Posts

নিঃশ্বাস ভেবে

 নিঃশ্বাস ভেবে  খাদিজা বেগম  তোমায় আমার নিঃশ্বাস ভেবে  ছেড়ে দিলাম ফিরে আসার আশায়,  কেন তুমি আর এলে না  কি দোষ ছিল আমার ভালবাসায়।। কাছে এসে বলে যাও না  কেন তুমি আর আসোনি ফিরে, কোথায় আছো কেমন আছো তোমায় খুঁজি জনস্রোত এর ভিড়ে। তুমি আমার কাছে তাইতো  মনে মনে এই হৃদয়ে যা চায়।। ভালোবেসে কাছে এসে  কেন মারলে প্রতারণার ছুরি, কথা ছিল ভালবাসে তুমি আমি হবো বুড়ো বুড়ি।। ওয়াদা করে ভুলে গেছো  কাছে এসে চলে গেছো দূরে, আজো তোমায় মন ভুলিনি  মনে পড়ে দীর্ঘশ্বাসের সুরে।  তুমি ছাড়া পৃথিবীতে  আমি যেন বন্দী অগ্নি খাঁচায়।।

মানুষ ভেবে

 মানুষ ভেবে  খাদিজা বেগম  মানুষ ভেবে বিশ্বাস করে  বারে বারেই করে গেলাম ভুল, তাই বারেবার ভাঙছে হৃদয়  যেমন করে ভাঙ্গে নদীর কূল।। যেমন কূলের শত্রু হলো  নদীর বুকের আশ্রয় থাকা জলে, জল বোঝে না কৃতজ্ঞতা কুল ভেঙ্গে যায় ঢেউ খেলানোর ছলে। তেমনি করেই সে ভাঙ্গে মন  যে জন আমার মনের সুখের মূল।। আমি বারে বারেই ভাবি  এর পরে সে শুধরাবে তার দোষ, তবু তার কাজ বিষাক্ত খুব  সাপের মত করে সে ফোঁস ফোঁস।। ভাঙা ভাঙা হৃদয় আমার  রক্তমাখা এই হৃদয়ের ঘা, বুকটা ভরা এত ব্যাথা  ব্যথায় ব্যথায় বুক করে খাঁ খাঁ। না ফুটিতে ঝরে পড়ে  বারে বারে আমার আশার ফুল।।

চাওয়া-পাওয়া

 চাওয়া-পাওয়া খাদিজা বেগম  নিজের চাওয়া-পাওয়া মাঝে  দিবানিশি ডুবে থাকে যে জন,  সেই স্বার্থপর কেমন করে  দেখবে আমার ক্ষত বিক্ষত মন।। তার কাছে তার স্বার্থ আগে  সে বোঝেনা অনুভূতির মূল্য,  সে ভাবে সেই সবার সেরা  তার নয়নে নাই তার সমতুল্য। সে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত  হিসাব নেই তার কে পর আর কে আপন।। আমার কষ্টে কি আসে যায়  হিসাব করে শুধু নিজের সুখটা, তার নয়নে দেখে না সে  লাশের মত এই বিষন্ন মুখটা।। স্বভাবগত কারণে সে  চরিত্রহীন জীবন যাপন করে,  সেই মানুষের সঙ্গী হয়ে  আমার জীবন ধুঁকে ধুঁকে মরে। তার কারণে মন পুড়ে ছাই  অশ্রু সাগর বইছে আমার নয়ন।।

অপরাধের শাস্তি

 অপরাধের শাস্তি  খাদিজা বেগম  পরের অপরাধের শাস্তি  কভু যেন আপনাকে দিও না, যেমন কর্ম তেমনি ফল  পরের ভুলের বোঝা টেনে নিও না।। মাথা নষ্ট করো না আর  ভেবে ভেবে অন্য জনের চরিত্র,  অটুট থাকো নৈতিকতায়  সদা রাখো আপনাকে পবিত্র। বিশ্বাস কিংবা ভালোবাসা  তুমি কোন কিছুই ভিক্ষা চেয়ো না।। পৃথিবীতে জনে জনে  ভালোবাসা আর বিশ্বাসের অভাব, মানুষরূপী অমানুষের  পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট ময় স্বভাব।। বিশ্বাস রেখো কর্মফলে যার কর্মফল সেই তো একদিন পাবে, ন্যায় বিচারের আশায় আশায় তুমি শুধুই ধৈর্য ধরে যাবে। পর কখনো হয় না আপন  এই কথাটি তুমি ভুলে যেও না।।

চরিত্রহীন

 চরিত্রহীন  খাদিজা বেগম  চরিত্রহীন নির্লজ্জকে  লজ্জা দেবার নেই তো কোন পথ,  যখন তখন যেথায় সেথায়  বস্ত্র খোলা প্রাণী হয় না সৎ।। জ্ঞান পাপীকে জ্ঞানের আলোয়  আলোকিত করা যাবে না,  লেংটা বুদ্ধির বিবেকহীন কে  জ্ঞানী গুণীর মাঝে পাবে না। ওদের মুখে নীতি কথা  বুকের কানায় কানায় ভরা বদ।। ধর্মান্ধ আর কুশিক্ষিত  মানবজাতির জন্য শত্রু দল, ওদের মাঝে নাই তো ঈমান  স্বার্থের জন্য খায় কুকুরের মল।। ন্যায় অন্যায় এর ধার ধারে না  ওদের নাই তো কোন ধর্ম, দেশ,  অশ্লীলতায় ভরা জীবন  ওদের নীতি নৈতিকতা শেষ। যা খুশি তাই করে বেড়ায়  ওরা জানতে চায় না কারো মত।।

নির্ঘুম রাতের সাক্ষী

 নির্ঘুম রাতের সাক্ষী  খাদিজা বেগম আমার নির্ঘুম রাতের সাক্ষী  আমার সাথে জেগে থাকা অন্ধকার,  তোমার দেয়া কষ্টগুলো  আমার বুকের মাঝে করে হাহাকার।। আরো কত কষ্ট দেবে  আরো কত আমাকে রাত জাগাবে,  আরো কত টেনে হিছড়ে  ওই কবরের দিকে আমায় আগাবে। বিনা দোষে বিনা ভুলে  কেন আমি শাস্তি পাচ্ছি বারেবার।। কোন সে সুখের নেশায় ডুবে  তুমি আমায় ডুবিয়ে দেও অসুখে, বারে বারে কেন তুমি  প্রতারণার ছুরি মারো এই বুকে।। মনের ব্যথায় বুক জ্বলে যায়  শ্বাস চলে না ঘুম আসে না দুই চোখে, যন্ত্রণাতে সুখ চুষে খায় যেমন করে রক্ত চোষে খায় জোঁকে। কষ্টের খাঁচায় বন্দি আত্মা একদিন উড়ে যাবে ভেঙে বদ্ধ দ্বার।।

মাপা মাপি

 মাপা মাপি  খাদিজা বেগম  অন্যের সাথে কেন তুমি  তোমায় কর এত মাপা মাপি,  মৃত্যু অনিবার্য সত্য  তবে কিসের ভয়ে কাঁপা কাঁপি।। অন্যের সম্পদ অন্যের সম্মান  তুমি হতে পারবে না তার সমান,  তোমার মত শুধুই তুমি  তোমার কাজে রেখে যাও তার প্রমাণ। ভুল হলে মাফ করে দিও পাপ হলে হও গভীর অনুতাপী।। তোমার রঙে তুমি রঙিন  তুমি মহান তোমার জ্ঞানে গুনে,  মন খারাপের নাই তো কারণ  নিন্দুকের ওই নোংরা কথা শুনে।। তোমার আলোয় তুমি উজ্জ্বল  তোমার মাপেই তুমি তৈরি করা, তোমার জন্য যত্ন করে  তোমার স্রষ্টা গড়েছেন এই ধরা। সত্য ন্যায়ের পথ ছাড়ে যে  সেই মানুষেই মহা অভিশাপী।।