গুমরে গুমরে কাঁদে

 গুমরে গুমরে কাঁদে 

খাদিজা বেগম 


আজ শুনেছি বাতাস 

গুমরে গুমরে কাঁদে আর বলে


এই সেই পৃথিবীটা 

যেখানে নারীকে মায়ের স্থান দিয়ে,

ভক্তি ভরে সম্মান করে 

মাথা ঝুঁকিয়ে সালাম করে।

নারীর পায়ের নিচে 

শেষ আশ্রয় জান্নাত খোঁজে। 


এই সেই পৃথিবীটা 

যেখানে নারীকে স্ত্রীর রূপে 

গ্রহণ করার পরে ফের 

কাপুরুষ অত্যাচার করে। 


এই সেই পৃথিবীটা 

যেখানে নারীকে শিশুরূপে পেয়েও

হায়নার দলে ছাড়ে না,

অবুঝ শিশুর নিষ্পাপ ঐ

দেহের নরম রক্ত মাংস 

ছিঁড়ে ছিঁড়ে চুষে চুষে খায়। 


এই সেই পৃথিবীটা 

যেখানে নারীকে মা কালী সরস্বতী 

রূপে পূজা করে ঝুঁকে ঝুঁকে।

আবার ওই পূজারীরাই 

দলবেঁধে নারীকেই করে ধর্ষণ।


এই সেই পৃথিবীটা 

এখানে প্রতিটা মানুষেই 

নারীর গর্ভ থেকে আসে। 

তবুও কিছু কিছু মানুষ 

মানুষের রূপে কাপুরুষ আছে 

ওরা নারীকে জানে না

হৃদয় থেকে শ্রদ্ধা জানাতে, 

ওরা জানেনা নারীকে 

মন ঝুঁকিয়ে সম্মান করতে,

নারীকে মানে না মানুষ বলে। 

নারীকে ভোগ্য পণ্য হিসাবে 

ওরা ভোগ করে ধ্বংস হয়ে যায়।


এই সেই পৃথিবীটা 

যেখানে নারীকে প্রেমিকার রূপে 

গ্রহণ করে নারীর পেটে 

বাচ্চা দিয়ে, প্রেমিক পুরুষ 

হাওয়ায় মিশে যায়। 

বাচ্চাটাকে অস্বীকার করে।।


এই সেই পৃথিবীটা 

যেখানে বরযাত্রী সেজে নারীকে 

স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করে, 

আবার নারীর ভুল না থাকা সত্ত্বেও নারীকে কিছু কিছু কাপুরুষ 

তালাক প্রদান করে।

অর্থ ক্ষমতার জোরে।


এই পৃথিবীটা আর কবে 

মানব বান্ধব হবে? মানুষের জন্য 

আর কবে হবে নারীদের 

অভয় আশ্রম হে পৃথিবী।

যেখানে নারীরা মা, মেয়ে, বোন, 

প্রিয়তমা স্ত্রীর রূপে 

মানুষ হিসাবে মানুষের মত 

মূল্যায়ন পাবে পৃথিবীর থেকে। 


মানুষের মত করে 

নারীরা তার আত্মসম্মান নিয়ে 

মাথা উঁচু করে বেঁচে রবে! 

স্বাধীনতার সাথে 

প্রকাশ করবে নিজের মাঝে থাকা একান্ত নিজের মতামত। 

নির্ভয়ে চলবে জীবনের প্রতিটি পথ।।


পৃথিবী তখন উত্তর দিল 

এ তো আমার দোষ নয়, 

এ দোষ তো নারীদের। 

নারীরাই নিজেকে নারী বলে গুটিয়ে রেখেছে। 

নারীরা নিজেকে নারী বলে দুর্বল ভেবেছে।

 নারীরাই নিজেকে নারী বলে বোকা ভেবেছে। 

নারীরাই পুরুষকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে পিছনে থেকে।

নারীরাই পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে পুরুষকে দ্বিগবিজয়ী করতে সাহায্য করে। 

নারীরাই পুরুষকে এগিয়ে দিয়ে খুশি থাকে পিছনে থেকে। 

খুশিমনের সন্তুষ্ট চিত্তে নিজেরাই পিছিয়ে যায় পুরুষের এগিয়ে যাওয়া দেখে।

কিছু কিছু দুষ্ট নারীরাই বিবাহিত কাপুরুষের পিছু নিয়ে, নিরহ নারীদের নিজের হাতে কষ্টে গড়া সুখী সংসার ভাঙ্গে।

শাশুড়ি কিংবা ননত অথবা বউ রূপে বহুরূপী দুষ্ট নারী রা সংসারে সংসারে নিজেরা নিজেরাই লড়াই করে। নিজেদের সংসারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। নিজেদের শান্তি নষ্ট করে। কখনো কখনো নিজেদের সংসার নিজেরাই ভাঙ্গে।


 তাই বলে নারীরা পিছিয়ে নেই, যে নারীরা শক্তিশালী বীর যোদ্ধাদের জন্ম দেয়। গর্ভে ধারণ করে সেই নারীরা দুর্বল নয়।

পুরুষরা যদি বীর হয় 

তবে নারীরা বীর শ্রেষ্ঠ। 

পুরুষরা যদি যোদ্ধা হয় 

তবে নারীরা শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা।

পুরুষরা যদি জ্ঞানী হয় 

তবে নারীরা মহাজ্ঞানী। 

পুরুষরা যদি ভালোবাসার নদী হয় 

তবে নারীরা ভালোবাসার অথই সাগর।

পুরুষরা যদি মানব হয়, 

তবে নারীরা মহামানবী।।

কারণ সব মানুষই নারীর গর্ভে নয় মাস নয় দিন আশ্রয় নিয়েছে তারপরে এই পৃথিবীতে এসেছে।

 পৃথিবীতে আসার পূর্বেই নারীর আশ্রয় এসেছিল। সেই আশ্রয় দাতাকে কোন মানুষ ছোট করে দেখতে পারেনা। খাটো করে দেখতে পারেনা।

 অপমান অবহেলা করতে পারে না। যারা করে তারা মানুষ না। 

মানুষের মতো দেখতে হলেও তারা অমানুষ, তারা কাপুরুষ, তারা হায়েনা তারা হিংস্র পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট পশু।

আজকের শিশু, কিশোরী 

কিংবা যুবতী মেয়েটি 

কালকের মা, 

এ কথা কেউ ভুলে যেও না। 

সব মায়েদের প্রতি অশেষ সালাম।

Comments

Popular posts from this blog

নীতা আম্বানি

মনের মত এক মন

বলো