Posts

Showing posts from October, 2026

বাংলা

 বাংলা  খাদিজা বেগম  বাংলা আমার চোখের মনি  বাংলা আমার বসত বাড়ি ভিটা,  বাংলা আমার মাতৃভাষা  এই ভাষাটা মধুর চেয়েও মিঠা।। বাংলার পাখি বাংলার বৃক্ষ  বাংলার নদী ভালবাসি আমি,  বাংলার বুকে যা আছে সব  আমার প্রাণের চেয়ে বেশি দামি। বাংলার সবি অমূল্য ধন  হয় যদিও তাহা ধানের চিটা।। বাংলার কৃষক বাংলার শ্রমিক  তাদের পায়ে হাজার সালাম জানাই, তারা বাংলার সাহসী বীর  তাদের ঘামে সুখের স্বপ্ন বানাই।। বাংলার সন্তান যখন জাগে  দূর হয়ে যায় রাতের সকল আঁধার, সোনার আলো ছড়িয়ে দেয়  তাদের কোন পারোয়া নাই বাঁধার। খেতে ভারি মজা লাগে  আমার বাংলা মায়ের হাতের পিঠা।

এক পারাতে থাকি

 এক পাড়াতে থাকি  খাদিজা বেগম  জন্ম থেকেই তুমি আমি  এক পাড়াতে থাকি, চোখের আড়াল হলেই তোমায়  মনে মনে ডাকি।। তোমার আশায় থেকে থেকে  যুগ ফুরালো আমার,  তবু তোমার আশায় বাঁচি  দেখা দাও না একবার। বৃষ্টি আসার আশায় যেমন  থাকে চাতক পাখি।। তোমার চলার পথের পাশে  বারে বারে দাঁড়াই,  এই বুঝি গো আসলে তুমি  তাই ভেবে চোখ বাড়াই।। চোখের সামনে পাইনা তোমায়  স্বপ্নে মারো উঁকি, এই উঁকিতেই বারে আমার  প্রাণ হারানো ঝুঁকি।  তোমায় দেখার বায়না ধরে  ঘুম হারালো আঁখি।।

মেঘ বৃষ্টিতে

 মেঘ বৃষ্টিতে  খাদিজা বেগম  এমনো মেঘ বৃষ্টিতে মন  বারে বারে তোমাকে চায়,  চায় পেতে খুব কাছাকাছি  কেমন করে বলি বো হায়।। হিমেল হাওয়ার ছোঁয়ায় ছোঁয়ায়  এই হৃদয়ে জ্বলে আগুন, বৃষ্টির সুরে সুরে যেন  নিয়ে এলো প্রেমের ফাগুন।  আজ তোমাকে কাছে পেলে পায় পরিতাম প্রেমের দায়।। এই হৃদয়টা আর পারিনা  আমি রাখতে আমার বসে,  মোমের মত পুড়ে পুড়ে  আপনা আপনি যাচ্ছে ধ্বসে।। এই মনে চায় আদর সোহাগ  দুজন করি ভাগাভাগি, বৃষ্টি ভেজা দিনের শেষে  রাতে এসেও একলা জাগি। তুমি ছাড়া নেই তো উপায়  প্রেম দহনে মন পুড়ে যায়।।

ভালোবাসার টানে

 ভালোবাসার টানে  খাদিজা বেগম  আখ থেকে হয় আখের চিনি  বাঁশ থেকে হয় বাঁশের বাঁশি,  মন থেকে হায় ভালোবাসা  ভালোবাসার টানে কাছে আসি।। চন্দ্র থেকে জ্যোৎস্না ঝরে  মেঘ থেকেও ঝরে পড়ে বৃষ্টি, ভালোলাগা থেকে প্রেম হয় প্রেম থেকে হয় মনে মায়ার সৃষ্টি।  মুকুল থেকে সুবাসি ফুল  ফুলে ফুল ছড়ায় মধুর হাসি।। পানি থেকে জীবন গড়া  মাটি থেকে গড়া সোনার দেহ, বিরহে মন না পোড়ালে  মিলনের সুখ খুঁজে পায় না কেহ।। অন্ধকার রাত পার না হলে কেউ পাবে না আলোকিত সকাল,  ভালোবাসা অমূল্য ধন  বোঝে সে যার ভালোবাসার আকাল।  ভালোবাসা চিরসবুজ  ভালোবাসা কভু হয় না বাসি।।

আমায় মানুষ ভাবো

 আমায় মানুষ ভাবো  খাদিজা বেগম  আমি বাঁচতে চাই না বাঁচতে চাই না খেয়ে তোমার আয়ের একটি রুটি,  তবু আমার পায়ে পায়ে  এমন করে আর ধরো না ত্রুটি।। তৃষ্ণায় তৃষ্ণায় কাতর হলেও  চাই না তোমার হাতের জলের বাটি, মরার পরেও চাই না আমি  তোমার হাতের একটি মুঠো মাটি। আমায় নিয়ে আর খেলো না  আমি নয়তো কোন খেলার গুটি।। তোমার হতে চাই না পেতে  ভালোবাসা আদর যত্ন সম্মান, তবু আমায় মানুষ ভাবো  যখন তখন করো না অপমান।। চাইনা পেতে কোন সারপ্রাইজ  আমি চাইনা পেতে ঈদ উপহার, তবু মিথ্যে অপবাদে  আমায় তুমি কাঁদাইওনা বারবার। অপমানে অবহেলায়  আমি ক্লান্ত আমাকে দাও ছুটি।। তোমার মুখের কথা গুলো  তীরের মত বুকে এসে লাগে,  মন মরে যায় ব্যবহারে  বারে বারে মরনের সাধ জাগে। আলোর মাঝে বিষন্নতা  ঢেকে রাখি হাসির উৎস মেখে,  অন্তর ভরা হাজার ক্ষত  কখনো কেউ যেন তা না দেখে।  তোমার কাছে শেষ মিনতি  তোমার জায়গায় হয় না যেন কবর,  বেওয়ারিশ বলে আমায়  মাটি দিও সরকারি মাটির ভেতর।।

ঝামেলাটা

 ঝামেলাটা  খাদিজা বেগম  ঝামেলাটা যেন ইঁদুর  তেলাপোকা টিকটিকিদের মত, প্রতি ঘরে লুকিয়ে রয়  শক্ত হাতে তাড়িয়ে দাও যত।। কভু চায় না কেউ ঝামেলা  তবু কারো ঘর ছেড়ে সে যায় না, এই ঝামেলা এত কঠিন  তার কারনে কেহ শান্তি পায় না।  জীবনের নাম বুঝি কষ্ট  তাই তো কষ্ট থাকে অবিরত।। মাটির ভেতর সোনার খনি  তেমন কষ্টের ভিতর থাকে স্বস্তি, মনে রেখো বেশিতে বিষ  কম খাওয়াতে কম বলাতেই মাস্তি।। গুরুত্ব দাও নিজের প্রতি  গুরুত্ব দাও ধৈর্য্য ধরে রাখার, গুরুত্ব দাও আপন জনকে গুরুত্ব দাও সত্যের সাথে থাকার। প্রেমের কাছে ক্রোধ খাটেনা  প্রেমের জন্য ক্রোধ হয়ে যায় নত।।

নিজের মেয়ে লক্ষী

 নিজের মেয়ে লক্ষী  খাদিজা বেগম  নিজের মেয়ে লক্ষী সোনা  নিজের বোনটা ধোয়া তুলসী পাতা,  ছেলের বউটা মানুষ তো নয় ষড়যন্ত্রে ভরা বউয়ের মাথা।। এমন চিন্তা করা মানুষগুলো  মানুষ নাকি একবার দেখ ভেবে,  তুমি যদি না দাও সম্মান  কে তোমাকে তবে সম্মান দেবে। ছেলের বউকে মেয়ে ভেবে  চেষ্টা কর ঘুচাতে তার ব্যথা।। সব মানুষে মাটির তৈরি  সবার ভেতর যন্ত্রনাতে ঘেরা, নাইবা ভালো লাগতে পারে  অন্য লোকের কথা চলাফেরা।। তোমার মতে মত মিলালেই  তোমার কাছে তারাই শুধু ভালো, মতের অমিল করলো যারা  কেন ভাবো তারা সবাই কালো। ভিন্ন ভিন্ন রঙে রূপে  মতে ভরা এই জীবনে খাতা।। #ছলের_বউ #খাদিজা_বেগম @highlight

কর্ম গুনে মানুষ বড়

 কর্মগুনে মানুষ বড়  খাদিজা বেগম মানুষ কভু হয় না বড়  শত বছর বেঁচে থাকার মাঝে,  কর্মগুনে মানুষ বড়  বড় হবার প্রমাণ থাকে কাজে।। সম্পদে নয় সনদে নয়  উচ্চতায় নয় মানুষ শ্রেষ্ঠ জ্ঞানে, নৈতিকতাই আসল ধর্ম  এই কথাটা জ্ঞানী-গুনি জানে। অশ্লীল কথা জ্ঞানীর কানে  বিষ মাখানো তীরের মত বাজে।। অনৈতিক পথ মহাবিপদ  জানার পরেও যে মানুষ পা বাড়ায়,  অনৈতিক কাজ করে করে  সেই মানুষে শয়তান কেও হারায়।। ভুল করে ভুল হয়ে গেলে  ক্ষমা করে মানুষ হয়ে ওঠো,  সহযোগী ন্যায় পরায়ণ  মানুষ হয়ে ফুলের মত ফোটে।। ঘ্রাণ ছড়িয়ে ফুল ঝরে যায় তাই এতো ঘ্রান হাওয়ার ভাঁজে ভাঁজে।।

ভাবনার অথৈ জলে

 ভাবনার অথৈ জলে খাদিজা বেগম  তোমার ভাবনার অথই জলে  ডুবে গেছে আমার প্রেমিক মন,  তাইতো আমার ভাবনা জুড়ে  শুধু তুমিই থাকো সারাক্ষন।। তোমায় ভেবে চাঁদের সাথে  কথা বলি সাক্ষী আছে রাত,  ঘুমের ঘোরে তোমায় দেখে  ভালোবেসে বাড়িয়ে দেই হাত।  তুমি ছাড়া পর লাগে সব  তুমি আমার প্রাণের আপনজন।। তুমি এলে মন বাগানে  পুষ্প ফোটে পাখিরা গায় গান,  বৃষ্টির জলে প্রেমিক হৃদয়  নেচে নেচে করে সুখের স্নান।। কল্পনাতে দেখি আমি  গল্পের মত তোমার সুন্দর মুখ, তুমি আমার মনের মানুষ  তোমার মাঝেই আমার সকল সুখ।  তুমি আমার এমনি জন  সারা জীবন তোমায় প্রয়োজন।।

তোমার কথার কথা

 তোমার কথার কথা  খাদিজা বেগম ভালবাসি ভালবাসি  ওসব ছিল তোমার কথার কথা,  সেই কথা কে বিশ্বাস করে  আমি পেলাম এত কঠিন ব্যথা।। কেন আমি অবুঝ ছিলাম  ছিলাম এত বেশি সহজ-সরল,  একবারও তো বুঝতে চাই নি  খুঁজতে চাইনি তোমার মনের গরল। উইপোকাতে যে গাছ খেলো  আমি যেন তা জড়ানো লতা। আমি ছিলাম প্রেমে অন্ধ  সেই সুযোগে তুমি খেললে জুয়া,  চোখ খুলে আজ দেখি আমি  তোমার ভালবাসা ছিল ভুয়া।। তিল পরিমাণ থাকলে মায়া  তুমি আমার প্রতি থাকতে সদয়, একটুখানি বাসলে ভালো  তুমি ভাঙতে পারতে না এই হৃদয়। তোমায় ভালোবেসে আমার চঞ্চল মনে লাশের নীরবতা।।

আসবো ছুটে

 আসবো ছুটে  খাদিজা বেগম  আর ফেলোনা নয়নের জল ছুটি পেলেই আমি আসবো ছুটে,  তোমার আমার ভালোবাসা  অটুট রবে তা যাবে না টুটৈ।। যত দূরেই যাই না আমি  তোমার কাছেই পড়ে থাকবে এই মন,  যেথায় থাকি তোমার থাকবো আর কেঁদো না এবার মোছো নয়ন। জমানো থাক আদর সোহাগ  হঠাৎ করে এসেই নেব লুটে।। না যাই যদি একটু দূরে  আবার আসবো কেমন করে কাছে,  ভালোবাসা পাখির মত  বিশ্বাস নামের ডানায় উড়ে বাঁচে।। ছায়ার মতো পাশের রবো  অন্ধকারে মিশে যাবো আমি, বিশ্বাস করো প্রাণের প্রিয়া  তুমি আমার প্রাণের চেয়ে দামি। বিরহ না আসে যদি  মিলন কি আর মধুর হয়ে উঠে।।

ভালবাসতে বারণ

 ভালবাসতে বারণ খাদিজা বেগম  কেন তোমায় ভালবাসতে  তুমি আমায় করলে বারণ,  দিবানিশি ভেবে ভেবেও  আমি পাইনি কোন কারণ।। নিদ্রা হীনা দুই নয়নে  ঝরো ঝরো শ্রাবণের ঢল,  প্রেমের বদলে দিয়ে গেলে  যন্ত্রনাময় নয়নের জল।  নাকি তুমি অন্য কাউকে  ভালোবেসে দিয়েছো মন।। কেমন করে শান্ত থাকি মনের বদলে মন পেলাম না,  প্রতারণার শিকার হলাম প্রেমের বদলে প্রেম পেলাম না।। কাছে এসে কেন তুমি  আবার দূরে সরে গেলে, ভালোবেসে দোষী হলাম  তাইতো বন্দী কষ্টের জেলে।  বুকের আগুন লাভা হয়ে  দিবানিশি পুড়ছে জীবন।।

প্রেমের মামলা

 প্রেমের মামলা  খাদিজা বেগম দেওয়ানি নয় ফৌজদারি নয়  একটা প্রেমের মামলা করব তার নামে,  তার প্রেমেতে পাগল করে  সে ডুবালো ভালবাসার দুর্নামে।। চোখ ইশারায় মন নিয়েছে  মান নিয়েছে মিষ্টি হাতের ছোঁয়াতে, এখন তারে পাই না খুঁজে চায় না আমার কলঙ্কের দাগ ধোঁয়াতে। আগে থাকতো আমায় ঘিরে  দেখতাম তারে আমার ডানে ও বামে।। ভালোবেসে মন দিয়েছি  তার থেকে ওই মনটা পাবার আশাতে, সুখী মনটা দুঃখী করে  চলে গেছে মিথ্যে ভালো বাসাতে।। কলঙ্কের দাগ বইছি আমি  এই সমাজে সে যেন এক ফেরেশতা, সে দেখলে পাশ কাটিয়ে যায়  যেন আমার আর তার মাঝে নাই রেসতা। আজ মনে হয় ভুল করেছি  ভুল মানুষের ভালবাসার উদ্দামে।। সাক্ষী ছাড়া মন দিয়েছে  চুক্তি ছাড়া তারে ভালো বেসেছি,  সাক্ষী প্রমাণ নেই তো আমার  তাইতো আমি নয়ন জলে ভেসেছি। আমার জীবন লাশের মতন  থেমে গেছে প্রতারণার জ্যামে।।

বুঝি না

 বুঝি না  খাদিজা বেগম  দিন বুঝি না রাত বুঝি না  না বুঝি না কোন আলো অন্ধকার,  ঘর দেখি না বার দেখি না  চতুর্দিকে দেখি শুধু বন্ধ দ্বার।। ডান দিকে নাই বাম দিকে নাই  নাই তুমি নাই খুঁজব কোথায় তোমাকে, সম্মুখে নাই পেছনে নাই  দাও সারা দাও তোমাকে এই মন ডাকে।  নিজো গুনে দেখা দিয়ে  দূর করে দাও এই হৃদয়ের হাহাকার।। তুমি যদি না দাও দেখা  তোমায় দেখার নয়ন আমার সাথে নাই,  তোমায় দেখার তৃষ্ণার আগুন  আমায় পুড়ে পুড়ে করে দিল ছাই।। তৃষ্ণা দিলা দিলের মাঝে  তুমি একবার আমায় দেখা দিলা না, পরের মত সরে থাকো তুমি কি গো আমার আপন ছিলা না। প্রথম ধরার মতো করে তোমার হাতে রাখো ধরে ফের আবার।।

পবিত্রময় সত্য

 পবিত্র ময় সত্য  খাদিজা বেগম  তোমার হতে চাইনা পেতে  দৌলত জৌলুস কোন আধিপত্য,  ক্ষমা করে দেখিয়ে দাও  যে পথ চির পবিত্র ময় সত্য।। ডুবে যেন যাই না আমি  লোভ-লালসা কাম বাসনার মাঝে,  আমায় তুমি ব্যস্ত রাখো  ভাঙা হৃদয় জোড়া দেবার কাজে। ভুলে ভরা এই জীবনটা  শুধরাতে দাও সত্য ন্যায়ের তথ্য।। প্রয়োজনের অতিরিক্ত  মান দিও না ধন দিও না আমায়,  জীবন যেন না ভরে যায় অপমান আর দুঃখ অবহেলায়।। ভিক্ষুক হয়ে ভিক্ষা চাইছি  তোমার সেজদায় আমার হৃদয় পেতে, কেহ যেন দুঃখ না পায়  আমার কাছে সাহায্যের হাত পেতে। যার কারনে শক্তি পাবো আমাকে দাও এমন একটা পথ্য।।

বাসবো ভালো

 বাসবো ভালো  খাদিজা বেগম  তোমায় আমি বাসবো ভালো  ঠিক করেছি দ্বিধা দ্বন্দ্ব ভুলে, ভেবে চিন্তে তাই এসেছি  আমাকে দাও মনের দুয়ার খুলে।। প্রেম বিহনে দিনে দিনে  সুখ হারানো যন্ত্রণাতে ভুগি, একটুখানি ভালোবাসা  পাবার আশায় মন হয়েছে রোগী। মনে মনে মন ভ্রমরা  উড়ে উড়ে ঘুরে বেড়ায় ফুলে।। আকুল হৃদয় ব্যাকুল হলো  তোমার ভালোবাসা পাবার আশায়,  হাত বাড়িয়ে নাও জড়িয়ে  বেঁধে রাখো তোমার ভালোবাসায়।। তুমি যদি মন না বোঝো  তোমায় আমি বোঝাবো কি দিয়া,  তোমার প্রেমে মন দেওয়ানা প্রেম পিপাসায় পিপাসিত হিয়া। তোমার টানে মন ছুটে যায় যেমন করে ঢেউ ছুটে যায় কূলে।।

শেষ বিচারে

 শেষ বিচারে  খাদিজা বেগম  শেষ বিচারে তোমার আমার  বিচার করবেন যিনি,  উকিলা হবেন সাক্ষী হবেন  সবি হবেন তিনি।। তাইতো তিনি আমার ওপর  সদায় রাখেন নজর, কি ভেবেছি কি করেছি  রাখেন সকল খবর। তার দয়া আর ক্ষমার কাছে  আমি অশেষ ঋণী।। যা খুশি তাই করে বাড়াই  তার খুশি না ভেবে,  তার আশাতেই থাকি তবু  ক্ষমা করে দেবে।। ক্ষণিক সুখের নেশায় ডুবে  চাই না পাপের মাস্তি, শেষ বিচারে চাইনা পেতে  জাহান্নামের শাস্তি।  তাই ক্ষমা চাই তোমার কাছে  আমি প্রতিদিনি।। তোমার দেয়া এই সময়টা  অনেক বেশি দামি,  এই সময়ের অপচয় আর  করি না যে আমি। আমি যেন সত্যের দামে   মিথ্যাকে না কিনি।।

বন্ধু ভেবে

 বন্ধু ভেবে  খাদিজা বেগম আমায় তোমার বন্ধু ভেবে  ঐ হৃদয়ের মাঝে নাই বা রাখো,  আমায় সাদা কাগজ ভেবে  তোমার হাতে রঙের ছোঁয়া মাখো।। আমায় যদি না নিয়ে যাও হাতটি ধরে তোমার চলার পথে, ছন্দে ছন্দে সাজিয়ে দাও  আমি তোমার চাই কবিতা হতে। তুমি বন্ধু হও বা না হও  তুমি আমার শত্রু হয়েই থাকো।। কভু ফুলের মালা ভেবে  না জড়ালে আমায় তোমার গলায়, তবু ঝরা পাতার মত পিষ্ঠ হতে দিও পায়ের তলায়।। মাথার মুকুট নাই বা হলাম  পায়ের জুতা হলেও আমি ধন্য,  তোমার দেয়া দুঃখ গুলো  সুখ হয়ে যায় তুমি দেবার জন্য। এই হৃদয়ের সাদা পাতা  তোমায় দিলাম যা খুশি তাই আঁকো।।

বাদল ধারা

 বাদল ধারা  খাদিজা বেগম  ঝরো ঝরো ঝরে পড়ে  ওই বাহিরে বাদল ধারা,  মনে মনে মন তোমাকে  ডেকে ডেকে পাগলপারা।। ভেজা ভেজা সমিরনে  লজ্জাবতী মন ভিজে যায়, ফিরে ফিরে কারে যেন  মন পেতে চায় মরি লজ্জায়। বৃষ্টির তালে তাল মিলিয়ে  কে যেন দেয় প্রেম ইশারা।। বাদলের জল দেয় জ্বালিয়ে  একে একে প্রতি অঙ্গন,  তুফানের ভয় ভেঙে মনে  উঠলো জেগে প্রেম তরঙ্গ।। বারে বারে স্মৃতির পাতায়  একটি মুখের ছবি ভাসে, একটু সুখের ছোঁয়া পেতে  মন চেয়েছে তোমায় কাছে।  ঝরো ঝরো বাহিরের ঝড়  ভিতর থেকে করে তাড়া।।

ভাল্লাগে না ছাই

 ভাল্লাগে না ছাই  খাদিজা বেগম  ভাল্লাগে না ভাল্লাগে না  আমার কিছু ভাল্লাগে না ছাই,  যারে পেলে ভালো লাগবে  এখন তারে কোথায় খুঁজে পাই।। মন বসে না কোন কাজে  চোখে ভাসে তার মায়াবী মুখ,  তারে ছাড়া অসুখ অসুখ  তারে পেলেই লাগে শুধু সুখ। কেমন করে তারে বোঝাই  মনে প্রাণে চাই তারে চাই।। আমানিশা রাতের মত  তারে ছাড়া লাগে অন্ধকার, সে এলে এই বুকের ভিতর  দূর হয়ে যায় সকল হাহাকার।। সে এলে খুব বৃষ্টি আসে  পুষ্প ফোটে হাওয়ায় ছড়ায় ঘ্রাণ, তারে ছাড়া লাশের মত  যেন আমি পাই না খুঁজে প্রাণ। মন তারে চায় আপন করে  তারে ছাড়া বাঁচার উপায় নাই।।

আজো হয় নি

 আজো হয়নি  খাদিজা বেগম  তোমার পায়ে পা মিলিয়ে  আজো হয়নি তোমার সাথে চলা, তোমার মনে মন মিলিয়ে  আজো হয়নি মনের কথা বলা।। তবু তোমায় মনে মনে  মন বেসেছে এতো বেশি ভালো, মন ডুবেছে ভালবাসায়  তুমি যেন এই জীবনের আলো। তোমার মালা পরার জন্য  আজো শূন্য রেখেছি এই গলা।। চোখ মুজিলে হৃদয় মাঝে  অনুভবে পাই তোমাকে আমি, চোখ খুলিলে পাই না তোমায় তোমায় ভেবেই যখন তখন থামি।। তোমায় খুঁজে খুঁজে আমি  জেনে গেছি নাম ঠিকানা তোমার,  কেমন করে তোমায় পাবো  সেথায় যাবার ক্ষমতা নাই আমার। আমি থাকি এই মাটিতে  তুমি থাকো অধরা সাত তলা।।

প্রতিশ্রুতি দিয়ে

 প্রতিশ্রুতি দিয়ে  খাদিজা বেগম  ভালবাসি বলে বলে  ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে,  জনম জনম পাশে থাকার  ওয়াদা দিয়ে করে ছেলে বিয়ে।। তার পরে আর খোঁজ রাখোনি  কেমন আছি তোমার ঘরে আমি, স্ত্রী এখন গুরুত্বহীন  স্বামীর কাছে বাহিরের সব দামি। আমি এখন ব্যস্ত থাকি তোমায় সুখে রাখার দায়িত্ব নিয়ে।। তুমি করো প্রতারণা  তা জেনেও চুপটি করে থাকি,  ভাঙে না যে সন্তানের মন  ভাঙ্গা হৃদয় নিয়ে কাঁদে আঁখি।। তবু আমায় বিনা দোষে  বের করে দাও ঘারে ধাক্কা দিয়ে,  কাপুরুষেই ধ্বংস করে স্ত্রী সন্তান রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী  জ্বলবে একদিন জাহান্নামে গিয়ে।।

মনে পড়ে কি না

 মনে পড়ে কি না  খাদিজা বেগম  আর করো না এমন প্রশ্ন  আজো তোমায় মনে পড়ে কি না,  পৃথিবীতে কে ভালো রয় ভালো রাখার একটা মানুষ বিনা।। আমি এখন ভালোই আছি আমার আছে ভালো রাখার মানুষ,  যত্ন করে রাখে আমায়  গোপন করে রাখে আমার সব দোষ। রাত গভীরে আমার জন্য  আদর করে বিছিয়ে দেয় সিনা।। তোমায় কবে ভুলে গেছি  তাও এখন আর পড়ে না মনে,  পৃথিবীটা স্বর্গ আমার  যখন থেকে থেকেছি তার সনে।। সেও মানুষ তারো হয় ভুল  ভুল নিয়ে নেই কোন বাড়াবাড়ি,  দুজনেই ভুল এড়িয়ে যাই  ক্ষমা করে দেই খুব তাড়াতাড়ি। তাইতো অনেক ভালো আছি  কারো প্রতি নেই কারো রাগ ঘৃণা।।

ললনা

 ললনা খাদিজা বেগম  ঐ ললনার মিষ্টি মিষ্টি  দুষ্ট চোখে জানি না কি,  যত দেখি চোখ ফেরেনা  আবাক হয়ে চেয়ে থাকি।। পূর্ণিমার ঐ চাঁদের মত  চন্দ্রমুখী ঐ মুখ দেখে,  রাত্রি জেগে মন ভিজে যায়  তার রূপের ঐ জোৎস্না মেখে। মনে চাই খুব তারে আমার  বুকের আড়াল করে রাখি।। ফুলের ঘ্রাণে ও হার মেনেছে  তার ওই চুলের ঘ্রাণের কাছে, তারে দেখে মন ভোমরা  সুখে হেলেদুলে নাচে।। তার হাসিতে পুষ্প ফোটে  হাওয়ায় হাওয়ায় সৌরভ ছড়ায়,  তার কথাতে মধু মাখা  সুরে সুরে মনটা ভড়ায়।  তারে শুধু দেখিতে চায়  ঘুরেফিরে আমার দুটি আঁখি।।

সূর্যের আলো

 সূর্যের আলো  খাদিজা বেগম  আজ কত দিন হয়ে গেলো  সূর্যের আলো আমার চোখে দেখি নাই,  আজ কত রাত হয়ে গেলো  চাঁদের আলো আমার গায়ে মাখি নাই। দেখি না গাছ দেখি না ফুল  হাওয়ায় হাওয়া পাই না কোন ফুলের ঘ্রাণ,  মরে গেছি নাকি আমি  নাকি আছি বেঁচে পাই না খুঁজে প্রাণ। মন চায় পাখি হয়ে উড়ি কেমন করে উড়বো আমার ডানা নাই।। বন্দী মানুষ থাকার চেয়ে  স্বাধীন পাখির জীবন যাপন খুব ভালো, আলো ছাড়া এই অন্ধকার  লাগে যেন সেই কবরের ন্যায় কালো।। আলো ছাড়া এই জীবনে  আসিনি আর এমন তীব্র দুর্ভিক্ষ,  আলোর ক্ষুধায় চোখ জ্বলে যায় চোখ জুড়াতে চোখ দেখিতে চায় বৃক্ষ। এই দুর্ভিক্ষ থেকে মুক্তির  কোন দুয়ার আছে কিনা জানা নাই।।