Posts

অবিচারের আগুন

 অবিচারের আগুন  খাদিজা বেগম  হৃদয় আমার চিৎকার করে  মনে জ্বলে অবিচারের আগুন,  অত্যাচারী অত্যাচারে  চারদিকে আজ পলাশ ফোটা ফাগুন।। চেয়ে দেখো নীল আকাশটা  ছেয়ে গেছে রক্তিম আভায় আভায়,  ন্যায়ের নেশায় যে জেগেছে  ধরাতে কেউ নাই যে তারে দাবায়। আজ যে পলাশ ঝরে গেল  কাল সকালে ফুটবে আবার দ্বিগুণ।। আয় ছুটে আয় পাখির মত  ঝাঁকে ঝাঁকে কোথায় আছিস তোরা, পলাশ রাঙ্গা রক্তের স্রোতে  আজ ভাসাবো অত্যাচারীর গোড়া।। আলো এবং অন্ধকারের  এই খেলাতে আলোর বিজয় হবে,  ন্যায় অন্যায়ের লড়াই যত  ইতিহাস কয় ন্যায় জিতেছে ভবে।  নিত্য নিত্য মারার চেয়ে  মরার আগেই বিচার জন্য জাগুন।।

যারে ভালবাসি

 যারে ভালবাসি  খাদিজা বেগম  আমি যারে ভালোবাসি  তার হৃদয় টা যেন একটা বাজার,  সেই হৃদয়ে প্রতিটা দিন  মানুষ আসে যায় হাজারে হাজার।। ওই বাজারে যেতে হলে বড় বড় টাকার বান্ডিল লাগে, কত জিনিস ক্রাই বিক্রয় হয়  টাকা থাকলে সব ভরা যায় ব্যাগে। ভুল মানুষকে ভালবেসে  ভুলে ভুলে সব হারালাম আমার।। আমি কখন এসেছিলাম  সেই ব্যাপারে তার কাছে নাই খবর,  সেদিনও সে টের পাবে না  যেদিন আমার লাশের হবে কবর।। তার জীবনটা ভোমরার মত  নজর থাকে নেত্য নতুন ফুলে,  কূল ভাঙ্গা ঐ নদীর মত  আমার হৃদয় ভাঙলো ভুলে ভুলে। দয়াল তুমি বিচার করো  এই দুঃখিনীর সরল হৃদয় ভাঙ্গার।।

মনের মোনাজাত

 মনের মোনাজাত  খাদিজা বেগম  তোমার হাসি দেখলে আমার  মন আকাশে হেসে ওঠে চাঁদ,  তোমার হাসি থাক অমলিন  এটাই আমার মনের মোনাজাত।। তুমি হাসলে যেন তোমার  ওই ঠোঁট থেকে ছড়ায় ফুলের ঘ্রাণ, তোমার হাসির ঘ্রাণে ঘ্রাণে  চঞ্চল হয়ে ওঠে আমার প্রাণ। তোমার চোখের অশ্রু দেখলে  আমার এ চোখ কাঁদে দিবা রাত।। তোমার কান্নায় মন ভেঙে যায়  চলতে চায় না আমার দুটি পা,  আমার হাসি তোমায় দিলাম  তবু তুমি কভু কেঁদো না।। ফুলের হাসি চাঁদের হাসি  সবার চেয়ে তোমার হাসি বেশ, আমার মনের দুঃখগুলো  দূর করে দেয় তোমার হাসির রেশ। সুখে-দুঃখে পাশে রবো  যাব না তো ছেড়ে তোমার হাত।।

সুশীল পুরুষ ছাড়া

 সুশীল পুরুষ ছাড়া  খাদিজা বেগম নারীকে যে বেশ্যা বলো তার আগে বল বেশ্যা গড়ার সেই কারিগর কারা?  কোন নারী হয়না বেশ্যা  এই সমাজের সুশীল পুরুষ ছাড়া।। এই সমাজে বেশ্যার চেয়ে  ধর্ষণকারীর সংখ্যা অনেক বড়ো,  বলাৎকারী সেই বলাৎকার  ভুলে গিয়ে নারীদের দোষ ধরো।  তোমরা পুরুষ সাধুর জাতি দুধে ধোয়া পবিত্রময় তারা।। নারীর গায়ে দোষ চাপিয়ে  যদি পারো পার হয়ে যাও কবর,  আপন কর্ম ছাড়া ভাই রে ওই কবরে কেউ রাখে না খবর।। যত দোষের দোষী নারী  তোমরা পুরুষ সন্ন্যাসী আর সাধু,  দুনিয়াকে দেখালে ভাই  তোমাদের ওই জাদুর কাঠির জাদু। জাদুর কাঠি ঢলে পড়বে  ও ভাই যখন তোমরা যাবা মারা।।

শয়তান ছিল জ্ঞানী

 শয়তান ছিল জ্ঞানী খাদিজা বেগম  নামাজ পড়ে পূজা করে  ভাবছো যারা বড় ধার্মিক তারা,  নিজেকে যে বড় ভাবে  সে আর কে হবে শয়তান ছাড়া।। শয়তান ছিল মহাজ্ঞানী  ইবাদতে আর আমলে বড়,  অহংকার তার ধ্বংসের কারণ  ওই অহংকার থেকে আগে সরো।  অহংকারী দাম্ভিক হয়ে তোমরা যেন কেউ যেওনা মারা।। বিনয়ী হও বিনয় দেখাও  তোমার কথাবার্তা কর্মের মাঝে,  তোমার ধর্ম ফুলের মত  ঘ্রাণ ছড়িয়ে যাক প্রতিটা কাজে।। নামাজ রোজা হজ্ব যাকাতে  ইবাদাতকে কেউ করো না বন্দী, আমরা মানুষ সহযোগী  কেউ হবো না কারো প্রতিদ্বন্দী। মানবজাতির শত্রু ওরা  ধর্ম নিয়ে যুদ্ধ করে যারা।।

ভালোবাসার পরেও

 ভালোবাসার পরেও  খাদিজা বেগম  তোমায় ভালোবাসার পরেও  আমি গেলাম অন্যের প্রেমে পড়ে,  এমন কান্ড ঘটার আগে  আমি কেন গেলাম না যে মরে।। আমার দোষেই দোষী আমি  তবু তোমায় দোষ চাপিয়ে দিচ্ছি,  দোষ স্বীকার না করে আমি  পাপের বোঝা ঘাড়ে তুলে নিচ্ছি। অলিক সুখের নেশায় পরে  আগুন দিলাম আমিই আমার ঘরে।। আমার চোখে আমিই এখন  বিশ্বাসঘাতক পশুর চেয়েও নিচু, আজ বুঝেছি তুমি ছাড়া  সত্য নয় তো এই পৃথিবীর কিছু।। আমি ছিলাম অহংকারী  ভুল করেও করিনি ভুল স্বীকার,  তাইতো এখন অনুতাপের  শিখায় পুড়ে দিবানিশি আঙ্গার। তোমায় দুঃখ দেবার পরে এখন আমার চোখেও অশ্রু ঝরে।।

মানুষ

 মানুষ খাদিজা বেগম  অবিচারের পক্ষে যারা  জান্নাতের সুখ হারাম তাদের জন্য,  গরিব ধনী নারী পুরুষ  সবাই মানুষ কেহ নয় তো পণ্য।। সৌদির যাকাত ভিক্ষা দিয়ে গড় যারা মাদ্রাসা এই দেশে, তোমাদের সব ঈমান আমান  ওই ধর্ষকদের মত গেছে ভেসে। ধর্মের বেশে বেশ ধরেছো  তোমরাও তো ওদের মতই বন্য।। সৌদির পূজায় লুটাও যারা  তোমরাও তো সৌদির মত বর্বর, তোমাদের মন গড়া ধর্ম  ঈমান শুকনো পাতার মত মর্মর।। সৌদি হলো অত্যাচারী  নারীর উপর জুলুম করা জালিম,  সেই জালিমের পক্ষপাতী  শয়তানের দল যতই সাজো আলিম। শেষ বিচারে দেখা যাবে  কে মানুষ আর কে শয়তানের সন্য।।