন জিন্দা লাশের মত, ঠোঁটের কোনায় মিথ্যে হাসি  বুকের মাঝে হাজার ক্ষত। তুমি এলে বৃষ্টির মত  হত হাজার সুখের সৃষ্টি।।

আমি ছন্নছাড়া

 আমি ছন্নছাড়া  খাদিজা বেগম তোমার প্রেমের ব্যাকুলতায়  আমি ছন্নছাড়া দিনে রাতে, বর্ষণমুখর স্নিগ্ধ দিনে  তোমাকে চাই আমার আঁখি পাতে।। তোমার প্রেমে মগ্ন হৃদয় তোমাকে চায় খুব একান্তে পেতে, তোমার প্রেমের বীজ বুনেছি  এই হৃদয়ের ভালোবাসার ক্ষেতে। এই বিশ্বাসে ভালোবাসি প্রিয় তুমি থাকবে আমার সাথে।। শ্রাবণ ধারার মত হৃদয়  অবিরত তোমায় ভালোবাসে, তোমায় ভেবে আনমনা মন  অকারনে হঠাৎ করে হাসে।। তুমি আমার হাসির কারণ  তুমি আমার বেঁচে থাকার আশা,  আকুলতার কারণ তুমি  আকুল করা তোমার ভালোবাসা।  তোমাকে চাই স্রষ্টার কাছে  সেজদায় পড়ে আমার প্রার্থনাতে।।

বলো ভালোবাসি

 বলো ভালোবাসি  খাদিজা বেগম  সত্য কথা শুনতে চাই না  মিথ্যে করেই বলো ভালোবাসি, শত্য রূপ টা দেখতে চাই না  মিথ্যে করেই দেখাও মিষ্টি হাসি।। বাস্তব জীবন চাইনা আমি কাছে থাকার অভিনয়ে থাকো,  আপন করার অভিনয়ে  খুব আপনের মতো করে রাখো। দুনিয়ার আর থাকবো কদিন  মরার জন্যই আমরা বেঁচে আছি।। মরার পরে ভিন্ন হবো  ভিন্ন হবে তোমার আমার কবর,  তখন থাকবো আপন মনে কেউ নেব না কারো কোন খবর।। মানুষ হওয়ার জন্য আমরা এখন না হয় একটু খবর রাখি, মানবতার জন্য না হয়  ক্ষত মনে একটু মলম মাখি। পৃথিবীতে কেউ সুখী নয়  আমরা সবাই সুখের সেবার দাসী।।

ঠাঁই দেবে সাই রহমান

 ঠাঁই দেবে সাই রহমান  খাদিজা বেগম  সম্মান দিলে সম্মান মিলে  অপমান দাও যদি মিলবে অপমান,  মুখে বলবে যেমন কথা  তেমন কথা শুনতে পাবে তোমার কান।। যেমন চিন্তা তেমন কর্ম  কোন চিন্তা করো না কেউ না ভেবে,  কর্মফলের কথা ভেবে  কর্মের দিকে আপনার হাত দেবে। যা করো কাজ যা বলো আজ  কাল পাবে তার হাজারো গুন প্রতিদান। স্রষ্টার নয়ন দেখে তোমায় তারে নাইবা দেখো তোমার নয়নে, আমল নামা লিখছে দুজন  যা করেছ তুমি সারা জীবনে।। তিনি মহান ন্যায় বিচারক  কারো প্রতি সে করে না অবিচার,  তাই বলি মন সাবধান থাকো  দিবানিশি চর্চা করো শিষ্টাচার। হিংসা নিন্দা ক্রোধ ত্যাগ কর  তবেই তোমায় ঠাই দেবে সাই রহমান।।

তোমাকে চাই যদি

 তোমাকে চাই যদি  খাদিজা বেগম  আমার কি খুব হবে অন্যায়  তোমাকে চাই যদি আমার কাছে, সূর্যের আলোয় আলোকিত চাঁদ  সূর্য ছাড়া চাঁদের দাম কি আছে?? পূর্ণিমা রাত চাঁদের জোছনা  তার পেছনে সূর্যের ভালোবাসা,  আমার হাসি আমার খুশি  তার পিছনে তোমায় পাবার আশা। তোমার স্মৃতি মেঘের মত  মন আকাশে ঘুরে ফিরে আসে।। তোমায় কত ভালবাসি  তা বোঝাবো আমি কেমন করে, তোমার স্মৃতি বৃষ্টি হয়ে  খুব নীরবে দুই নয়নে ঝরে।। হয়ে যাবো কি খুব দোষী মন যদি না শোনে আমার শাসন,  পর ভেবে দূর করে দিলে তবু ভাবে মন তোমাকে আপন। আজো আছে তোমার স্মৃতি  শুধু তুমি নেই আর আমার পাশে।।

যথেষ্ট নয়

 যথেষ্ট নয়  খাদিজা বেগম সকালে নয় বিকালে নয়  জীবনে নয় মরণে নয়,  তুমি ছাড়া এই জীবনের  কোন কিছুই যথেষ্ট নয়।। সকল কিছু থেকেও নাই  তোমায় ছাড়া লাগে শূন্য,  তুমি এলে কানায় কানায়  মন হয়ে যায় পরিপূর্ণ । মনের কোনায় জেগে থাকে  রোজ তোমাকে হারাবার ভয়।। তুমি একটু দূরে গেলে  আমার সুখে লাগে ভাটা,  তুমি থাকলে কাছাকাছি  ফুল হয়ে যায় সকল কাঁটা।। আমার দৃষ্টির সীমা ছেড়ে  তুমি থাকো যখন দূরে,  বুকে নিয়ে বিরহের সুর  খুব নীরবে হৃদয় পুড়ে। তোমার হাতে থাকলে এই হাত  আনন্দিত হয় এই হৃদয়।।