Posts

তৃষিত মন

 তৃষিত মন খাদিজা বেগম  তৃষিত মন কাতর কণ্ঠে  তোমার নামটি ধরে ডাকে রাত দিন,  প্রতি অঙ্গ প্রতি অঙ্গে  মিশে মিশে হতে চাইছে বিলীন।। প্রাণের সাথে প্রাণ মিলাবো  দেহের সাথে মিলাবো এই দেহ,  কোথায় আছে প্রাণের সখা  তারে এনে দাওনা তোমরা কেহ।  তারে ছাড়া সোনার অঙ্গ  পুড়ে পুড়ে হয়ে যাচ্ছে মলিন।। তপ্ত রোদের তাপে যেমন  পথিক খুঁজে বেড়ায় শীতল ছায়া,  তেমন এ মন মন বাড়িয়ে  খুঁজে বেড়ায় তোমার একটু মায়া।। রাত গভীরে একলা জেগে  চাঁদের আলোয় তোমায় করি তালাশ, ফিরে এসো কাছে এসো  তোমায় ভেবে মন হয়ে যায় উদাস। একটু দয়া করো প্রিয়  আমার প্রতি আর থেকো না কঠিন।।

সময় নেই হাতে

 সময় নেই হাতে  খাদিজা বেগম  ভাল কাজে ডাকলে তোমায়  তুমি বলো কোন সময় নেই হাতে,   দম্ভ করে মন্দ কাজে  তোমার সময় ফুরিয়ে যায় দিন রাতে।। কেন তুমি ভুলে গেছো সময় হলো মূল্যবান এক আমানত, জবাবদিহি করতেই হবে  কেমন করে করেছ তার খেয়ানত। মিথ্যা তোমায় ধ্বংস করবে  পড়ো নি কি ওই কোরআনের আয়াতে।। পরনিন্দা পরকীয়া  পরচর্চা করবে আরো কতটা,  প্রতারণা করে করে  আর করো না বড় পাপের ক্ষতটা।। সময় থাকতে বুঝলি নারে একদিন তোমার হাতে সময় থাকবে না,  যার সময় সে নিয়ে যাবে কেউ তোমাকে আর কখনো ডাকবে না। হিসাব করে দেখরে মন কি করেছো এত দিনের হায়াতে।।

উল্লাস

 উল্লাস  খাদিজা বেগম  আমার হৃদয় জুড়ে তোমার  স্মৃতির লাশে লাশে করে উল্লাস,  হাসির স্মৃতি কান্নার স্মৃতি  স্মৃতিগুলো তোমায় করে তালাশ।। তোমার স্মৃতি গুলো আমার  বুকের মাঝে দিয়েছিলাম কবর,  তুমি আমায় ভুলে গেছ  কবর থেকেও রাখে ওরা খবর। এখন তুমি আমায় চাও না  ওরা এসে চায় এক গুচ্ছ পলাশ।। তোমাকে খুব ভালোবেসে  তোমার কাছেই হয়ে গেলাম দোষী, চলে গেছো বহু দূরে  তবু তোমার স্মৃতির লাশটা পোষী।। ভালোবাসা নিয়ে গেছ  কোন কারণে ভালোবাসা দাও নি, তুমি আমি মিলেমিশে  ভালো থাকি কেন তুমি চাও নি। আর কতকাল একা একা  বইবো আমি তোমার স্মৃতির এই লাশ।।

আলেম থেকে ইবলিশ

 আলেম থেকে ইবলিশ খাদিজা বেগম  ইবলিশ ছিল ফেরেশতাদের নেতা  জ্ঞান বুদ্ধিতে সব ফেরেশতার বড়, অহংকারের কারণে সে শয়তান তাই বলি ভাই অহংকার ভয় কর।। সে দেখেছে আল্লাহকে  সে দেখেছে জাহান্নাম আর জান্নাত,  কেয়ামতের দিন পর্যন্ত  সে পেয়েছে অনেক লম্বা হায়াত। ওহে মানুষ বিনয়ী হও  ধৈর্যশীল হও সততার পথ ধর।। ইবলিশ তৈরি আগুন দিয়ে  আদম ছিল মাটি দিয়ে তৈরি,  তাই নিজেকে উত্তম বলে  অহংকারে হয়ে উঠল বৈরী।। কিসের আগুন কিসের মাটি  সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ,  তবু যদি ভুল হয়ে যায়  মাপ চেয়ে নাও কেউ দিও না পাল্লা। কে বড় আর কে বা ছোট  শয়তানের এই হিসাব থেকে সরো।।

কাছে এসেছি

 কাছে এসেছি  খাদিজা বেগম  ভালবাসি বলে বলে  আমি তোমার এতো কাছে এসেছি,  দূরে যাওয়ার পথ নেই আর  ভালবেসে প্রেম মোহনায় মিশেছি।। চিনির সাথে জল মিশেলে  খুঁজে পাওয়া যায় না চিনির অস্তিত্ব, জেনে বুঝেই তোমার কাছে  ছেড়ে দিলাম এই জীবনের কর্তৃত্ব। প্রেম পিপাসায় কাতর হয়ে আমি তোমার প্রেম জমুনায় ভেসেছি। দিন মিশে যায় রাতের ভিতর  রাত মিশে যায় আবার দিনের ভিতরে, তুমি আমি তেমন করে  থাকবো মিশে দুজনার দুই অন্তরে।। তোমার আমার ভেতরে আর  অন্য কাউকে কভু আসতে দেবো না,  তোমার আছি তোমার রবো  আমি কভু অন্য কারো হবো না।  তোমার প্রেমে বন্দি থাকার  আশায় নিয়ে তোমার কাছে ফেসেছি।।

চলে যাবার আগে

 চলে যাবার আগে  খাদিজা বেগম  চলে যাবার আগে বললে  আমি তোমায় ভালোবাসি নাই,  ভালোবাসার খোঁজে তুমি  আমায় রেখে চলে যাচ্ছ তাই।। কেন আমার উপর দিলে  এতো বড় মিথ্যে অপবাদ,  তবু যুক্তি তর্কে যায় নি জানি চলে যাবার অজুহাত।  তাই বিরহের আগুনে মন  পুড়ে পুড়ে করতে চাইনি ছাই।। ভালোবেসে কেহ কাউকে  আপন করে রাখতে পারে না, যে থাকার সে থেকেই যাবে  মরণ এলেও যেতে পারবে না।। আমায় রেখে চলে গেছো  তবু স্মৃতির সাথে কাটাই রাত, তবু তোমার মঙ্গল চেয়ে  দুহাত পেতে করি মোনাজাত। কোন কারণে মন ভেঙেছো দেখা হলে প্রশ্ন করতে চাই।।

বর্ষা

 বর্ষা  খাদিজা বেগম  বর্ষা এলে কেউ বসে রয়  ভাঙ্গা চলার নিচে পাতিল পেতে,  কেউ বা আবার রাস্তায় ভিজে  দোয়া করে বর্ষা চলে যেতে।। কেউ বা বর্ষার তালে তালে  আনন্দে গান গায় নিজেকে ভুলে, কেউ বা আবার স্মৃতির দোলনায়  শখার সাথে বসে বসে দুলে। কেউ বা প্রিয় সঙ্গীর সাথে  মাতাল হাওয়ার মত ওঠে মেতে।। একি বর্ষার কত রং রূপ  বর্ষা ধরে দেখেছো কি ভেবে,  বর্ষার জলে কেউ কেউ জ্বলে কারো কারো মনের আগুন নেভে।। বর্ষা এলেই ভজন রসিক  খিচুড়ি আর মাংস পোলাও খাবে,  গৃহহিনা খুঁজে বেড়ায়  মাথা গোজার জায়গা কোথায় পাবে। প্রদীপ হয়ে জ্বলে বর্ষা  নিভে যাওয়া সব ফসলের ক্ষেতে।।