প্রশাসন

 #প্রশাসন 

#খাদিজা_বেগম 


ও হে প্রশাসন নাই কি তোমাদের 

বিবেক বুদ্ধি মানবতাবোধ?

দুর্নীতিবাজ রেখে দিয়ে তুমি 

লোকের উপরে দেখাও কেন ক্রোধ?


রক্ষা করার শপথ নিয়েও

ধ্বংসের খেলা খেলো দিনরাত, 

তোমাদের দেয়া আস্কারাতেই

দিনে দিনে বেড়ে গেছে অপরাধ।

এখন থেকেই জাগিয়ে উঠাও 

ঘুমিয়ে যাওয়া শুভ মূল্যবোধ।।


আগামীর দেশ শুভ হোক বেশ 

তোমাদের মাঝে রাখো নৈতিকতা, 

সন্ত্রাসীদের জ্বালিয়ে ছাই করো 

জ্বলে ওঠো আজ ভুলে নীরবতা।

তোমাদের হাতে একে একে করো

সন্ত্রাসীদের নিঃশ্বাস রোধ।।


তোমরা স্বাধীন তোমরা যোদ্ধা 

তোমরা করো না চোরের গোলামী,

ন্যায়ের পক্ষে সজাগ থাকবে 

স্মরণ রাখবে তোমরাই দামি।

তোমরা শুধু দেশের জন্য 

গড়ে যাও শক্ত করে প্রতিরোধ।।


তোমার সততা তোমার দৃঢ়তা 

হাজার কৌশলে তুমিই রাখবে,

তোমাকে গড়লে আদর্শবান 

ফের নিরাপদে সকলে থাকবে।

দেশের সুনাম নষ্ট করলে

অগ্নির মত নেবে প্রতিশোধ।।


প্রশাসনের মূল কাজ:

১// লক্ষ্য নির্ধারণ:

প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য স্থির করা। 

লক্ষ্য হওয়া উচিত সমস্ত প্রকার অন্যায় পথ গুলোকে একে একে বন্ধ করা, যেমন চাঁদাবাজির পথ, ঘুষের পথ, চোরাকারবারী পথ, টেন্ডার বাজির পথ, কোচিং বাণিজ্য, রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন বাণিজ্য, অর্থ পাচার, মানব পাচার, জানি তারপরেও সন্ত্রাসীরা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাবার জন্য অন্যায় পথ খুঁজে খুঁজে বের করবে কিংবা তৈরি করবে। 

মন্দ মানুষের কাজ মন্দ পথ তৈরি করে মন্দ পথে হাটা। কিন্তু প্রশাসনের কাজ ওই পথগুলো বন্ধ করতেই থাকা। যত পথ তৈরি হবে ততই বন্ধ করতে হবে।  

সন্ত্রাসী অমানুষরা তো আর বসে থাকে না, তারা তাদের মন্দ কাজ চালিয়ে যাবেই, তেমনি প্রশাসনের লোকজন কেও বসে থাকলে চলবে না, সন্ত্রাসী অমানুষদের চেয়েও আরও দ্রুতগতিতে নিজেদের দায়িত্ব দৃঢ়ভাবে পালন করতে হবে।

পাশাপাশি ন্যায়ের পথ গুলোকে ধীরে ধীরে খুলে দিতে হবে, সত্য পথগুলোকে প্রশস্ত করতে হবে, পরোপকারী ও দেশপ্রেমিক পদগুলোকে আরো শক্তপোক্ত মজবুত করতে হবে, যাতে করে খুব সহজেই ন্যায় পথে মানুষ চলতে পারে। খুব সহজেই মানুষ মানুষের উপকার করতে পারে, খুব সহজেই মানুষ সৎ ভাবে ইনকাম করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে, খুব সহজে গর্বের সাথে সাহস নিয়ে সাধারণ মানুষ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারে। 

খুব সহজেই যেন সাধারণ মানুষ আর প্রশাসনের মানুষের মাঝে ভরসা যোগ্য সুন্দর বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়। বিশ্বস্ততার বন্ধনে আবদ্ধ থাকে।

প্রশাসনের মনে রাখতে হবে যে, সাধারণ মানুষ ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। সাধারণ মানুষ নিরাপদে থাকলে দেশ নিরাপদে থাকবে।

আর সন্ত্রাসীরা ভালো থাকলে, দেশ ভালো থাকবে না। সন্ত্রাসীরা নিরাপদে থাকলে, দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।


প্রশাসনকে আরো মনে রাখতে হবে যে, সবার আগে ন্যায় বাঁচাতে হবে, ন্যায় বাঁচলেই দেশের সম্মান বাঁচবে, দেশের অর্থ-সম্পদ, মেধা বাঁচবে, দেশের মানুষ নিরাপদে নির্ভয়ে বাঁচবে। মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো বাঁচবে।


ন্যায় বাঁচাতে পারলেই

এমনকি সবার আগে প্রশাসনের সম্মান বাঁচবে।


২// পরিকল্পনা প্রণয়ন:

লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও কৌশল তৈরি করা। 

সব সময় সরাসরি কাজের মাঝে অনেক কিছুই ঠিকঠাক পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জন করা যায় না। সরাসরি ভাবে নীতি নৈতিকতার রক্ষা করে কাজ করতে দেবেনা সন্ত্রাসীরা। কাজ করতে দেবে না দুর্নীতিবাজ নেতারা। কাজ করতে দেবে না অর্থ পাচারকারীরা। কাজ করতে দেবে না চান্দাবাজিরা ও টেন্ডার বাজিরা, সোজা কথা অপরাধীরা তাদের অপরাধ জগতে রাজত্ব করার জন্য প্রশাসনের লোকজনকে গরু, ছাগলের মতো পুষে রাখতে চাইবে।

তাই প্রশাসনের লোকজনকেও সুবুদ্ধি ব্যবহার করে, নিখুঁত কলা কৌশলে মাধ্যমে, সন্ত্রাসী অমানুষ গুলাকে গাধার মতো নিজেদের কাজে ব্যবহার করাতে হবে।


মনে রাখতে হবে অন্যায়কারীরা নিজেদেরকে যতই চালাক মনে করুক না কেন, ওরা একেবারেই বোকা।

তা না হলে কি সবার আগে নিজের মনুষ্যত্বকে ধ্বংস করে, যার মনুষত্ব নেই সেই তো অন্যায় করবেই, কারণ যার মনুষত্ব নেই সেই তো অমানুষ। 

সৃষ্টি জগতের শ্রেষ্ঠ মানুষ হয়ে সৃষ্টি হওয়ার পরেও, সৃষ্টিকর্তার ভালোবাসার প্রিয় পাত্র মানুষ হয়ে জন্ম নেওয়ার পরেও, যে নিজের মনুষ্যত্বকে হত্যা করে অমানুষে পরিণত হয়, সে কতটা বোধ বুদ্ধিহীন, কতটা বোকা। তা কোন ভাষাতেই প্রকাশ করা যাবে না।

তাই আমি মনে করি যাদের মনুষ্যত্ব আছে নিশ্চয়ই তারা বিবেকবান। আর বোধ বুদ্ধিহীন অমানুষেরা, মনুষ্যত্বহীন পশুরা। বিবেকবান মানুষের সাথে কখনোই পেরে উঠতে পারবে না। 

তাছাড়াও ন্যায় কারীদের কে আল্লাহ সাহায্য করেন, নীতিবানদের কে আল্লাহ সাহায্য করেন, সত্যবাদীদেরকে আল্লাহ সাহায্য করেন, আল্লাহ ধ্বংস করেন মিথ্যাবাদীদেরকে। আল্লাহ ধ্বংস করেন ফেরাউনের মত অমানুষদেরকে।

তাই অবশেষে অমানুষ দের পরাজয় হবেই হবে ।

যারা সব সময় মন্দ কাজে থাকে, মন্দ চিন্তা-ভাবনা নিয়ে থাকে। তাদের মনবল নেই, মনে শান্তি নেই, সব সময় তারা হতাশাগ্রস্ত, সব সময় তাদের ভিতরে অশান্তি কাজ করে, যাদের ভিতরে অশান্তি বিশৃঙ্খলা তারা তো অশান্তি আর বিশৃঙ্খলা ছড়াতেই থাকবে।

যেমন ফুলের ভিতরে সুবাস থাকে তাই ফুল শুধু সুবাস ছড়াতে জানে।‌

যেমন চাঁদের ভিতরে জোছনা থাকে, তাই চাঁদ শুধু জোছনাই ঝরাতে জানে।

তাছাড়া সূর্যের ভিতর আলোও থাকে, তাপও থাকে তাই সূর্য আলো ও ছড়ায় তাপও ছড়ায়।

যার মনে মনে যে যা কিছু পুষে রাখে, যা কিছু ধারণ করে, তার কাজে-কর্মে আচার ব্যবহারে তাইতো প্রকাশ পাবে। তাছাড়া অন্য কিছু সে প্রকাশ করতে পারবে না।


আর যারা তাদের চিন্তা ভাবনায় ন্যায় কে পুষে রাখে। ন্যায়কে ধারণ করে, কাজে-কর্মে কথাবার্তায়। শুধুমাত্র তারাই ন্যায়ের পথে থাকে, সত্য কথা বলে ন্যায়ের সাথে চলে। ন্যায় বাঁচাতে কলা কৌশল অবলম্বন করে। প্রয়োজনের ন্যায়ের জন্য মৃত্যুবরণ করে।

 তবুও ন্যায় কে হেরে যেতে দেয় না। রক্ত দিয়ে হলেও, জীবন দিয়ে হলেও ন্যায় কে বাঁচিয়ে রাখে। 

এইসব মানুষ সবসময় মানসিক শান্তিতে থাকে। 

কারণ তারা জানে দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী।

আর এই দুনিয়ার কর্মফল চিরস্থায়ী।

 এখানে যে কোন মূল্যেই ন্যায় কে বাঁচাতে হবে। ন্যায়কে অমর রাখতেই হবে, নিজের প্রাণ যেকোনো সময় চলে যাবে, নিজের প্রাণ নিয়ে এতটা ব্যস্ত থাকার কোন মানেই হয় না। 


৩// নীতি নির্ধারণ:

প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়মকানুন ও নীতি তৈরি করা। 

এমন নিয়ম নীতি তৈরি করতে হবে যে, কোনভাবেই যেন কোন কারনেই যেন, রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা, কিংবা কোন সন্ত্রাসীরা, প্রশাসনের লোকদের কে তাদের ঘরে পুষে রাখা কুকুর, বিড়াল ছানা না বানাতে পারে।

প্রশাসনের লোক বনের রাজা সিংহের মত সাহসী থাকবে। কারণ তাদের কাছে সব সময় অস্ত্র থাকে। ন্যায় কে বাঁচাবার জন্য, আর অন্যায়কারীদের ধ্বংস করার জন্য।

কিন্তু প্রশাসনের লোকেরা যদি উল্টোটা করে। সত্যকে ধ্বংস করে আর অন্যায়কারীদেরকে বাঁচিয়ে রাখে।

 তবে প্রশাসনের মূল্যবোধ বলে কিছুই থাকবে না। 

মনুষত্ব বলে কিছু থাকবে না। তাইতো তারা সন্ত্রাসীদের ঘরের পোষা কুকুর, বিড়ালের ছানার মত সন্ত্রাসীদের পিছনে পিছনে মিউ, মিউ করতে থাকবে। 

অথবা ঘেউ, ঘেউ করতে থাকবে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পিছনে পিছনে মিউ, মিউ করতে থাকবে। অথবা ঘেউ, ঘেউ করতে থাকবে। 

প্রশাসনের লোকেরা ভুলে যাবে সিংহের মত গর্জন দেওয়া। প্রশাসনের লোকেরা যে তারা বনের রাজা সিংহ। তারা যদি নিজেরাই নিজেদের আত্ম সম্মানবোধ ভুলে যায়। 

সে ভুলের মাশুল তো তাদেরকেই দিতে হবে। নিজের অবস্থান ভুলে যাওয়ার কঠিন মাশুল দিতেই হবে। সেই মাশুল দিতে গিয়েই তারা প্রথমে অন্যায়কারীদের পায়ের কাছে পোষা বিড়াল হয়ে লাথি খাবে।

যদি প্রশাসনের মানুষের ভিতরে মনুষত্ব থাকে তবে, সিংহের মতো গর্জন দিয়ে নিজের সম্মান অর্জন করে,দেশকে সম্মানিত করে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে।

আর যদি গর্জন দিতে না জানে, তাহলে কুকুর-বিড়ালের মত মিউ মিউ আর ঘেউ ঘেউ করে সারা জীবন কাটাবে। 

আর আমাদের দেশে দুর্নীতিবাজ দেশ হিসাবে বিশ্বের বুকে থাকবে। ঘৃণিত অবহেলিত দেশ হিসাবে থাকবে।

এই দেশের ভাগ্য প্রশাসনের হাতে, প্রশাসন চাইলেই বিশ্ব দরবারে এই দেশকে সম্মানিত করে গড়ে তুলতে পারে।


৪// সংগঠন:

প্রয়োজনীয় জনশক্তি ও সম্পদ নিয়োগ এবং কাজের উপযুক্ত কাঠামো তৈরি করা। 

প্রয়োজনীয় জনশক্তি মানে যা প্রয়োজন, অপ্রয়োজনীয় কতগুলো অপদার্থ কে নিয়োগ দিয়ে, প্রশাসনের সুনাম ধ্বংস করার কোন মানে হয় না।

আমি অপ্রয়োজনীয় এই কারণে বললাম যাদেরকে ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়, কিংবা রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অনুরোধে নিয়োগ দেওয়া হয়, তারা অপদার্থ ছাড়া আর কিছুই না।

 কারণ যে ঘুষ দিয়ে চাকরি নিয়েছে সে ঘুষ খাবে। ঘুষের টাকা একবার যে খায় নেশার মতো মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ওই ঘুষ সে আর ছাড়বে না। এতে করে প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হবে। দেশের সুনাম নষ্ট হবে। দেশের মানুষের হয়রানি হবে। কোন কিছুই ভালো হবে না। 

নেতার সুপারিশে যাদেরকে চাকরিতে আনা হবে, তারা নেতার কথা মত উঠবস করবে। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-কানুন মেনে চলবে না। 

কারণ তাদের মাথায় এই কথাটা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে চাকরি দিয়েছেন নেতা।

তাই জনবল নিয়োগ দেওয়ার আগে এসব কথা মাথায় রাখতে হবে। কোন ভাবেই, কোন কারনে সুপারিসকৃত জনবল নেওয়া যাবে না, ঘুষ নিয়ে জনবল নিয়োগ দেওয়া যাবে না। 

কঠিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দুর্জয়, দুর্বার, দৃঢ় চেতা সাহসী, বিবেক বুদ্ধি সম্পন্ন, সুকৌশল জানা পরোপকারী দেশ প্রেমিক মৃত্যুঞ্জয়ীদের কে নিয়োগ দিতে হবে। যারা ন্যায় বাঁচাবার জন্য হাসিমুখে নিজের জীবন দিয়ে দেবে। যারা দেশের সম্মান রক্ষা করার জন্য মৃত্যুকে আলিঙ্গন করবে। যারা দুর্নীতিবাজদের সাথে আজীবন যুদ্ধ করবে। যারা রাজনৈতিক দল কিংবা নেতাকর্মীদের কোন পরোয়া করে না। যাদের কাছে সবার আগে দেশ এবং দেশ, তারপরেও দেশ।

৫// বাস্তবায়ন:

নির্ধারিত নীতি ও পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজগুলো পরিচালনা করা। 

বাস্তবায়নের পথে যে বা যারা বাঁধা হবে, সেই বাঁধা ভেঙ্গে চুরে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। সেটা সম্ভব না হলে সুকৌশলে সেই বাঁধা ডেংগিয়ে যেতে হবে। 

তবুও বাস্তবায়ন করতে হবে নিজেদের নির্ধারিত নীতি ও পরিকল্পনা। তবুও এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে বিশ্ব দরবারে, সকল দেশের সেরা হিসাবে।

Comments

Popular posts from this blog

নীতা আম্বানি

মনের মত এক মন

বলো