Posts

Showing posts from July, 2026

স্বপ্ন দেখি

 স্বপ্ন দেখি  খাদিজা বেগম তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখি  একদিন তোমায় বউ বানিয়ে নেব, ওই কপালের মাঝ বরাবর  নিজের হাতে টিপ লাগিয়ে দেব।। তোমার জন্য কিনে আনব  লাল রঙের ফুল সবুজ পাতার শাড়ি, দুই চরণে আলতা মেখে  বউ সাজিয়ে নিয়ে যাব বাড়ি। তোমার চুলের ওই বেনিতে  ফুলের মালা রোজ জড়িয়ে দেব।। ঢেউ খোলানো অঙ্গ তোমার  যেন কানায় কানায় ভরা নদী, ওই নদীতে বাইবো তরী তোমার অনুমতি থাকে যদি।। তোমার কানে দোল খেলাবে জোছনা ঝরা পূর্ণিমা চাঁদ এসে,  তোমার নাকের নাকেরি ফুল  ফুলের মত ঘ্রাণ ছড়াবে হেসে। পৃথিবীর সব আনন্দ সুখ  আমি তোমার পায়ে ঢেলে দেব।।

কথার তৃষ্ণা

 কথার তৃষ্ণা  খাদিজা বেগম কথার তৃষ্ণায় ক্লান্ত হৃদয়  তবু তুমি বলতে দাওনি কথা,  না বলা সেই যন্ত্রণাতে  ভিজে ভিজে যায় নয়নের পাতা।। একটু কথা বলতে দিলে  তোমার কিবা এমন ক্ষতি হত, আমার বুকে হত না তো  এমন রক্ত ঝরা তীব্র ক্ষত। কিছু কথা শোনার ছিল  রয়ে গেল না শোনার সেই ব্যথা।। আমার এমন একদিন আসবে আর হবে না তোমার কথা শোনা, তোমায় কিছু বলার জন্য  আর হবে না আমার সময় গোনা। কিছু কিছু কথা থাকে  কখনো তা কাউকে হয় না বলা,  কিছু কিছু পথ ও থাকে  কখনো সেই পথে হয় না চলা।  না বলা সেই ব্যথা গুলোর  সাক্ষী হয়ে থাকবে জীবন খাতা।।

অচেনা প্রেম

 অচেনা প্রেম  খাদিজা বেগম অচেনা প্রেম অদৃশ্য প্রেম  বারে বারে কাছে এসে, তোমায় আমায় এক করেছে ভালোবেসে ভালোবেসে।। তুমি আমি মিশে গেছি  যেমন মিশে যায় ফুলের ঘ্রাণ বাতাসে,  তুমি আমি জেগে আছি  তোমার আমার দুই হৃদয়ের আকাশে।  মেঘের ভেলার মতো আমরা  মন আকাশে থাকবো ভেসে।। ভাসতে ভাসতে আমরা দুজন  ডুবে যাব অজানা প্রেম সাগরে,  আমরা দুজন দুজনারে  ভালোবেসে আগলে রাখবো আদরে।। আমাদের প্রেম ভালবাসা  চির অমর চির অম্লান রাখবো,  সকল বাঁধা বিঘ্ন ভেঙে  সুখে দুঃখে পাশাপাশি থাকবো। প্রেম আবেশে জাগবো দুজন  ফোঁটা ফুলের মতন হেসে।।

কথা ছিল

 কথা ছিলো  খাদিজা বেগম  কথা ছিল শুকতারা কে সাক্ষী রেখে  রাতে করবো সুখের ভাগাভাগি,  এখন আমি নিদ্রাহীনা  এক বুক দুঃখ নিয়ে একলা জাগি।। কথা ছিল  ভোরের সূর্য ওঠার আগে  আমার জন্য চুম্বন উঠবে ঠোঁটে, কোথায় আমার চুম্বনগুলো  ভোরের সূর্য প্রতিদিনি ওঠে। কথা ছিল সঙ্গে থাকবে  হোক না যতই ঝগড়া রাগারাগী।। কথা ছিল দুজন মিলে  পা ভিজিয়ে হাঁটবো নদীর কূলে,  প্রেম তরীতে ভাসবো দুজন  ভালবাসার ঢেউয়ে ঢেউয়ে দুলে।। সেই কথা আজ কোথায় গেল  রাত গভীরে চোখ ভিজিয়ে খুঁজি,  আমি ছাড়া কেউ নাই আমার  অবশেষে এই কথাটাই বুঝি। চেয়েছি প্রেম দিয়েছো দাগ  হাজার দাগে আজ হয়েছি দাগী।।

শুনেছো কি

  শুনেছো কি  খাদিজা বেগম শুনেছো কি এই শুনেছো আমি তোমার তুমুল প্রেমে পড়েছি, তোমার নামের তাজমহলে  ভালোবাসার রঙিন ভুবন গড়েছি।। জেনেছো কি এই জেনেছো  তোমার নামে এই মনে ফুল ফুটেছে,  সাহারার বুক ডুবে গেছে  বুকে তোমার নামে জোয়ার উঠেছে। অজুহাতে আর আমার হাতে  সব হাত মিলে তোমারি হাত ধরেছি।। বুঝেছো কি এই বুঝেছো  তুমি প্রিয় আমার আত্মার আত্মীয়, তোমার জন্য যাযাবর মন  তোমার মনে আমার মনের ঠাই দিও।। তোমার নয়ন যেন সাগর  ওই সাগরে মন পড়ে যায় ঝাঁপিয়ে,  তোমার ছোঁয়ার শীতল ছোঁয়ায়  জ্বর উঠে যায় এই দেহ মন কাঁপিয়ে। তোমার প্রেম কে মধু ভেবে  বিষ পান করে কখন যেন মরেছি।।

কলসি কাঁখে

 কলসি কাঁখে  খাদিজা বেগম  তুমি এসো কলসি কাঁখে  প্রেম যমুনার সান বাঁধানো ঘাঁটে,  একটি দিন না দেখলে তোমায়  প্রেম পিপাসায় আমার হৃদয় ফাটে।। আমি আসবো তরী বেয়ে  ভালবাসার রঙিন বাদাম তুলে,  অন্যদিকে ব্যস্ত হয়ে  আমায় তুমি যেও নাকো ভুলে। হৃদয় থেকে চলে এলাম  আমি তোমার ভালবাসার বাটে।। পা ভিজাতে এসে তুমি  সারা অঙ্গে যমুনার জল মেখো, প্রেম যমুনার তুফান ভারী  খুব সাবধানে সব সামলিয়ে রেখো।।  তুফান দেখে ভয় পেয়ো না  আমি নাবিক আছি তোমার সঙ্গে।  সাদাকালো জীবনটাকে  ভরে দেব ভালোবাসার রঙ্গে।। আমি তোমায় নিয়ে যাব  সুখে ভরা এক স্বর্গীয় হাটে।।

আজো শ্রাবণ আসে

 আজো শ্রাবণ আসে  খাদিজা বেগম  তোমার কথা ভেবে ভেবে  আজো শ্রাবণ আসে আঁখি পাতে, তোমার আসার আশায় আমার  প্রতিটা দিন হারিয়ে যায় রাতে।। বলেছিলে যদি কভু  পূবের সূর্য পশ্চিমে যায় উঠে,  নীল সাগরের উর্মি মালা  রাস্তার মাঝে ঘোড়ার মত ছোটে। তবুও এই আমি রবো  তোমার হয়ে তোমার সাথে সাথে।। আগের মত সূর্য ওঠে  পূব আকাশে উর্মি ছুটে জলে, শুধু তুমি নেই সেই আগের মত  তবু তোমায় ভেবে হৃদয় জ্বলে।। বলেছিলে প্রতি রাতে  গান শোনাবে মাথা রেখে বুকে,  তোমার কথা বিশ্বাস করে  তোমার প্রতি মন পড়েছে ঝুকে। দূর অজানায় চলে গেছো   হাজার দুঃখ দেবার অজুহাতে।।

মহান আল্লাহ

 মহান আল্লাহ  খাদিজা বেগম দুর্বল ভেবে মারছো যাকে  তার ক্ষমতার উৎস মহান আল্লাহ্,  এমন কিসের শক্তি তোমার  সেই আল্লারি সাথে দেবে পাল্লা।। যারে তুমি বোকা ভেবে  প্রতিটা দিন দিয়ে যাচ্ছো ধোঁকা, তার ভিজ্ঞতা বিধাতার দান  শয়তানি জ্ঞান ভালো নয় রে বোকা। জীবন নদীর তুফান দেখে  ভয় করে না ন্যায়ের মাঝিমাল্লা।।  সত্য তরী বাইতে হবে  যাইতে হবে সত্যসন্ধান করে,  সত্য রেখে মিথ্যাটাকে  বেইমান ছাড়া আর কে আকড়ে ধরে।। যায় চলে যাক দেহের নিঃশ্বাস  মহান আল্লাহ্ আমার রক্ষাকারী, আল্লাহ ছাড়া বন্ধু নাই আর তিনি শুনেন মনের আহাজারি। তোমার শান্ত উপস্থিতি  কভু যেন ভুলে যাই না মাওলা।।

ঘুণে খাওয়া কাঠ

 ঘুণে খাওয়া কাঠ খাদিজা বেগম  ঘুণে খাওয়া কাঠের মত যন্তনাতে খেয়ে নিল সুখ,  উপর উপর যতই হাসি  ভিতর ভরা কানায় কানায় দুখ।। দুঃখ আমার শিরায় শিরায়  যেন আমার সুখ চাওয়াটাই ভুল,  কষ্টের ঢেউয়ে ভেঙে পড়ে  আমার জীবন নদীর দুটি কূল। পাঁজরের হাড় নেই তো আমার  পাজর ছাড়া আমার শূন্য বুক।। কষ্ট নামের ঘুণ পোকাতে  কুঁড়ে কুঁড়ে খেলো বুকের হাড়, কানায় কানায় বুকের মাঝে  এখন শুধু আছে হাহাকার।। আশার প্রদীপ নিভে গেছে  এই জীবনে আর হবে না ভোর,  সারা জীবন কড়া নেড়েও  আজো খোলা যায়নি ভাগ্যের দোর। আয়নাটারে ফেলে দিছি  আর দেখবো না হত ভাগা মুখ।।

রুপের মাদকতায়

 রূপের মাদকতায়  খাদিজা বেগম তোমার রুপের মাদকতায়  কেন আমায় এতো মাতাল করলে,  তোমার মায়ার মায়া জালে  কেন আমরার পথ আটকিয়ে ধরলে।। পৃথিবীর সব ভুলে গেছি  ভুলে গেছি নিজের বসত বাড়ি,  তোমার মনে ঠাঁই চেয়ে মন  বারে বারে করে আহাজারি।  নয়নের ঘুম হৃদয়ের সুখ  পালিয়ে যায় একবার প্রেমে পড়লে।। তাই তো এখন ঘুম আসে না  ভোর হয়ে যায় রাত্রি জেগে জেগে, প্রেমের আগুন দ্বিগুণ জ্বলে  তোমার স্মৃতির ছোঁয়া লেগে লেগে।। তোমার হাতে ধরো যখন  আমার হাতের আঙ্গুল গুলো চেপে, তখন আমার সাহসী মন  সব হারানো ভয়ে ওঠে কেঁপে। কখন আমায় বাসবে ভালো  আরো কত নয়নের জল ঝরলে।।

ঘুমের ঔষধ

 ঘুমের ঔষধ  খাদিজা বেগম  তুমি আমার ঘুমের ঔষধ  তোমায় ছাড়া ঘুম আসেনা রাতে, দূরে চলে গেলে তুমি  ঘুম চলে যায় তোমার সাথে সাথে।। কাছে কাছে থেকো প্রিয়  যত কাছে থাকে আমার নিঃশ্বাস,  এক মুহূর্ত থাকলে দূরে  পাই না খুঁজে বেঁচে থাকার আশ্বাস। মরনেও ভয় করি না  থাকলে তোমার হাত আমার এই হাতে।। তোমায় ছাড়া বেঁচে থাকা  ভাবতে গেলেও কষ্ট কষ্ট লাগে, কোথায় ছিলে এতটা দিন  কেন আমায় দেখা দাও নি আগে।। তুমি আমার পূর্ণিমা চাঁদ  গভীর রাতে জোছনা হয়ে থেকো, সেই জোছনায় নাও ভাসাবো  চোখ না বুজে চেয়ে চেয়ে দেখো। ধরে বেঁধে রেখো আমায়  যদি নেশা জাগে আঁখি পাতে।।

ভালোবাসার বায়না

 ভালোবাসার বায়না  খাদিজা বেগম  আকাশ জুড়ে মেঘ করেছে  হৃদয় জুড়ে ভালোবাসার বায়না,  চোখের জলে এই মিনতি  শুধু একবার বুকের কাছে আয় না ।। বুকের মাঝে জ্বলছে আগুন  সেথায় চাইছে ভালোবাসার ছোঁয়া,@ তোরে চাওয়া ছাড়া আমার  প্রার্থনায় নাই অন্য কোন দোয়া। তোর টানে এই মন টানে খুব  তোরে ছাড়া আর কিছু মন চায় না।। মেঘের ডাকে ময়ূর নাচে  ফুলের ঘ্রাণে নেচে বেড়ায় অলি, মনে মনে মন ভ্রমরা  খুঁজে বেড়ায় তোর প্রেমেরি কলি।। তোর আচলের মিষ্টি সুবাস  এই বাতাসে ভেসে ভেসে আসে,  সেই সুবাসে মন দেওয়ানা  বারে বারে অশ্রুতে চোখ ভাসে।  এত বেশি ভালবাসি  তাইতো বুঝি তোরে ভোলা যায় না।।

না ছোঁয়া আঘাত

 না ছোঁয়া আঘাত  খাদিজা বেগম তোমার ছোঁয়া পেতে এসে  পেয়ে গেছি না ছোঁয়ায় এক আঘাত,  কেন পাইনি তোমার ছোঁয়া  এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজি দিন রাত।। তোমার হাতের আঙুলগুলো  চায়নি কেন আমার আঙুল ধরতে, তুমি কেন সরে গেলে  একটু একটু করে সরতে সরতে। তোমার ছোয়ায় প্রাণ খুঁজে পাই  তুমি ছাড়া জীবন যেন বরবাদ।। আমায় তুমি রেখে দিও  তোমার সকল অনিচ্ছা আর ইচ্ছায়,  আমি তোমার দখল চাইনা  চাই আমাকে ভালোবাসো স্বেচ্ছায়।। তোমার প্রেমে জনম জনম  ভালোবেসে রেখ আমায় আটক, তুমি আমার আমি তোমার দুজন হব দুজনারি পাঠক। হাত বুলিয়ে বুলিয়ে রোজ যেমন পড়ে যাই কোরআনের আয়াত।।

শেষ বিকালে

 শেষ বিকালে  খাদিজা বেগম  শেষ বিকালে তোমায় নিয়ে  পাশাপাশি হাঁটব বালু চরে,  পায়ের সাথে পা মিলিয়ে  হাঁটব দুজন দুজনার হাত ধরে।। রাতের আকাশ পাড়ি দেবো  ভালবাসার ডানায় উড়ে উড়ে,  তোমায় নিয়ে চলে যাব  দুঃখ ছেড়ে অনেক দূরে দূরে। তুমি আমি বন্দী রবো  ভালোবেসে ভালোবাসার ঘরে।। গোধূলির রং মাখা সন্ধ্যায় চেয়ে চেয়ে দেখব তোমার হাসি,  এমন একটা স্বপ্ন নিয়ে  বারেবারে তোমার কাছে আসি।। নাকের সাথে নাক মিলিয়ে  তোমায় নিয়ে গল্প করবো আমি,  ঠোটের সাথে ঠোট মিলিয়ে  বাসবো ভালো জানে অন্তর্যামী।  চোখের সাথে চোখ মিলিয়ে  থাকবো দুজন যাব নাকো সরে।।

হলুদ হয়ে যায়

 হলুদ হয়ে যায়  খাদিজা বেগম  জিন্দা গাছের ডালে থেকেও  মাঝে মাঝে পাতা হলুদ হয়ে যায়,  মৃদু বাতাস লাগলে এসে  সেই বাতাসের সাথে পাতা বয়ে যায়।। কেন পাতা ঝরে গেল গাছের দোষে নাকি পাতার দোষে,  নাই অভিযোগ নাই অভিমান  জীবন ঝরে পড়ে কোন সে রোষে। মাঝে মাঝে গাছ মরে যায়  তবু গাছের সাথে পাতা রয়ে যায়।। জীবনের শেষ সময় টুকু  কাটে যেন তোমার সাথে থেকে,  পাতার মতো প্রাণ হারাবো  যদি চলে যাও আমাকে রেখে।। বিনা দ্বিধায় বিনা লজ্জায়  নিঃসংকোচে এসেছি তোমার কাছে,  তোমার আশায় সব হারালাম  মন তোমাকে অনেক ভালোবাসে।  মন জড়িয়ে থাকলে তুমি হাসিমুখে মন সব কষ্ট সয়ে যায়।।

ভোগের উল্লাসে

 ভোগের উল্লাসে  খাদিজা বেগম  উল্লাসিত মন প্রাণীর মতন ব্যস্ত নিত্য নতুন ভোগের উল্লাসে, আজো একবার হয়নি সময়  মানুষ হয়ে মনুষ্যত্ব তল্লাশে।। এটা চাচ্ছি ওটা চাচ্ছি  পাওয়ার পরে তার প্রতি নাই গুরুত্ব,  আবার চাচ্ছি নতুন কিছু  চাওয়া-পাওয়ার ভিড়ে হারাই ব্যক্তিত্ব।  লুকোচুরি বন্ধ কর লুকানো পাপ আসবে একদিন প্রকাশ্যে।। নিঃশ্বাসের নাই কোন বিশ্বাস  তবু কেন উল্টো পথে চলেছো,  করছ হিংসা নিন্দা গীবত  মুখে কেন মিথ্যা অশ্লীল বলেছো।। অতিরিক্ত চাওয়া পাওয়ায়  জীবন হয়ে যায় ভয়ংকর বিষাদময়,  অল্পতে মন তুষ্ট রাখো  নিজের মাঝে পুষে রেখো সুহৃদয়। স্রষ্টার আদেশ-নিষেধ গুলো  জেনে মানব মানুষ হওয়ার প্রয়াসে।।

আকর্ষণে

 আকর্ষণে  খাদিজা বেগম  দূরে দূরে যায় না থাকা  কাছে আসি তোমার আকর্ষণে, জ্বলন্ত মন জুড়াতে চাই  তোমার হাতের আলতো আলিঙ্গনে। মন পতঙ্গ ছাই হতে চায় তোমার প্রেমের আগুনে ঝাঁপ দিয়ে,  তোমার প্রেমে অন্ধ আমি এই হাত ধরে চলো আমায় নিয়ে। তোমার হাসির স্নিগ্ধ আলো  সূর্য হয়ে জাগে আমার মনে।। আমি তোমার সাথে থাকলে  আমার জীবন পরিপূর্ণ লাগে,  তাই তো জনম জনম ধরে  তোমার সাথে থাকার ইচ্ছা জাগে।। তুমি আমার হৃদয়ের সুখ  তুমি আমার দুই নয়নের আলো,  তোমায় ছাড়া এই পৃথিবী দুঃখ ভরা যন্ত্রণাময় কালো। এই জীবনের শেষ পর্যন্ত  আমি থাকবো শুধু তোমার সনে।।

যন্ত করে পুড়ছো

 যত্ন করে পুড়ছো  খাদিজা বেগম খুব নীরবে নীরবে রোজ  তুমি যত্ন করে পুড়ছো আমায়,  হৃদয় জ্বলছে মোমের মতো  তোমার দেয়া তীব্র অবহেলায়।। আমি যত কাছে আসি  তুমি তত আমায় ঠেলো দূরে,  এমন আগুন জ্বাললে তুমি  ধোঁয়া নেই তার খুব নীরবে পুড়ে। রং হারালাম ভালোবেসে  গোধূলি রং ছড়ানো এই সন্ধ্যায়।। হৃদয় ছিল সাদামাটা  এলোমেলো হলো তোমার প্রেমে,  দুরন্ত এই জীবন আমার  তোমার মায়ায় পড়ে গেল থেমে।। যত পারো পোড়াও আরো হয়তো পোড়ার সময় নেই আর হাতে,  যত পারো কাদাও আরো  হয়তো অশ্রু নেই আর আঁখি পাতে। হয়তো আমি চলে যাব  আজ কিংবা কাল আসবো না এই ধরায় ।।

সাঁতার কাটে

 সাঁতার কাটে  খাদিজা বেগম  মনের মাঝে সাঁতার কাটে  দুঃখগুলো জিয়াল মাছের মত,  দুঃখগুলো সুখ গিলে খায় তাইতো আমার দুঃখ অবিরত।। পুরনো সব দুঃখ গুলো   মরার আগেই নতুন দুঃখ আসে,  দুঃখ রাখার জায়গা নাই আর  তাইতো নয়ন দুঃখের জলে ভাসে। শ্বাস-নিঃশ্বাসে কষ্ট লাগে  আমি আরো দুঃখ বইবো কত।। দুঃখগুলো অনেক ভারী দুঃখের ভারে নুয়ে পরে দেহ, দুঃখী ছাড়া দুঃখের জ্বালা  এই দুনিয়ায় বুঝবেনা আর কেহ।। দুঃখ আমার চির সাথী  সুখ আসে যায় স্বপ্নের মত করে, এত দুঃখ আছে বলেই  মন কাঁদে রোজ একটু সুখের তরে। দুঃখগুলো বৃক্ষের মত দূর করে দয় সুখ না থাকা ক্ষত।।

জোয়ার ভাটা

 জোয়ার ভাটা খাদিজা বেগম  জোয়ার ভাটার মত করে  আসা যাওয়ার মাঝেই তুমি থেকো,  মেঘ যতক্ষণ চাঁদ ঢেকে দেয়  ততটা ক্ষণ তোমার বুকে রেখো।। ফুল যতক্ষণ ফুটে থাকে  ঘ্রাণ ছড়িয়ে গাছের ডালে ডালে,  ততটা ক্ষণ থেকো আপন  সঙ্গে নাইবা রইলে চিরকালে।  সারা জীবন নয় গো প্রিয়  মেঘের মতো মাঝেমাঝে ডেকো।। গোধূলির রং মেখে সন্ধ্যা  যত সময় থাকে রাতের আগে,  তার বেশি নয় তত সময়  তোমার কাছে থাকার ইচ্ছা জাগে।। আমি জানি বেশিতে বিষ  তাই তোমাকে চাই না বেশি করে,  ভালোবাসা বন্দী হলে  সে বাঁচেনা অকালে যায় মরে। তুমি স্বাধীন ফুলের মত  যত খুশি তত জোছনা মেখো।।

দাসী হবো

 দাসী হবো  খাদিজা বেগম  তারার মতো দুটি চোখ তার  হীরার মতো জ্বলজ্বল করে দাঁত,  পরনে তার সাদা শাড়ি  দেখতে যেন সে পূর্ণিমা চাঁদ।। চুলগুলো তার মেঘের মত  ফাগুন হাওয়ায় ভেসে ভেসে যায়, সোনা রঙে মোড়ানো গা দিবানিশি এই মন তারে চায়। তার ভাবনায় উদাস হয়ে  জেগে জেগে কাটে আমার রাত।। ঠোটের হাসি ফুলের মত  ছড়িয়ে দেয় সমীরণে ঘ্রান,  মিষ্টি হাসির চঞ্চলতায়  আমার বুকে জেগে ওঠে প্রাণ।। তার কথাতে কবিতা হয়  যত শুনি তত লাগে সুখ,  দূর নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল  তার মায়াবী জাদু কারি মুখ। তার প্রেমেরি দাসী হবো  মনে মনে আমার এমন স্বদ।।

ভালবাসতে চাও

 ভালবাসতে চাও খাদিজা বেগম  ভালবাসতে চাও আমাকে  তবে কয়েক সাগর কাঁদতে হবে,  কান্না ছাড়া প্রেম হবে না  ভালোবাসা হবে না এই ভবে।। যুগে যুগে ভালোবেসে  কত প্রেমিক চোখের জলে ভাসে,  শত হাজার যন্ত্রণাতে  ডুবে থেকে প্রেমিক হৃদয় হাসে।  দুঃখকে সুখ ভাবতে পারলে  তুমি ভালোবাসতে পারো তবে।। ভালোবাসা খুব ভয়ংকর  ঝড়ের মতো তছনছ করে জীবন, প্রেম দাবানল হয়ে পোড়ায়  প্রতিটা দিন ডেকে আনে মরন।। প্রথম প্রথম প্রেম মধুময়  পরে হয়ে যায় বেদনার নদী, কাছে এসে ভালোবেসো জ্বলে পুড়ে ছাই হতে চাও যদি। এক মুঠো প্রেম পাবার জন্য  এক পৃথিবী কষ্ট সয়ে রবে।।

না জানাতে পেরে

 না জানাতে পেরে  খাদিজা বেগম  আমি তোমায় ভালোবাসি  এ কথাটি না জানাতে পেরে,  প্রতিটা দিন প্রতিটা রাত  নিজের কাছে নিজেই যাচ্ছি হেরে।। একটুখানি সাহস দিলে  বলতে পারি ভালোবাসি তোমায়,  সারা জীবন বাসব ভালো  পাশে থাকবো গোধূলি রং সন্ধ্যায়। আমার মনের আকুলতা  তোমায় ঘিরে রোজ উঠেছে বেড়ে।। একটুখানি সময় দিলে  বলতাম আমার মনের আবেগ খুলে,  আমার মনের ফুলদানিতে  ঘ্রাণ ছাড়ায় রোজ তোমার ফুলে ফুলে।। একটুখানি পাশে এলে  সারা জীবন থাকতাম তোমার পাশে,  যেমন করে রাতের পাশে  পূর্ণিমা চাঁদ আলো নিয়ে হাসে।  কথা দিলাম কোনো দিনও  আমি তোমায় যাবো না তো ছেড়ে।।

আত্মার খুব গভীরে

 আত্মার খুব গভীরে  খাদিজা বেগম  কান্না গুলো ভুলে গেছি  আজ শুকিয়ে গেছে চোখের পাতা, আমার আত্মার খুব গভীরে  অপমানের পেরাক গুলো গাঁথা।। অশ্রাব্য সেই অশ্লীল কথার বিষ মাখা তীর ঢুকে আছে বুকে,  সেই সব ক্ষত হয়নি গত  ঢাকা আছে হাসিমাখা মুখে।  খুব নীরবে অশ্রু ঝরে  সহেনা আর এই যন্ত্রণা ব্যথা।। অবহেলায় অবহেলায়  জীবন এসে গেছে সন্ধ্যা বেলায়,  জীবন প্রদীপ নিভে নিভে  সূর্যের মতো শেষ বিকালে তলায়।। যা দিয়েছো এই আমাকে  তার বহুগুণ তুমি ফেরত পাবে, অভিশাপ নয় প্রতিশোধ নয়  তোমার পাওনা না নিয়ে কই যাবে। যা বুনেছো নিজের হাতে  তোমার পাতে তাইতো আসার কথা।।

চোখের কান্না

 চোখের কান্না  খাদিজা বেগম  চোখের কান্না শুকিয়ে যায়  বুকের কান্না লুকিয়ে রয় বুকে, আজো আমায় দাঁড়াতে হয়  বারে বারে তোমার স্মৃতির মুখে।। তুমি চলে গেছো দূরে  রেখে গেছো হাজার কষ্টের পাহাড়,  সেই পাহাড়ে একা পেয়ে  আমায় খেয়ে কষ্ট মিটায় আহার। প্রেম পিপাসা বুকে নিয়ে আমি মরে গেলাম ধুঁকে ধুঁকে।। সূর্যের আলোয় জোছনা ছড়ায়  পূর্ণিমা চাঁদ সারাটা রাত ধরে, আশা ছিল তোমার আলোয়  আমার জীবন দেবো যে পার করে।। এখন আমি অন্ধকারে  জিন্দা থাকতে আমার হলো কবর, আমি বেঁচে আছি নাকি  মরে গেছি তুমি নাও নি খবর।  আমি ডুবে গেলাম দুঃখে  তুমি বন্ধু থেকো অনেক সুখে।।

আগ্নেয়গিরির লাভা

 আগ্নেয়গিরির লাভা  খাদিজা বেগম ভালোবাসা মানে হলো  ফেটে পরা আগ্নেয়গিরির লাভা,  লোহার মত মন হলেও  তারি কাছে তুমি গলে যাবা।। ভালোবাসা ঝড়ের মত  হৃদয় তছনছ করে দিয়ে যাবে,  যাবে তো সে চলেই যাবে  কভু তারে খুঁজে নাহি পাবে। আর পাবে না জেনেও তারে  দিবানিশি অকারনে ভাবা।। ভালোবাসা তোমার থেকে  তোমায় নিয়ে নির্বাসনে দেবে,  ভালোবাসার জটিলতার  কূল কিনারা কেউ পেল না ভেবে।। পুরুষত্বের মিথ্যা দুর্গ ভালোবাসার পায়ে আছড়ে পড়ে,  ঢেউয়ের মত আছড়ে পড়ে  ভালোবাসার কূলে আছড়ে পড়ে। সূর্যের মতো জ্বলে পুরুষ  মেখে নারীর ভালোবাসার আভা।।

খোকা

 খোকা  খাদিজা বেগম  শোনো খোকা নারীর সম্মান  সবার আগে মাথায় যেন থাকে, নারীকে যে সম্মান করে  মহামানব বলি আমি তাকে।। সে অচেনা কিংবা চেনা  হোক সে ছোট বড় কিংবা বৃদ্ধ, তার সম্মান রক্ষা করতে  প্রয়োজনে করতে হবে যুদ্ধ। যুগে যুগে পুরুষেরাই  নারীদেরকে যত্ন করে রাখে।। নারী হলো ফুলের মত  আপন মনে ঘ্রাণ ছড়িয়ে ঝরে,  আল্লাহ্ দেয়া এই উপহার  গ্রহণ করো শ্রদ্ধা ভক্তি ভরে।। জোর জুলুমের শিকার হয়ে চোখ ভাসায় না যেন কোন নারী,  এই পৃথিবীর আকাশ বাতাস  নারীর কান্নায় হয়না যেন ভারী। এক প্রেমিকা ছাড়া তুমি  সব নারীদের মাঝে দেখো মাকে।।