Posts

কেমন স্বামী স্ত্রী

 কেমন স্বামী স্ত্রী  খাদিজা বেগম শোনবে,  আমরা কেমন স্বামী স্ত্রী  আমাদের সব কিছুই ভিন্ন ভিন্ন,  আমাদের ঘর সংসার সন্তান  এতেই প্রমাণ হয় মিলনের চিহ্ন।। অমিল দিয়ে ভরা সংসার  আমাদের সুর কথা তাল লয় ছন্দ,  এই অনিল মিল করতে গিয়েই সবকিছুতে লেগে থাকে দ্বন্দ্ব।  তাইতো আমরা যে যার মত  কেহ বদলে যায়নি কারো জন্য।। বহুকালের বিবর্তনের  মধ্য থেকে হল এই উৎপত্তি,  আমরা একে অন্যের সহযোগী  কেউ কারো হই না কোন সম্পত্তি।। অধিকারের দোহাই দিয়ে  মত চাপাই না কেহ কারো উপর,  আমরা দুজনেই ভুলে ভরা  কেউ মারি না কাউকে কথার থাপ্পর।  ভুল শুধরিয়ে আগলে রাখি তাই তো জীবন আজ এত অনন্য।।

অনাড়ষ্ট

 অনাড়ষ্ট খাদিজা বেগম  সত্য সন্ধান করো তুমি  তোমার জিহ্বা রাখো আনাড়ষ্ট,  সত্য দেবে আত্ম তৃপ্তি  মিথ্যা তোমায় করে দেবে নষ্ট।। মিথ্যা থেকে সরে গিয়ে  থাকতে পারো যদি সত্যের কাছে,  তবেই জেনে রেখো তুমি  তোমার মাঝে মনুষ্যত্ব আছে। মনুষ্যত্ব ওয়ালা মানুষ  কভু কাউকে দেয় না দুঃখ কষ্ট।। রাগের সময় চুপ থাকতে হয়  রাগের কথা অশ্লীল হতে পারে,  রাগ নিয়ন্ত্রণ করে যে জন  সত্তিকারের মানুষ বলে তারে।। তোমার সুন্দর চিন্তা কর্মে ছয় রিপুরা হয়ে যাবে দুর্বল,  সদা সত্যের চর্চা করো  সত্যের মাঝেই তুমি হবে সফল।  যারা মিথ্যার মাঝে খোঁজে  সুখ আনন্দ তারাই ভবে ভ্রষ্ট।।

প্রতিদ্বন্দ্বী

 প্রতিদ্বন্দ্বী  খাদিজা বেগম  ভালোবেসে কাছে এসে  দেখি তুমিই আমার প্রতিদ্বন্দ্বী,  ভালোবাসা পাবার আশায়  হয়ে গেছি তোমার কাছে বন্দী।। বিশ্বাস করে হৃদয় দিলাম  আমি তোমার হৃদয় পাবো বলে,  আমার হৃদয় ভেঙ্গে চুরে  ভাসাই দিলে দুই নয়নের জলে।  সুখে রাখার কথা দিয়ে  কষ্ট রাখার করছো হাজার ফন্দি।। কথা ছিল সুখে-দুখে  আমার পক্ষে থাকবে দিনে রাতে  এখন দেখি লড়ছো তুমি প্রতিপক্ষ হয়ে আমার সাথে।। বন্ধু ভেবে ভুল করেছি  এখন দেখি তুমি আমার দুশমন,  তুমি আমি কাছে থেকেও  এখন যোজন যোজন দূরে দুজন। তোমার প্রতারণার কাছে  বারেবারে হারে আমার সন্ধি।

ঘরের মানুষ

 ঘরের মানুষ  খাদিজা বেগম  যখন ঘরের মানুষ পরের সাথে  হাত মিলিয়ে প্রতারণা করে,  তখন সংসার ভাঙার ভয়ে  অন্য জনা জ্যান্ত মরা মরে।। এক ফোটা জল চোখে আসে  হাজার ফোটা রক্ত ঝরে মনে, সংসার বড় জটিল বিষয়  তা টেকে না না টিকালে দুই জনে। কেউ করে ভুল কেউ দেয় মাশুল  কেঁদে কেঁদে সারা জীবন ধরে।। একটি বিচ্ছেদ মানে হল  হাজার রাত্রি জেগে জেগে কাঁদা, কান্নার কারণ হয় না তারা  যাদের হৃদয় পবিত্রময় সাদা।। এক মুহূর্তের ভুলের জন্য  হতে পারে সারা জীবন কাঁদতে,  হারাতেও পারো তারে  চাইছো যারে আপন করে বাঁধতে। বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরদের  দেখে লোকে ঘৃণার নয়ন ভরে।।

ধড়ফড় ধড়ফড়

 ধড়ফড় ধড়ফড়  খাদিজা বেগম  তোমার চোখে চোখ পড়িলে  ধড়ফড় ধড়ফড় করে আমার বুক,  দুঃখগুলো যায় হারিয়ে  বুকের কানায় কানায় জাগে সুখ।। তোমার হাতে হাত রাখিলে  পৃথিবীতে নেমে আসে জান্নাত,  জনম জনম তোমাকে চাই  তুমি ছাড়া আমি যেন বরবাদ। ফোটা ফুলের মত লাগে  দেখতে তোমার হাসিমাখা মুখ।। ওই ফুলের ঘ্রাণ পেয়ে এই মন  অলির মতন পাগল হয়ে ছোটে, গভীর ঘুমে ঘুমান্ত প্রেম  তীব্র ঝড়ের মতো জেগে ওঠে।। তোমার পথে পা রাখিলে  ফিরে আসা হয় না আমার ঘরে,  যাযাবর মন সারাটা ক্ষণ  ঘুরে ফিরে তোমাকেই খোঁজ করে। তোমার মাঝেই আমার সব সুখ  তোমায় ছাড়া জীবন ভরা দুখ।।

স্বপ্ন ছিল

 স্বপ্ন ছিল  খাদিজা বেগম ছোট ছোট স্বপ্ন ছিল  আবেগঘন এই হৃদয়ের মাঝে,  স্বপ্নগুলো অশ্রু হয়ে  চোখে ঝরে সকাল সন্ধ্যা সাঁঝে।। স্বপ্ন ছিল হাটবো দুজন  পাশাপাশি দুজনার হাত ধরে, বসব দুজন কাছাকাছি ভালবেসে ঘেঁষাঘেঁষি করে। স্বপ্নগুলো হারিয়ে যায়  এই জীবনের তপ্ত জটিল কাজে।। স্বপ্ন ছিলা বলব কথা  ভালোবাসার অঙ্গ ভঙ্গি করে, অঙ্গভঙ্গি ভুলে কেন  ঝগড়া করি কর্কশ কণ্ঠস্বরে।। স্বপ্ন ছিল আমরা দুজন  সুখে দুঃখে বন্ধু হয়ে থাকবো,  একের ক্ষতে অন্যজনা যত্ন করে সুখের মলম মাখবো।  আজ কেন সেই স্বপ্নগুলো  যন্ত্রণার সুর হয়ে মনে বাজে।।

শান্তি লাগে চিত্তে

 শান্তি লাগে চিত্তে  খাদিজা বেগম  তোমার মত মিথ্যা বলে  পারবো না তো কোনদিনও জিততে,  সত্য বলেই হেরে যাব  এই হারাতেই শান্তি লাগে চিত্তে।। তোমার মত প্রতারণা  করে করে চাই না সুখী হতে,  পবিত্রতায় অটুট থাকব  নুন দেবনা কারো মনের ক্ষতে। মরে গেলেও থাকবো আমি  নৈতিকতায় ঘিরে থাকা বৃত্তে।। অনৈতিক ঐ পাপের পথে  সুখের আশায় পা রাখবো না আমি,  হবো না তো বিশ্বাসঘাতক নীতির পথে দুঃখই আমার দামি।। ন্যায়ের মতো ঐশ্বর্য নাই যারা মানুষ তারাই শুধু জানে,  স্রষ্টার আদেশ নিষেধ গুলো  সত্যি কারের মানুষেরাই মানে। যেন মানুষ হয়ে মরি  এই মোনাজাত করি নিত্যে নিত্যে।