Posts

Showing posts from July, 2026

ঠকতে ঠকতে

 ঠকতে ঠকতে  খাদিজা বেগম  একের পরে এক এক করে  ঠকতে ঠকতে আমি মানুষ চিনেছি,  বিশ্বাসের দাম দিয়ে আমি  বারে বারে বিশ্বাসঘাতক কিনেছি।। এখন আমি ছাড়া আমার  আপন বলে আর কেহ নাই ভূবনে,  মিথ্যে মায়ার বাঁধন ছিড়ে আমরা এখন দুই প্রান্তে দুজনে। প্রতারণার ঝড় তুফানে  উড়ে গেছে যে বাসাটা বুনেছি।। বিচ্ছেদ হওয়ার কারণ আমার  তোমায় বেশি ভালোবাসা,  তোমার কাছে একটু সম্মান একটু যত্ন পাবার আশা।। এখন আমার একলা জীবন  রাত কেটে যায় অশ্রু ভরা নয়নে,  নতুন জীবনসঙ্গী করে  রাত কেটে যায় তোমার নতুন স্বপনে। তুমি আমার আর হবে না  কঠিন হলেও এই সত্যটা মেনেছি।।

স্বর্গ থেকে এলো

 স্বর্গ থেকে এলো  খাদিজা বেগম  তোমার আমার এই হৃদয়ের  প্রেম বুঝি ওই স্বর্গ থেকেই এলো, তাই অচেনা মানুষ দুটোর এত বেশি চেনা জানা হলো।।  তাই বুঝি মন ভরে গেল  কানায় কানায় আনন্দ আর সুখে, তাই বুঝি সুখ ধরেনা আর  উপচে ওঠে আমার ছোট্ট বুকে। শুনতে লাগে মধুর মতো  মায়া ভরা ঐ মুখে যা বলো।। মেঘের মত ভেসে ভেসে  প্রেম এসেছে বৃষ্টি হয়ে কাছে, তাই বুঝি আজ বৃষ্টির ছন্দে   মন তোমাকে কাছে পেয়ে হাসে।। প্রেম পবিত্র প্রেম অমলিন  যদি তা না করি আপবিত্র, অপবিত্র প্রেমি শত্রু  পবিত্রতাই এই জীবনের মিত্র। কেউ করবো না প্রতারণা আমরা দুজন শপথ করি চলো।।

হৃদয় বলে

 হৃদয় বলে খাদিজা বেগম  দুই চোখে যা দেখা যায় না  হৃদয় তাকে বলে ভালোবাসা, দুই হাতে যা ধরা যায় না  সেই প্রেম পেতে মন করেছে আশা।। এই প্রেম হল সাধনার ধন  হাজার চাইলেও তাকে পাওয়া যায় না,  ভালোবাসার অনুভূতি  প্রেমিক হৃদয় পেতে করে বায়না। প্রেম যেন এক শূন্য লতা মূল বিহনে শূন্যে শূন্যে বাঁচা।। পবিত্র প্রেম অমৃত প্রেম  তারে করো অপবিত্র যদি,  কষ্টের ঢেউয়ে ভাঙবে হৃদয়  দুই নয়নে বয়ে যাবে নদী।। অদেখা এই অনুভূতি  অধরা এই ভালবাসার মায়া, অর্জনে প্রেম বর্জনে প্রেম  এই প্রেম শুধু বাঁধন হারা ছায়া। প্রেমিক ছাড়া কেউ বোঝেনা  কেউ জানেনা ভালবাসার ভাষা।।

ছোট্ট বেলা

 ছোট্ট বেলা খাদিজা বেগম  চরণে চরণে হারিয়ে ফেলেছি  আমার ছোট্ট বেলার সকল সুখ,  এখন আমার চরণ বাড়াতে  ভয় লাগে খুব কেঁপে কেঁপে ওঠে বুক।। পলকে পলকে ঝলসে গিয়েছে  আমার সোনায় মোড়ানো সোনালী কায়া, একটু একটু করে সরে গেছে  মাথার উপর থেকে আদরের ছায়া। অনেক আগলে রাখতে গিয়েই  হারিয়ে ফেলেছি ভালবাসাময় মুখ।। যত দিন যায় তত যেন আমি  আমার আপন থেকে দূরে সরে যাই, স্মৃতির চোখে খুঁজে ফিরি রোজ  ছোট ছোট বোন আর ছোট ছোট ভাই।। বড় বেলা বড় ভয়ংকর হয়ে গেছি যেন সবে স্বার্থপর,  সবার উপরে নিজের স্বার্থ  দেখতে হয়েছি পরের চেয়েও পর। তাই তো জীবন দুখে দুখে ভরা  সুখ ভেবে রোজ মনে বেঁধে রাখি দুখ।।

নারী

 নারী  খাদিজা বেগম  নারী শুধু নারী নহে  নারী যেন মুক্তা ভরা সিন্ধু,  এই নারীকে না চিনিলে  মানুষ হতে পারবেনা হে বন্ধু।। নারী শুধু নারী নহে  নারী যেন অতল সোনার খনি,  এই নারীকে মান না দিলে  বৃথা যাবে তোমার চোখের মনি।  নারীর সাথে নয় শত্রুতা  এই নারীকে ভালোবেসো শুধু।। হীরা পান্না মনি মুক্তা  সোনার খনি নারীর কাছে মলিন,  নারীর গুনের উজ্জ্বলতায়  চন্দ্র সূর্যের নূর হয়ে যায় বিলীন।। নারী শুধু নারী নহে  নারী যেন শান্তি সুখের বাড়ি,  নারী ছাড়া শান্তি নাইরে  যতই টাকা কামাও কারি কারি। নরনারী দুটি মানুষ  সম্মানে নয় কেহ কম এক বিন্দু।।

নারীর অবদান

 নারীর অবদান  খাদিজা বেগম নারী হাসবে নারী নাচবে মেঘলা দিনে গাইবে শ্রাবণ মেঘের গান,  নারী বাঁচবে বাঁচার মতন  কর্মের মাঝে ছড়াবে তার শুদ্ধ ঘ্রাণ।। নারী সেও একজন মানুষ তারো আছে ভালোলাগা অনুরাগ, মেঘ বাদলের ডাকে ডাকে  তার হৃদয়ে বেজে ওঠে প্রেমের ঢাক। নারী নয়তো মাটির মূর্তি  তার ভিতরে আছে একটা মানব প্রাণ।। তার হাসিতে হাসবে ভুবন  তার নাচনে নাচবে বনের পাখি ফুল, তার খুশিতে আসবে জোয়ার  কানায় কানায় উঠবে ভরে নদীর কূল।। বিনা বাঁধায় হাসবে নারী  বিনা বাঁধায় নাচবে নারী ভুবনে, বিনা বাঁধায় গাইবে নারী  মানব সম্মান নিয়ে বাঁচবে জীবনে। নারী ছেঁড়া সন্তান হয়ে  ভুলবো কেমন করে নারীর অবদান।। #বিউটি_পাল #খাদিজা_বেগম #মানুষ #khadiga_begum #গান

ভুলে গেছি

 ভুলে গেছি  খাদিজা বেগম  ভুলে গেছি নাম ঠিকানা  মনে আছে ঐ মায়াবী মুখ,  তোমার স্মৃতির মায়াজালে  বন্দি থেকেও লাগে আমার সুখ।। আকাশ জুড়ে তোমায় দেখি  তুমি যেন হয়ে গেছো চাঁদ, তোমায় দেখে যায় কেটে যায়  জেগে জেগে আমার সারা রাত।  তুমি এলে ঘুচে যাবে  সকল ব্যথা মুছে যাবে দুখ।। তুমি এসো ফাগুন হয়ে  দাও ফুটিয়ে হৃদ মাজারের ফুল, তুমি এসো জোয়ার হয়ে  দাও ভরিয়ে মরু মনের কূল।।  তুমি এলে নামবে বৃষ্টি  ভিজে যাবে এই হৃদয়ের প্রেম, তুমি এলে শুরু হবে  বিরহের শেষ সুখ মিলনের গেম। সেই আশাতে ধুকধুক করে  ফুলে ফেঁপে ওঠে আমার বুক।।

ভালোবাসার টানে

 ভালবাসার টানে  খাদিজা বেগম  হাজার নদী মহাসাগর  পার হয়েছি ভালোবাসার টানে,  আজো আমি ভেসেই চলছি  শুধু তোমার ভালবাসার বানে।। ভালোবাসি বলে বলে  আমায় তুমি করেছো ঘর ছাড়া,  দিবানিশি তোমায় খুঁজি খুঁজে খুঁজে হলাম পাগল পারা। কত ভালোবাসি তোমায়  সেই কথাটা অন্তর্যামী জানে।। দূরে দূরেই রাখবে যখন  তবে কেন কাছে টেনে নিলে, ঘৃণাই যখন করবে আমায়  তবে কেন ভালবেসে ছিলে।। হাজার বাঁধা ভেঙ্গে চু্রে  আমি হৃদয় ভাঙ্গা ভয়ে কাঁদি, এই হৃদয়ের মধ্যখানে  তোমায় আমি রেখেছি যে বাঁধি। তোমার দেয়া এই বিরহ  আর সহেনা সহেনা এই প্রাণে।।

শৈশব

 শৈশব  খাদিজা বেগম স্মৃতির পাতায় পাতায় খুঁজি হাজার কৌতূহলে ভরা শৈশব, কলাপাতার ঘর বানানো ছোট ছোট বন্ধুরা আজ কই সব।। কচু পাতার ছাতা মাথায়  কলার খোলের জুতা দিয়ে পায়ে, আম কুড়াতাম জাম কুড়াতাম  ঘুরে ঘুরে আমাদের ওই গাঁয়ে। ইট পাথরের এই শহরে  পাই না খুঁজে ভেজা মাটির সৌরভ।। চাকা ছাড়া হাতে টানা সেই সুপারি গাছের খোলের গাড়ি, সেই গাড়িতে সকাল বিকাল  সবাই মিলে ঘুরতাম বাড়ি বাড়ি।। কাগজের নাও জলে ছেড়ে  আমরা খেলতাম নৌকা বাইচের খেলা, বৈশাখ এলেই বটতলাতে  জমে উঠতো সেই বৈশাখী মেলা। সেই শৈশবের হাসি আজ নাই  এখন যেন গ ম্ভীর থাকাই গৌরব।।   -

ভালোবাসার

 ভালোবাসা  খাদিজা বেগম  ভালোবাসা মাপা যায় না  দাঁড়ি পাল্লায় ওজন করতে পারবো না,  শুধু জেনে রেখো প্রিয়  তোমায় আমি কোনদিনও ছাড়বো না।। ভালোবাসা গোনা যায় না  হিসাব করা যায় না কোন সংখ্যাতে,  শুধু মনে রেখো প্রিয়  জরাবো না তোমার সাথে সংঘাতে। এই জীবনে তোমায় ছেড়ে  অন্য কারো হাত কখনো ধরবো না।। ভালোবাসায় দুঃখ অনেক  তারে চেয়েও অনেক বেশি আনন্দ,  ভালোবাসা বিহনে আর  কোথাও নাই এত মিষ্টি সুখ ছন্দ।। ভালোবাসার সীমা হয় না  তাইতো সীমারেখাটা টানা যাবে না,  শুধু বিশ্বাস করো প্রিয়  আমি ছাড়া এমন প্রেম আর পাবে না।  তোমার প্রেমের কাঙ্গাল হয়ে  থাকবো তোমার দ্বারে কভু সরবো না।।

ফুলের কলি

 ফুলের কলি  খাদিজা বেগম  এই হৃদয়ে ফাল্গুন আসে  থোকায় থোকায় ফোটে ফুলের কলি,  ফাগুন ঝরা সেই আগুনে  আমি শুধু একা একাই জ্বলি।। এই হৃদয়ের ডালে ডালে  কোকিল ডাকে কুহু কুহু সুরে, মন যারে চায় মনে মনে  জানিনা সে আরো কত দূরে।  লাজ শরমের মাথা খেয়ে  মনের কথা কেমন করে বলি।। যার পিরিতে অন্তর পুড়ে  তার জানা নাই আমার পোড়ার কথা,  কেমন করে জানাই তারে  তার বিরহে এই অন্তরে ব্যথা।। এই হৃদয়ে শ্রাবণ আসে  মিলনের সুর বেজে বেজে ওঠে, একটু উষ্ণ প্রেমের জন্য  কাপন ওঠে ঠান্ডা ঠান্ডা ঠোঁটে। আমি একটা মোমের মতন  খুব নীরবে জ্বলে পুড়ে গলি।।

শেষ বিদয়

 শেষ বিদয় খাদিজা বেগম  শেষ বিদয়ের আগে এসো  তোমায় দেখে নেব নয়ন ভরে,  তোমায় দেখার জন্য আমার  বুকের মাঝে খুব হাহাকার করে।। তুলবো না আর আগের কথা  করবো না আর কথার কাটাকাটি,  তুমি থেকো মোর জানাযায়  মোর কবরে দিও এক মুঠ মাটি। একবার তোমায় দেখার পরে  আমি চলে যাব চিরতরে।। তোমার আমার আর হবে না  মান অভিমান আর হবে না দেখা, এমন করেই লেখা ছিল  বুঝি তোমার আমার ভাগ্য লেখা।। কথা ছিল তুমি আমি  এক বাঁধনে হবো বুড়ো বুড়ি, কোন দোষেতে ছিড়লো বাঁধন  জীবন উল্টে গেল পুরোপুরি। কথা ছিল আমরা দুজন  থাকবো দুজনারি প্রেমে পড়ে।।

ছোট্ট একটা খামে

 ছোট্ট একটা খামে  খাদিজা বেগম  এক পৃথিবী ভালবাসা ভরে দিলাম ছোট্ট একটা খামে,  পাখির পাখায় বেঁধে দিলাম  উড়ে উড়ে যাচ্ছে তোমার নামে।। আমার হাতের পরশগুলো  লেগে আছে চিঠির ভাঁজে ভাঁজে,  ইচ্ছে হলে ওই পরশে  হাত বুলিয়ে দিও মাঝে মাঝে।  হাতের সাথে হাতের ছোঁয়ায়  যদি মনের জ্বালা একটু থামে।। খামেরে ভিতর মন দিয়েছি  তোমার মনে যায় যদি যাক মিশে, মনের সাথে মন মিশিবে  সেই ভাবনায় হারিয়ে যায় দিশে।। তুমি যেন আমার প্রেমের বিন্দু  আমি ঘুরি তোমায় ঘিরে ঘিরে, তোমাকে চাই বারেবার চাই  তোমাকে চাই আমি ফিরে ফিরে।। না দেখেও দেখি তোমায় আমার সামনে পিছে ডানে বামে।।

অপূর্ব আকাশ

 অপূর্ব আকাশ  খাদিজা বেগম গোধূলির রং ছড়িয়ে সন্ধ্যা বেলা সূর্য যখন শেষ হাসিটা হাসে, অপূর্ব আকাশ জুড়ে রঙের মেলা  সোনালী রং ঝলমল করে ভাসে।। রোমান্টিক মন আবেশে ভরে ওঠে  আলো-আঁধার মিলে শান্তি ছড়ায়, পড়ন্ত সূর্যের আলোর মত হারায়  সারাদিনের সব ক্লান্তি এই ধরায়। প্রকৃতির কি যে সুন্দর রূপ রস গন্ধ  এমন সময় থেকো আমার পাশে।। বিচিত্র বর্ণের ছটায় মুগ্ধ হৃদয়  তুমি আমি তুলি হাতে নিয়ে,  বিবর্ণ মনের ক্যানভাস রঙিন করবো শেষ বিকালের গোধূলির রং দিয়ে।। দিগন্তে গাঢ় কমলা লালচে আভা পাখিরা যায় ফিরে তাদের নীড়ে, বিবস্ত্র সোহাগ সন্ধ্যা স্নানে নামে সব হারিয়ে যায় আধারের ভিড়ে।  রয়ে যায় অমলিন প্রেম ভালবাসা রাত গভীরে যুগল ভালোবাসে।।

দেনমোহর

 দেনমোহর  খাদিজা বেগম  দেনমোহরে চাই তোমারে  তুমি কি আমার দেনমোহর হবে?  অর্থ সম্পদ চাইনা কিছু  শুধু তুমি আমার হয়েই রবে।। চাইনা বাড়ি চাইনা গাড়ি  আমি থাকবো তোমার বুকের ঘরে,  চাইনা চুড়ি চাইনা শাড়ি  তোমায় পরবো আমার গয়না করে। তুমি এত বেশি দামি তোমার উপর আর কিছু নাই ভবে।। এই হৃদয়ের সিগনেচারে  আমাকে আজ তোমায় লিখে দিলাম,  তোমার মনের সিগনেচারে  তোমায় আমি আমার করে নিলাম।। তুমি আমি দুজন মিলে  বয়ে যাওয়া একটি নদীর দু'কুল,  সেই নদীটি আমাদের প্রেম  এই প্রেম ভুলে যেন করব না ভুল। তুমি আমার দেনমোহর হও সাক্ষী রইল আলো বাতাস সবে।।

সত্যি কারের মানুষ

 সত্যি কারের মানুষ  খাদিজা বেগম  জন্ম নিলেই হয় না মানুষ মানুষ হওয়া সহজ বিষয় নয়, নৈতিকতার চর্চা করে  সত্যি কারের মানুষ হতে হয়।। নিজের ভেতর পুষে রেখো ধৈর্য ক্ষমা মনুষ্যত্ববোধ,  হৃদয় থেকে তাড়িয়ে দাও লোভ লালসা হিংসা নিন্দা ক্রোধ। আরাম আয়েশ খরচা করে  আনতে হবে এই জীবনের জয়।। নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে  নিজের কৌশল আবেগ বিবেক জ্ঞান,  প্রয়োজনে করতে হবে  হৃদয় খুলে দুঃখি জনে দান।। ব্যক্তিগত পেশাগত  সব ব্যাপারে থাকতে হবে সৎ,  কৌশল করে এড়িয়ে যাও  এই দুনিয়ায় আছে যত বদ। ভুল থেকেই ঠিক শিখে নিও কঠিন সময় ধৈর্য ধরতে হয়।।

চলছে শ্রাবণ

 চলছে শ্রাবণ  খাদিজা বেগম সময় এখন চলছে শ্রাবণ  বৃষ্টির জলে জলে থই থই করে, কভু ঝরে ঝিরিঝিরি  কভু টুপটাপ করে বৃষ্টি পড়ে।। রিনিঝিনি রিনিঝিনি  যেন বৃষ্টির পায়ে নূপুর বাজে,  প্রেমিকের মন করে আনচান প্রেমের তৃষ্ণায় মন বসে না কাজে। মুষলধারে বৃষ্টি ঝরে  ভালোবাসার আবহাওয়া গড়ে।। বৃষ্টির মিষ্টি মিষ্টি শব্দে  খুব সকালে চোখের পাতা খুলি,  জানালাতে চেয়ে দেখি  সবুজ রঙে রঙিন বৃক্ষ গুলি।। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ঝরে  ধোঁয়া ধোঁয়া লাগে চারিপাশে,  মন তোমাকে ভালবেসে  তোমার স্মৃতির আকাশ জুড়ে ভাসে।  সকাল সন্ধ্যায় বৃষ্টির নেশায়  দেওয়ানা মেঘ ঝরোঝরো ঝরে।।

ভালবাসতে দাও

 ভালবাসতে দাও  খাদিজা বেগম শর্ত বিহীন বাসবো ভালো  যদি আমায় ভালবাসতে দাও,  তবেই আমার কাছে এসো  যদি সারা জীবন থাকতে চাও।। দুই দিনের প্রেম চাইনা আমি  জনম জনম আমি তোমায় চাই,  দুই দিনের প্রেম স্মৃতি হয়ে  পুড়ে পুড়ে করবে আমায় ছাই। উষ্ণ ঠোঁটের সিগনেচারে  চাও যদি আজ আমায় নিয়ে যাও।। ভেবেচিন্তে প্রেম করিও ভালোবাসা কোন খেলনা নয়, যেন একে অন্যের জন্য  প্রেম নিরাপদ অভয় আশ্রয় হয়।। যেমন শর্ত বিহীন জ্বলছে  দেহের মাঝে একটা প্রাণের নূর, শ্বাস-নিঃশ্বাসে চলছে জীবন  তার ভিতরে বাজে মরণ সুর। আমি শুধু তোমার থাকবো  যদিও এই জীবন হারাই তাও।।

পবিত্র এই ভালোবাসা

 পবিত্র এই ভালোবাসা খাদিজা বেগম তোমাকে মন ভালোবাসে  পবিত্র এই ভালোবাসা নয় ভুল, তোমায় ছাড়া প্রাণ বাঁচে না  তুমি আমার জীবন নদীর দুই কূল।। আমি নদী তুমি পানি  তোমার আমার মিলনে ঢেউ ওঠে,  অভিমানে ভাটা নামে  মান ভাঙ্গালে সুখের জোয়ার ছোটে। পানি ছাড়া মরা নদী  মন তোমাকে পাবার জন্য আকুল।। তুমি থাকলে বুকের মাঝে  আনন্দ ঢেউ বইতে থাকে সুখে,  তোমায় ছাড়া মরে যাব  চর জাগিবে জোয়ার ভাটার মুখে।। নদী কি আর নদী থাকে  নদীর বুকে না থাকিলে পানি, রাজ্য শাসন করে রাজা  সেই রাজা কে শাসন করে রানী।  তোমার শাসন পাওয়ার জন্য  হৃদয় আমার হয়েছে খুব ব্যাকুল।।

জন্ম থেকে দুঃখী

 জন্ম থেকে দুঃখী  খাদিজা বেগম  জন্ম থেকে দুঃখি আমি দেখিনি তো মা জননীর মুখ, পাইনি মায়ের স্নেহের আঁচল ভালোবাসা আদর মাখা সুখ।। খেয়ে আছি না নাখেয়ে কেউ রাখে না আমার কোন খোঁজ, বুকের মানিক বলে আমায় কোলের কাছে কেউ টানেনি রোজ। মা হারানো সন্তান আমি  হাজার কষ্টে ভরা আমার বুক।। সন্তান হয়ে একটাই চাওয়া ও বিধাতা আমার মাকে দিও, মায়ের বুকে থাকব সুখে না হয় তুমি আমায় তুলে নাও।। মাকে ছাড়া দিশা হারা আমি থাকতে পারি না এই ভবে, স্বপ্নে দেখি স্বপ্নে হারাই মায়ের সাথে কখন দেখা হবে? মাকে ছাড়া এই জীবনে  পেলাম শুধু কানায় কানায় দুখ।।

মা আমার মা

 মা আমার মা খাদিজা বেগম ০২/০১/২০২০ ওমা, মাগো ,মা আমার মা কেঁদে ফিরি তোমায় ডেকে ডেকে, মা ,মা বলে ঘুমের ঘোরে আমি কেঁদে উঠি থেকে থেকে।। ডেকে ডেকে পাগল আমি মাগো দাও না কেন তুমি সাড়া, কাছে এসে ভালোবেসে মুছিয়ে দাও আমার অশ্রু ধারা। কোথায় তুমি চলে গেলে  আমায় নিষ্ঠুর পৃথিবীতে রেখে।। দশ মাস দশ দিন সযতনে গড়েছো মা তোমার গর্ভে ধরে, এনেছো এই পৃথিবীতে, মৃত্যুর মুখোমুখি যুদ্ধ করে।। হাজার দুঃখ আর যন্ত্রণা  মাগো সয়েগেছ খুব নিরবে, তুলনা নেই তোমার কোন তোমার মতো শুধু তুমিই ভবে। একবার তোমার কোলে নিয়ে  আমাকে দাও একটু আদর মেখে।।

নারী জান্নাত

নারী জান্নাত  খাদিজা বেগম নারী জান্নাত নারী মাতা  তা বোঝেনা কাপুরুষের দলে,  কাপুরুষের কারণে রোজ  কত নারী ভাসছে চোখের জলে।। মিডিয়াতে কাজ করে যে  তাদের পোষাক অন্য রকম হবে,  তাই বলে ভাই ভুলো না কেউ  সেও একদিন মা হবে এই ভবে। দৃষ্টিভঙ্গি সুন্দর করো  বিশ্বাস রেখো নিজের কর্মফলে।। তুমি যাকে টিউমার বলছো  তেমন টিউমার তোমার মায়ের সাথে, ওই টিউমার পান করছ তুমি ধরে রেখে তোমার নিজের হাতে।। কোথায় তোমার মনুষ্যত্ব  আব্দুর রউফ কোথায় তোমার ঈমান, যাদের মাঝে ঈমান আছে  তারাই দিয়ে যায় অন্যকে সম্মান। নিজে ভালো জগৎ ভালো  জ্ঞানী গুণী এই কথাটা বলে।। #khadiga_begum #নারী #নারী_জান্নাত #খাদিজা_বেগম

তোমার মাঝেও ত্রুটি

 তোমার মাঝেও ত্রুটি  খাদিজা বেগম  অন্যজনার ত্রুটি দেখে  তুমি কেন জ্বলে ওঠো এত,  তোমার মাঝেও ত্রুটি আছে  গুনে দেখো পাবে শত শত।। ত্রুটি ছাড়া বাগানের ফুল সাগরের ঢেউ আকাশের চাঁদ তারা,  কারো বেশি কারো কম  আমরা কেহ নইতো ত্রুটি ছাড়া। আমাদের ভাই বোন প্রিয়জন  এরা নয়তো ফেরেশতাদের মত।। অনিচ্ছাকৃত সকল ত্রুটি  নিজের ইচ্ছায় ক্ষমা করে দিও,  নইলে তোমার প্রিয় মানুষ  শত্রু হবে সে থাকবে না প্রিয়।। নিখুঁত বৃষ্টি ধরার মত  অবিরাম সুখ কেউ পাবে না ভবে, বৃষ্টির ধারাও শেষ হয়ে যায়  দুঃখ দেখে ভয় কেন পাও তবে।  শুধু সুখ নয় মানব মনের  ভিতরে রয় কিছু কিছু ক্ষত।।

অভিমানী মন কাঁদে

 অভিমানী মন কাঁদে  খাদিজা বেগ আর ফিরবো না বলে বলেও  বারে বারে আসি আমি ফিরে,  আর থাকবো না বলে বলেও  বারে বারে থাকি তোমার নীড়ে।। একটুখানি ভালোবাসা  পাবার আশায় অভিমানী মন কাঁদে,  ভালোবেসে চোখ মোছালে  মন পড়ে যায় তোমার প্রেমের ফাঁদে। বাহুডোরে বেঁধে রেখো  যায় না যেন মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে।। হয় যদি হোক ঝগড়াঝাটি  তুমি আমি হইনা যেন ভিন্ন, সারা জীবন থাকবো দুজন  সুখে দুঃখে দুজনারী জন্য।। তোমার আমার ছোট সংসার  বয়ে চলা ছোট নদীর মত, এ কূল ভাঙ্গে ও কূল গড়ে  তবু ভাঙতে থাকে অবিরত। আমরা দুজন থাকি সদা   এই সংসারের দুইটি কূল কে ঘিরে।। যতই ভাঙ্গে নদীর দুই কূল  তবুও কুল নদী রেখে যায় না,  দুই কুল নিয়েই গড়া নদী দুই কুল ছাড়া কোন নদী হয় না। দু'জন মিলে গড়া সংসার  হারায় না যে পরকীয়ার ভিড়ে।।

তৃতীয় জন

 তৃতীয় জন  খাদিজা বেগম  তোমার আমার মাঝে যেদিন   তৃতীয় জন তুমি আনলে টেনে,  সেদিন থেকেই আমি আমার  নিজের কফিন নিয়েছিলাম মেনে।। যেদিন তুমি কামনার চোখ  রেখে ছিলে অন্য জনার চোখে, সেদিন থেকেই কাঁদে এই মন  চিরতরে প্রেম হারাবার শোকে।  তোমায় ভালোবেসে ছিলাম  অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য জেনে।। বিশ্বাসঘাতক হয়ে তুমি  প্রমাণ দিলে ভুল জেনেছি আমি,  যত কষ্ট আজ দিয়েছো  তার শতগুণ একদিন পাবে তুমি।। যত অশ্রু ঝরিয়েছো  তোমার চোখেও তার বহু গুণ ঝরবে,  ক্ষমা চাইতে খুজবে আমায়  অনুতাপের জলে মনে পড়বে। সব হারিয়ে নিঃস্ব হবে  পবিত্র এই ভালোবাসার দেনে।।

দৃষ্টি আটকে যায়

 দৃষ্টি আটকে যায়  খাদিজা বেগম  সে এতটা মিষ্টি বলেই আমার চোখের দৃষ্টি আটকে যায়, মিষ্টি রুপের মিষ্টিতে মন  পিঁপড়ার মতন ডুবে যেতে চায়।। নাম ঠিকানা সব অজানা  চিনির মত ঝলমলানো রূপ,  তার ঐ রূপে কথা বলে  সে তো ফুলের মত থাকে চুপ। পায়ে পায়ে সে চলে যায়  চুলের বেনি দোলে ডানে বায়।। হাওয়ায় হাওয়ায় ওড়না ওরে  ছড়িয়ে যায় তার মায়াবী ঘ্রান,  সেই ঘ্রাণেরি মায়ায় পড়ে  আনচান আনচান করে আমার প্রাণ।। হাতে চুড়ি চোখে সুরমা  কানের সাথে খেলা করে দুল,  সেই রূপসী যেন আমার  মন দানিতে সাজানো এক ফুল। হাঁটার তালে নূপুর বাজে আলতা রঙে রাঙানো তার পায়।।

ঠোঁটের বিষে

 ঠোঁটের বিষে  খাদিজা বেগম  বিশ বছরের ঠোঁটের বিষে  আমি জ্বলে পুড়ে যাচ্ছি অহর্নিশ,  ভুল করে ফুল ভেবে আমি  তোমার ঠোটে দিয়েছিলাম একটা কিস।। তার পরে ঘুম আর আসে না  রাত্রি জেগে তারা গুনি আকাশে, তোমার কথা শোনার জন্য  দিবানিসি কান পেতে রই বাতাসে। আসা যাওয়ার চলতি পথে  খুঁজেও তোমার আর মেলে না হদিস।। তুমি ডানা কাটা পরী  নাকি ছিলে জান্নাতের এক অপ্সরা, ধরা দিয়েও দাওনি ধরা  আর কতকাল থাকবে তুমি অধরা।। একবার এসে স্বপ্নের দেশে  তুমি আমায় করে গেলে দিওয়ানা,  আমি তোমায় সত্যি ভেবে  ভালবেসে মন দিয়েছি ষোল আনা। তোমার সাথে প্রেম না হলে  জানতো না মন ভালোবাসায় এত বিষ।।

ঘড়ির কাটার মত

 ঘড়ির কাটার মত  খাদিজা বেগম ঘড়ির কাটার মত যাচ্ছে  দৌড়ে দৌড়ে যাচ্ছে তোমার হায়াত,  একটি সেকেন্ড যায় না কেনা  দেয় না কেহ আছে অনেক আয়াত।। তোমার সময় শুধু তোমার  অন্যের জন্য কেন নষ্ট করো,  খুব নীরবে ভেবে দেখো কেন তুমি এত কষ্ট করো। স্রষ্টার আদেশ নিষেধ গুলো  না মানিলে মানব জীবন বরবাদ।। নদীর স্রোতের মতো যাচ্ছে  ভেসে ভেসে যাচ্ছে তোমার আত্মা, সোনার দেহ মাটি হবে  একদিন তোমার থাকবে না আর পাত্তা।। অদৃশ্য কাজ অব্যাহত  অভ্যন্তরীণ খোঁজ জানা নাই তোমার,  মৃত্যুর কাছেই যাচ্ছে জীবন  তুমি কেন ভুলে যাও তা বারবার।  রাতের মাঝে এই দিন লুকায়  দিনের মাঝে আবার লুকায় এই রাত।। লুকোচুরির এই খেলাতে  আমরা ঘুমাই আবার উঠি জেগে, কেউবা বসে চিন্তা করি  কেউবা ছুটি ঝড় তুফানের বেগে। নার হয়ে ফের আসবে ফিরে  অন্য জনকে দেওয়া সকল আঘাত।।

এত বেশি কষ্ট

 এত বেশি কষ্ট  খাদিজা বেগম  আমার এত বেশি কষ্ট  তোমার ছোঁয়া না পাওয়াতে নয়, আমার এত কষ্টের কারণ প্রিয় তোমায় খুব হারাবার ভয়।। নিজের মনের ব্যাকুলতা  আজো তোমায় বলতে পারি নাই, তোমায় আমি পেয়ে গেছি  আবারো চাই শুধু তোমায় চাই। তুমি আমার আমি তোমার  এছাড়া নাই অন্য পরিচয়।। অন্য জনার হয়ে তুমি  আর দিও না কলিজাতে দাগ, তুমি আমার শুধুই আমার  আমি কাউকে দেবো না এর ভাগ।। তুমি সবার চেয়ে দামি  হৃদয় দিয়ে কেনা তোমার পেয়ার, প্রয়োজনে খুন করিবো  তবু আমি করিবো না শেয়ার। তোমায় তুমি শুধরে চলো  কেউ জানে না ফিউচারে কি হয়।।

উশুল

 উশুল খাদিজা বেগম  কাপুরুষে বিয়ের দিনে  বউ ঠকানোর নাম রেখেছে উশুল,  এই অপরাধ ভয়ংকর পাপ এটা নয়তো ছোটখাটো এক ভুল।। ধর্মীয় সব নেতাকর্মী  এই অপরাধ করছে যুগ যুগ ধরে,  ধর্মেরে নামে আর কতকাল  খাবে নারীর পাওনা জুলুম করে। অন্যের পাওনা কেন দাও না  কেন জুলুম করে হারাও দুই কূল।। স্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে স্বামী  হাজার কাজের দায় চাপিয়ে হাসে, হতভাগা স্ত্রী তখন  বারে বারে চোখের জলে ভাসে।। বাবার ঘরের রাজকন্যাটা  স্বামীর ঘরে এসে হলো দাসী, তার প্রতি নাই তবু দয়া  তাই তো অনেক নারী দিচ্ছে ফাঁসি। নারী মাতা নারী জান্নাত  এই নারীরাই সুখে থাকার সেই মূল।। নারীদেরকে দুঃখ দিলে  দুঃখ পাবে শত হাজার গুনে,  নারীর যত্ন করে তারা  যারা মহান আল্লাহর কথা শুনে। নারী পুরুষ সবাই মানুষ মানুষকে মান দিতে করো না ভুল।। এসো আমরা ভুল শুধরিয়ে  সত্য সঠিক ধর্ম পালন করি,  লোক ঠকানো বাদ দিয়ে ফের  একটা সুন্দর সুখী সমাজ গড়ি।।

জোয়ার হয়ে উঠবো

 জোয়ার হয়ে উঠবো  খাদিজা বেগম  কুসংস্কার ভেঙ্গে চুরে বাঁধভাঙ্গা জল হয়ে আমরা ছুটবো,  দুর্নীতির ঐ মরুর বুকে নীতির প্রবল জোয়ার হয়ে উঠবো।। সংস্কারের আশায় আশায়  বুকের মাঝে জ্বলছে আগ্নেয়গিরি,  অগণিত প্রাণ দিয়ে গড়া  আমাদের এই সংস্কারের সিঁড়ি। নৈতিকতার আলো দিয়ে  দুর্নীতিবাজ সব অন্ধকার কুটবো।। বিজয় নিশানা হাতে হাতে প্রতিবাদের ক্ষিপ্ত ঝড়ে উড়ে, অগ্নিকণ্ঠে বিজয়ের গান  যুদ্ধের ধ্বনি বাজে সুরে সুরে।। বিপ্লব বইছে শিরায় শিরায়  আমরা বিপ্লবীদের উত্তরসূরী, প্রতিবাদের আগুন দিয়ে  দুর্নীতিবাজ চাটুকারদের পুড়ি। রাজপথে লাল রক্ত ঢেলে  আবার রক্ত জবা হয়ে ফুটবো।।

দুর্বার অভিযানে

 দুর্বার অভিযানে  খাদিজা বেগম  তপ্ত তনু দীপ্ত চক্ষু  নিয়ে চলছি দূর্বার অভিযানে,  আয় না তোরা কে কে যাবি দেশ বাঁচাতে দেশমাতৃকার টানে।। লাথি মেরে ভেঙ্গে দে সব দুর্নীতিবাজ ঐ পশুদের গদি,  দেশের খেয়ে দেশের পরে  দেশ জননীর বিপক্ষে যায় যদি। কাঁপছে আকাশ কাঁপছে মাটি দেশ প্রেমিকদের জ্বলন্ত স্লোগানে।। নয়ন যুগল জ্বালিয়ে দে অগ্নিচক্ষু থেকে ঝরুক আগুন, আমরা হব রক্ত জবা  তাই বুঝি এই এসে গেছে ফাগুন।। নৈতিকতার অস্ত্র নিয়ে  মানব হয়ে দানব শিকার করবো,  আমরা তুফান আমরা প্রলয়  ভেঙেচুরে নতুন সমাজ গড়বো। দুঃসাহসী যাত্রী আমরা  দিবা রাত্রী সত্য অন্বেষণে।।

দুর্নীতি

 দুর্নীতি  খাদিজা বেগম  আর কতকাল সইবো আমরা দুর্নীতিবাজ নিয়ে চলবো কাধে,  এবার সময় ফেলে দেবার  জেগে ওঠো তুমুল প্রতিবাদে।। দুর্নীতিবাজ দেশের দুশমন  তোমার আমার সবার দুশমন,  সে যদিও হয় কারো মা  কারো বাবা কিংবা অন্য সজন।  তবুও সে অপরাধী  যদিও তার জন্য হৃদয় কাঁদে।। দুর্নীতি এক বিশাল ব্যাধি জাতি ধ্বংস নীতির অবক্ষয়ে,  দুর্নীতিকে ধ্বংস করলে আমাদের ফের দেখা হবে জয়ে।। দুর্নীতির মূল নীতি ধ্বংস আইন শৃঙ্খলার অবনতি,  অনৈতিক কাজ করবে যে জন  সে হারাবে তার ঈমানের জ্যোতি। দুর্নীতিবাজ ধীরে ধীরে  মানব জাতি ফেলে দিচ্ছে খাদে।।

খুব ভালবাসি

 খুব ভালোবাসি  খাদিজা বেগম তোমাকে খুব ভালোবাসি  তোমায় দেখলে এই মন শান্ত হয়ে যায়,  তোমার ছোঁয়ায় এই হৃদয়ে  যেন একটা সুখের তুফান বয়ে যায়।। তোমার কথা মনে হলে  মন ভরে যায় অন্যরকম আনন্দে,  মরুর বুকে জোয়ার আসে  উপচে ওঠে সুখের ঊর্মি সানন্দে। তোমার ছোঁয়া প্রাণের মত  এই হৃদয়ের মধ্যখানে রয়ে যায়।। ভালোবাসার নাই সীমানা  তাই জানিনা কত ভালো বেসেছি, হাজার রাত্রি পাড়ি দিয়ে  আমি তোমার মনের কাছে এসেছি।। ভালোবেসে কাছে রেখো  দূর দূর করে দূরে ঠেলে দিও না,  খাঁটি সোনা ফেলে দিয়ে  নকল সোনা কাছে টেনে নিও না। অপাত্রে প্রেম যে করে দান  তার জীবনটা ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়।।

মনের অলি গলি

 মনের অলিগলি খাদিজা বেগম  তোমার স্বপ্নে ভরে গেছে  আমার মনের অলি গলি রাজপথ, এই জীবনে এই তো প্রথম  তুমি নিয়া এলে প্রেমের বিপদ।। তুমি আমায় খুঁজে নিলে  এক পৃথিবী জনস্রোতের ভিড়ে,  তুমি আমায় ঠাঁই দিয়েছো  ভালোবেসে তোমার প্রেমের নীড়ে।  মনের মাঝে রাখবো তোমায়  এইতো আমার স্রষ্টার কাছে শপথ।। তোমায় দেখে মন শিখেছে এত গভীর ভালোবাসা মায়া,  তুমি যেন আমার আত্মা  আমি যেন তোমার প্রেমের কায়া।। জনম জনম আপন হয়ে  সুখে দুঃখে থাকবো পাশে পাশে, তুমি আমি ভিন্ন হলে  পরিণত হয়ে যাবো লাশে।। কেহ ছাড়বো না কারো হাত  যতই হোক না তোমার আমার দ্বিমত।।

সূর্য ঘুমিয়ে যায়

 সূর্য ঘুমিয়ে যায়  খাদিজা বেগম  যখন সূর্য ঘুমিয়ে যায়  জেগে ওঠে গোধূলির রং আকাশে,  রাতের বুকে ঘুমায় সে রং  নীরবতা ছাড়ায় হিমেল বাতাসে।। ঘুমে ঘুমে সবাই বিভোর  আমি জেগে আছি তোমার আশাতে,  জানিনা কি জাদু জানো  মন টানে খুব তোমার ভালো বাসাতে। অনুভবে পাই তোমাকে  যেন তুমি আছো আমায় চারপাশে।। হাত বাড়ালে পাই না তোমায় তুমি কাছে থেকেও যেন থাকো না,  ইশারাতে ডাক আমায় ঐ মুখ খুলে একবারও তো ডাকো না।। হৃদয় মাজারে বসত করো চুপি চুপি ভালোবাসো আমাকে,  তোমায় ভেবে অস্থির এই মন  স্থির হবেনা না দেখে তোমাকে। আর থেকনা গোপন হয়ে একবার এসো তোমায় দেখি প্রকাশ্যে।।

অপূর্ব সেই স্মৃতি

 অপূর্ব সেই স্মৃতি  খাদিজা বেগম  তোমার আমার ভালোবাসার  অপূর্ব সেই স্মৃতি চোখে ভাসে,  আগের মত চলে এসো মন তোমাকে আজো ভালোবাসে। ভুল করেছি মাফ করে দাও  একটি ভুলে কাঁদে দুটি জীবন, এভাবে আর কাঁদিও না  তুমি ছাড়া কেউ নাই আমার আপন।  ফেরেশতা নই আমি মানুষ  ভুল হয়ে যায় আমার অনায়াসে।। ভুল গুলোকে শুধরে নিয়ে  এসো আমরা মিলেমিশে চলি,  দু'জনেই ভুল করা মানুষ  ভুলের কথা ভুলে কথা বলি।। চালের মাঝে থাকে যে খুদ  কোন মানুষ নয় তো নিখুঁত ভবে, একটুখানি খুঁত স্বাভাবিক  এত কেন মান অভিমান তবে। হাসি খুশির অনুভূতি  পাশ কাটিয়ে কেনো কান্না আসে।।

আছে কার দুঃসাহস

 আছে কার দুঃসাহস  খাদেজা বেগ  এমন আছে কার দুঃসাহ  তোমার রূপের প্রতিযোগী হবে, তোমার মত এত সুন্দর  এই জীবনে আর দেখিনি ভবে।। পূর্নিমার ওই চাঁদের চেয়ে  তুমি আরো বেশি সুন্দর প্রিয়া,  বাগানের ঐ ফুলের চেয়ে  তোমার সৃষ্টি আরো সুবাস দিয়া।  তোমার প্রেমে পাগল হলে  তুমি আমায় বেঁধে রেখো তবে।। শ্রাবনের ওই বর্ষার মত  কথায় মুক্তা ঝরে অবিরত,  তোমার কথায় এমন জাদু কথার ছোঁয়ায় দূর হয়ে যায় ক্ষত।। তুমি দেখতে সূর্যের চেয়ে  আরো বেশি আলোকিত জলমল,  তোমার নয়ন দুটি যেন  নীল সাগরের মত করে টলমল।  ওই নয়নের প্রেমে পড়ে  মন ডুবেছে জানিনা তা কবে।।

হরিণ হরিণ নয়ন

 হরিণ হরিণ নয়ন  খাদিজা বেগম  আমায় পাগল করে দিলো  তোমার হরিণ হরিণ নয়ন,  দুই নয়নের এক পলকে  তুমি হরণ করেছো মন।। তুমি হাসি দিলে ঠোঁটে  যেন হাজারো ফুল ফোঁটে, মন ভোমরা পাগল হয়ে  তাইতো ফুলের পানে ছোটে। তোমায় দেখে এই মনে হয়  তুমি যেন আমার জীবন।। তুমি যখন হেঁটে চলো  যেন ঢেউয়ে খেলা করে,  কানায় কানায় ভরা নদী  যেন উপচে উপচে পরে।। তোমায় দেখে ঘুমন্ত প্রেম  আগুন হয়ে উঠল জেগে,  বৃষ্টি হয়ে এসো তুমি  এসো তীব্র ঝড়ের বেগে। তোমায় ছাড়া প্রাণ বাঁচে না  মন মানে না শাসন বারণ।।

প্রথম আসা বৃষ্টি

 প্রথম আসা বৃষ্টি  খাদিজা বেগম এই জীবনে তুমি আমার  গ্রীষ্মের শেষে প্রথম আসা বৃষ্টি,  চোখ জুড়িয়ে আসে আমার  তোমায় দেখে ফেরেনা এই দৃষ্টি।। শিশির এসে চলে যায় ফের  কেউ দেখেনা চোখে আসা যাওয়া,  ঘাসের ডগায় ক্ষণিক সময়  তার পরে সে ফের হয়ে যায় হাওয়া। ঠিক তেমনি কি প্রেম ছিল  এই বিরহ সেই প্রেমেরি সৃষ্টি।। জানি তুমি আবার আসবে  বৃষ্টি হয়ে মনের উঠান জুড়ে  এই হৃদয়ের মাঝে আসবে শীতের সময় শিশির কণার সুরে।। তাইতো আমি বৃষ্টি এলেই  জানালাতে হাত বাড়িয়ে রাখি,  তোমায় ভেবে খুব যতনে শিশিরের জল হাতে নিয়ে মাখি। এই জীবনের হাজার তিতা  তোমায় ছোঁয়ায় সব হয়ে যায় মিষ্টি।।

অবিনাশী জুলাই

 অবিনাশী জুলাই  খাদিজা বেগম  জুলাই হলো ফুলের যুদ্ধ  জুলাই হলো অমর অবিনাশী,  ঘ্রাণ ছড়ানো ফুলগুলোকে  আমরা মনে প্রাণে ভালোবাসি।। সদ্য ফোটা ফুলের মত ছোট ছোট নিষ্পাপ মাসুম শিশু, দেশের শান্তি চাওয়া ছাড়া  তাদের চাওয়া ছিল না আর কিছু। ওদের প্রাণের দামে আমরা  স্বাধীনতার আনন্দে আজ ভাসি।। এই জুলাইয়ের মাঠে যোদ্ধা  সাড়ি বেঁধে পড়েছিল নামাজ, রক্ত দিয়ে ধুয়ে মুছে  গড়ে ছিল একটা নতুন সমাজ।। বুক চিতিয়ে গুলি খেয়ে মরণের ভয় করেছিল বর্জন, এই জুলাইয়ের বীর যোদ্ধারা  বাঘের মত করেছিল গর্জন। তাদের গর্জে ওঠা দেখে ধ্বংস হলো স্বৈরাচারীর হাসি।। #July2024 #khadiga_begum

ছুঁই ছুঁই করে

 ছুই ছুই করে  খাদিজা বেগম  বারে বার মন ছুঁই ছুঁই করে  তবু আজো তোমায় ছোঁয়া হলো না, এই মন বলে ভালবাসি  কেমন করে বলবো তোমায় বলো না ।। মনের কথা মুখে আনা  এত কঠিন আগে জানা ছিল না,  বারে বার যার কাছে আসি  সে কেন যে কাছে টেনে নিল না। মন চায় বলে ফেলি তারে দূর কোথায়ও হারিয়ে যাই চলো না।। সে জানেনা তারি সাথে  প্রতি রাতে কত কথা বলে যাই, ভালবাসার ডানা মেলে  তারে নিয়ে নীল আকাশে চলে যাই।। যদি স্বপ্নের মত করে  সে আমাকে রেখে দিত হৃদয়ে,  তার পরে আর চাই না কিছু  কাটবে জীবন আনন্দে আর নির্ভয়ে। তোমায় দেখে মন ফেরেনা তুমি এত সুন্দর কেন ললনা

দায়বদ্ধতা

 দায়বদ্ধতা  খাদিজা বেগম দায়বদ্ধতার দায় এড়িয়ে  চলা কোন মানুষের কাজ নয়,  যার আছে দায় দায়িত্ব বোধ  তার দায়িত্ব পালনে নাই ভয়।। জবাবদিহি মাথায় রেখে  সে নিজেকে রাখে সদা সৎ, লোভের সাথে যুদ্ধ করে  ন্যায়ের সাথে মিলায় নিজের মত। সত্যসন্ধান করে যে জন  তার জীবনে আসবেই আসবে জয়।। ব্যক্তিগত পেশাগত  সব বিষয়ে বিশ্বস্ততা রাখে,  এমন মানব মহামানব  আসমান জমিন সালাম করে তাকে।। দায়বদ্ধতা থাকলে কারো অশ্লীল হয় না মুখের কথা,  কাজে কিংবা ব্যবহারে  সে দেবে না কাউকে ব্যথা।  দায়িত্ববান মানুষ যে জন  তার জীবনের নাই তো কোন ক্ষয়।।

তুমি সুন্দর

 তুমি সুন্দর  খাদিজা বেগম  তুমি সুন্দর লম্বা চওড়া  তোমার গায়ের রংটা সাদা,  তোমার মনটা বড় রেখো  থাকে না যে সেথায় কাদা।। ছোট মনের মানুষ হয়ে  কষ্ট দিও না যে তুমি,  কষ্ট দিলে কষ্ট পাবে জীবন হবে মরুভূমি।  মানুষ যারা দেবেই তারা সকল অন্যায় কাজে বাঁধা।। ভুল করে ভুল হয়ে গেলে  সে ভুল করে দিও ক্ষমা,  মনের মাঝে ভুলগুলো কে  কভু রেখো না যে জমা।। অপরাধ আর ভুলের মাঝের  পার্থক্যটা বুঝে নিও, ভুলের ক্ষমা করে দিলেও  অপরাধের শাস্তি দিও। মানুষ যে জন সে জন রাখে  ওয়াদা দিয়ে তার ওয়াদা।। তোমায় সুন্দর হতে হবে  কথাবার্তা ব্যবহারে,  রূপের ঝলক শেষ হয়ে যায়  দম্ভ ভরা অহংকারে।। যে যতটা বিনয়ী হয়  সে ততটাই মানবিক হয়, সে সকলের অভয় আশ্রম তার কাছে সব নিরাপদ রয়।।

আজ জন্মদিন

 আজ জন্মদিন  খাদিজা বেগম  আজ জন্মদিন আজ জন্মদিন  এই দিনে তুমি এসে ছিলে, তোমায় দেখে মন ভরে যায়  শান্তির জোয়ার উঠে দিলে। খুশির আলো ছড়িয়ে যাক  নতুন সুরে নতুন গানে,  আনন্দ ঢেউ জেগে থাকুক  দিবানিশী তোমার প্রাণে। যোদ্ধার মত সাহস নিয়ে  থাকো সত্যের সাথে মিলে।। দুঃখগুলো হারিয়ে যাক  জীবন সাজুক সুখের সুরে,  মহামানব হয়ে তুমি  থেকো সুন্দর ভুবন জুড়ে।। সুস্থ থেকো সুখে থেকো  এই কামনা মোনাজাতে,  যেখানেই রও সেখানেই যে  স্রষ্টা থাকে তোমার সাথে। রাতের চন্দ্র দিনের সূর্য  তুমি হৃদয় আকাশ নীলে।।

ছুটতে শেখে

 ছুটতে শেখে  খাদিজা বেগম  যখন মানুষ ছুটতে শেখে তখন জুতা ছাড়াও ছুটতে থাকে,  তার পা কেড়ে নিয়ে গেলেও  আর থামানো যাবে না যে তাকে।। ছোটার জন্য জুতার চেয়ে  পায়ের শক্তি লাগে বেশি করে, পায়ের চেয়েও মনের শক্তি  প্রয়োজন হয় ছুটে চলার তরে।  মনের ডানায় উড়তে জানলে  থামতে হয় না পথ চলা এই বাঁকে।। হাজার কাটায় জড়ানো পথ  মানুষের পথ হয় না সহজ সরল, যে জন মনে প্রাণের স্বচ্ছ  তার পথটা হয় পানির মতো তরল।। যে মানুষের চিন্তা জুড়ে  অন্যের দুঃখ কষ্টগুলো তাড়ায়, এই জগতে সেই তো মহান  তার অপেক্ষা করে যুগ যুগ ধরায়। সে জন চলে গেলেও আবার  স্মৃতিগুলো সবাই যত্নে রাখে।।

ভেবেচিন্তে দেখো

 ভেবেচিন্তে দেখো  খাদিজা বেগম  ভেবেচিন্তে দেখো না মন  কত বড় অমূল্য ধন প্রাণ,  যেদিন তুমি প্রাণ হারাবে  সেদিন তোমায় ফুল দেবে না ঘ্রাণ।। ফুল ফুটিবে বনে বনে  তার কোন ফুল তোমার জন্য নয়,  সূর্য উঠবে আকাশ জুড়ে  তার আলোও তোমার জন্য নয়। তিনি তুলে নিয়ে যাবেন  তোমার জন্য যা করেছেন দান।। অপচয় নয় অপমান নয়  অপচয়ে হয় শয়তানের ভাই, অপমানের দুঃখ আনে  জীবন জ্বলে পুড়ে হবে ছাই।। যে দিয়েছে কথা বলতে  তার আদেশে কথা বলো মুক, অস্রাব্য আর অশ্লীল কথায় কেড়ে নিয়ে যায় জীবনের সুখ।  সাগর ভরা থাকবে পানি  একদিন করতে পারবে না তা পান।।

ভুল করেছি

 ভুল করেছি  খাদিজা বেগম আমি বড় ভুল করেছি  ভুল করেছি সৃষ্টির প্রেমে পড়ে,  স্রষ্টা ভুলে ভুল করেছি  তাই চোখের জল অনুতাপে ঝরে।। তোমার আদেশ তোমার নিষেধ  আমি যেন ভুলে যাই না কভু, তুমি থেকো শ্বাস-নিশ্বাসে  তুমি যে এক অদ্বিতীয় প্রভু। যখন ছিল যা প্রয়োজন  সব দিয়েছো আমার জীবন ভরে।। কেমন করে কৃতজ্ঞতা  করব স্বীকার আমি তোমার কাছে, তোমার দেয়া দান গুলো সব  মনে পড়ে অশ্রুতে চোখ ভাসে।। কত বড় মহান তুমি  তুমি কত বড় ক্ষমাশীল, কোথায়ও নাই কিছুতে নাই তোমার সাথে অন্য কারো মিল।। তোমার ক্ষমায় বেঁচে আছি  তোমার গুন গাই সেজদায় মাথা রেখে, যদি আবার পথ ভুলে যাই  তোমার পথেই রেখো আমায় ডেকে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই জীবনটা শুধু তোমার তরে।।

যখন হাসতে শেখে

 যখন হাসছে শেখে  খাদিজা বেগম  যখন হাসতে শেখে কেহ তখন হাজার কান্না ভুলেও হাসে,  এই পৃথিবীর কোন কান্নার  সাধ্য নাই সেই হাসি ঠেলে আসে।। যখন সাঁতার শিখে যাবে  ভয় রবে না তখন ডুবে যাওয়ার,  যখন দিতে শিখে যাবে  মন থাকে না তখন কিছু পাওয়ার।  তবু কিছু পেয়ে গেলে  কৃতজ্ঞতার জলে নয়ন ভাসে।। একবার কথা শিখে গেলে  শিখে যাবে নীরবতাই ভালো,  যুগে যুগে নিরব কর্ম  পৃথিবীকে দিয়ে গেছে আলো।।  অতি কথায় ক্ষতি বেশি  যত পারো কথা বল অল্প,  অকারনে বললে কথা  নষ্ট হবে ফুল পাখিদের গল্প। ক্ষমা করতে শিখে গেলে  হিংসা ভুলে সবাই ভালবাসে।।

খোকন বড় হচ্ছে

 খোকন বড় হচ্ছে  খাদিজা বেগম  খোকন যত বড় হচ্ছে  ততই সরে যাচ্ছে আমার থেকে,  হাজার চেষ্টা করেও তারে  কাছে রাখা যায় না ডেকে ডেকে।। খোকন সোনার ছোট দুই পা  ভর করেছে প্রথম আমার বুকে,  তাই দেখে মন হেসে ছিল  হৃদয় ভরে ছিল সুখে সুখে। খোকন সোনার শরীর জুড়ে   দুটি হাতে দিতাম আদর মেখে।। সেই খোকন আজ কত দূরে  ইচ্ছে হলেও আদর করা যায় না,  দূরত্বে হয় যদি মঙ্গল  করাবো না আর কাছে থাকার বায়না।। চন্দ্র সূর্য দূর আকাশে  তার আলোতে আলোকিত ভুবন, তেমনি করে খোকার আলোয়  আলোকিত হোক অন্ধকার জীবন।  খোকন এখন পথ প্রদর্শক  আমি চলব খোকনের পথ‌ দেখে।।
 মাটির খাঁচায়  খাদিজা বেগম শূন্য মাটির খাঁচার মাঝে  কে করেছে নিখুঁত প্রাণের আবাদ,  তারে চেনো তারে জানো  নইলে তোমার জীবন হবে বরবাদ।। পানির মত বয়ে চলে  কার হুকুমে আমাদের শ্বাস নিঃশ্বাস,  তার চরণে মাথা রাখো  তারে করো মনে প্রাণে বিশ্বাস। সত্যের সন্ধান করো রে মন  সত্য ছাড়া মিথ্যা তোমার হায়াত।। পানি ছাড়া প্রাণ বাঁচে না  বাতাস ছাড়াও প্রাণ বাঁচে না কারো, না চাহিতে কে দিয়েছে  এত পানি বাতাস বলতে পারো?? গাছে গাছে কে ফোটালো  এত সুন্দর ঘ্রাণ ছাড়ানো জুঁই ফুল, কে বানালো এমন নদী  ঢেউয়ে ঢেউয়ে স্নান করে তার দুই কূল। তারে খোঁজো তারে ভোজো যার হুকুমে ছুটে চলে দিনরাত।।

অজুহাত

 অজুহাত  খাদিজা বেগম  সারাটা ক্ষণ খুঁজি বেড়াই  আমি তোমার কাছে থাকার অজুহাত, তুমি নানান অজুহাতে  দূরে চলে যাও ছাড়িয়া আমার হাত।। একতরফা প্রেম ভালোবাসা  আমার মত করে কেহ কেঁদোনা, এতো ভালোবেসে গেলাম  বিনিময়ে পেলাম শুধু বেদনা।  তোমার হৃদয় যত্ন করে অন্য কাউকে পুষে রাখো দিবারাত।। যুগ যুগ ধরে আমি রইলাম তোমার কাছে শুধুই যেন প্রয়োজন,  ঐ হৃদয়ের রিদ মাজারে যে পেয়েছে ঠাই সেই তো তোমার প্রিয়জন।। একি অজুহাতে আমরা  কেহ কাছে আসি কেহ দূরে যাই, বাস্তবতার নির্মমতায়    খুব নীরবে নীরবে রোজ পুড়ে যাই। পুড়তে পুড়তে প্রেম হবে ছাই  মোমের মত গলে যাবে সব হায়াত।।

আমার বিশ্বাস

 আমার বিশ্বাস  খাদিজা বেগম তোমার প্রতি আমার বিশ্বাস  এখন আর নেই মরে গেছে সেই কবে,  বিশ্বাসের লাশ বয়ে চলছি  জানিনা তার কবর কবে যে হবে??  বিশ্বাস মরা লাশ এই বুকে আজো পড়া হয় নি লাশের জানাযা, তোমায় বিশ্বাস করে পেলাম  প্রতারণার নির্মম নিষ্ঠুর এই সাজা।  কভু কাউকে করব না আর  অন্ধের মত এমন বিশ্বাস এই ভবে।। ভালোবাসার মূল্য দাও নি  তোমার অবহেলায় হৃদয় মরেছে,  সেই হৃদয়ের খুব গভীরে  ভালবাসার এক সমাধি গড়েছে।। মরে গেছে ভালোবাসা  জনে জনে প্রকাশ করতে পারিনি,  মরে যাওয়া লাশের স্তুপ  আঁকড়ে ধরে আছি আজো ছাড়িনি।  জানিনা এই মরে যাওয়া  সম্পর্কটা আরো কত দিন রবে।।

তুমি এতই প্রিয়

 তুমি এতই প্রিয়  খাদিজা বেগম  প্রিয় তুমি এতই প্রিয়  তা বর্ণনার খুঁজে পাইনা ভাষা,  আমার আশা শূন্য বুকে  নতুন করে জাগিয়েছো আশা।। প্রিয় থেকেও তুমি প্রিয় তুমি আমার এই হৃদয়ে থেকো,  এই পৃথিবীর কষ্ট থেকে  তুমি আমায় আড়াল করে রেখো।  তুমি ছাড়া কেউ পাবে না  এই হৃদয়ের গোপন ভালোবাসা।। তুমি আমার আশার তরী  তোমায় ছাড়া আমি যাবো ডুবে, তোমার ছোঁয়া এই মন আমার  তুমি ছাড়া আর কেহ না ছুবে।। প্রানের চেয়েও প্রিয় তুমি  তুমি আমার মনের চিন্তাধারা,  আমার প্রথম ছোঁয়া তুমি প্রাণ বাঁচে না তোমার ছোঁয়া ছাড়া। তোমার ভালবাসা ছাড়া  এক সেকেন্ডও যাবেনা তো বাঁচা।।

মাথার উপরে থাক

 মাথার উপর থাক  খাদিজা বেগম  আমার মাথার উপরে থাক  সদা তোমার দুটি চরণ,  আমার মনের ভিতরে হোক  মহান শুধু তোমার স্মরণ।। তোমার নামের যপো মালা  সদায় যেন যপি আমি, তোমার চেয়ে অন্য কিছু  কভু হয় না যেন দামি।  তুমি আমার জীবন দাতা  তুমি আমায় দেবে মরণ।। আমার চোখে তোমার আলো আমার হাত পায় তোমার শক্তি, আমার সকল চিন্তা ভাবনায়  তোমার প্রতি শ্রদ্ধা ভক্তি।। আমার মুখে তোমার কথা আমার হাতে তোমার কর্ম,  তুমি আমায় দাও চিনিয়ে  তোমার দেয়া সত্য ধর্ম।  আমার কাজে কথার মাঝে  কারো ভেজে না যে নয়ন।।

অবিনাশী জুলাই

 অবিনাশী জুলাই  খাদিজা বেগম  জুলাই হলো ফুলের যুদ্ধ  জুলাই হলো অমর অবিনাশী,  ঘ্রাণ ছড়ানো ফুলগুলোকে  আমরা মনে প্রাণে ভালোবাসি।। সদ্য ফোটা ফুলের মত ছোট ছোট নিষ্পাপ মাসুম শিশু, দেশের শান্তি চাওয়া ছাড়া  তাদের চাওয়া ছিল না আর কিছু। ওদের প্রাণের দামে আমরা  স্বাধীনতার আনন্দে আজ ভাসি।। এই জুলাইয়ের মাঠে যোদ্ধা  সাড়ি বেঁধে পড়েছিল নামাজ, রক্ত দিয়ে ধুয়ে মুছে  গড়ে ছিল একটা নতুন সমাজ।। বুক চিতিয়ে গুলি খেয়ে মরণের ভয় করেছিল বর্জন, এই জুলাইয়ের বীর যোদ্ধারা  বাঘের মত করেছিল গর্জন। তাদের গর্জে ওঠা দেখে ধ্বংস হলো স্বৈরাচারীর হাসি।। @highlight  #July #khadija

উস্কানী দেয়

 উস্কানী দেয়  খাদিজা বেগম আজো বৃষ্টি ভেজা শীতল হাওয়ায়  তোমার কথা ভেসে আসে কানে, তোমার স্মৃতিগুলো উস্কানি দেয়  আমায় ভাসতে বলে প্রেমের বানে।। এখন কোথায় আছো কেমন আছো  অনেক বেশি জানতে ইচ্ছে করে,  ভুলতে গেলেও ভোলা যায়না তোমায়  বৃষ্টি এলেই বেশি মনে পড়ে। রাত গভীরে ঘুম আসে না প্রিয়  জেগে থাকি তোমার প্রেমের টানে।। ঢেউয়ের মতো জেগে থাকে আবেগ   তোমার স্মৃতির প্রেম সাগরে ভেসে,  তোমায় নিয়ে চলে যাবো একদিন  স্বপ্নে রঙিন ভালবাসার দেশে।। তোমার সাথে প্রেম করিব আমি  এমন স্বপ্ন দেখি প্রতি রাতে,  দিবানিশি তোমায় খুজে বেড়াই  তবু দেখা হয়না তোমার সাথে।  আমার অনুভবে পাই তোমাকে  মহান অন্তর্যামী সেইসব জানে।।

প্রেমে পরি

 প্রেমে পরি খাদিজা বেগম  যত বারি দেখি তোমায়  তত বারি তোমার প্রেমে পরি,  যত বারি ভাবি তোমায়  তত বারি মিলন বাসর গড়ি।। যখন আসো আমার কাছে  মন ভরে যায় ফুলের ঘ্রাণে ঘ্রাণে,  মাতাল হয়ে যায় এই হৃদয়  তোমার প্রেমের সুরা পানে পানে। আমি তোমার মন উঠানে  রাত গভীরে জোৎস্না হয়ে ঝরি ।। এক মুহূর্ত না দেখিলে  চোখে তোমায় দেখার তৃষ্ণা জাগে,  তোমায় ছাড়া একলা জীবন  আমার বড় শূন্য শূন্য লাগে।। যত বারি দেখি তোমায়  তত বারি নতুন নতুন লাগে, হাজার দেখেও চোখ ভরে না  লক্ষ জনম দেখার ইচ্ছা জাগে। শত যুগের চেনা তুমি তুমি আমার স্বপ্নে দেখা পরী।।

গাছ জড়িয়ে লতা

 গাছ জড়িয়ে লতা  খাদিজা বেগম  চাঁদনী রাতে জোছনায় ভিজে  গাছ জড়িয়ে লতা যখন কথা বলে,  ঝোপে ঝারে জোনাকিরা  তখন নিভে নিভে উঠে জ্বলে।। রাতের ভুবন ঘুমে বিভোর গায়ে দিয়ে নীরবতার চাদর,  আজ বিরহী চোখ ঘুমায় না  হাত বাড়িয়ে খুঁজে তোমার আদর। একটু স্থির থাকে না মন জ্বলে পুড়ে তোমার জন্য গলে।। তোমার মনে নাই কি মায়ায়  নাই কি দয়া নাই কি ভালোবাসা,  কেন তুমি মন বোঝো না  এই মন তোমায় পাইতে করে আশা।। রাতের বুকে চন্দ্র থাকে  দিনের বুকে থাকে সূর্যের আলো,  আমার বুকটা শূন্য শূন্য  তোমায় ছাড়া আমার ভুবন কালো।  রাতের নিদ্রা মনের শান্তি  সব হারালাম ভালোবাসার ফলে।।

স্বপ্ন দেখি

 স্বপ্ন দেখি  খাদিজা বেগম তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখি  একদিন তোমায় বউ বানিয়ে নেব, ওই কপালের মাঝ বরাবর  নিজের হাতে টিপ লাগিয়ে দেব।। তোমার জন্য কিনে আনব  লাল রঙের ফুল সবুজ পাতার শাড়ি, দুই চরণে আলতা মেখে  বউ সাজিয়ে নিয়ে যাব বাড়ি। তোমার চুলের ওই বেনিতে  ফুলের মালা রোজ জড়িয়ে দেব।। ঢেউ খোলানো অঙ্গ তোমার  যেন কানায় কানায় ভরা নদী, ওই নদীতে বাইবো তরী তোমার অনুমতি থাকে যদি।। তোমার কানে দোল খেলাবে জোছনা ঝরা পূর্ণিমা চাঁদ এসে,  তোমার নাকের নাকেরি ফুল  ফুলের মত ঘ্রাণ ছড়াবে হেসে। পৃথিবীর সব আনন্দ সুখ  আমি তোমার পায়ে ঢেলে দেব।।

কথার তৃষ্ণা

 কথার তৃষ্ণা  খাদিজা বেগম কথার তৃষ্ণায় ক্লান্ত হৃদয়  তবু তুমি বলতে দাওনি কথা,  না বলা সেই যন্ত্রণাতে  ভিজে ভিজে যায় নয়নের পাতা।। একটু কথা বলতে দিলে  তোমার কিবা এমন ক্ষতি হত, আমার বুকে হত না তো  এমন রক্ত ঝরা তীব্র ক্ষত। কিছু কথা শোনার ছিল  রয়ে গেল না শোনার সেই ব্যথা।। আমার এমন একদিন আসবে আর হবে না তোমার কথা শোনা, তোমায় কিছু বলার জন্য  আর হবে না আমার সময় গোনা। কিছু কিছু কথা থাকে  কখনো তা কাউকে হয় না বলা,  কিছু কিছু পথ ও থাকে  কখনো সেই পথে হয় না চলা।  না বলা সেই ব্যথা গুলোর  সাক্ষী হয়ে থাকবে জীবন খাতা।।

অচেনা প্রেম

 অচেনা প্রেম  খাদিজা বেগম অচেনা প্রেম অদৃশ্য প্রেম  বারে বারে কাছে এসে, তোমায় আমায় এক করেছে ভালোবেসে ভালোবেসে।। তুমি আমি মিশে গেছি  যেমন মিশে যায় ফুলের ঘ্রাণ বাতাসে,  তুমি আমি জেগে আছি  তোমার আমার দুই হৃদয়ের আকাশে।  মেঘের ভেলার মতো আমরা  মন আকাশে থাকবো ভেসে।। ভাসতে ভাসতে আমরা দুজন  ডুবে যাব অজানা প্রেম সাগরে,  আমরা দুজন দুজনারে  ভালোবেসে আগলে রাখবো আদরে।। আমাদের প্রেম ভালবাসা  চির অমর চির অম্লান রাখবো,  সকল বাঁধা বিঘ্ন ভেঙে  সুখে দুঃখে পাশাপাশি থাকবো। প্রেম আবেশে জাগবো দুজন  ফোঁটা ফুলের মতন হেসে।।

কথা ছিল

 কথা ছিলো  খাদিজা বেগম  কথা ছিল শুকতারা কে সাক্ষী রেখে  রাতে করবো সুখের ভাগাভাগি,  এখন আমি নিদ্রাহীনা  এক বুক দুঃখ নিয়ে একলা জাগি।। কথা ছিল  ভোরের সূর্য ওঠার আগে  আমার জন্য চুম্বন উঠবে ঠোঁটে, কোথায় আমার চুম্বনগুলো  ভোরের সূর্য প্রতিদিনি ওঠে। কথা ছিল সঙ্গে থাকবে  হোক না যতই ঝগড়া রাগারাগী।। কথা ছিল দুজন মিলে  পা ভিজিয়ে হাঁটবো নদীর কূলে,  প্রেম তরীতে ভাসবো দুজন  ভালবাসার ঢেউয়ে ঢেউয়ে দুলে।। সেই কথা আজ কোথায় গেল  রাত গভীরে চোখ ভিজিয়ে খুঁজি,  আমি ছাড়া কেউ নাই আমার  অবশেষে এই কথাটাই বুঝি। চেয়েছি প্রেম দিয়েছো দাগ  হাজার দাগে আজ হয়েছি দাগী।।

শুনেছো কি

  শুনেছো কি  খাদিজা বেগম শুনেছো কি এই শুনেছো আমি তোমার তুমুল প্রেমে পড়েছি, তোমার নামের তাজমহলে  ভালোবাসার রঙিন ভুবন গড়েছি।। জেনেছো কি এই জেনেছো  তোমার নামে এই মনে ফুল ফুটেছে,  সাহারার বুক ডুবে গেছে  বুকে তোমার নামে জোয়ার উঠেছে। অজুহাতে আর আমার হাতে  সব হাত মিলে তোমারি হাত ধরেছি।। বুঝেছো কি এই বুঝেছো  তুমি প্রিয় আমার আত্মার আত্মীয়, তোমার জন্য যাযাবর মন  তোমার মনে আমার মনের ঠাই দিও।। তোমার নয়ন যেন সাগর  ওই সাগরে মন পড়ে যায় ঝাঁপিয়ে,  তোমার ছোঁয়ার শীতল ছোঁয়ায়  জ্বর উঠে যায় এই দেহ মন কাঁপিয়ে। তোমার প্রেম কে মধু ভেবে  বিষ পান করে কখন যেন মরেছি।।

কলসি কাঁখে

 কলসি কাঁখে  খাদিজা বেগম  তুমি এসো কলসি কাঁখে  প্রেম যমুনার সান বাঁধানো ঘাঁটে,  একটি দিন না দেখলে তোমায়  প্রেম পিপাসায় আমার হৃদয় ফাটে।। আমি আসবো তরী বেয়ে  ভালবাসার রঙিন বাদাম তুলে,  অন্যদিকে ব্যস্ত হয়ে  আমায় তুমি যেও নাকো ভুলে। হৃদয় থেকে চলে এলাম  আমি তোমার ভালবাসার বাটে।। পা ভিজাতে এসে তুমি  সারা অঙ্গে যমুনার জল মেখো, প্রেম যমুনার তুফান ভারী  খুব সাবধানে সব সামলিয়ে রেখো।।  তুফান দেখে ভয় পেয়ো না  আমি নাবিক আছি তোমার সঙ্গে।  সাদাকালো জীবনটাকে  ভরে দেব ভালোবাসার রঙ্গে।। আমি তোমায় নিয়ে যাব  সুখে ভরা এক স্বর্গীয় হাটে।।

আজো শ্রাবণ আসে

 আজো শ্রাবণ আসে  খাদিজা বেগম  তোমার কথা ভেবে ভেবে  আজো শ্রাবণ আসে আঁখি পাতে, তোমার আসার আশায় আমার  প্রতিটা দিন হারিয়ে যায় রাতে।। বলেছিলে যদি কভু  পূবের সূর্য পশ্চিমে যায় উঠে,  নীল সাগরের উর্মি মালা  রাস্তার মাঝে ঘোড়ার মত ছোটে। তবুও এই আমি রবো  তোমার হয়ে তোমার সাথে সাথে।। আগের মত সূর্য ওঠে  পূব আকাশে উর্মি ছুটে জলে, শুধু তুমি নেই সেই আগের মত  তবু তোমায় ভেবে হৃদয় জ্বলে।। বলেছিলে প্রতি রাতে  গান শোনাবে মাথা রেখে বুকে,  তোমার কথা বিশ্বাস করে  তোমার প্রতি মন পড়েছে ঝুকে। দূর অজানায় চলে গেছো   হাজার দুঃখ দেবার অজুহাতে।।

মহান আল্লাহ

 মহান আল্লাহ  খাদিজা বেগম দুর্বল ভেবে মারছো যাকে  তার ক্ষমতার উৎস মহান আল্লাহ্,  এমন কিসের শক্তি তোমার  সেই আল্লারি সাথে দেবে পাল্লা।। যারে তুমি বোকা ভেবে  প্রতিটা দিন দিয়ে যাচ্ছো ধোঁকা, তার ভিজ্ঞতা বিধাতার দান  শয়তানি জ্ঞান ভালো নয় রে বোকা। জীবন নদীর তুফান দেখে  ভয় করে না ন্যায়ের মাঝিমাল্লা।।  সত্য তরী বাইতে হবে  যাইতে হবে সত্যসন্ধান করে,  সত্য রেখে মিথ্যাটাকে  বেইমান ছাড়া আর কে আকড়ে ধরে।। যায় চলে যাক দেহের নিঃশ্বাস  মহান আল্লাহ্ আমার রক্ষাকারী, আল্লাহ ছাড়া বন্ধু নাই আর তিনি শুনেন মনের আহাজারি। তোমার শান্ত উপস্থিতি  কভু যেন ভুলে যাই না মাওলা।।

ঘুণে খাওয়া কাঠ

 ঘুণে খাওয়া কাঠ খাদিজা বেগম  ঘুণে খাওয়া কাঠের মত যন্তনাতে খেয়ে নিল সুখ,  উপর উপর যতই হাসি  ভিতর ভরা কানায় কানায় দুখ।। দুঃখ আমার শিরায় শিরায়  যেন আমার সুখ চাওয়াটাই ভুল,  কষ্টের ঢেউয়ে ভেঙে পড়ে  আমার জীবন নদীর দুটি কূল। পাঁজরের হাড় নেই তো আমার  পাজর ছাড়া আমার শূন্য বুক।। কষ্ট নামের ঘুণ পোকাতে  কুঁড়ে কুঁড়ে খেলো বুকের হাড়, কানায় কানায় বুকের মাঝে  এখন শুধু আছে হাহাকার।। আশার প্রদীপ নিভে গেছে  এই জীবনে আর হবে না ভোর,  সারা জীবন কড়া নেড়েও  আজো খোলা যায়নি ভাগ্যের দোর। আয়নাটারে ফেলে দিছি  আর দেখবো না হত ভাগা মুখ।।

রুপের মাদকতায়

 রূপের মাদকতায়  খাদিজা বেগম তোমার রুপের মাদকতায়  কেন আমায় এতো মাতাল করলে,  তোমার মায়ার মায়া জালে  কেন আমরার পথ আটকিয়ে ধরলে।। পৃথিবীর সব ভুলে গেছি  ভুলে গেছি নিজের বসত বাড়ি,  তোমার মনে ঠাঁই চেয়ে মন  বারে বারে করে আহাজারি।  নয়নের ঘুম হৃদয়ের সুখ  পালিয়ে যায় একবার প্রেমে পড়লে।। তাই তো এখন ঘুম আসে না  ভোর হয়ে যায় রাত্রি জেগে জেগে, প্রেমের আগুন দ্বিগুণ জ্বলে  তোমার স্মৃতির ছোঁয়া লেগে লেগে।। তোমার হাতে ধরো যখন  আমার হাতের আঙ্গুল গুলো চেপে, তখন আমার সাহসী মন  সব হারানো ভয়ে ওঠে কেঁপে। কখন আমায় বাসবে ভালো  আরো কত নয়নের জল ঝরলে।।

ঘুমের ঔষধ

 ঘুমের ঔষধ  খাদিজা বেগম  তুমি আমার ঘুমের ঔষধ  তোমায় ছাড়া ঘুম আসেনা রাতে, দূরে চলে গেলে তুমি  ঘুম চলে যায় তোমার সাথে সাথে।। কাছে কাছে থেকো প্রিয়  যত কাছে থাকে আমার নিঃশ্বাস,  এক মুহূর্ত থাকলে দূরে  পাই না খুঁজে বেঁচে থাকার আশ্বাস। মরনেও ভয় করি না  থাকলে তোমার হাত আমার এই হাতে।। তোমায় ছাড়া বেঁচে থাকা  ভাবতে গেলেও কষ্ট কষ্ট লাগে, কোথায় ছিলে এতটা দিন  কেন আমায় দেখা দাও নি আগে।। তুমি আমার পূর্ণিমা চাঁদ  গভীর রাতে জোছনা হয়ে থেকো, সেই জোছনায় নাও ভাসাবো  চোখ না বুজে চেয়ে চেয়ে দেখো। ধরে বেঁধে রেখো আমায়  যদি নেশা জাগে আঁখি পাতে।।

ভালোবাসার বায়না

 ভালোবাসার বায়না  খাদিজা বেগম  আকাশ জুড়ে মেঘ করেছে  হৃদয় জুড়ে ভালোবাসার বায়না,  চোখের জলে এই মিনতি  শুধু একবার বুকের কাছে আয় না ।। বুকের মাঝে জ্বলছে আগুন  সেথায় চাইছে ভালোবাসার ছোঁয়া,@ তোরে চাওয়া ছাড়া আমার  প্রার্থনায় নাই অন্য কোন দোয়া। তোর টানে এই মন টানে খুব  তোরে ছাড়া আর কিছু মন চায় না।। মেঘের ডাকে ময়ূর নাচে  ফুলের ঘ্রাণে নেচে বেড়ায় অলি, মনে মনে মন ভ্রমরা  খুঁজে বেড়ায় তোর প্রেমেরি কলি।। তোর আচলের মিষ্টি সুবাস  এই বাতাসে ভেসে ভেসে আসে,  সেই সুবাসে মন দেওয়ানা  বারে বারে অশ্রুতে চোখ ভাসে।  এত বেশি ভালবাসি  তাইতো বুঝি তোরে ভোলা যায় না।।

না ছোঁয়া আঘাত

 না ছোঁয়া আঘাত  খাদিজা বেগম তোমার ছোঁয়া পেতে এসে  পেয়ে গেছি না ছোঁয়ায় এক আঘাত,  কেন পাইনি তোমার ছোঁয়া  এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজি দিন রাত।। তোমার হাতের আঙুলগুলো  চায়নি কেন আমার আঙুল ধরতে, তুমি কেন সরে গেলে  একটু একটু করে সরতে সরতে। তোমার ছোয়ায় প্রাণ খুঁজে পাই  তুমি ছাড়া জীবন যেন বরবাদ।। আমায় তুমি রেখে দিও  তোমার সকল অনিচ্ছা আর ইচ্ছায়,  আমি তোমার দখল চাইনা  চাই আমাকে ভালোবাসো স্বেচ্ছায়।। তোমার প্রেমে জনম জনম  ভালোবেসে রেখ আমায় আটক, তুমি আমার আমি তোমার দুজন হব দুজনারি পাঠক। হাত বুলিয়ে বুলিয়ে রোজ যেমন পড়ে যাই কোরআনের আয়াত।।

শেষ বিকালে

 শেষ বিকালে  খাদিজা বেগম  শেষ বিকালে তোমায় নিয়ে  পাশাপাশি হাঁটব বালু চরে,  পায়ের সাথে পা মিলিয়ে  হাঁটব দুজন দুজনার হাত ধরে।। রাতের আকাশ পাড়ি দেবো  ভালবাসার ডানায় উড়ে উড়ে,  তোমায় নিয়ে চলে যাব  দুঃখ ছেড়ে অনেক দূরে দূরে। তুমি আমি বন্দী রবো  ভালোবেসে ভালোবাসার ঘরে।। গোধূলির রং মাখা সন্ধ্যায় চেয়ে চেয়ে দেখব তোমার হাসি,  এমন একটা স্বপ্ন নিয়ে  বারেবারে তোমার কাছে আসি।। নাকের সাথে নাক মিলিয়ে  তোমায় নিয়ে গল্প করবো আমি,  ঠোটের সাথে ঠোট মিলিয়ে  বাসবো ভালো জানে অন্তর্যামী।  চোখের সাথে চোখ মিলিয়ে  থাকবো দুজন যাব নাকো সরে।।

হলুদ হয়ে যায়

 হলুদ হয়ে যায়  খাদিজা বেগম  জিন্দা গাছের ডালে থেকেও  মাঝে মাঝে পাতা হলুদ হয়ে যায়,  মৃদু বাতাস লাগলে এসে  সেই বাতাসের সাথে পাতা বয়ে যায়।। কেন পাতা ঝরে গেল গাছের দোষে নাকি পাতার দোষে,  নাই অভিযোগ নাই অভিমান  জীবন ঝরে পড়ে কোন সে রোষে। মাঝে মাঝে গাছ মরে যায়  তবু গাছের সাথে পাতা রয়ে যায়।। জীবনের শেষ সময় টুকু  কাটে যেন তোমার সাথে থেকে,  পাতার মতো প্রাণ হারাবো  যদি চলে যাও আমাকে রেখে।। বিনা দ্বিধায় বিনা লজ্জায়  নিঃসংকোচে এসেছি তোমার কাছে,  তোমার আশায় সব হারালাম  মন তোমাকে অনেক ভালোবাসে।  মন জড়িয়ে থাকলে তুমি হাসিমুখে মন সব কষ্ট সয়ে যায়।।

ভোগের উল্লাসে

 ভোগের উল্লাসে  খাদিজা বেগম  উল্লাসিত মন প্রাণীর মতন ব্যস্ত নিত্য নতুন ভোগের উল্লাসে, আজো একবার হয়নি সময়  মানুষ হয়ে মনুষ্যত্ব তল্লাশে।। এটা চাচ্ছি ওটা চাচ্ছি  পাওয়ার পরে তার প্রতি নাই গুরুত্ব,  আবার চাচ্ছি নতুন কিছু  চাওয়া-পাওয়ার ভিড়ে হারাই ব্যক্তিত্ব।  লুকোচুরি বন্ধ কর লুকানো পাপ আসবে একদিন প্রকাশ্যে।। নিঃশ্বাসের নাই কোন বিশ্বাস  তবু কেন উল্টো পথে চলেছো,  করছ হিংসা নিন্দা গীবত  মুখে কেন মিথ্যা অশ্লীল বলেছো।। অতিরিক্ত চাওয়া পাওয়ায়  জীবন হয়ে যায় ভয়ংকর বিষাদময়,  অল্পতে মন তুষ্ট রাখো  নিজের মাঝে পুষে রেখো সুহৃদয়। স্রষ্টার আদেশ-নিষেধ গুলো  জেনে মানব মানুষ হওয়ার প্রয়াসে।।

আকর্ষণে

 আকর্ষণে  খাদিজা বেগম  দূরে দূরে যায় না থাকা  কাছে আসি তোমার আকর্ষণে, জ্বলন্ত মন জুড়াতে চাই  তোমার হাতের আলতো আলিঙ্গনে। মন পতঙ্গ ছাই হতে চায় তোমার প্রেমের আগুনে ঝাঁপ দিয়ে,  তোমার প্রেমে অন্ধ আমি এই হাত ধরে চলো আমায় নিয়ে। তোমার হাসির স্নিগ্ধ আলো  সূর্য হয়ে জাগে আমার মনে।। আমি তোমার সাথে থাকলে  আমার জীবন পরিপূর্ণ লাগে,  তাই তো জনম জনম ধরে  তোমার সাথে থাকার ইচ্ছা জাগে।। তুমি আমার হৃদয়ের সুখ  তুমি আমার দুই নয়নের আলো,  তোমায় ছাড়া এই পৃথিবী দুঃখ ভরা যন্ত্রণাময় কালো। এই জীবনের শেষ পর্যন্ত  আমি থাকবো শুধু তোমার সনে।।

যন্ত করে পুড়ছো

 যত্ন করে পুড়ছো  খাদিজা বেগম খুব নীরবে নীরবে রোজ  তুমি যত্ন করে পুড়ছো আমায়,  হৃদয় জ্বলছে মোমের মতো  তোমার দেয়া তীব্র অবহেলায়।। আমি যত কাছে আসি  তুমি তত আমায় ঠেলো দূরে,  এমন আগুন জ্বাললে তুমি  ধোঁয়া নেই তার খুব নীরবে পুড়ে। রং হারালাম ভালোবেসে  গোধূলি রং ছড়ানো এই সন্ধ্যায়।। হৃদয় ছিল সাদামাটা  এলোমেলো হলো তোমার প্রেমে,  দুরন্ত এই জীবন আমার  তোমার মায়ায় পড়ে গেল থেমে।। যত পারো পোড়াও আরো হয়তো পোড়ার সময় নেই আর হাতে,  যত পারো কাদাও আরো  হয়তো অশ্রু নেই আর আঁখি পাতে। হয়তো আমি চলে যাব  আজ কিংবা কাল আসবো না এই ধরায় ।।

সাঁতার কাটে

 সাঁতার কাটে  খাদিজা বেগম  মনের মাঝে সাঁতার কাটে  দুঃখগুলো জিয়াল মাছের মত,  দুঃখগুলো সুখ গিলে খায় তাইতো আমার দুঃখ অবিরত।। পুরনো সব দুঃখ গুলো   মরার আগেই নতুন দুঃখ আসে,  দুঃখ রাখার জায়গা নাই আর  তাইতো নয়ন দুঃখের জলে ভাসে। শ্বাস-নিঃশ্বাসে কষ্ট লাগে  আমি আরো দুঃখ বইবো কত।। দুঃখগুলো অনেক ভারী দুঃখের ভারে নুয়ে পরে দেহ, দুঃখী ছাড়া দুঃখের জ্বালা  এই দুনিয়ায় বুঝবেনা আর কেহ।। দুঃখ আমার চির সাথী  সুখ আসে যায় স্বপ্নের মত করে, এত দুঃখ আছে বলেই  মন কাঁদে রোজ একটু সুখের তরে। দুঃখগুলো বৃক্ষের মত দূর করে দয় সুখ না থাকা ক্ষত।।

জোয়ার ভাটা

 জোয়ার ভাটা খাদিজা বেগম  জোয়ার ভাটার মত করে  আসা যাওয়ার মাঝেই তুমি থেকো,  মেঘ যতক্ষণ চাঁদ ঢেকে দেয়  ততটা ক্ষণ তোমার বুকে রেখো।। ফুল যতক্ষণ ফুটে থাকে  ঘ্রাণ ছড়িয়ে গাছের ডালে ডালে,  ততটা ক্ষণ থেকো আপন  সঙ্গে নাইবা রইলে চিরকালে।  সারা জীবন নয় গো প্রিয়  মেঘের মতো মাঝেমাঝে ডেকো।। গোধূলির রং মেখে সন্ধ্যা  যত সময় থাকে রাতের আগে,  তার বেশি নয় তত সময়  তোমার কাছে থাকার ইচ্ছা জাগে।। আমি জানি বেশিতে বিষ  তাই তোমাকে চাই না বেশি করে,  ভালোবাসা বন্দী হলে  সে বাঁচেনা অকালে যায় মরে। তুমি স্বাধীন ফুলের মত  যত খুশি তত জোছনা মেখো।।

দাসী হবো

 দাসী হবো  খাদিজা বেগম  তারার মতো দুটি চোখ তার  হীরার মতো জ্বলজ্বল করে দাঁত,  পরনে তার সাদা শাড়ি  দেখতে যেন সে পূর্ণিমা চাঁদ।। চুলগুলো তার মেঘের মত  ফাগুন হাওয়ায় ভেসে ভেসে যায়, সোনা রঙে মোড়ানো গা দিবানিশি এই মন তারে চায়। তার ভাবনায় উদাস হয়ে  জেগে জেগে কাটে আমার রাত।। ঠোটের হাসি ফুলের মত  ছড়িয়ে দেয় সমীরণে ঘ্রান,  মিষ্টি হাসির চঞ্চলতায়  আমার বুকে জেগে ওঠে প্রাণ।। তার কথাতে কবিতা হয়  যত শুনি তত লাগে সুখ,  দূর নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল  তার মায়াবী জাদু কারি মুখ। তার প্রেমেরি দাসী হবো  মনে মনে আমার এমন স্বদ।।

ভালবাসতে চাও

 ভালবাসতে চাও খাদিজা বেগম  ভালবাসতে চাও আমাকে  তবে কয়েক সাগর কাঁদতে হবে,  কান্না ছাড়া প্রেম হবে না  ভালোবাসা হবে না এই ভবে।। যুগে যুগে ভালোবেসে  কত প্রেমিক চোখের জলে ভাসে,  শত হাজার যন্ত্রণাতে  ডুবে থেকে প্রেমিক হৃদয় হাসে।  দুঃখকে সুখ ভাবতে পারলে  তুমি ভালোবাসতে পারো তবে।। ভালোবাসা খুব ভয়ংকর  ঝড়ের মতো তছনছ করে জীবন, প্রেম দাবানল হয়ে পোড়ায়  প্রতিটা দিন ডেকে আনে মরন।। প্রথম প্রথম প্রেম মধুময়  পরে হয়ে যায় বেদনার নদী, কাছে এসে ভালোবেসো জ্বলে পুড়ে ছাই হতে চাও যদি। এক মুঠো প্রেম পাবার জন্য  এক পৃথিবী কষ্ট সয়ে রবে।।

না জানাতে পেরে

 না জানাতে পেরে  খাদিজা বেগম  আমি তোমায় ভালোবাসি  এ কথাটি না জানাতে পেরে,  প্রতিটা দিন প্রতিটা রাত  নিজের কাছে নিজেই যাচ্ছি হেরে।। একটুখানি সাহস দিলে  বলতে পারি ভালোবাসি তোমায়,  সারা জীবন বাসব ভালো  পাশে থাকবো গোধূলি রং সন্ধ্যায়। আমার মনের আকুলতা  তোমায় ঘিরে রোজ উঠেছে বেড়ে।। একটুখানি সময় দিলে  বলতাম আমার মনের আবেগ খুলে,  আমার মনের ফুলদানিতে  ঘ্রাণ ছাড়ায় রোজ তোমার ফুলে ফুলে।। একটুখানি পাশে এলে  সারা জীবন থাকতাম তোমার পাশে,  যেমন করে রাতের পাশে  পূর্ণিমা চাঁদ আলো নিয়ে হাসে।  কথা দিলাম কোনো দিনও  আমি তোমায় যাবো না তো ছেড়ে।।

আত্মার খুব গভীরে

 আত্মার খুব গভীরে  খাদিজা বেগম  কান্না গুলো ভুলে গেছি  আজ শুকিয়ে গেছে চোখের পাতা, আমার আত্মার খুব গভীরে  অপমানের পেরাক গুলো গাঁথা।। অশ্রাব্য সেই অশ্লীল কথার বিষ মাখা তীর ঢুকে আছে বুকে,  সেই সব ক্ষত হয়নি গত  ঢাকা আছে হাসিমাখা মুখে।  খুব নীরবে অশ্রু ঝরে  সহেনা আর এই যন্ত্রণা ব্যথা।। অবহেলায় অবহেলায়  জীবন এসে গেছে সন্ধ্যা বেলায়,  জীবন প্রদীপ নিভে নিভে  সূর্যের মতো শেষ বিকালে তলায়।। যা দিয়েছো এই আমাকে  তার বহুগুণ তুমি ফেরত পাবে, অভিশাপ নয় প্রতিশোধ নয়  তোমার পাওনা না নিয়ে কই যাবে। যা বুনেছো নিজের হাতে  তোমার পাতে তাইতো আসার কথা।।

চোখের কান্না

 চোখের কান্না  খাদিজা বেগম  চোখের কান্না শুকিয়ে যায়  বুকের কান্না লুকিয়ে রয় বুকে, আজো আমায় দাঁড়াতে হয়  বারে বারে তোমার স্মৃতির মুখে।। তুমি চলে গেছো দূরে  রেখে গেছো হাজার কষ্টের পাহাড়,  সেই পাহাড়ে একা পেয়ে  আমায় খেয়ে কষ্ট মিটায় আহার। প্রেম পিপাসা বুকে নিয়ে আমি মরে গেলাম ধুঁকে ধুঁকে।। সূর্যের আলোয় জোছনা ছড়ায়  পূর্ণিমা চাঁদ সারাটা রাত ধরে, আশা ছিল তোমার আলোয়  আমার জীবন দেবো যে পার করে।। এখন আমি অন্ধকারে  জিন্দা থাকতে আমার হলো কবর, আমি বেঁচে আছি নাকি  মরে গেছি তুমি নাও নি খবর।  আমি ডুবে গেলাম দুঃখে  তুমি বন্ধু থেকো অনেক সুখে।।

আগ্নেয়গিরির লাভা

 আগ্নেয়গিরির লাভা  খাদিজা বেগম ভালোবাসা মানে হলো  ফেটে পরা আগ্নেয়গিরির লাভা,  লোহার মত মন হলেও  তারি কাছে তুমি গলে যাবা।। ভালোবাসা ঝড়ের মত  হৃদয় তছনছ করে দিয়ে যাবে,  যাবে তো সে চলেই যাবে  কভু তারে খুঁজে নাহি পাবে। আর পাবে না জেনেও তারে  দিবানিশি অকারনে ভাবা।। ভালোবাসা তোমার থেকে  তোমায় নিয়ে নির্বাসনে দেবে,  ভালোবাসার জটিলতার  কূল কিনারা কেউ পেল না ভেবে।। পুরুষত্বের মিথ্যা দুর্গ ভালোবাসার পায়ে আছড়ে পড়ে,  ঢেউয়ের মত আছড়ে পড়ে  ভালোবাসার কূলে আছড়ে পড়ে। সূর্যের মতো জ্বলে পুরুষ  মেখে নারীর ভালোবাসার আভা।।

খোকা

 খোকা  খাদিজা বেগম  শোনো খোকা নারীর সম্মান  সবার আগে মাথায় যেন থাকে, নারীকে যে সম্মান করে  মহামানব বলি আমি তাকে।। সে অচেনা কিংবা চেনা  হোক সে ছোট বড় কিংবা বৃদ্ধ, তার সম্মান রক্ষা করতে  প্রয়োজনে করতে হবে যুদ্ধ। যুগে যুগে পুরুষেরাই  নারীদেরকে যত্ন করে রাখে।। নারী হলো ফুলের মত  আপন মনে ঘ্রাণ ছড়িয়ে ঝরে,  আল্লাহ্ দেয়া এই উপহার  গ্রহণ করো শ্রদ্ধা ভক্তি ভরে।। জোর জুলুমের শিকার হয়ে চোখ ভাসায় না যেন কোন নারী,  এই পৃথিবীর আকাশ বাতাস  নারীর কান্নায় হয়না যেন ভারী। এক প্রেমিকা ছাড়া তুমি  সব নারীদের মাঝে দেখো মাকে।।