Posts

Showing posts from September, 2025

দূর্নীতির পা চাটছে

 #দুর্নীতির_পা_চাটছে  খাদিজা বেগম   স্বার্থের মুখে অন্ধ হয়ে  ওরা ধ্বংসের পথে পথে হাঁটছে, একটুখানি লাভের আশায়  শুয়ে পড়ে দুর্নীতির পা চাটছে। নিজের মাথা বিক্রি করে  ওরা খোঁজে মাথা গোজার আশ্রয়,  ওদের চিন্তা চেতনাতে ধীরে ধীরে পাপ পেয়েছে প্রশ্রয়। কারো কারো মাথা আছে  তার ভিতরে কিচ্ছু পাওয়া যায় না,  স্বার্থ বোঝে অর্থ বোঝে  ওরা সত্য ন্যায় কে বুঝতে চায় না। পৃথিবীতে এত মানুষ  খুঁজলে আমি মানুষ পাই না খুঁজে,  সততাকে হারিয়ে কে  কি পেয়েছে তা আসে না বুঝে।  সেই তো তুমি মরে যাবে  মরবে না তো কর্মফলের মালা, তোমার সাথে কেউ রবে না  ভোগ করতে এই কর্মফলের জ্বালা। সময় থাকতে হুশে ফেরো  ফিরে এসো সত্য ন্যায়ের পথে,  ন্যায়ের সাথে মত মিলিয়ে  তুমি মিশে থাকো ন্যায় এর মতে। ন্যায় তোমাকে রক্ষা করবে  অন্যায় তোমায় করে দেবে ধ্বংস, তুমি শ্রেষ্ঠ তুমি সুন্দর  তুমি হয়ে থাকবে সত্য ন্যায় এর অংশ। #everyonefollowershighlights2025

রক্ত দিয়ে লেখা

রক্ত দিয়ে লেখা  খাদিজা বেগম  রক্ত দিয়ে লেখা আছে  স্বদেশ প্রেমের অগুনিত ইতিহাস, দেশমাতাকে ভালোবেসে  যুগে যুগে সন্তানেরা হলো লাশ।। দেশের জন্য হাসিমুখে  যারা যারা করেছে প্রাণ বলিদান, কোনদিনও শোধ হবেনা  সেই দেশপ্রেমিক বীর শহীদদের প্রতিদান। জীবন দিয়ে রক্ত দিয়ে  যারা গড়ে গেছে সুন্দর এই সমাজ।। হৃদ গভীরের গভীর থেকে  তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ভরা লাল সালাম, তাদের রক্তের বিনিময়ে  স্বাধীন হলাম লাল সবুজের দেশ পেলাম।। হাত হারালো পা হারালো দুর্জয় দুর্বার দুঃসাহসী সেনারা, প্রাণ হারালেও হার মানেনি সেই যোদ্ধাদের নাই সাহসের কিনারা। তাদের যেন ভুলে না যাই  যাদের জন্য করছিস সুখের বসবাস।।

আত্ম তৃপ্তি

 আত্ম তৃপ্তি  খাদিজা বেগম  ফুল সব সময় গাছে রয় না  ঝরে ঝরে পড়ে মাটির বুকে, মানুষগুলো ফুলের মতন  ঢলে পড়ে যায় মরণের মুখে।। ঝরে যাবার আগে যেমন  ফুল ছড়িয়ে দেয় তার বুকের সুবাস,  মানুষ তেমন ছড়িয়ে যায়  মারা যাবার আগে নিজের সুকাজ। ত্যাগের মাঝে যে সুখী হয় তাকে দেখে পালিয়ে যায় দুখে। তার সুবাসের বিনিময়ে ফুল প্রতিদান চায়না কারো কাছে,  তত সময় সুবাস ছড়ায়  ফুল যত ক্ষণ তার ঘ্রাণ নিয়ে বাঁচে। ফুলের মতন মানব জীবন  আপন মনে জ্ঞান ছড়িয়ে যাবে, জ্ঞানের আলোয় ভরবে ভুবন তাই দেখে সে আত্ম তৃপ্তি পাবে। অন্যের দুঃখ তাড়িয়ে সে  নিজের মত থাকবে মহা সুখে।।

তোমার চুড়ি করবো

 তোমায় চুড়ি করবো খাদিজা বেগম  তোমায় চুরি করবো বলে  আমি তোমার পিছু পিছু ঘুরি, আমি যদি চুরি করি  তুমি হবে কি গো হবে চুরি।। তোমাকে খুব ভালো লাগে  তাই তো তোমার কাছে ছুটে আসি, তোমায় ভালোবাসি বলেই  ইচ্ছে করেই হাটি পাশাপাশি। তুমি সুন্দর তুমি শুভ্র  আমার চোখে তোমার নেই তো জুড়ি।। বাতাসে কান পেতে থাকি  শুনব বলে তোমার মিষ্টি কথা, নয়ন ভরে দেখবো বলে  আমি খুলে রাখি চোখের পাতা।। প্রিয় আমার কও কথা কও  আমি শুধু অধীর হয়ে শুনবো, তোমার মনের বৃক্ষ ডালে ভালোবাসার একটা বাসা বুনবো। বুঝেও কেন বোঝনা গো  আমি তোমার ভালোবাসায় পুড়ি।।

আমি কোথায়

 আমি কোথায়  খাদিজা বেগম  যারে আমি পোশাক পরাই খাবার খাওয়াই অনেক যতন করে,  সে তো একটা মাটির খাঁচা  মাটি হবে আমার মরার পরে।। কত কিছু দেখলাম আমি  দেখলাম না আমাকে এক পলক, যা দেখেছি দুই নয়নে  সবি শুধু মিথ্যা মায়ার ঝলক। আমি কোথায় সে বা কোথায়  যে দিয়েছে এই আমাকে গড়ে।। কেমন করে চিনবো আমায়  আমায় আমি দেখিনি তো আজো, এই আমি তো সেই আমি না  যে আমি টা এত সাধু সাজো।। তুমি আমি আমরা কোথায়  আমি পাইনি আজো কাউকে খুঁজে, সঠিক পথে রেখো আমায়  যাই না যেন ভুল পথে না বুঝে। তোমাকে না পাবার ব্যথা  এই নয়নে অশ্রু হয়ে ঝরে।।

ভালোবাসার চাষ

 ভালবাসার চাষ  খাদিজা বেগম  আমায় আমি তোমার নামে  ভালোবেসে লিখে দিলাম আজ,  তুমি আমায় ভালোবেসে  খুব যতনে রেখো বার মাস।। আমি শুধু তোমার বুকে  থাকার জন্য ছাড়লাম বাবা-মা, বুকের ভিতর রেখো আমায়  কোনদিনও ভুলে যেও না। তোমায় পেয়ে প্রাণ পেয়েছি  তোমায় ছাড়া হয়ে যাবো লাশ।। তোমার উষ্ণ ভালবাসায়  স্বর্গ থেকে নেমে এলো সুখ, সেই সুখেতে ধুয়ে গেল  মুছে গেল এই জীবনের দুখ।। বাকি জীবন একি সাথে  সাথী হয়ে থেকো দিবা রাত, হাজারো ঝড় তুফান এলেও  তুমি ছেড়ে দিয়ো না এই হাত। আমরা দুজন সারা জীবন  করে যাব ভালবাসার চাষ।।

প্রাণ নিয়ে যাও

 প্রাণ নিয়ে যাও #খাদিজা_বেগম  ওরা তোমার কেমন সৃষ্টি  যারা বিশ্বাসঘাতক মিথ্যাবাদী,  নিজে অন্যায় করে আবার  অন্যজনকে সাজায় অপরাধী।। চোরের মায়ের বড় গলা  সাধু জনের দুই নয়নে বৃষ্টি, তুমি দয়ার সাগর হয়েও কেন তোমার এত কঠিন সৃষ্টি।  তোমার দেয়া প্রাণ নিয়ে যাও  এই ফরিয়াদ করছি ফরিয়াদী।। এত কান্না এত কষ্ট  কেমন করে চেয়ে চেয়ে দ্যাখো,  দুটি মতের দুটি মানুষ  কেমন করে একি জায়গায় রাখো।। নির্মম, নিষ্ঠুর এই পরিক্ষা  পারব না আর এই পরীক্ষা দিতে,  একটুখানি শান্তি পেতাম  তুমি যদি আমায় তুলে নিতে। তুমি আমায় মুক্ত কর  মাপ করে দাও শোনো হে আজাদী।।

নীতা আম্বানি

 নীতা আম্বানি  খাদিজা বেগম  তুমি নীতা আম্বানি নও নীতাও নয় তোমার মত, ৫০ কোটি টাকার নেকলেস গলায় পড়ে থাকুক যত।। অন্যেরে দেয়া এই নেকলেসের  চেয়ে ভালো শূন্য গলা,  অন্যের ধনে গোলা ভরার চেয়ে ভালো শূন্য তলা। শূন্যতায়ী পূর্ণতা পায়  শূন্যতায়ী ঘুচায় ক্ষত।। নিজের পায়ে হেঁটে চলার  সুখ নাই কোন যানবাহনে, নিজের চোখে দেখার মত  সুখ নাই এই ভুবনে।। অন্যের পায়ে না চালে আর আপন পায়ে চলতে শেখো,  অন্যের চোখে না দেখে আর আপন চোখে দেখতে শেখো। আপন সম্পদ উত্তোলনে  ব্যস্ত থাকো অবিরত।।

সময় এসে গেছে

 সময় এসে গেছে  খাদিজা বেগম  এখন সময় এসে গেছে  সম্মান দিয়ে সম্মান নেবার,  উঁচু তলায় আছো বলে  বড় কিছু নেই তো ভাবার।। আমরা হলাম কৃষক, শ্রমিক  ঘাম ঝরিয়ে গড়ি এই দেশ, এত কষ্ট করি বলেই  তোমরা সবাই আছো তো বেশ।  পাওনা সম্মান না দিলে কেউ  তার জীবনটা হবে সাবাড়।। নিচু তলার মানুষ বলে  আর কত কাল চোখ রাঙাবে, তোমরা কবে মানুষ হয়ে  বিবেক বুদ্ধির ঘুম ভাঙ্গাবে।। আমরা কাজে লেগে পড়ি  সূর্য ওঠার আগে পুবে, আমরা যদি ঝাড়ু না দেই  তোমরা যাবে ময়লায় ডুবে। উঁচু নিচু সব ভেদাভেদ  ভুলে সম্মান করো এবার।। আমরা সকল কৃষক, শ্রমিক  সকল দায়িত্ব ছেড়ে দিলে,  তোমাদেরকে ক্ষুধা আর ভয় দিবানিশি খাবে গিলে। কৃষক শ্রমিক দেশের জন্য  প্রাণ বিলিয়ে দেয় বারে বার।।

শিখে গেছি

 শিখে গেছি  খাদিজা বেগম  শিখে গেছি শিখে গেছি  খুব যতনে ভালবাসতে আমারে, ভালোবাসা পাবার আশায়  আর যাব না আমি কারো দুয়ারে।। কারো প্রেমে পড়ে গিয়ে  আর হবো না আমি প্রেমো ভিখারি, ভালোবাসার উপবাসে  আর থাকবো না ভালবাসার ভুখারি। আমার মত থাকবো আমি  আর ভাসবো না কারো প্রেমের জোয়ারে।। একা থাকা শিখে গেছি  আর কাউকে নেই আমার কোন প্রয়োজন, আসলাম একা যাবো একা  এই তো আমার একা থাকার আয়োজন।।  আমি গ্রহণ করবো না আর  কারো থেকে ভালোবাসার নিমন্ত্রণ, এখন আমি করতে জানি  এই আমাকে আমার মত নিয়ন্ত্রণ। ঐ পারেতে বাসবো ভালো  আর হবে না ভালোবাসা এই পারে।।

মনের মত এক মন

 মনের মত এক মন  খাদিজা বেগম  আমার মনের মত এক মন খুঁজে খুঁজে চলে গেল জীবন, অবশেষে খুজে পেলাম  সে মন খুঁজে না পাবার সে কারণ।। ভিন্ন কায়ার ভিন্ন মানুষ  তাই মানুষের ভিন্ন ভিন্ন হয় মন, তাইতো কেহ ভালবাসে  কেহ কেহ করে আবার শোষণ।  মিল অমিলের এই খেলাতে  কাছে থেকেও দূরে থাকে স্বজন।। মাঝে মাঝে এই মনে হয়  মনের সাথে মন মিলেছে বুঝি, ক্ষণিক পরে অমিল আবার  তখন মনের মতন সে মন খুঁজি।। একি ভাবে রয়না তো মন  পরিবর্তন হয় আকাশের মতন,  কখনো মেঘ কখনো রোদ  কভু ঝরে জোছনা কভু স্রাবণ। বিচিত্র এই মানব জীবন  বোঝা যায় না কে পর আর কে আপন।।

তোমার নায়ের মাঝি

 তোমার নায়ের মাঝি  খাদিজা বেগম  তুমি আমায় বানাই বানানি বন্ধু তোমার নায়ের মাঝি, তোমার সাথে নাও ভাসাতে  মনে প্রাণে আমি রাজি।। তোমায় নিয়া কূল ছাড়িয়া যাবো অকুল নদীর মাঝে,  পাল উড়িয়ে ঘুরবো আমি  প্রেম যমুনার ভাঁজে ভাঁজে। মাঝ নদীতে নাও ডুবাবো  আমি নইতো এমন পাজি।। আমি ভাসলে নাও ও ভাসবে  ডুবে যেতে দেবনা নাও, ধীরে ধীরে ফেলব বৈঠা না বলো না আমাকে তাও।। নায়ে যতই উঠবে পানি  হেউতি দিয়ে সেচে রাখবো, নাও পড়িলে ঝড় তুফানে  আমি নায়ের সাথেই থাকবো।  প্রয়োজনে নাও বাঁচাতে  ধরবো আমার জীবন বাজি।।

মন সিন্দুকে

 মন সিন্দুকে  খাদিজা বেগম  আমি এখন শিখে গেছি  শুধু একা একা থাকা,  আমি আরো শিখে গেছি  মনের ক্ষত ঢেকে রাখা।। এখন আমার মনের ক্ষতে  পারবেনা কেউ লবণ দিতে,  মন বেহাইয়া হবে না আর  কাউকে আপন করে নিতে। কারো আশার আশায় থেকে  করবে না আর এই বুক খাঁখাঁ।। এখন থেকে আমি আমায়  যত্ন করে বাসবো ভালো,  অন্ধকারের প্রদীপ হয়ে  আমি নিজেই জ্বালবো আলো।। জীবনের পথ পাড়ি দেবো  বাদা বিঘ্ন যতই থাকুক, পিছে ফিরে তাকাবো না  যে যতই আমায় ডাকুক।  প্রকাশ করে যাব সবি  মন সিন্দুকে যা যা রাখা।।

কথার কাঁটা

 কথার কাঁটা  খাদিজা বেগম  ফুলের কাঁটা হাতে বেঁধে  পথের কাঁটা বেঁধে দু'পায়,  কথার কাঁটা হৃদয় বেঁধে  মাছের কাঁটা বেঁধে গলায়।। হাতের কাঁটা পায়ের কাঁটা  খুব সহজে ওঠানো যায়,  গলার কাঁটা তুলতে গেলে  কাঁটার বিষে বিষে কাঁদায়। সাপের বিষের চেয়েও বিষ  বেশি থাকে কথার কাঁটায়।।  সকল কাঁটা তোলা গেলেও  কথার কাঁটা তোলা যায় না, সাবধান থেকো তোমার কথায়  কেহ কষ্ট যেন পায় না।। কথার কষ্ট এমন কষ্ট  বুকেতে হয় রক্তক্ষরণ,  কথার কষ্টে মন মরে যায়  জিন্দা মরা থাকে জীবন। কারো হৃদয় না পুড়ে যে  চোখ রাঙানো অগ্নি কথায়।।

সিগারেটের ফাঁদে

 #সিগারেটের_ফাঁদে  খাদিজা বেগম  বন্ধু তুমি যেদিন থেকে  দুই আঙ্গুলে ঐ সিগারেট ধরো, সেদিন থেকেই তুমি বন্ধু  সিগারেটের ফাঁদে গিয়েই পড়ো।। তুমি ভাবছো শান্তি পাচ্ছো  সিগারেটের ধোঁয়ার টানে টানে, আসলে তা মিথ্যা কথা সত্যি কথা জ্ঞানীগুণী জানে। সিগারেটের ধোঁয়ার মতন  নিজের জীবন আঁধার কেন করো? ধূমপান একটি বদ অভ্যাস  এর কারণে অসুস্থ হয় জীবন,  সিগারেটের নিকোটিনে  ধীরে ধীরে ডেকে আনে মরণ।। ধূমপানে হয় জ্ঞান বুদ্ধির ক্ষয়  জেনেশুনেই সে অপরাধ করে,  পরোপকার করবে কি আর  নিজেই বিপদ আনে নিজের তরে। আজি ধূমপান ছেড়ে দিয়ে  আলোকিত নির্মল জীবন গড়ো।।

সারে তিন হাত মাটি

সারে তিন হাত মাটি  খাদিজা বেগম  সাড়ে তিন হাত মাটি ছাড়া  পাপি হৃদয় ভরবে নারে ভরবে না, পাপের মাঝে সুখ খুঁজিবে পাপ থেকে সে সরবে না রে সরবে না।। পবিত্রময় হালাল খাবার  পাপির মুখে কভু ভালো লাগবে না, সৎচরিত্র লোকের জন্য পাপীর মনে কোনো মায়া জাগবে না। মহাপাপি নিজের ত্রুটি  শুধরে নিয়ে নিজেকে সে গড়বে না।। পাপী লোকের কাজেকর্মে  সমাজে লোক পাপে শুধু যন্ত্রনা,  পাপিলোকে না শুধরিয়ে  নিজেকে দেয় মিথ্যা সুখের শান্তনা।। মানুষ যারা তারা সদায়  নিজে থেকে পাক পবিত্র থাকিবে, পাপী মানুষ নিজে মনে  নিজের হাতে অপবিত্র মাখিবে। তার মনেতে সৃষ্টিকর্তার  আদেশ নিষেধ কিছুই মনে পড়বে না।।

গ্ৰিল ধরে

 গ্ৰিল ধরে  খাদিজা বেগম  জানালাটার গ্ৰিল ধরে  দূর আকাশটা দেখি চেয়ে চেয়ে, দুঃখগুলো অশ্রু হয়ে  খুব নিরবে পড়ে বেয়ে বেয়ে।। কত কান্না কেঁদেছে চোখ  শেষ হলো না তবু চোখের পানি,  মাঝে মাঝে ঝাপসা দেখি  হয়তো চোখে পড়ে গেছে ছানি। ক্ষুধা টাকে অসুখ ভেবে  বেঁচে আছি ঔষধ খেয়ে খেয়ে।। ওই আকাশে কখনো মেঘ  কখনো বা বৃষ্টি ঝরে পড়ে, মাঝে মাঝে ঐ আকাশটা  সাদা মেঘে মেঘে থাকে ভরে।। কেন আমার বন্দি জীবন  বন্দী হয়ে দিবানিশি কাঁদে,  কে আমাকে বন্দি কারলো  দুঃখ নামের অদৃশ্য এক ফাঁদে। আমার জীবন একি রকম  সদা কাঁদে বেঁচে থাকার ভয়ে।।

দয়াল আল্লাহ

 দয়াল আল্লাহ  খাদিজা বেগম  দয়াল আল্লাহ দয়া করো  দয়া ভিক্ষা চাই তোমারি কাছে,  তুমি ছাড়া আমার কেউ নাই  আমি ছাড়া তোমার অনেক আছে।। হৃদয় ভরে প্রশান্তি দাও  সুস্থতায় দাও ভরে আমার কায়া,  দয়া করো ক্ষমা করো তুমি করো আমার প্রতি মায়া। তুমি আমার আবদার আহ্লাদ  আমার জীবন তোমার দয়ায় বাঁচে।। কি লিখেছ পড়ে দেখো আমার ভাগ্য লেখার দায়িত্ব নিয়ে,  সুখের কালি কোথায় রেখে  ভাগ্য লিখলে দুঃখের কালি দিয়ে।। এই কালিতে এত কষ্ট  এত জ্বালা যন্ত্রনা আর সয় না, কেঁদে কেঁদে লুটাই ধুলায়  তবু কেন একটু দয়া হয় না। পথের মাঝে পথ হারাবো  না থাকিলে তুমি আমার পাশে।।

পুড়ে গেল মন

 পুড়ে গেল মন  খাদিজা বেগম  আজো তোরে পারলাম নারে  ভালবাসি এ কথাটি বলতে, আদর করে পারলাম নারে  তোর আঙ্গুলের আঙ্গুল রেখে চলতে।। তোরে বলবো বলে আমি  কত কথা ভেবে রাখি রাতে,  নির্বাক মুখে চেয়ে থাকি  আমার দেখা হলে তোরি সাথে। তোর ওই রূপে জ্বলে পুড়ে  ইচ্ছে করে মোমের মত গলতে।। যেমন করে আলি টানে  ফুল বাগানের ফোঁটা ফুলের ঘ্রাণে, তেমনি করে তোর প্রেমেতে  টান লাগে খুব আমার মনে প্রাণে।। হাতের ওপর হাত রাখিয়া  প্রেমের কথা বলার ইচ্ছা জাগে, সহজ কথা বলতে কেন  আমার কাছে এত কঠিন লাগে।  এই না বলা ভালোবাসায়  পুড়ে গেল মন জ্বলতে জ্বলতে।।

প্রেম জেগেছে

 প্রেম জেগেছে  খাদিজা বেগম  ঢেউ লেগেছে ঢেউ লেগেছে  মন যমুনায় ঢেউ লেগেছে,  প্রেম জেগেছে প্রেম জেগেছে  মনের মাঝে প্রেম জেগেছে।। তোমার চোখের দৃষ্টি যেন  তীরের মত বিঁধলো বুকে,  আমি যেন ঘায়েল হলাম  প্রেম মাখানো তীরের মুখে। তীর বেঁধেছে তীর বেঁধেছে  হৃদ মাঝারে তীর বেঁধেছে।। তোমার মুখের হাসি যেন  ছুরির মত খুব ধারালো,  ওই হাসিতে কখন যেন  আমার প্রেমিক মন হারালো।। যেমন করে দিবানিশি  ঢেউয়ের পিছে ঢেউ ছুটে যায়,  তেমনি করে আমার এমন  তোমার পিছে ছুটে বেড়ায়। তোমার হাতের জাদু লেগে  আমার মনের প্রেম উসকেছে।।

প্রাণ নিয়ে যাও

 প্রাণ নিয়ে যাও খাদিজা বেগম  ওরা তোমার কেমন সৃষ্টি  যারা বিশ্বাসঘাতক মিথ্যাবাদী,  অন্যায় করে করে আবার  অন্যজনকে সাজায় অপরাধী।। চোরের মায়ের বড় গলা  সাধু জনের দুই নয়নে বৃষ্টি, তুমি দয়ার সাগর হয়েও কেন তোমার এত কঠিন সৃষ্টি।  তোমার দেয়া প্রাণ নিয়ে যাও  এই ফরিয়াদ করছি ফরিয়াদী।। এত কান্না এত কষ্ট  কেমন করে চেয়ে চেয়ে দ্যাখো,  দুটি মতের দুটি মানুষ  কেমন করে একি জায়গায় রাখো।। নির্মম, নিষ্ঠুর এই পরিক্ষা  পারব না আর এই পরীক্ষা দিতে,  একটুখানি শান্তি পেতাম  তুমি যদি আমায় তুলে নিতে। দয়াল আমায় মুক্ত কর  মাপ করে দাও শোনো হে আজাদী।।

আত্মবিশ্বাস

 আত্মবিশ্বাস  খাদিজা বেগম  যারা বিশ্বাস করে তারা হয় তো জিতে না হয় হারে, তবুও তো চেষ্টা করে  জেতার জন্য বারে বারে।। যদি থাকে আত্মবিশ্বাস  তোমার আত্মা উঠবে জেগে, চারিদিকে জ্বালবে আলো  জ্বলন্ত ঐ সূর্যের বেগে।  একটু কষ্ট হলেও তো বিশ্বস্ত জন জিততে পারে।। যার সন্দেহ ভরা দেহ  সে অদৃশ্য কষ্টে ভোগে, সবকিছুতে তার সন্দেহ  কষ্ট পায় সে বিনা শোকে।। আত্মবিশ্বাস পুষে রেখো  পরিশ্রম আর স্বপ্ন মেখে, স্বপ্নের পথে হেটে চলো  একাগ্রতা বজায় রেখে।  সেই তো সূর্য হয়ে উঠে  আলো ছড়ায় অন্ধকারে।।

উপায় তো নাই

উপায় তো নাই  খাদিজা বেগম  প্রাণ জুড়াতে চাই তোমাকে  মন জুড়াতেও তোমাকে চাই, তুমি ছাড়া ভালো থাকার  অন্য কোন উপায় তো নাই।। তানহা তানহা লাগেরে খুব  আমার তানহা তানহা লাগে, তোমার সাথের সারাজীবন  আমার থাকার ইচ্ছা জাগে। তোমার চোখের অগ্নিদৃষ্টি  আমায় পুড়ে করেছে ছাই।। কত ভালোবাসি তোমায় জানে জানে আল্লাহ জানে, সকল বাঁধন ছিড়ে এলাম  তোমার ভালোবাসার টানে।। তুমি আমার ভালো লাগা  তুমি আমার ভালোবাসা,  এই জীবনে তোমায় ছেড়ে  বেঁচে থাকার নেই তো আশা।  ভুবন ছেড়ে চলে যাব আমি যদি তোমায় না পাই।।

আমার গ্ৰাম

 আমার গ্ৰাম খাদিজা বেগম  ছোট্ট একটা গ্রাম আমার  সবুজ শ্যামল মায়া দিয়ে ঘেরা, নানান ফসলে ভরে থাকে মাঠ  আমার গ্রাম সব গ্ৰামের সেরা।। শীতের সকালে আমন ধানের  পাতায় জড়ানো শিশিরের ফোঁটা,  খুব ভোরবেলা স্কুলে যেতে  শিশির ঝরাতে হাতে লাঠিসোটা। আইলে আইলে হেটে চলে যেতে  ধানের ক্ষেতের মাঝ দিয়ে চেরা।। সূর্যের হাসি দেখে দেখে ধান  সুভাস ছড়িয়ে হেসে হেসে ওঠে, ধানের শীষের চারিপাশে যেন  শিশির বিন্দু মুক্তার মত ফোটে।। আমার গ্রামে নাই চোর, ডাকাত  এখানে সকলে সকলের আত্মীয়, সুখে দুখে সবে মিলেমিশে থাকি তাইতো আমার গ্রাম এতটা প্রিয়। জনে জনে আছে প্রতিটা মনে  দৃঢ় প্রত্যয় নৈতিকতার বেড়া।।

একটুখানি

  একটুখানি  খাদিজা বেগম  একটুখানি ভালোবেসে ঠাই করে দাও তোমার বুকের ভিতরে, অনেক ভাল বাসবো তোমায় আপন করে রাখবো আমার অন্তরে।। একটুখানি হাসি দিয়ে পিপাসিত হৃদয়টা দাও ভিজিয়ে, সারা জীবন রাখবো তোমায় ভালবাসার মধুর জলে ডুবিয়ে। একটুখানি দিলে আদর তোমায় রাখবো খুব আদরে আদরে।। একটুখানি আসলে কাছে আমি তোমার কাছেই থাকবো আজীবন, তোমায় ছাড়া মিথ্যে লাগে আকাশ মাটির তৈরি সুন্দর এই ভুবন।। একটুখানি ছুঁয়ে দিলে সারা জীবন থাকবো তোমায় জড়িয়ে, একটুখানি প্রেম যদি দাও প্রেমের রঙে দেব তোমায় ভরিয়ে। খুব যতনে রাখবো তোমায় আদর করে ভালবাসার চাদরে।।

আমার বর

 আমার বর খাদিজা বেগম  বাড়ির পাশে বাড়ি থাকে  ঘরের পাশে ঘর, তেমনি তুমি পাশে থাকো  হয়ে আমার বর।। নদীর বুকে পানি থাকে  পানির বুকে মাছ, তেমনি তুমি বুকে থাকো  প্রতি বারো মাস। আপন করে রেখো আমায়  করো না যে পর।। তোমায় দেখে এই বুকেতে  উঠল প্রেমের ঝড়, সেই ঝড়েতে জাগলো আমার সব হারাবার ডর।। সব হারালেও নেই তো ক্ষতি  তোমায় যদি পাই,  দুহাত পেতে মোনাজাতে  নিত্য তোমায় চাই। চোখের পাতায় ভাসো তুমি  যেমন ভাসে সর।।

একটা পান

 একটা পান খাদিজা বেগম  একটা পান বানিয়ে দিও  প্রিয় দুইটা সুপারি দিয়া, পান খাবার জন্য আজ  লাগে পাগল পাগল হিয়া।। মধুর চেয়েও মিষ্টি লাগে  তোমার হাতে বানানো পান, যত খেয়েছি তত চেয়েছি  শত খেয়েও ভরে না প্রাণ। কি দিয়ে পান বানাও তুমি  একবার বলো বলো না প্রিয়া।। তোমার পানে এতটা রস  কোথায় থেকে আসে আসে রে,  সেই রসেতে রসিক মন  ডুবে আবার ভাসে বাসেরে।। পানের লাল রঙ্গে ঠোঁট  ফুলের মত ফুটে ওঠেরে, ভালোবাসার ঘ্রাণ ছড়িয়ে  প্রেমিক মন আসে ছুটেরে। জাদু করেছো পানের সাথে  তাই তো আমি গেছি ফাঁসিয়া।

খোলা প্রেমের খিল

 খোলা প্রেমের খিল  খাদিজা বেগম  কায়া চাইলে কায়া দেব  মন চাইলেও দেবো আমার মন,  সকল কিছু তোমায় দিতে  আমি তৈরি আছি সারাক্ষণ।। শুধু একবার চেয়ে দেখো  আমি তোমায় দিয়ে দেবো সব,  তোমায় কত ভালোবাসি সে কথাটা জানে শুধু রব। তোমায় ছাড়া প্রাণ বাঁচে না  তাইতো তোমায় আমার প্রয়োজন।। পূর্ণিমা চাঁদ সারাটা রাত  যেমন থাকে দূর আকাশের গায়,  তেমনি করে সারা জীবন  তোমার বুকে থাকতে মনে চায়। একটুখানি চাইলে তুমি  কানায় কানায় ভরে দেবো দিল, ভালোবেসে এসো বন্ধু  তোমার জন্য খোলা প্রেমের খিল। তোমায় পেলে আপন করে  আমি করবো প্রেমের আলাপন।।

ভুল মানুষ

 ভুল মানুষ খাদিজা বেগম  ভালোবেসে এই বুকেতে  যারে আমি দিয়েছিলাম ঠাঁই, তার বুকেতে অন্য কেহ  সেথায় আমার কোন জায়গা নাই।। যার ভাবনায় রাত্রি জেগে  চেয়ে থাকতো আমার দুটি চোখ, অন্যের সাথে রাত্রি কাটায়  আমার কথা না ভেবে সেই লোক।  যে আমারে পর পর জানে  তবু কেন আমি তারেই চাই।। এতো ভালবাসলাম যারে  সে বাসেনি আমারে এক চুল, না জানিয়া না ভাবিয়া  ভালবেসে করলাম মস্ত ভুল।। তার বিরহে কেঁদে কেঁদে  ঝরে গেছে দুই নয়নের জল, বেশি ভালো বাসলে বুঝি এমনি হয় ভালবাসার ফল।। ভুল মানুষকে ভালোবেসে  জীবন আমার জ্বলে পুড়ে ছাই।।

অজুহাত

অজুহাত  খাদিজা বেগম  তুমি কথা দিয়েছিলে শেষ মুহুরতেও ধরে থাকবে আমার হাত, তবু কেন চলে গেলে  বলেগেলে না কি ছিল অপরাধ।। উজার করে সব দিয়েছি  নিজের বলে আমি কিছু রাখি নাই, তোমায় ছাড়া আজ মনে হয়  মরনের আর বেশি সময় বাকি নাই।  আকাশ কাঁদে বৃষ্টি হয়ে  শুনে আমার হৃদয় ভাঙ্গা আর্তনাদ।। আমার দুঃখ কষ্ট দেখে  বৃক্ষ কাঁদে পাতাগুলো ঝরে যায়, কারে বলবো ব্যাথার কথা  ব্যথায় ব্যথায় ঘা হয়েছে কলিজায়।। এত ভালোবাসলাম যারে তবুও সে আপন হয়ে থাকলো না, একটুখানি ভালোবেসে  আমারে সে তার বুকেতে রাখলো না। আমার এ হাত ছেড়ে দিয়ে  চলে গেছে ধরে নানান অজুহাত।।

হিমালয়

 হিমালয়  খাদিজা বেগম সূর্য যখন সর্ব প্রথম  হাত ছানি দেয় ঐ পর্বতের চূড়ায়, পর্বতমালা নিদ্রা ফুরিয়ে  সূর্যের আলো দুই হাত ভরে কুঁড়ায়।। সকাল বেলার সোনালী সূর্য  সারাদিন আলো দিয়ে সন্ধ্যায় হারায়, আধারের কোলে মাথা রেখে সবে নিদ্রার দিকে নিজেদের চোখ বাড়ায়।। এই পৃথিবীটা জাগবে আবার ভোরের সূর্য জাগার সঙ্গে সঙ্গে, পুলকিত হবে একে একে সবে  কালো রং ছেড়ে সাজবে নানান রঙ্গে।।   পৃথিবীর সব অলিতে গলিতে  সূর্যের আলো ঝলমল করে ছড়ায়,  তবুও তো কিছু কিছু প্রাণ থাকে  অন্ধকারে নির্মম এই ধরায়।। যার নয়নের মাঝে নাই আলো  শত সূর্যের আলো ছড়ালেও কি হবে? যাদের হৃদয় কুৎসিত কালো  তারা বোঝা হয়ে থাকে সুন্দর এ ভবে।। যার হৃদয়টা আলোকিত হল  তার জীবনের নাই কোন পরাজয়,  সে রবির চেয়ে বেশি আলোকিত  তার কাছে বড় নয় কোন হিমালয়।।

চৈতন্য প্রবাহি কবিতা

 চৈতন্য প্রবাহি কবিতা  খাদিজা বেগম  তোমার জন্য কবিতা লিখেছি  অনেক শব্দ খুঁজে নিয়ে গেঁথে গেঁথে,  শব্দের সাথে সুখ ঝংকার  আমি তা শুনেছি দুটি কান পেতে পেতে।। ভাবের দোলায় দুলে দুলে তাতে  ছন্দ মাত্রা মাখিয়ে দিলাম হাতে, সৃষ্টি করেছি এমনি কবিতা তোমার হৃদয় মুখরিত হয় যাতে। যেমন করে ঐ পূর্ণিমা চাঁদ  জোছনা ছড়িয়ে যায় চলে যেতে যেতে।। পুষ্প যেমন বাতাসে বাতাসে   ঘ্রাণ ছড়িয়ে অবশেষে ঝরে পড়ে, তেমনি চৈতন্য প্রবাহী কবিতা  মানুষেরে যায় খুব সচেতন করে।। মানুষের তরে পৃথিবীতে এলো  কত যে ধর্ম কত শত নবী, কবি, তবু কিছু কিছু মানুষ অন্ধ  ওদের ভিতরে জাগে না সত্য রবি।। বিবেক বুদ্ধি হীনা কিছু লোক  নিজেকে বিপদে ফেলে নিজে থাকে মেতে।। রসে রসে ভরা উপমাতে সেরা  অলংকৃত শব্দে শব্দে জাদু, কবিতার প্রেমে পাগল নবিন  কিশোর কিশোরী প্রবীণ দাদা দাদু।। এই কবিতার রূপকে রূপকে  মানবতাবোধ, সাবধান, প্রতিরোধ, জনে জনে শুধু ভালোবাসা বাসি  আর নয় কোন অন্যায় প্রতিশোধ।।

হেমন্ত ভোর

 হেমন্ত ভোর  খাদিজা বেগম  বন্ধু, হেমন্ত ভোর দেখতে এসো না শিশির ভেজা আমন ধানের ক্ষেতে, সোনালী ধানের ডগায় ডগায়  রোদের আলোতে শিশির উঠেছে মেতে।। বিন্দু বিন্দু শিশিরের কণা  হীরার মতন জ্বলজ্বল করে জ্বলে, এই প্রকৃতির মনোরম রূপ বন্ধু তোমায় বোঝানো যাবে না বলে। তুমি চলে এসো হৃদয় ভরানো শীতল বাতাস স্বর্গের সুখ পেতে।। সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা  এইতো আমার সোনার বাংলাদেশ, কানায় কানায় আনন্দ হাসি  এখানে নাই কোন প্রশান্তির শেষ।। বিষন্নতায় জড়ানো হৃদয়  এক নিমিষেই ফুলের মতন হাসে, এই প্রকৃতির স্নিগ্ধ খেলা  একবার দেখলে বারবার চোখে ভাসে।  এখানে বাতাসে ফুলের সৌরভ একবার এলে তুমি চাইবে না যেতে।।

সকাল আসবে

 সকাল আসবে  খাদিজা বেগম  আঁধার যতই ঘনিয়ে আসুক  আসবেই তো সকাল আসবে, খরায় চৌচির হলেও বুক আবার বৃষ্টির জলে ভাসবে।। খুব সকালে সূর্য যখন  সোনার আলো নিয়ে ছুটবে,  গাছে গাছে ডাকবে পাখি  বনে বনে পুষ্প ফুটবে। তেমনি তো কান্না গুলো  সময়ের হাত ধরে হাসবে।। একি ভাবে যায় না জীবন  একি ভাবে বয় না নদী, বদলে যাবার এই ধারাতে  তাই বদলাবো নিরবধি।। ফুল ঝরে যায় তবুও তো  যেতে যেতে সুবাস ছড়ায়,  ফুলের মত না হলেও  কিছু রেখে যাব ধরায়।  এমন কর্ম কেউ করোনা  যার কারণে নিজে ফাঁসবে।।

অতি কথায় বেশি ক্ষতি

 অতি কথায় ক্ষতি বেশি খাদিজা বেগম কথা বলা শিখে গেলেই যখন তখন কথা বলো না, হাঁটাচলা শিখে গেলেই যেথায় সেথায় হেঁটে চলো না।। চলার আগে বলার আগে ভাবতে হবে ন্যায় অন্যায় সব, ভাবনা চিন্তা করার জন্য বিবেক বুদ্ধি সব দিয়েছেন রব। না ভেবে কাল স্থান পাত্র কত মানুষ মানুষ হলো না।। কিছু সময় ফুলের মত খুব নীরবে ছড়িয়ে দাও ঘ্রাণ, অকারনে বললে কথা দুঃখ থেকে কেউ পাবেনা ত্রাণ।। কথা বল ঠিক ততটাই যতটুকু না বললে হয় না, অতি কথায় ক্ষতি বেশি বেশি কথার বিষ প্রাণে সয় না। মিথ্যে কথা বলে বলে আর কতকাল করবে ছলো না।।

ভুল মানুষের সাথে

 ভুল মানুষের সাথে  খাদিজা বেগম জীবন গেল ভুলে ভুলে  ভুল মানুষের সাথে পিরিত করে,  প্রেম পিপাসায় পাগল হয়ে  সঠিক মানুষ মরে ঘরে ঘরে।। প্রেম না দিয়ে আমি আমার  দুয়ার থেকে প্রেম ভিখারি তাড়াই, এই আমিও প্রেম চেয়ে আবার অন্যের দুয়ারে হাত বাড়াই। ভালোবাসার তৃষ্ণায় তৃষ্ণায়  কাতর হয়ে তাই তো হৃদয় মরে।। ভালোবাসা পাবার জন্য  দিবানিশি সবাই ধরে বায়না,  একটুখানি ভালোবাসা  স্বার্থ ছাড়া কেহ দিতে চায় না।। ভালোবাসা নিয়ে ব্যবসা  ধুম চলেছে পিরিত নামের হাটে,  তাই তো এখন প্রেম বিহনে  খুব নীরবে মানব হৃদয় ফাটে। ভালোবেসে যার হাত ধরি  সেই তো আমার হাত ছেড়ে যায় সরে।।

ভালবাসার উপবাসে

 ভালবাসার উপবাসে  খাদিজা বেগম  এই মন থেকে ভালোবেসে  সেদে সেদে এসেছিলাম, তাই তো তুমি মন বোঝনি  কেঁদে কেঁদে ফিরে গেলাম।। তুমি ছিলে আমার কাছে  আমার আত্মার সমতুল্য, তবুও - তোমার কাছে পাইনি আমার  সাদা প্রেমের আধা মূল্য। একা একা ভালবেসে  আমি একাই দুঃখ পেলাম।। যদি আমায় ভালোবেসে  তুমি রেখে দিতে বেঁধে, ভালোবাসার উপবাসে দিন যেত না কেঁদে কেঁদে।। আজও তোমায় পেতে এই মন  মাঝে মাঝে ওঠে মেতে, মন তোমাকে আজও খোঁজে  চলতি পথে যেতে যেতে। তোমায় আমি না পেয়েও  আমি যেন সব হারালাম।।

ভল আছি

 ভাল আছি  খাদিজা বেগম  অভিযোগ নাই অনুযোগ নাই  যা পেয়েছি তাতেই ভালো আছি, এই জীবনে থাকে যদি  থাক না হাসি কান্না পাশাপাশি।। অভিযোগের ডালা নিয়ে  মনের ভুলে যদি আমি কাঁদি,  নিজো গুনে ক্ষমা করে  ভালবাসার সুতায় রেখো বাঁধি। তোমার থেকে পেয়েছি যা তার সবি তো আমি ভালোবাসি।। তোমায় পেয়ে হাসি আমি  তোমায় পেতে কেঁদে ভাসাই নয়ন, তুমি আমার সুখের খোরাক  আপন থেকে  আরো বেশি আপন।। এলোমেলো বললে আমি  ভালবেসে শাসন করে দিও,  অন্যায় পথে চললে আমি  ভালবেসে ন্যায়ের পথে নিও। তোমার আছি তোমার রবো আমি শুধু তোমার আশায় বাঁচি।।

অনুভূতিহীন

অনুভূতিহী  খাদিজা বেগম  আমি যদি তোমার আগেই মারা যাই  তবে তো আলহামদুলিল্লাহ। প্রিয়, আর যদি তুমিই আমার আগে মারা -যাও তবে তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও।  কারণ আমি -তোমার মরনের খবরটা শুনেও  একফোঁটা কষ্ট পেতেও পারবো না।  আমি তোমার লাশ দেখেও বুকফাটা  কান্নায় ভেঙে পড়তে পারবো না।  কারণ তুমি -আমাকে এত বেশি কষ্ট দিয়েছো যে,  তাতেই কষ্টের সকল অনুভূতি - মরে গেছে।  তুমি আমাকে এত বেশি কাঁদিয়েছো যে, তাতেই নয়নের পানি কান্না হয়ে - ঝরে গেছে। এখন আমি - তো অনুভূতিহীন একটা জীবন্ত -লাশ, আমার মাঝে আর কিছুই করো না তালাশ। সাত মাত্রা করে লেখার চেষ্টা করেছি।

টিপ টিপ জ্বলে

টিপ টিপ জ্বলে  খাদিজা বেগম  স্বপ্নের ঘোরে দেখলাম যারে কপালে তার লাল টিপ টিপ টিপ জ্বলে, পরনে তার রাঙা শাড়ি  যেন আমায় কাছে আসতে বলে।। চুলের খোপায় জড়ানো ফুল হাতে বাজে রিনিঝিনি চুড়ি, মায়ায় ভরা তার দুটি চোখ দৃষ্টি যেন প্রেম মাখানো ছুরি। সে যেন ঐ ঝর্নার মত চঞ্চল চরণ ফেলে হেঁটে চলে।। চোখে চোখে ভাসে সেই মুখ মন পারে না ভুলে যেতে তারে, তার পরনের শাড়ি হয়ে জড়াতে চাই তারে বারে বারে।। তারে পেতে দিনে রাতে হৃদয় দিয়ে জনে জনে খুঁজি, তারে ছাড়া প্রাণ বাঁচে না ছটফটিয়ে মরে যাব বুঝি। তার পিরিতের আগুনে মন মোমের মতন পুড়ে পুড়ে গলে।।

ভাবের নৌকা ⛵

 ভাবের নৌকা  খাদিজা বেগম  ভাবের নৌকা দাও ভাসিয়ে ভাবনার বৈঠা নিয়ে হাতে,  ছালাক ছালাক চলুক নৌকা  তুমি থাকো আমার সাথে।। যেমন পাখির সাথে পাখি  আঁখির সাথে থাকে আঁখি,  তেমন করে সাথে থেকো  ওগো আমার প্রাণের পাখি। এই মনেতে মন মিশিয়ে মিশে থাকো দিনে রাতে।। যেমন করে রাতের ভিতর  দিন লুকিয়ে রয় গোপনে, তেমনি করে এই আমাকে  তুমি রাখো তোমার মনে।। তুমি আমি দুজন মিলে  ভাবের নৌকায় উঠে দুলবো, এই পৃথিবীর সব যাতনা  আমরা দুলে দুলে ভুলবো।  কাল হারাবে কালের স্রোতে  চেয়ে রবো আঁখি পাতে।।

ভালো নেই

 ভাল নেই  খাদিজা বেগম  ভালো নেই- একথাটি বলব কাকে  বলার মত কেউ নেই আমার,  বুকের ভিতর অনেক কথা  গুমরে গুমরে করে চিৎকার।। জানি- অংক কষে হয় না জীবন  কি হারালাম আর কি পেলাম, জমা কথার যাতা কলে  শুধু পৃষ্ঠ হয়ে গেলাম।  টেনে হিজড়ে চলছে জীবন  প্রাণ ছাড়া- কিছুই তো নাই হারাবার।। যেমন করে কুঁড়ে কুঁড়ে   ঘুণ পোকাতে কাঠ খেয়ে যায়, তেমন আমার এই কলিজা  খেয়ে নিলো ব্যথায় ব্যথায়।। ব্যাথিত এই দীর্ঘশ্বাসে  নাকে আসে কষ্টের গন্ধ,  এলোমেলো এই জীবনের  নেই তাল সুর নেই কোন ছন্দ। কষ্টের ভিতর চলছে জীবন  কেউ নেই- সুখের দিকে ফের ফেরাবার।।

বর্জন করো

 বর্জন করো খাদিজা বেগম  বর্জন করো বর্জন করো  ও মন আমার মিথ্যে কথাটা বলা, বর্জন করো বর্জন করো  ক্রোধ লালসা অন্যায় পথে চলা। বর্জন করা না শিখলে কভু  তোমার জীবনে অর্জন হবে না তো, অর্জনের আগে বর্জন শেখো  মন থেকে আজ ঘুচাও পাপের ক্ষত।  ডান পায়ে চলো যদি কালো পথে বাম পায়ে চলো আলোকিত পথ ধরে, একটি মানুষ দু'পথে দু'মতে  চলতে গিয়েই বিবেক বুদ্ধি মরে। সম্মান আর অর্থ কামাও  কোন কিছুতেই নেই কোন কিছু মানা, কোন পথে টাকা কামাতে হবে তা  উচিত সকল মানুষের পড়ে জানা। ওই স্বর্গীয় পবিত্র বাণী  খুঁজে দেখো পাবে তোমার জন্য তাতে,  অনেক আদেশ নিষেধ রয়েছে  পাঠ করো তুমি ধরে নিয়ে নিজ হাতে। ভুল করে ভুল যত হয়ে গেছে  তা ভুলে সঠিক সত্যের পথে চলো, সঠিক পথের সন্ধান করো  কৌশল করে হলেও সত্য বলো। কাজে অলসতা ছেড়ে দিয়ে তুমি  পরিশ্রমি মানবিক হয়ে ওঠো, সূর্যের আলো ছড়াবার আগে  নিজের স্বপ্ন সত্যি করতে ছোট। কেহ কখনোই অন্যের ক্ষতি  করে হতে পারে নাই নিজে লাভবান, অন্যের ক্ষতি করতে গিয়েই  মানুষ হয়েছে ধীরে ধীরে বেইমান। পরোপকারী যারা তার...

অনাবাদি জমি

 অনাবাদি জমি  খাদিজা বেগম  অনাবাদি জমি আমার  উদাস চাষী করলো না তো চাষ, তাইতো আমার সুখ হলো না  দুঃখে দুঃখে কাটে বারো মাস।। কত মৌসুম এলো গেলো  তবু চাষা বাইলো না তার হাল, এমনি করে আমার জমি  অনাবাদি থাকবে কত কাল? তুমি আমার জমির মালিক  এই জমিতে তোমার বসবাস ।। আশায় আছি আসবে চাষা  সাথে নিয়ে লাঙ্গল-জোয়াল মই, মন বিছিয়ে বসতে দেব  খেতে দেবো খই মাখানো দৈ।। অনাবাদি জমি আমার  চাষ করে দাও চাষের মৌসুম যায়, এই জমিনে ফলবে ফসল  আমারও তো দেখতে মনে চায়। অনাবাদি জমি যেন  প্রাণ বিহনে পড়ে থাকা লাশ।।

ভাবো না

 ভাবো না  খাদিজা বেগম  তোমায় ছাড়া এই মনে নেই  অন্য কোন ভাবোনা, তোমায় ছেড়ে স্বর্গ পেলেও  সেথায় আমি যাবো না।। তোমার বুকের মধ্যখানে  আমায় রেখো আদরে,  রোজ জড়িয়ে রেখো আমায়  তোমার প্রেমের চাদরে। আমি শুধু তোমার জন্য  অন্য কারো হবো না।। জল তরঙ্গ থাকে যেমন  জলের বুকের ভিতরে, তেমন করে রেখো আমায়  তোমার কোমল অন্তরে।। খুব গোপনে ভালবেসে  তোমায় রাখবো জড়িয়ে, ভালোবেসে বেসে তোমার  হৃদয় দেবো ভরিয়ে। তোমায় ছাড়া কোন খানে  আমি শান্তি পাবো না।।

প্রশাসন

 #প্রশাসন  #খাদিজা_বেগম  ও হে প্রশাসন নাই কি তোমাদের  বিবেক বুদ্ধি মানবতাবোধ? দুর্নীতিবাজ রেখে দিয়ে তুমি  লোকের উপরে দেখাও কেন ক্রোধ? রক্ষা করার শপথ নিয়েও ধ্বংসের খেলা খেলো দিনরাত,  তোমাদের দেয়া আস্কারাতেই দিনে দিনে বেড়ে গেছে অপরাধ। এখন থেকেই জাগিয়ে উঠাও  ঘুমিয়ে যাওয়া শুভ মূল্যবোধ।। আগামীর দেশ শুভ হোক বেশ  তোমাদের মাঝে রাখো নৈতিকতা,  সন্ত্রাসীদের জ্বালিয়ে ছাই করো  জ্বলে ওঠো আজ ভুলে নীরবতা। তোমাদের হাতে একে একে করো সন্ত্রাসীদের নিঃশ্বাস রোধ।। তোমরা স্বাধীন তোমরা যোদ্ধা  তোমরা করো না চোরের গোলামী, ন্যায়ের পক্ষে সজাগ থাকবে  স্মরণ রাখবে তোমরাই দামি। তোমরা শুধু দেশের জন্য  গড়ে যাও শক্ত করে প্রতিরোধ।। তোমার সততা তোমার দৃঢ়তা  হাজার কৌশলে তুমিই রাখবে, তোমাকে গড়লে আদর্শবান  ফের নিরাপদে সকলে থাকবে। দেশের সুনাম নষ্ট করলে অগ্নির মত নেবে প্রতিশোধ।। প্রশাসনের মূল কাজ: ১// লক্ষ্য নির্ধারণ: প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য স্থির করা।  লক্ষ্য হওয়া উচিত সমস্ত প্রকার অন্যায় পথ গুলোকে একে একে বন্ধ করা, যেমন...

কথা দিয়ে ছিলে

 কথা দিয়ে ছিলে খাদিজা বেগম  এতো ভালোবেসে এত দূরে এসে তুমি ভুলে যেতে বলেছ যখন, চূর্ণ চূর্ণ হয়ে গেল মন  ভাঙ্গা কাঁচের চুড়ির মতন।। টুকরা টুকরা এ মন আমার  বুকের ভিতরে কাঁটা হয়ে গাঁথে, মন মেনে নিতে পারে না কিছুতে  কাল থেকে তুমি থাকবে না সাথে।  তোমাকে হারাবো এই ভেবে ভেবে  অঝোরে ঝরেছে নয়নে শ্রাবণ।। কতদিন তুমি হাতে হাত রেখে কথা দিয়েছিলে ভুলবে না কভু,  সাক্ষী রয়েছে আকাশ বাতাস  সাক্ষী রয়েছে আমাদের প্রভু।। সেই তুমি আজ ভুলে যেতে বল  ভুলে যাবো বলে ভালো তো বাসিনি,  জনম জনম ধরে কাছাকাছি রব চলে যাবো বলে কাছে তো আসেনি।  ভুলতে না বলে জানে মেরে দিও  তুমি ছাড়া চাইনা চাইনা এ ভুবন।।

তীরের মত দৃষ্টি

 তীরের মত দৃষ্টি  খাদিজা বেগম  তীরের মতো দৃষ্টি তোমার  লাগলো এসে আমার বুকের মাঝে, সেই থেকে এই বুকের ভিতর  শিরশিরিয়ে প্রেমেরি সুর বাজে।। ধরা যায়না ছোঁয়া যায়না  এমনি তীর মারলে আমার বুকে, ভোলা যায় না তোলা যায় না  আমি শুধু মরি ধুঁকে ধুঁকে। প্রেম বেমারের ঔষধ তুমি  তোমার কাছে চাইতে মরি লাজে।। ক্ষণে ক্ষণে কানে শুনি  রিনিঝিনি বাজে তোমার পায়েল, সেই পায়েলের শব্দ দিয়ে কেমন করে করলে আমায় ঘায়েল।। মন হয়ে যায় উদাস উদাস  দেখে তোমার ধনুক বাঁকা হাসি, কেমন করে বলবো আমি  মন বলেছে তোমায় ভালোবাসি। তুমি আমায় বাসলে ভালো  তোমায় নিতে আসব বরের সাজে।।

জান্নাতে ফুল

 জান্নাতের ফুল  খাদিজা বেগম  তুমি আমার জান্নাতের ফুল  আদর করে আগলে রাখবো গলে,  তোমায় কত ভালবাসি  তা বোঝানো যাবে না তো বলে।। তোমাকে না দেখলে পরে  দুই নয়নে আমার ব্যথা ঝরে,  কাছে কাছে থেকো প্রিয়  আর থেকো না দূরে দূরে সরে।  তোমার সাথে মন হারাবো  ভেসে যাব ভালবাসার জলে।। তুমি যেন হাসনা হেনা  তোমার ঘ্রানে নেশা নেশা লাগে, তোমার চোখে চোখ পড়িলে  মনে মনে মিলনের স্বাদ জাগে।। তুমি আমার সেরা তোফা   উপর ওয়ালার নিজের হাতে দেওয়া, তোমায় পেয়ে সব পেয়েছি  এই জীবনে আর কিছু নেই চাওয়া। আজ মন হয় আমি যেন  জান্নাত পেলাম তোমায় পাবার ফলে।।

কান্নার মাঝে সুখ

 কান্নার মাঝে সুখ  খাদিজা বেগম  কান্নার মাঝে সুখ খুঁজে পাই যখন আমি কাঁদি দুই হাত পেতে,  তোমার কাছে রেখো আমায়  আর কোথাও আমি চাইনা যেতে।। অনুভবে পাই তোমারে  এই হৃদয়ের দৃষ্টি দিয়ে দেখি, তুমি সত্য তুমি সুন্দর  তুমি ছাড়া সব কিছুই মেকি। তোমার আমার দেখা হবে  সেই খুশিতে আমি থাকি মেতে।। মাটি দিয়া ঘর বানাইয়া তার ভিতরে সোনার মানুষ রাখো, মানব মাঝে অন্তর দিয়া  সেই অন্তরে তুমি আবার থাকো। তুমি আমার সৃষ্টি কর্তা আমি শুধু তোমার হাতের তৈরি, ধ্বংস হয়ে যাব আমি  আমার প্রতি তুমি হলে বৈরী। তোমার নামের চাষ করেছি   কানায় কানায় ফসল দিও ক্ষেতে।।

ফুটবে হাসনাহেনা

 ফুটবে হাসনাহেনা  খাদিজা বেগম  সব ভাবনা তুই ভাবিস না  কিছুটা তার জন্যে রেখে দেনা, তোর জীবনের অলি গলি দুঃখ কষ্ট সবকিছু তার চেনা।। তোর সমস্যার সব সমাধান  জমা আছে শুধু তারি হাতে, তার কাছে তুই সব বলে দে  পবিত্র মন নিয়ে মোনাজাতে। হারা জেতা পরের কথা  শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করে সেনা।। কাল কি হবে ভেবে ভেবে  আজ ডুবিস না অন্ধকারের জলে, শক্ত করে রাখ মনোবল  আশার সূর্য উঠবে সকাল হলে।। তোর জীবনের মেঘগুলো সব  বৃষ্টি হয়ে ঝরে ঝরে পড়বে, তোর আকাশে আলো হয়ে  সোনার রবি ঝলমল ঝলমল করবে। শক্ত করে হাল ধরে থাক তোর জীবনেও ফুটবে হাসনাহেনা।।

ভালোবাসার বাঁধ

 ভালোবাসার বাঁধ  খাদিজা বেগম  তোমায় দেখে জাগল জোয়ার  ভাঙলো আমার ভালোবাসার বাঁধ, তোমার রূপে জোছনা ঝরে  লাজে লুকায় ঐ পূর্ণিমার চাঁদ।। তোমাকে না ভালোবেসে  মন এড়িয়ে যেতে পারে না, তোমার ঐ রুপ লাভার মত  লেগে আছে আমায় ছাড়ে না। মন তোমাকে ভেবে ভেবে  জেগে থাকে রাতের পরে রাত।। জানিনা কি জাদু জানো  দিবানিশি টানো আমার মন,  এখন আমি আমায় ভুলে  তোমায় নিয়ে ভাবি সারাক্ষণ।। কোন মায়াতে মন জড়ালে  বাঁধলে আমার দেহ রেখে প্রাণ, হাওয়ায় হাওয়ায় ভেসে আসে  ফুলের মত তোমার চুলের ঘ্রাণ।  তোমায় ভাল বেসে আমার  এক জনমে মিটিবেনা স্বাদ।

বাঁধ ভাঙ্গা প্রেম

 বাঁধ ভাঙ্গা প্রেম  খাদিজা বেগম  বাঁধ ভাঙ্গা প্রেম ভালবাসায়  রাখবো তোমায় ভাসিয়ে, হাজার দুঃখ তাড়িয়ে রোজ রাখবো তোমায় হাসিয়ে।। তোমার থাকার ঘর বানিয়ে  দেবো আমার কলিজায়,  বুকের ভিতর থাকবে তুমি  যেমন তোমার মনে চায়। ভালোবেসে আগলে রাখবো  তোমাকে এই মন দিয়ে।। তোমায় ছাড়া অন্য কিছু  চায় না দেখতে এই আঁখি, বুকের মাঝে হৃদয় করে  রাখবো তোমায় প্রাণ পাখি।। কথা দিলাম আমি তোমার  আপন হয়ে থাকিবো,  তোমার মনের ঘা সারাতে  সুখের মলম মাখিবো। তুমি আমায় বন্দি রেখো  তোমার প্রেমে ফাঁসিয়ে।।

সুদিনের সাথী

 সুদিনের সাথী  খাদিজা বেগম  সুদিনের সাথী সকলেই হবে  আনন্দ সুখ ভাগাভাগি করে নিতে, দুর্দিনে সাথী হয়ে কেউ রবেনা সহযোগিতা দুই হাত বাড়িয়ে দিতে।। সময়টা যদি খুব ভালো থাকে বন্ধু বন্ধু বলে কত জনে ডাকে, খারাপ সময় আসলে জীবনে বন্ধুর খোঁজ কতজনেই বা রাখে। যার কাছে টাকা পয়সা নাই কিছু  তার ছায়াটাও লাগে বড় বেশী তিতে।। বন্ধুর সংখ্যা কম কম রাখো  হয় যদিও তা একজন তাও ভাল, তাদের সঙ্গ থেকে দূরে থাকো  যাদের হৃদয় খুব কুৎসিত কালো।। নিজেকে নিজের বন্ধু বানাও  নিজে হয়ে ওঠো নিজের জন্য ঢাল, কিছু পথ একা একাই চলবে  সাথী হয়ে কেহ রবে না তো চিরকাল। তুমিই তোমার সাথী হয়ে থেকো বার মাস ধরে গ্রীষ্ম বর্ষা শীতে।।

তৃষ্ণায় মরি

 তৃষ্ণায় মরি  খাদিজা বেগম  মধ্যখানে খ্যাপা সাগর  আমরা দুই জন তৃষ্ণায় মরি দুই পাড়ে, কেন তারে পাওয়া যায় না মনে প্রানে ভালোবেসে চাই যারে।। কোথায় আছো পারের মাঝি  পার করে দাও বন্ধুর কাছে যেতে চাই,  এই হৃদয়ে আকুলতা  বোঝার মতো কোথাও কি কেহ নাই। জলের ওপর জল উঠেছে  কানায় কানায় ভরে গেছে জোয়ারে।। ভালোবাসার নিম্নচাপে  ঝড় উঠেছে আমার মনের ভেতরে,  অস্থির এ মন স্বস্তি পেতে  লুকাতে চায় আমার বন্ধুর আদরে।। সামনে আমার উত্তাল সাগর উপর থেকে বৃষ্টি নামে অঝরে, চারিদিকে এত পানি  তবু তৃষ্ণা বেড়েই চলছে সজোরে। প্রেমের তৃষ্ণায় কাতর হয়ে   জীবন চলে যায় মরনের দুয়ারে।।

পাবার আশায়

  পাবার আশায় খাদিজা বেগম  ভালোবাসা পাবার আশায় তোমায় আমি ভালো বাসিনি, ভালোবাসা পাবার ভাগ্য হয় তো আমি নিয়ে আসিনি।। যদি আমার ভালোবাসা কেঁদে কেঁদে জাগে প্রতি রাত, জানি তুমি ভালবেসে তবু এসে ধরবে না এই হাত। তোমার প্রেমে মন ফেসেছে ভাগ্য ভালো বিবেক ফাসিনি।। খুব সকালে সূর্য ওঠে আপন মনে আলো দিয়ে যায় পুষ্প ফোটে গন্ধ বিলায় তারা কোন প্রতিদান কি চায়।। আমি আপন হই বা না হই কিংবা না হই কারো প্রিয়জন, মনকে দেবো এই সান্তনা তুমি আছো আমার আপনজন। তোমাকে না পাবার ব্যথায় চোখের জলে আমি ভাসিনি।।