Posts

Showing posts from June, 2026

শিশুর মত

 শিশুর মতন  খাদিজা বেগম  অবুঝ ছোট্ট শিশুর মত  টলমল টলমল আমার পায়ের হাটা,  সদ্য ফোটা ফুলের মত  পাপড়ির নিচে নিচে আছে কাটা।। অহংকারী দাম্ভিক হয়ে  এই মাটিতে হয়নি আমার চলা, ফুলের মত নিষ্পাপ সেজে  হয়নি আমার মিথ্যে গল্প বলা।  আমার নদীর উল্টো স্রোত  সারা জীবন সেথায় শুধু ভাটা।। খুব সহজে মাড়িয়ে যাও  কারণ আমি পথে ফোঁটা ঘাসফুল, খুব সহজে ভাঙো আমায়  কারণ আমি জীবন নদীর দুই কূল।। তবু আমায় ভালোবেসে  জড়িয়ে রয় শীতল শিশির বিন্দু,  তবু উর্মি মালা হয়ে  আমার কাছে ছুটে আসে সিন্ধু। তবুও মন ঘৃণা করে  অনৈতিক পথ অন্যায়ের পা চাটা।।

মেঘ করেছে

 মেঘ করেছে  খাদিজা বেগম  নীল আকাশে মেঘ করেছে  হয়তো এখন নামবে বৃষ্টি,  হাওয়ায় হাওয়ায় তোমার গন্ধ  তোমায় খুঁজে বেড়ায় দৃষ্টি। বৃষ্টি ভেজা হাওয়া এসে  যখন লাগে আমার অঙ্গে,  তোমার স্মৃতির ঝড় তুফানে মন ভেসে যায় প্রেম তরঙ্গে। তুমি থাকলে পাশাপাশি  বৃষ্টির এই ক্ষণ হতো মিষ্টি।। থেকে থেকে মেঘ ডেকে যায়  মন মানেনা শাসন বারণ,  মেঘের ডাকে ঘুম ভেঙ্গে যায়  জেগে ওঠে আমার মরণ।। সঙ্গী ছাড়া একলা জীবন  যেন জিন্দা লাশের মত, ঠোঁটের কোনায় মিথ্যে হাসি  বুকের মাঝে হাজার ক্ষত। তুমি এলে বৃষ্টির মত  হত হাজার সুখের সৃষ্টি।।

আমি ছন্নছাড়া

 আমি ছন্নছাড়া  খাদিজা বেগম তোমার প্রেমের ব্যাকুলতায়  আমি ছন্নছাড়া দিনে রাতে, বর্ষণমুখর স্নিগ্ধ দিনে  তোমাকে চাই আমার আঁখি পাতে।। তোমার প্রেমে মগ্ন হৃদয় তোমাকে চায় খুব একান্তে পেতে, তোমার প্রেমের বীজ বুনেছি  এই হৃদয়ের ভালোবাসার ক্ষেতে। এই বিশ্বাসে ভালোবাসি প্রিয় তুমি থাকবে আমার সাথে।। শ্রাবণ ধারার মত হৃদয়  অবিরত তোমায় ভালোবাসে, তোমায় ভেবে আনমনা মন  অকারনে হঠাৎ করে হাসে।। তুমি আমার হাসির কারণ  তুমি আমার বেঁচে থাকার আশা,  আকুলতার কারণ তুমি  আকুল করা তোমার ভালোবাসা।  তোমাকে চাই স্রষ্টার কাছে  সেজদায় পড়ে আমার প্রার্থনাতে।।

বলো ভালোবাসি

 বলো ভালোবাসি  খাদিজা বেগম  সত্য কথা শুনতে চাই না  মিথ্যে করেই বলো ভালোবাসি, শত্য রূপ টা দেখতে চাই না  মিথ্যে করেই দেখাও মিষ্টি হাসি।। বাস্তব জীবন চাইনা আমি কাছে থাকার অভিনয়ে থাকো,  আপন করার অভিনয়ে  খুব আপনের মতো করে রাখো। দুনিয়ার আর থাকবো কদিন  মরার জন্যই আমরা বেঁচে আছি।। মরার পরে ভিন্ন হবো  ভিন্ন হবে তোমার আমার কবর,  তখন থাকবো আপন মনে কেউ নেব না কারো কোন খবর।। মানুষ হওয়ার জন্য আমরা এখন না হয় একটু খবর রাখি, মানবতার জন্য না হয়  ক্ষত মনে একটু মলম মাখি। পৃথিবীতে কেউ সুখী নয়  আমরা সবাই সুখের সেবার দাসী।।

ঠাঁই দেবে সাই রহমান

 ঠাঁই দেবে সাই রহমান  খাদিজা বেগম  সম্মান দিলে সম্মান মিলে  অপমান দাও যদি মিলবে অপমান,  মুখে বলবে যেমন কথা  তেমন কথা শুনতে পাবে তোমার কান।। যেমন চিন্তা তেমন কর্ম  কোন চিন্তা করো না কেউ না ভেবে,  কর্মফলের কথা ভেবে  কর্মের দিকে আপনার হাত দেবে। যা করো কাজ যা বলো আজ  কাল পাবে তার হাজারো গুন প্রতিদান। স্রষ্টার নয়ন দেখে তোমায় তারে নাইবা দেখো তোমার নয়নে, আমল নামা লিখছে দুজন  যা করেছ তুমি সারা জীবনে।। তিনি মহান ন্যায় বিচারক  কারো প্রতি সে করে না অবিচার,  তাই বলি মন সাবধান থাকো  দিবানিশি চর্চা করো শিষ্টাচার। হিংসা নিন্দা ক্রোধ ত্যাগ কর  তবেই তোমায় ঠাই দেবে সাই রহমান।।

তোমাকে চাই যদি

 তোমাকে চাই যদি  খাদিজা বেগম  আমার কি খুব হবে অন্যায়  তোমাকে চাই যদি আমার কাছে, সূর্যের আলোয় আলোকিত চাঁদ  সূর্য ছাড়া চাঁদের দাম কি আছে?? পূর্ণিমা রাত চাঁদের জোছনা  তার পেছনে সূর্যের ভালোবাসা,  আমার হাসি আমার খুশি  তার পিছনে তোমায় পাবার আশা। তোমার স্মৃতি মেঘের মত  মন আকাশে ঘুরে ফিরে আসে।। তোমায় কত ভালবাসি  তা বোঝাবো আমি কেমন করে, তোমার স্মৃতি বৃষ্টি হয়ে  খুব নীরবে দুই নয়নে ঝরে।। হয়ে যাবো কি খুব দোষী মন যদি না শোনে আমার শাসন,  পর ভেবে দূর করে দিলে তবু ভাবে মন তোমাকে আপন। আজো আছে তোমার স্মৃতি  শুধু তুমি নেই আর আমার পাশে।।

যথেষ্ট নয়

 যথেষ্ট নয়  খাদিজা বেগম সকালে নয় বিকালে নয়  জীবনে নয় মরণে নয়,  তুমি ছাড়া এই জীবনের  কোন কিছুই যথেষ্ট নয়।। সকল কিছু থেকেও নাই  তোমায় ছাড়া লাগে শূন্য,  তুমি এলে কানায় কানায়  মন হয়ে যায় পরিপূর্ণ । মনের কোনায় জেগে থাকে  রোজ তোমাকে হারাবার ভয়।। তুমি একটু দূরে গেলে  আমার সুখে লাগে ভাটা,  তুমি থাকলে কাছাকাছি  ফুল হয়ে যায় সকল কাঁটা।। আমার দৃষ্টির সীমা ছেড়ে  তুমি থাকো যখন দূরে,  বুকে নিয়ে বিরহের সুর  খুব নীরবে হৃদয় পুড়ে। তোমার হাতে থাকলে এই হাত  আনন্দিত হয় এই হৃদয়।।

শিশির কণার মত

 শিশির কণার মত  খাদিজা বেগম  শিশির কণার মত তুমি  খুব নীরবে আসলে আমার মনে,  মনের ডালে ফুল ফোটালে  ভালোবাসার তৃষ্ণা কাতর বনে।। বৃষ্টি হয়ে আসলে তুমি  মেঘের ডাকে ডাকে হত জানা,  পাখি হয়ে আসলে তুমি  দেখতে পেতাম তোমার দুটি ডানা।  বাতাস হয়ে এসে তুমি  বীণা বাঁধায় ঢুকলে শ্বাসের সনে।। হাসি হয়ে এসে তুমি  অবলীলায় বাসলে আমার ঠোঁটে,  জোছনা হয়ে মন জড়ালে  রাত গভীরে চন্দ্র হয়ে ওঠে।। সূর্য হয়ে আসলে তুমি  আমি দেখতে পেতাম তোমার আলো,  মায়া হয়ে এলে তুমি  তাই বুঝি মন এত লাগে ভালো। তোমার প্রেমের অনুভূতি জেগে ওঠে নীরব শিহরণে।।

পথের মাঝে

 পথের মাঝে  খাদিজা বেগম পথের মাঝে থেমে গেছে  হঠাৎ করে আমার পথচলা,  মাঝপথে সে হাত ছেড়েছে  আমি বুঝতে পারি নি তার ছলা।। অন্ধের মতো ভালোবেসে তার প্রেমেতে ছিলাম আমি অন্ধ, তাইতো আমি দেখতে পাইনি তার ভিতরের লুকানো সেই মন্দ। এত বড় ভুল করেছি  তা যাবে না কোন ভাষায় বলা।। একটিবারো ভাবলো না সে  তারে ছাড়া বাঁচবো কেমন করে, তার যাওয়াতে যাচ্ছে যেন আমার পায়ের নিচের মাটি সরে।। কোন কিছু ভেবে পাইনা কি করে সে হল এত নিষ্ঠুর, হঠাৎ আমি মরুর বুকে  আমার মাথায় অগ্নি ঝরা রোদ্দুর।  কেন ভালোবাসলাম তারে  যার ভিতর নাই মনুষ্যত্বের তলা।।

ময়না

 ময়না  খাদিজা বেগম  কালো কেশী ময়না আমি আমার কালো কালো আঁখি,  অনুসন্ধান করে বেড়াই কে কাহাকে দিচ্ছে ফাঁকি।। কাঁচা সোনায় মোড়ানো গা  ঝলমল ঝলমল করে ময়না, ময়না সবাই চাইতে পারে  কিন্তু ময়না সবার হয় না। লক্ষ্য মনের স্বপ্ন ময়না  তাই তো ময়না এত লাকি।। সকল বাঁধা বিঘ্ন ভেঙে  আমি ঝড়ের মতো ছুটি, অন্ধকার রাত তাড়িয়ে রোজ  আমি সূর্য হয়ে ওঠি।। আকাশ সমান হৃদয় আমার  পাহাড় সমান দৃঢ় মনোবল, বুকে বইছে অগ্নি লাভা  চোখে জ্বলছে লাল দাবানল। হারানো ভয় হারিয়েছি হারাবার নাই কিছু বাকি।।

গাছের মত দাঁড়িয়ে

 গাছের মত দাঁড়িয়ে  খাদিজা বেগম  গাছের মত দাঁড়িয়ে রই  লতার মত বেয়ে উঠবে বলে,  বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ি  তুমি ভিজবে বলে আমার জলে।। চলতি পথে যেতে যেতে  আমি গাছে গাছে দেখি চেয়ে,  কত লতা উঠে গেছে  কত গাছের গায়ে গায়ে বেয়ে। আমায় দেখলে তুমি কেন  এড়িয়ে যাও অন্য পথে চলে।। আমি বৃষ্টি হয়ে এলে  তুমি কেন দৌড়িয়ে যাও ঘরে,  কেমন করে দেখা হবে  এমন করে থাকো যদি সরে।। তোমার জন্য আমার মনে  এত বেশি প্রেম দিয়েছে প্রভু, তোমার দেয়া অপমান আর  অবহেলা গায় লাগেনা কভু। তোমায় দেখার তৃষ্ণায় নিয়ে  আজো আমার প্রেমিক নয়ন জ্বলে।।

দুই ঠোঁটে যা আছে

 দুই ঠোঁটে যা আছে খাদিজা বেগম  তোমায় পেলে নিরজনে  লুফে নিতাম দুই ঠোঁটে যা আছে,  মন জুরাতাম প্রাণ ভরাতাম  তোমায় পেলে এই হৃদয়ের কাছে।। ঘুমের ঘরে আসো তুমি  জাগরণে পাইনা তোমার দেখা,  তোমায় ছাড়া ভাল্লাগে না  পৃথিবীতে যেন আমি একা।  বারে বারে ঘুরেফিরে  তোমার মুখটা আমার চোখে ভাসে।। জানিনা কি জাদু আছে  তোমার হাতের ওই আঙ্গুলের ছোঁয়ায়, জ্বলছি আমি পুড়ছি আমি  ভেসে যাচ্ছি হৃদয় পোড়া ধোঁয়ায়।। কি করে যে ভেবে না পাই তোমায় ভালোবেসে গেছি ফেঁসে, হয়তো আমার দুঃখ দেখে  তুমি উঠছো ফুলের মত হেসে।  হৃদয় ভরা কষ্ট নিয়ে  একটা মানুষ আর কতদিন বাঁচে??

এতটা রাগ

 এতটা রাগ  খাদিজা বেগম  তুমি যদি এতটা রাগ  না দেখাতে আমার সাথে,  আমার এই হাত সব সময়ে  রেখে দিতাম তোমার হাতে।। হৃদয় খুলে বলে দিতাম  ভালোবাসি তোমাকে খুব,  পাগলা হাওয়ার মত আমায় পাগল করে তোমার ঐ রুপ। এক গ্লাসে পান করতাম পানি  খাবার খেতাম তোমার পাতে।। যদি কোন অশ্লীল ভাষা  না করিতে আমার সনে,  তোমায় ছাড়া অন্য কারো  স্থান হত না এই মনে।। তোমার কঠোর ব্যবহারে  ভালোবাসা অশ্রু হয়ে ঝরে,  একটু কমল হতে যদি  জান্নাতের সুখ বইত এই অন্তরে। নিশ্চিন্তে ক্ষণ কেটে যেত  স্বপ্নে ভেসে যেতাম প্রতি রাতে।।

অপরাধের হিসাব নাই

 অপরাধের হিসাব নাই  খাদিজা বেগম  কত দোষে দোষী তুমি  তোমার অপরাধের হিসাব নাই,  যেদিন তোমার বিচার হবে  সব অপরাধ সামনে রাখবেন সাই।। নিজের ত্রুটি ঢেকে রেখে  বারেবারে অন্যের ত্রুটি দেখো, ক্ষমা করতে শেখো রে মন  অন্যের ত্রুটি ক্ষমা করতে শেখো। ক্ষমা করলে ক্ষমা মেলে  কঠোর হলে পুড়ে হবে ছাই।। তুমি আহাদ তুমি ছামাদ  তুমি কাহার মহাধ্বংসকারী,  আল্লাহ আমায় মাফ করে দাও  আমি যেন হই না অহংকারী।। হে রহমান রহিম আল্লাহ  আমাকে দাও কৃতজ্ঞতার মন, কবুল করে নাও আমাকে  করে রাখ তোমার প্রিয় জন। কোন কিছু চাই না আমি  একবার যদি তোমার দেখা পাই।।

চোখের ইশারাতে

 চোখের ইশারাতে  খাদিজা বেগম তোমার চোখের ইশারাতে  একদিন আমায় কাছে ডেকেছিলে,  এক পৃথিবী রঙিন স্বপ্ন  দেখেছিলাম আমরা দুজন মিলে।। স্বপ্নগুলো মেঘের মত  ঝরে গেল বৃষ্টি পড়ে পড়ে, আজো একা বসে আছি  তোমার স্বপ্নের স্মৃতিগুলো ধরে। কোন দোষে আজ ঘৃণা করে  যোজন যোজন দূরে ঠেলে দিলে।। ইচ্ছে হলেই কাছে ডাকো  ইচ্ছে হলে আমায় রাখো দূরে,  তোমার হাতের পুতুল হয়ে  আমার জীবন যাচ্ছে জ্বলে পুড়ে।। তুমি আমার এমনি প্রেম  মন বেঁধেছি তোমার মায়ার সাথে,  ভুলতে চাইলে ভোলা যায় না  মনে পড়ে খুব একাকী রাতে। উদাসী চোখ ঘুম হারিয়ে  চেয়ে থাকে দূরের আকাশ নীলে।।

কথায় তৃষ্ণা

 কথার তৃষ্ণা  খাদিজা বেগম কথার তৃষ্ণায় ক্লান্ত হৃদয়  তবু তুমি বলতে দাওনি কথা,  না বলা সেই যন্ত্রণাতে  ভিজে ভিজে যায় নয়নের পাতা।। একটু কথা বলতে দিলে  তোমার কিবা এমন ক্ষতি হত, আমার বুকে হত না তো  এমন রক্ত ঝরা তীব্র ক্ষত। কিছু কথা শোনার ছিল  রয়ে গেল না শোনার সেই ব্যথা।। আমার এমন একদিন আসবে আর হবে না তোমার কথা শোনা, তোমায় কিছু বলার জন্য  আর হবে না আমার সময় গোনা। কিছু কিছু কথা থাকে  কখনো তা কাউকে হয় না বলা,  কিছু কিছু পথ ও থাকে  কখনো সেই পথে হয় না চলা।  না বলা সেই ব্যথা গুলোর  সাক্ষী হয়ে থাকবে জীবন খাতা।।

বৃষ্টি

 বৃষ্টি  খাদিজা বেগম  এখন বৃষ্টির জলে জলে  থই থই করে আমার শহর জুড়ে,  হিমেল হাওয়ায় হৃদয় জ্বলে  আমি একা একা যাচ্ছি পুড়ে।। বৃষ্টির জলে ভিজে ভিজে  ধুলা মাখা পাতা হলো সবুজ,  বৃষ্টির রাতে তোমার সাথে  থাকার জন্য মন হয়েছে অবুঝ। তোমার বিয়োগ ব্যথায় আমার  বুকের পাঁজর খাচ্ছে কুঁড়ে কুঁড়ে।। বৃষ্টি এলেই তোমার স্মৃতি  জেগে উঠে মনের কানায় কানায়,  তুমি ছাড়া একলা জীবন  এমন বৃষ্টির সময়ে কি মানায়।। গাছের শাখায় বৃষ্টি নামে  সেই বৃষ্টিতে শিকর ভিজে যাচ্ছে,  তাই দেখে এই মন ময়ূরী  মাতাল হয়ে ঘুরে ঘুরে নাচ্ছে। শীতল বৃষ্টির সুরে সুরে  মন আকাশে তোমার স্মৃতি উড়ে।।

সেদিন

 যেদিন  খাদিজা বেগম  যেদিন তুমি আমায় ছেড়ে   হয়ে যাবে অন্য কারো আপন,  আমি সেদিন মরে যাবো  আমার হবে মাটির বুকে দাফন।। যেদিন তুমি রাত কাটাবে  মাথা রেখে অন্য লোকের বুকে,  সেদিন আমার প্রাণ পাখিটা  মৃত্যুর কোলে পড়ে যাবে ঝুঁকে। তুমি সাজবে বিয়ের সাজে আমার দেহে থাকবে সাদা কাফন।। তোমার বিয়ায় আসবে যারা নেচে গেয়ে থাকবে তারা মেতে, তুমি থাকতে স্বপ্নে বিভোর  জান্নাতের সুখ ভালোবাসা পেতে।। সেদিন আমার জানাজাতে  ভিড় করিবে শত শত লোকে, পাজর ভাঙ্গা কান্নার পানি  ঝরে পড়বে কিছু কিছু চোখে। আমি যাব ঐ কবরে  তুমি করবে সুখের জীবন যাপন।।

দোষ দিও না

 দোষ দিও না  খাদিজা বেগম  আমার চোখের দোষ দিও না  যদি তোমায় দেখে পলক না পড়ে,  তুমি এত বেশি সুন্দর  বলো আমার চোখ সরাবো কি করে।। আমার পায়ের দোষ দিও না  যদি তোমার পিছে পিছে চলে যায়,  তোমার চলার জাদুতে মন  তোমার পথের বাঁকে বাঁকে গলে যায়।  আমার হাতের দোষ দিও না  যদি আমার হাত তোমার ওই হাত ধরে।। ও রূপসী তোমার মত  দেখিনি তো রূপের জোয়ার উঠিতে,  ও মায়াবী তোমার মত  দেখিনি তো মায়াবী ঢেউ ছুটিতে।। তোমার রূপের জোয়ারে মন  ডুবে গেছে সেই যে কখন জানিনা,  তুমি ছাড়া অন্য কাউকে  এই হৃদয়ের মানুষ বলে মানি না। পাগল এ মন সারা জীবন  বেঁধে রেখো আলতো প্রেমের আদরে।।

প্রেম যদি হয়

 প্রেম যদি হয় খাদিজা বেগম  প্রেম যদি হয় ঝড়ের মত  তারে ধরে বেঁধে রাখা যায় না,  তারাই বেশি প্রেমে পড়ে  যারা কভু প্রেমে পড়তে চায় না।। বিনা সুতার টানে টানে  যখন দুই মন এক হয়ে যায় মিলে, মিলনের গান গায় দুজনে  ভালোবাসার ঝড় উঠে যায় দিলে। অপূর্ন মন পূর্ণ হতে  একে অন্যের কাছে ধরে বায়না।। প্রেমের তুফান বাঁধ মানে না  তাই বলি প্রেম যেতে দিও বয়ে, বাঁধ দিও না প্রেমের পথে  প্রেম ছুটে যায় বাঁধ ভাঙ্গা জল হয়ে।। প্রেম যদি হয় সূর্যের মত  তারে যায় না ঢেকে রাখা কভু, যুগে যুগে প্রেমের নাই ভয়  প্রেমিক হৃদয় জয় করেছে প্রভু। জেগে জেগে রাত কেটে যায় প্রেমের তৃষ্ণায় প্রেমিকের ঘুম আয় না।।

আমি বেঁচে আছি

 আমি বেঁচে আছি  খাদিজা বেগম আমি বেঁচে আছি এই আনন্দে  জানাই অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা, মহান আল্লাহর দেয়া এই উপহার আমার দুঃখ কষ্ট অসুস্থতা।। জীবন আছে এইতো অনেক কিছু  তার উপরে স্বামী সংসার ছেলে, এই পৃথিবীর বুকে আমার মত এমন ভাগ্য কজনারি মেলে। যোগ্যতা নাই আমার কিছু পাবার আমার নাই তো কোন অভিজ্ঞতা।। তোমার দানে টিকে আছি আমি  যা পেয়েছি অমূল্য ধন সবি, রাতের বুকে দিয়েছো চাঁদ তারা দিনের বুকে সোনা মাখা রবি।। আমার জিম্মায় তোমার সম্পদ রেখে মানুষ হবার একটা সুযোগ দিলে,  রক্ষা করতে পারি যেন আমার  জিম্মাদারী তোমার সাথে মিলে।। আমাকে দাও সঠিক জ্ঞান আর ধৈর্য  ভালো মন্দ চেনার দাও ক্ষমতা।। জন্ম থেকে পরীক্ষা দেই আমি এই কথাটা ভুলি না যে কভু, তুমি মহান আল্লাহ পথপ্রদর্শক  আমার প্রতি দয়াবান হও প্রভু।।

তোমার চোখে

 তোমার চোখে  খাদিজা বেগম  তোমার চোখে যাদু আছে  সেই জাদুতে আমায় পাগল করেছে,  তোমায় দেখে মন উঠানে  ঝরো ঝরো প্রেমের বৃষ্টি ঝরেছে।। তোমার চোখে এই চোখ পড়ে  আমার চোখের পলক থেমে গিয়েছে, কেমন করে মন সামলাবো তোমার প্রেমে এই মন কেরে নিয়েছে। আমার এ পথ ভুলে গিয়ে  আমার চরণ তোমার ঐ পথ ধরেছে।। হাত ধরার এই উৎসবে হাত  আমার কোন বাঁধা নিষেধ মানে না,  হাত পেতে চায় হাতের ছোঁয়া  তোমায় ছাড়া আর কিছু মন জানে না।। তোমার ছোঁয়া পাবার জন্য  আমি থাকি বারেবার হাত বাড়িয়ে,  বুঝেও যেন বুঝতে চাও না  বারে বারে আমাকে যাও এড়িয়ে।  তোমার হাসির চঞ্চলতায়  তবু আমার প্রেমিক হৃদয় ভরেছে।।

বড় অসহায়

 বড় অসহায়  খাদিজা বেগম  তুমি যখন চলে যেতে বল  তখন আমায় লাগে বড় অসহায়,  তোমায় ছেড়ে কোথায় যাব আমি  তুমি ছাড়া আমি যে খুব নিরুপায়।। তুমি যখন বিচার করো আমার  তখন খুঁজে বেড়াই আমার পক্ষের লোক, তোমার চোখে আমি অপরাধী  আমার চোখে তুমি একজন বিচারক। তোমার দেয়া এই অপমান  ভিতর থেকে আমায় কুঁড়ে কুঁড়ে খায়।। তুমি আমার রক্ষাকারী হয়ে  কেমন করে ছিনিয়ে নাও মনের সুখ,  এই কি তোমার কর্তব্যবোধ  যখন তখন ঘাঁ করে দাও আমার বুক।। আগলে রাখার দায়িত্ব নিয়ে তুমি  বারে বারে ফেলে দিচ্ছ চরণে,  আমি নইতো কারো হাতের খেলনা  সেই কথাটা রেখ তোমার স্মরণে।  সব ছেড়েছি যারে আঁকড়ে ধরে  সে আমাকে এখন ছেড়ে যেতে চায়।। কোথায় বিশ্বাস কোথায় আস্থা পাবো  চারিদিকে ভাল সাজা প্রতারক, প্রতারকের ফাঁদে পড়ে এখন  বয়ে বেড়াই আমি আমার মৃত্যুর শোক।।

না বালা প্রেম

 না বলা প্রেম  খাদিজা বেগম  আমার আল্লাহ সাক্ষী আছে  ভালবাসি বলতে গিয়েও বলি নাই,  বারেবারে আমি তোমার  পাশাপাশি চলতে গিয়েও চলি নাই।। তোমার দিকে হাত বাড়িয়েও বারেবারে হাত গুটিয়ে এনেছি, যেদিন তোমায় প্রথম দেখি  সেদিন থেকেই আপন বলে মেনেছি।। তুমি আমার না ছোয়া প্রেম  যে প্রেম ভালবাসার কোন কলি নাই।। তোমাকে চোখ দেখতে গিয়ে  চোখের পাতা মুঝে ছিল নীরবে,  দু'চোখ বুজে যদি দেখা মেলে  বল তবে এই চোখ খুলে কি হবে।? হাতের ছোঁয়ায় কি আসে যায়  এই মন যদি তোমাকে রয় জড়িয়ে, ভালোবাসি না বলেও  যদি ভালোবাসায় মন রয় ভরিয়ে। বলার চেয়ে না বলা প্রেম  যদি অমর হয়ে রয় তাই বলি নাই।।

আমি যেমন

 আমি যেমন  খাদিজা বেগম  আমি যেমন তেমন রবো  কারো জন্য কাজল মেখে থাকবো না,  অভিনেত্রীর সাজে আমি  শাড়ি চুড়ি অঙ্গে পড়ে রাখবো না।। কালো গোলাপ সাদা গোলাপ  কেউ করো না কারো সাথে তুলনা,  একি মাটির বৃক্ষ থেকে  ফুল ফুটেছে তা যেন কেউ ভুল না।। কালো বরণ ভরা এই গাল  এ গালেতে মেকআপ আমি মাখবো না।। এই কপালের মধ্যখানে  রংবেরঙের টিপ আমি তো পরবো না, আমার পথেই চলবো আমি  কারো জন্য আলাদা পথ ধরবো না।। মেহেদির রং আলতা মেখে  সাজাবো না হাতে পায়ের এই আঙ্গুল, আমি যেমন তেমন রবো  পরিবর্তন করব না তো একটি চুল।। কারো আশায় বসে বসে আমি কারো জন্য রাত্রি জাগবো না।।

আমি মানুষ

 আমি মানুষ  খাদিজা বেগম  আমি মানুষ ভুলে ভরা ভুলগুলোকে ফুল ভাবতে কি শিখেছো,  হাজার ত্রুটি ক্ষমা করে  আমায় তোমার হৃদয় কি রেখেছো?  কানায় কানায় নাই পূর্ণতা আমি মানুষ অনেক কিছুর অভাবী,  একটুখানি ভালোবাসার  জন্য আমি খুব বিনয়ী স্বভাবী।। আমার ক্ষত স্থানে কি  তোমার হাতের ছোঁয়ায় মলম মেখেছো? মিষ্টি কথা বলি তবু আমার কথার মাঝে আছে রুক্ষতা,  ভেবেই কর্ম করি তবু আমার কাজের মাঝে আছে মূর্খতা।। কত যে দোষ কত যে ক্ষুত  তা তো হিসাব করে বলা যাবে না,  আমার মত আমি আছি  তবু আমার মত কাউকে পাবে না।। তোমার মাঝেও হাজারো খুঁত  তাকি বিবেক নামের আয়নায় দেখেছো।।

তুমি আমার কেউ না

 তুমি আমার কেউ না  খাদিজা বেগম  তোমার নিষ্ঠুর ব্যবহারে  চাওয়া পাওয়া মিটে গেছে সেই কবে,  এখন আমি কাঁদি না আর  বিবেক প্রশ্ন করে কেঁদে কি হবে।। কোন কারনে কোথায় কোথায়  তুমি সময় কাটাও আমি বুঝিনা, তাইতো আমি আগের মত  ভালোবাসার টানে তোমায় খুজি না। বুঝে গেছি অনেক আগেই তোমার সাথে প্রেম হবে না এই ভবে।। ভালোবাসার তৃষ্ণা নিয়ে  তোমার ঘরে একটা হৃদয় মরে যায়, তুমি বেড়াও জনে জনে  তার প্রতি নাই কেন তোমার কোন দায়।। আমি থাকি তোমার ঘরে  তুমি থাকো অন্যজনার মন জুড়ে,  এমন দৃশ্য প্রতিটা দিন  দেখে দেখে খুব নিরবে যাই পুড়ে। সেই থেকে আর মন পুড়ে না  তুমি আমার কেউ না বুঝলাম তা যবে।।

প্রথম দেখায়

 প্রথম দেখায়  খাদিজা বেগম  প্রথম দেখায় মনে হলো  তুমি যেন আমার অনেক চেনা,  তুমি আমার রাতের স্বপ্ন  কোমল সাদা শুভ্র হাসনাহেনা।  ওই মায়াবী চোখের মায়ায়  কখন যেন মন হারালাম আমি,  আজ মনে হয় তোমার চেয়ে  পৃথিবীতে আর কিছু নাই দামি। তোমার ঠোঁটের ওই হাসিটা  মূল্য দিয়ে যাবে না তো কেনা।। তোমার ঠোঁটে জমে থাকা  অদৃশ্য প্রেম যখন আমায় ডাকে,  সেই ডাকেতে মন ছুটে যায় কে আমাকে তখন বেঁধে রাখে।। ভালোবেসে মন ডুবে যায় তোমার দুটি চোখের গভীরতায়, একা একা রাত জেগে রই তোমার ভালোবাসা পাবার আশায়। এক জীবনে ভালোবেসে  শোধ হবেনা ভালবাসার দেনা।।

সম্পদ আর সম্পর্ক

 সম্পদ আর সম্পর্ক  খাদিজা বেগম  যত সম্পদ আর সম্পর্ক  যে সব সারা জীবন ধরে গড়েছ,  শেষ পর্যন্ত সব হারাবে যে সব দিয়ে ব্যাংকের লকার ভরেছে।। শেষ পর্যন্ত থাকবে শুধু  তোমার নিজের আপন কর্মফল,  এমন কর্ম কেউ করো না  যাতে ঝরে অন্য লোকের চোখের জল। একে একে সব হারাবে যা কিছু আজ শক্ত করে ধরেছ।। ইতিহাসের অনেক কাছে  নীল সাগর হয় মরুভূমি শুকিয়ে,  সময় হলেই প্রকাশ হবে  কভু সত্য রাখা যায় না লুকিয়ে।। পরিবর্তন এর এই খেলাতে  কালো কালো চুল গুলো সব সাদা হয়,  টানটান চামড়া ঢিল হয়ে যায়  নিজের চলার পথে নিজেই বাঁধা হয়। যাদের চিন্তা স্বচ্ছ সুন্দর  তারাই নিজের সাথে যুদ্ধ করেছে।। নিজের সাথে থাকা শত্রু  অন্য শত্রুর চেয়ে বেশি শক্তিমান, নিজের শত্রু ধ্বংস করে  ধীরে ধীরে হয়ে ওঠো বুদ্ধিমান।। মরার আগেই মরেছে সে  যার কারনে অন্যের অশ্রু ঝরেছে।।

চুম্বন হয়

 চুম্বন হয় খাদিজা বেগম  যদি চুম্বন হয় দুজনার  শুধু দুটো জোড়া ঠোঁটে ঠোঁটে  তবে কেন সারা অঙ্গে  প্রেম শিহরণ জেগে জেগে ওঠে।। যদি তোমার হাতের সাথে  শুধু আমার হাতের ছোঁয়া লাগে,  তবে কেন বাঁধ ভাঙ্গা প্রেম  তোমার আমার দুটি দেহে জাগে। সেই প্রেমেরি প্রবল স্রোতে  কানায় কানায় ভরে জোয়ার উঠে।। পায়ের সাথে পা মিলিয়ে  শুধু যদি পথো চলাই হত,  তবে কেন তোমার আমার  দুই হৃদয়ের শুকিয়ে যায় ক্ষত।। চোখে চোখে চেয়ে থেকে  শুধু যদি নামে নিরবতা, তবে কেন ঘুমন্ত প্রেম  নীরব কণ্ঠে বলে প্রেমের কথা।  তবে কেন পাখি গায় গান মন কাননে ফাগুনের ফুল ফোটে।।

হাত বাড়িয়ে দেবে

 হাত বাড়িয়ে দেবে  খাদিজা বেগম  দুঃখের স্রোতে মন যদি যায় ডুবে  তুমি কি গো হাত বাড়িয়ে দেবে?  অনেক শক্ত করে ধরে আমায়  তোমার বুকে জোরছে টেনে নেবে? প্রেমের খরায় যদি হৃদয় পুড়ে  তুমি কি গো শ্রাবণ হয়ে আসবে? মন ভিজিয়ে প্রাণ ভিজিয়ে  আলতো করে একটু ভালোবাসবে। এই মন তোমার কাছে আশ্রয় পেলে  শেষ হতো প্রাণ তোমায় সেবে সেবে।। সাগর বুকে ঠাঁই নিয়েছে উর্মি  ফুলের বুকে ঠাই নিয়েছে অলি,  আমি একা একা আশ্রয়হীনা যাযাবরের মত শুধু জ্বলি।। তোমার স্মৃতির নীল সাগরে আমি  ডুবে ডুবে চোখের জলে ভাসি,  তোমার যাবার সাথে সাথে আমার চলে গেছে এই বদনের হাসি। যেন জীবন আমার থমকে গেছে  শুধু তোমার কথা ভেবে ভেবে।।

আশা ছেড়ে দিছি

 আশা ছেড়ে দিছি  খাদিজা বেগম  তোমার আশা ছেড়ে দিছি  একলা থাকার ভয় করি না এখন,  চলে যাবার কথা বলে ভয় দেখাইও না আমায় যখন তখন।। আসছি একা যাবো একা আর কিছুদিন না হয় একা থাকবো,  আমার ক্ষত স্থানে রোজ  নিজের হাতে একলা মলম মাখবো। এতটা দিন মলম ভেবে  নুন মেখেছি তা দ্যাখেনি নয়ন।। বিশ্বাসঘাতক ভালোবেসে  এই জীবনটা বিষে বিষে ভরা, মরার আগে মরে গেছি  এখন আমি যেন জ্যান্ত মরা।। মানুষ তো নয় পশু পাখি  তাইতো তারে ধরে বাঁধা যায় না,  যে জন যাবার চলেই যাবে  পর কখনো আপন হতে চায় না।  আপন জনা ছেড়ে যায় না এই কথাটা রাখতে হবে স্মরণ।।

আমার পাখি

 আমার পাখি খাদিজা বেগম  হাজার রাত্রি জেগে জেগে  আদর মাখতাম যে পাখিটার গায়,  এখন দেখি সেই পাখিটা আমায় রেখে দূরে চলে যায়।। যত্ন করে ভালোবেসে  বুকের উপর রাখতাম সারাক্ষণ,  সেই বুক আমার শূন্য করে  যায় চলে যায় আমার প্রিয়জন।  আবার তারে বুকের সাথে  ধরে বেঁধে রাখতে মনে চায়।। নিজের হাতে গোসল দিয়ে  বুকের উপর পাড়িয়ে দিতাম ঘুম, ঘুরে ফিরে বারে বারে  ভালোবেসে দিয়ে যেতাম চুম।। এখন পাখি উড়তে জানে  তার ডানাতে স্বাধীনতার সুখ,  যেখানে থাক আমার পাখি  সুখে সুখে ভরে থাকুক বুক। যেন তারে ছোয় না কোন  এই পৃথিবীর দুঃখ যন্ত্রণায়।।

শ্রেষ্ঠ মানুষ

 শ্রেষ্ঠ মানুষ  খাদিজা বেগম হাজার রাত্রি জেগে জেগে  তোমার জন্য ঘুম করেছি মাটি,  তুমি যেন হও শ্রেষ্ঠ মানুষ  মানবতায় সবার চেয়ে খাঁটি। চোখের সাথে চোখ মিলিয়ে  দেখাই ছিলাম এই জীবনের লক্ষ্য,  হাতের সাথে হাত মিলিয়ে  করে ছিলাম অক্ষর দিয়ে দক্ষ। হৃদ মাঝারে জেগে থাকুক  তোমার শত শত সুখের ঘাঁটি।। ঠোটের সাথে ঠোঁট মিলিয়ে  শিখাইছিলাম প্রথম খাবার খাওয়া,  পায়ের সাথে পা মিলিয়ে  শিখাইছিলাম পথম আসা যাওয়া।। আল্লাহর আদেশ-নিষেধগুলো  সব দিয়েছি আমি তোমার কানে,  ন্যয় থেকে যে সরে না যাও  এই পৃথিবীর মিথ্যা মায়ার টানে। লোভ লালসা সব তাড়িয়  পবিত্রময় রেখো হৃদয় পার্টি।।

স্বার্থহীন নত

 স্বার্থহীন নত  খাদিজা বেগুন ভালোবাসা ভালো রাখতে  এসো আমরা হই শর্তহীন নত,  যত্ন নামের মলম মেখে  ঘুচিয়ে দেই দুজনার সব ক্ষত।। ঝগড়া হলে ঝগড়া করবো তা যেন হয় শালীন ভাষার মাঝে,  তর্ক হলে তর্ক করবো  ভুল করো না ধৈর্য ধরার কাজে।  মান অভিমান ভুলে গিয়ে  আবার বাসবো ভালো অবিরত।। এই জীবনের সময় অল্প  ভুল ধরে তা করো নাতো নষ্ট,  কেহ কাউকে ছোট করে  কথা বলে দিও নাত কষ্ট।। এসো একজন অন্যজনকে  ভালোবেসে আদর যত্ন করি,  এসো আপন হয়ে থেকে  ধৈর্য ধরে আপনাকে গড়ি। দুজন থাকলে এই দুজনার ভয় করি না দুঃখ আসুক যত।।

যদি ফোন না ধরো

 যদি ফোন না ধরো  খাদিজা বেগম  তুমি যদি ফোন না ধরো  আমার এ মন কত কথা বলে,  হৃদ মাঝারে যন্ত্রণা হয় বুক ভেসে যায় দুই নয়নের জলে।। চোখের আড়াল হয়ে গেলেও মনের মানুষ থাকে মনের মাঝে, যত্ন করে রাখি তারে  এই হৃদয়ের গোপন বাজে বাজে।  তার চরণের ধনী শুনি  যখন তখন হৃদয় পথে চলে।। কেন তোমায় এত বেশি ভালবাসি মন জানে না কারণ,  মন বারেবর তোমাকে চায়  মানে না সে কোন শাসন বারণ।। ডানা থাকলে উড়ে যেতাম  গিয়ে দেখতাম তোমাকে এক নজর,  প্রতিদিনই নিয়ে আসতাম  আমি তোমার প্রতিদিনের খবর।  তোমায় ছাড়া একলা লাগে  রিদ মাঝারে যেন আগুন জ্বলে।।

কথা দিলাম

 কথা দিলাম  খাদিজা বেগম কথা দিলাম তোমায় নিয়ে  হাঁটব আমি শিশির ভেজা ঘাসে,  তোমায় নিয়ে নাও ভাসাবো  যেথায় শাপলা শালুক ভাসে।। সারা রাত্রি জেগে রবো  তোমায় নিয়ে পূর্ণিমা চাঁদ দেখে  রাত গভীরে তোমায় নিয়ে  ভিজে যাব চাঁদের আলো মেখে। কথা দিলাম ছাড়বো না হাত  হাজার দুঃখ কষ্ট যদি আসে।। আমি আছি আমার মত  আমার কথার উপর অটল হয়ে, তবু জীবন শেষ হয়ে যায়  শুধু তোমার স্মৃতি বয়ে বয়ে।। আসার সময় আসলে তুমি  খুব নীরবে ভালোবেসে বেসে,  যাবার সময় বুকের মাঝে  কি ভয়ংকর ঝড় তুলেছ শেষে। মনে মনে এই মন আমার তবুও তো তোমায় ভালোবাসে।।

সংক্ষিপ্ত জীবন

 সংক্ষিপ্ত জীবন  খাদিজা বেগম  সংক্ষিপ্ত এই জীবন আমার  চিরস্থায়ী বলে কোন কিছু নাই, তবুও তো মন বোঝেনা  দিবানিশি এটা ওটা পেতে চাই।। এতটুকু কম সময়ে  কোন সময় নষ্ট করার সময় নাই, এই মন থেকে ঘৃণা বিদ্বেষ  পরনিন্দা ধুয়ে মুছে রাখি তাই। এটা সেটা নাই নাই বলে  এই না থাকার সেই আগুনে পুড়ে যাই।। কিছু অভাব থাকবে থাকুক  কিছু দুঃখ আমার থাকবে অবিরাম, অসুস্থ না হলে কভু  কেউ বোঝেনা সুস্থ থাকার অশেষ দাম।।  আমার কাছে দুই হাত আছে  যে হাত আমি ন্যায়ের জন্য রোজ বাড়াই, আমার দুইটা চরণ আছে  যার উপরে শক্ত হয়ে রোজ দাঁড়াই। এটা সেটা পেতে গিয়ে  যা আছে তা আমি যেন না হারাই।।

এ কোন পিপাসাতে

 এ কোন পিপাসাতে  খাদিজা বেগম  হঠাৎ এ কোন পিপাসাতে  মন শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে যায়, জানিনা কোন অদৃশ্য ঝর প্রবল বেগে বুকের মাঝে বয়ে যায়।। কাল বৈশাখী ঝরের মত যেন আমায় ভেঙে চুরে চলে যায়, অবলা মন না বলেও  ভালোবাসার মিষ্টি কথা বলে যায়। তবু আমার হৃদয় মাঝে  কার হৃদয়ের ছোঁয়া যেন রয়ে যায়।। জানিনা তার নাম ঠিকানা  ঘুমের ঘোরে দেখেছিলাম তাকে, নাম দিয়েছি তার অপ্সরা  জানিনা সে এখন কোথায় থাকে।। ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে  তবু আমার মন নিয়েছে কেড়ে, একবার ধরতে পারলে তারে  এই জীবনে আর দেবো না ছেড়ে।  তারে নয়ন ভরে না দেখিলে  আমার বুকের মাঝে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায়।।

স্মৃতির ছোঁয়া লাগে

 স্মৃতির ছোঁয়া লেগে  খাদিজা বেগম  যতই ভুলে যেতে চায় মন  ততোই ওঠো মন মন্দিরে জেগে,  উদাসী মন আগের মতন  হারিয়ে যায় স্মৃতির ছোঁয়া লেগে।। কূল হারানো মাঝির মতন  এই মন মাঝি তোমার আশায় থাকে,  তোমার স্মৃতি আমায় শুধু  বারে বারে হাত বাড়িয়ে ডাকে। তুমি ছাড়া মনের আকাশ  ঢেকে গেছে কালো মেঘে মেঘে।। তুমি এলে বৃষ্টি হবে  মন আকাশে উঠবে ভেসে রবি,  সোনার আলোয় ভরবে জীবন আগের মত হয়ে যাবে সবি।। কেমন করে ভুলবো তোমায়  শিখিয়ে দাও আমার কানে কানে,  আমি বুঝি বাঁচবো না আর  মরে যাব তোমার মায়ার টানে। তুমি যদি না আসো আর তবে মরন আসুক তীব্র বেগে।।

স্বপ্ন ছিল

 স্বপ্ন ছিল  খাদিজা বেগম  স্বপ্ন ছিল চাকরি করে  একদিন আমি সংসারের হাল ধরবো,  বাবা মায়ের দায়িত্ব নেব নিজের জীবন নিজের হাতে গড়বো।। হঠাৎ আমার চাকরি হলো  যেন আমি আকাশের চাঁদ পেলাম,  চাকরিতে যোগ দিয়ে এবার  আমি চাকরিজীবী হয়ে গেলাম।  বাবা মায়ে আমায় নিয়ে  ঘুরে ঘুরে করতে থাকবে গর্ব।। পড়ালেখা কম করেছি  তাই তো আমি এখন কর্মচারী, ঘরের ঝারি স্যারের ঝারি  খুব গোপনে করছি আহাজারি।। কোন কোন কর্মচারী ঘুষখোর হয়ে গড়ছে বাড়ি গাড়ি, কারো ব্যাংকে উপচে পড়া  দলিল পত্র টাকা কারি কারি।। বেতন দিয়ে মাস চলে না  টেনেটুনে ধার দেনাতে চলি,  অল্প শিক্ষা খুব ভয়ংকর  অল্প টাকার জন্য আমি জ্বলি। প্রতিটা দিন ভাবি আমি  চাকরি ছেড়ে একটা ব্যবসা করবো। আজ বুঝেছি চাকরি করে  গোলাম এর দল ব্যবসা করে মালিক, টাকা ছাড়া জ্যান্ত মারা  যেন অন্ধকারে ঢাকা চারদিক। আলোকিত জীবন পেতে  এবার থেকে বুদ্ধি দিয়ে লড়বো।

আবার যদি

 আবার যদি  খাদিজা বেগম  আবার যদি তোমাকে পাই ভুলে যাবো বিরহের দিন গুলি,  ভালবাসায় ভালবাসায়  ভরে নেবো শূন্য মনের ঝুলি।। শুকনো পাতার মতো ঝরে  তোমায় ছাড়া নিদ্রাহিনা রাত্রি, তোমার স্মৃতির রোগে ভুগে আমি হয়ে গেছি মরণ যাত্রী। রাত্রি জেগে জেগে আমি তোমার স্মৃতির দোলনাতে দুলি।। পানি ছাড়া মাছ বাঁচে না  উর্মি ছাড়া বাঁচেনা নীল সাগর,  তেমনি আমার মন মরে যায়  না পেয়ে প্রেম ভালোবাসার আদর।। তোমার মায়ায় বাঁধলে আমায়  ছাড়তে পারি এই পৃথিবীর মায়া,  তুমি যেন আমার আত্মা  তোমায় ছাড়া শূন্য লাগে কায়া। ভালোবেসে চলে গেছো  এখন তোমায় কেমন করে ভুলি।।

আল্লাহ্ দোহাই

 আল্লাহর দোহাই  খাদিজা বেগম  হাতে ধরি পায়ে পরি  মন দিয়ে শোন আমার বুকের ধন,  তোরা আমার গর্বের সন্তান  সবার চেয়ে অনেক প্রিয় জন।। শ্বাসে শ্বাসে দোয়া করি  ঝরে না যে তোদের চোখের জল, আল্লাহ যেন শক্ত রাখে  তোদের অর্থবিত্ত মনোবল। আকাশ সমান সম্মান নিয়ে  সকল জায়গায় করবি বিচারণ।। আল্লাহর দোহাই ভুলে যাস না  তোদের গর্ভধারি দুঃখী মা,  ২৪ ঘন্টার ১ মিনিট দিস তোদের কথা না শুনিলে  মায়ের মনটা শান্ত রবে না।। এক বছরে একটা দিন দিস তোদের দেখে জুড়াবো দুই চোখ,  বেঁচে থাকতে দিস না আমায়  ভুলে গিয়ে যন্ত্রনাময় শোক। বেঁচে থাকতে তোদের দরকার   মরে গেলেও তোদের দোয়া প্রয়োজন।

প্রশ্ন

 প্রশ্ন  খাদিজা বেগম  আমি আমার মনকে এই  প্রশ্ন করলাম যে আমি কেন  ঘরের ভিতরে বন্দি থাকি? যদি জানো কিছু বলে দাও।   মন আমাকে উত্তর দিল  তুমি যেন পাখির মতন  উড়তে গিয়ে পাখিদের ভিড়ে  সীমা ছেড়ে হারিয়ে না যাও।  তুমি যেন মেঘের মতন  দূরের আকাশে ভাসতে গিয়ে  যেন শ্রাবণের বৃষ্টি হয়ে  মাটিতে ঝরে না পড়ে যাও। তুমি যেন ঘোড়ার মতন পাড়ার পর্বত ছুটতে গিয়ে  প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অজানাতে হারিয়ে না যাও। তুমি যেন ভেড়ার মতন   পালের সাথে থাকতে গিয়ে  একা থাকার সিংহের মত  তোমার ঐ শক্তি না হারাও।   নীল সমুদ্রের ঢেউ এর মতো  উত্তাল গতিতে ছুটতে গিয়ে  লোনা বালু মাখা কূলে কূলে  ভেঙে চুরে নিজে না হারাও। তুমি বজ্রপাতের মতন  তীব্র হুংকার দিয়ে দিয়ে  মাটির ভিতরে ফেটে পড়ে  কারো বাঁধা হয়ে না দাঁড়াও।  তুমি সকালের সূর্যের মতন সোনা রোদ হয়ে উঠতে গিয়ে দিন ফুরালে রাতের মাঝে  ধীরে ধীরে হারিয়ে না যাও।   তুমি রাতের আকাশে চাঁদ হয়ে  রুপালী রং ছড়াতে গিয়ে  দিনে...

শুদ্ধি

 শুদ্ধি  খাদিজা বেগম  মসজিদ ভালো মন্দির ভালো  আরো ভালো পবিত্র ঐ কাবা,  তার চেয়েও অধিক ভালো  জন্মদাতা জন্ম ধাত্রী মা-বাবা।। যারা হাদিস গীতা পড়ে  তারাই পড়ে পবিত্র ঐ কোরআন, যাদের মাঝে বিবেক আছে  তারাই করে মানুষেরে সম্মান। পায়ের কাছে মানুষ রেখে  ধর্ম কেন মাথায় তুলতে যাবা।। মানুষেরে সৃষ্টি করে  স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা শ্রেষ্ঠ বলে,  স্রষ্টাকে কেউ পাইতে চাইলে  কাঁদাইওনা কাউকে অশ্রু জলে।। লোক ঠকিয়ে খাচ্ছে যারা  তারাই খাচ্ছে নিজের বিবেক বুদ্ধি,  পাপে শাস্তি জানলে পাপি  আপনাকে করে নিত শুদ্ধি। যারা এখন জুলুম করো শেষ বিচারে তারাই ধরা খাবা।।

আত্মহারা

 আত্মহারা  খাদিজা বেগম  প্রথম প্রথম প্রেমে পড়লে  আত্মহারা হয়ে হৃদয় হাসে,  তার পরে প্রেম অদৃশ্য হয়  হৃদয় তখন চোখের জলে ভাসে।। কেহ লেখে গান কবিতা  পৃথিবীতে প্রেম বলে নাই কিছু, কদিন পরে সেই প্রেমের ভূত  নতুন করে তারাই পিছু পিছু। সবার উপর ভালোবাসা  তাই তো মানুষ আবার ভালোবাসে।। ভালোবাসার ছোঁয়া পেলে  দুঃখগুলো এক নিমিষে হারায়,  তাই তো প্রেমের ছোঁয়া পেতে  ঘুরে ফিরে আবারও হাত বাড়ায়।  প্রেমে দুঃখ প্রেমে কষ্ট  জানার পরেও প্রেমে পড়ে সবাই, প্রেমে জ্বালায় প্রেমে পোড়ায় প্রেমে করে নিজের শান্তি জবাই।  তবুও তো মন পতঙ্গ  প্রেম অনলে পোড়ার জন্য আসে।।

ব্যর্থতার দায়

  ব্যর্থতার দায়  খাদিজা বেগম তোমায় নিয়ে কেহ যদি  সুখী না হয় থাকে দুঃখী মনে,  সেই ব্যর্থতার দায় তোমার নয় তুমি থাকো সত্য ন্যায়ের সনে।। এক জীবনে কত মানুষ  আসবে যাবে কাকে ধরে রাখবে,  যে যাবার সে চলে যাবে  যে থাকার সে তোমার সাথেই থাকবে।  কাউকে বেশি ভালোবেসে ঠাই নিও না কারো মনের বনে।। কার ভিতরে কি আছে ভাই  তা জানো না বিন্দুমাত্র তুমি,  নিজের চেয়ে কাউকে বেশি  বাসলে ভালো জীবন মরুভূমি।। তোমার শান্তি রেখো তুমি  তা দিও না অন্য কারো হাতে,  অন্য কেহ করতেই পারে  প্রতারণা ভাগতে পারে রাতে। তোমার মত তুমি থাকো  যা বলে যাক বলুক জনে জনে।।