Posts

Showing posts from September, 2026

শরীর চায়

 শরীর চায়  খাদিজা বেগম  এই শরীর চায় তোমার শরীর  এই মনে চায় তোমার ঐ মন,  প্রতি অঙ্গ কেঁদে কেঁদে  তোমার অঙ্গের চায় আমন্ত্রণ।। মেঘলা দিনে কিংবা রাতে শীত বসন্ত গ্রীষ্ম বর্ষায়, কাছাকাছি থাকো তুমি  সব ঋতুতে মন চায় তোমায়। খুব সকালে নয়ন খুলেই  তোমায় খোঁজে আমার নয়ন।। তুমি কেন প্রেম বোঝনা  প্রেম বিহনে প্রাণ বাঁচে না,  ভালোবাসা ছাড়া কভু  পাখি গায় না ফুল হাসেনা।। ওই মনে এই মন জড়িয়ে  তুমি ছুঁয়ে থাকো আমায়,  যেমন করে গাছ জড়িয়ে  গাছের সাথে থাকে লতায়। তোমার একটু মিষ্টি ছোঁয়ায়  হৃদয়ে বয় সুখের প্লাবন।।

প্রবল তৃষ্ণা

 প্রবল তৃষ্ণা  খাদিজা বেগম  তোমার ঠোঁটের পাপড়ি দেখে  আমার ঠোঁটে প্রবল তৃষ্ণা জাগে,  ঠোঁট পেতে চাই ঠোঁটের ছোঁয়া  এমন চাওয়া ছিল না তো আগে।। তোমার হাতের আঙ্গুল যখন  ছুঁয়ে দিল আমার আঙ্গুলগুলো,  ভালোবাসার ঝড় তুফানে  উড়ে গেল জমানো সব ধুলো।  এই মন যেন মুক্ত পাখির  ডানা মত হালকা হালকা লাগে।। চলো উড়ে যাই আকাশে  ভেসে বেড়াই নীল সমুদ্রের জলে, তোমায় দেখে মন খুশিতে  নেচে ওঠে একেই কি প্রেম বলে।। তুমি আমার মনের তৃপ্তি  তুমি আমার হৃদয়ের সুখ শান্তি,  তোমার ছোঁয়ায় দূর হয়ে যায়  এই জীবনে দুঃখ কষ্ট ক্লান্তি। তুমি এলে বৃষ্টি নামে   সুখ ছড়িয়ে ফুল ফোটে মন বাগে।।

ভূমিকম্পের মত নাড়ায়

 ভূমিকম্পের মত নাড়ায় খাদিজা বেগম  তোমার ছোঁয়ায় আমার মন কে  ভূমিকম্পের মত নাড়ায়,  তোমার প্রেমে অস্থির এ মন স্থির থাকতে দেয় না আমায়।। তোমার ঠোঁটের মিষ্টি হাসি  পরমাণু শক্তিকে হার মানায়,  তাই তো আমি হার মেনেছি  শুধু তোমার ভালোবাসায়। তোমার ভাবনায় বিভোর হয়ে  ডুবে থাকি তোমার পাড়ায়।। আমার এ মন মনে মনে  জোট বেঁধেছে তোমার মনের সনে,  হাওয়ায় হাওয়ায় ফুলের সৌরভ কোকিলের গান ফাগুন বনে বনে।। মায়া ভরা দুই নয়নের  মায়ায় মায়ায় ডুবে গেলাম আমি,  আজ মনে হয় পৃথিবীতে  তুমি ছাড়া আর কিছু নাই দামি। তাইতো তোমায় পাবার জন্য  বারে বারে মন থেকে মন বাড়ায়।।

প্রথম প্রথম

 প্রথম প্রথম  খাদিজা বেগম  প্রথম প্রথম প্রেমে পড়লে  অকারনে ভয় ভয় লাগে,  ভয় কাটিয়ে মনে প্রাণে  ভালোবাসার তৃষ্ণা জাগে।। প্রেমের চিঠি খোদাই করে  লেখা থাকে চোখের পাতায়,  ভালোবাসা ফুটে ওঠে  না বলা সব কথায় কথায়। প্রথম প্রেমের পরশে সব  দুঃখ গুলো দৌড়ে ভাগে।। হৃদয় ছিল মরুভূমি  তোমায় দেখেই জোয়ার উঠলো, দাবানলে পোড়া মনে  তোমার ছোঁয়ায় পুষ্প ফুটলো।। তোমায় পেয়ে প্রাণ পেয়েছি  তুমি যেন আমার জান্নাত, তোমায় ছাড়া চাইনা আমি এই ভুবনে কোন হায়াত।  আজ মনে হয় কেন তোমায়  আমার করে পাইনি আগে।।

কেন প্রেমে পরলাম

 কেন প্রেমে পারলাম  খাদিজা বেগম  কেন প্রেমে পরলাম আমি  কেন ভালোবাসলাম তোমায়,  এখন আমার মন পুড়ে যায়  প্রেম হারানো ব্যথায় ব্যথায়।। তোমার দেয়া ব্যথাগুলো  অশ্রু হয়ে ঝরে পড়ে,  তবুও আমি চেয়ে থাকি  তোমার স্মৃতির সেই পথ ধরে। আজো তোমার পদচিহ্ন  আমার মনের পাড়ায় পাড়ায়।। তুমি ছিলে হৃদয়ের প্রেম  সুখ জাগানো জাদুর কাঠি,  সেই তুমি আজ কই হারালে আমায় দিয়ে জ্যান্ত মাটি।। তোমায় আমি প্রাণ ভেবেছি  তবু আমায় ছেড়ে দিলে, এখন আমায় মৃত্যুরা খায়  সকাল বিকাল গিলে গিলে। প্রেম কেন হয় ধূপের মত  ঘ্রাণ ছড়িয়ে সে পুড়ে যায়।।

কথা

 কথা  খাদিজা বেগম  দাবানলের চেয়েও অমানুষের  মুখের কথায় আগুন বেশি থাকে,  দাবানলে বোন পুড়ে যায়  অকথায় মন পুড়ে যায় কেউ দেখেনা তাকে।। কথা বলার আগে ভাবো  ভেবেচিন্তে পরে কথা বলো, কেন কটু কথা বলো অকারনে কথায় কথায় জ্বলো। ভালো কথার ভালোবাসায়  দূরের মানুষ কাছে টেনে রাখে।। মন্দ কথার গন্ধে গন্ধে  কাছের মানুষ যায় চলে যায় দূরে,  মন্দ কথার তীব্র তাপে  দিবানিশি বুকের ভেতর পুড়ে।। সাপের চেয়েও বিষ বেশি রয়  মন্দ লোকের মুখের কথায় কথায়, মন্দ থেকে দূরে থাকো  নইলে জীবন ভরবে ব্যথায় ব্যথায়। মানুষরূপী বিষাক্ত সাপ  ছোবল মারে কথার ফাঁকে ফাঁকে।।

শূন্য করো

 শূন্য করো খাদিজা বেগম  শূণ্য করো শূণ্য করো মন ভরা সব রাগ জেদ আমি আমি ভাব, তবেই তোমার পাপিষ্ট মন নবজাতক শিশুর মতন হবে ছাফ।। ভরা যায় না পূর্ণ তাতে  যে মন ভরা কানায় কানায় পাপে, পাপিষ্ট মন খালি করো অশ্রুর অনুতাপে অনুতাপে। আমার আমার অহংকারী ভাবে তোমার জীবন হয়ে যাবে অভিশাপ।। লোভ লালসা কাম বাসনা  ত্যাগে ত্যাগে জীবন করো উপভোগ, লোভে কামে তাল মিলালে  মনে মনে বেড়ে যাবে মনের রোগ।। ভাটায় ভাটায় শূন্য হলেই  ফিরে আসে দূষণ মুক্ত পূর্ণতা, ভাটার স্রোতের মত করে  বারে বারে প্রয়োজন হয় শূন্যতা।।  শূন্যের পরেই পূর্ণ হবে  শূন্য কর ওই মনের সব গোপন পাপ।।

সবাই ঘুমিয়ে যায়

 সবাই ঘুমিয়ে যায়  খাদিজা বেগম  যখন সবাই ঘুমিয়ে যায়  মন বাড়িয়ে আমি খুঁজি তোমায়, দিনের সকল অনুভূতি প্রকাশ করি রাতের নীরবতায়।। আমি জানি তুমিও তো  আমায় খোঁজো আমার চেয়েও বেশি,  আমায় দেখা দাও না তবু  ছুয়ে থাক আমার মাংসপেশি। তাইতো আমার মাটির দেহ  আজো উষ্ণ তোমার সেই উষ্ণতায়।। রাত্রি তুমি দিনও তুমি  তোমার আশ্রয় এক আশ্রিতা আমি, তুমি এক ও অদ্বিতীয়  এই অন্তরে তুমি অন্তর্যামী।। চোখের দেখা নয়তো বড়  তাইতো তোমায় চোখ দেখে না কভু,  তুমি বড় থেকেও বড়  তুমি অসীম ক্ষমতাবান প্রভু। নমনীয় করে দিও  যত নমনীয় থাকি সেজদায়।।

আমার স্বামী

 আমার স্বামী  খাদিজা বেগম  তুমি শুধু আমার স্বামী  তুমি আমার প্রেমিক হতে পারোনি,  তাইতো এত ত্রুটি ধরো আর অভিযোগ করাও আজো ছাড়োনি।। তুমি আমার প্রেমিক হলে  রাখতে আমায় তোমার ঐ হৃদ পকটে, দূরে ঠেলে দিলেও তোমায়  তুমি থাকতে আমার মনের নিকটে। আমায় কত কাঁদিয়েছো চোখের জলে স্বাক্ষরিত ধরণী।। প্রেম বোঝেনা লাভ কিংবা লস প্রেমিক তো সুখ দুঃখ কষ্ট বোঝে না,  প্রেমিক শুধু প্রেমিকা চায়  তার প্রেমিকা ছাড়া কিছু খোঁজে না।। তুমি যদি প্রেমিক হতে  আমি হতাম তোমার শান্ত প্রেমিকা,  তুমি আছ চোখের কাছে  তবু যেন রয়ে গেছো অদেখা।  ত্রুটি ধরতে এতই ব্যস্ত  মন মরেছে তাও খেয়াল করনি।।

আমি চাইনি

 আমি চাইনি  খাদিজা বেগম  আমি চাইনি তুমি আমায়  ভালোবেসে আমার কাছেই থাকো,  আমি শুধু চেয়েছিলাম  তুমি আমায় তোমার কাছেই রাখো।। আমি চাইনি তোমার যত্ন  তোমার আদর তোমার ভালোবাসা,  তোমায় আমি বাসবো ভালো  আমার শুধু এটাই ছিল আশা।  আমি চাইনি তুমি আমার   ক্ষত জাগায় একটু মলম মাখো।। চেয়েছিলাম তোমার সাথে  দিন কাটাবো রাত কাটাবো আমি,  আমার চাওয়ার মূল্য দাও নি   তবু তুমি আমার কাছে দামি।। সেই তুমি আজ ভালোবাসা  চেয়ে চেয়ে কাঁদো দ্বারে দ্বারে, সেই আমি আজ তোমার স্মৃতির  অশ্রুতে চোখ ভিজাই বারে বারে। এই ছিল কি ভাগ্য লেখন  অসময়ে কেন আমায় ডাকো??

দিন থেকে রাতে

 দিন থেকে রাতে  খাদিজা বেগম  দিন থেকে রাতে রাত থেকে দিনে  এভাবে চলেছে জীবন আমার,  মাঝে মাঝে দেখি দিনের আলোতে রাতের চেয়েও অন্ধকার।। দিন কেটে যায় ব্যস্ততায়  কখনো কখনো রাত কাটে ভেবে, যত্নে গড়ানো স্বপ্ন আমার  চোখের সামনে জ্বলে আর নেবে। নীরবে নীরবে আরো কত আমি  সয়ে যাবো রোজ এই অবিচার।। জন্ম থেকেই দুঃখ আমার  সাথে সাথে থাকে চির সাথী হয়ে, তবুও বোকার মত কেন আমি  পালাতে চাইছি দুঃখের ভয়ে।। দুঃখ আমার এই শরীরের  শিরায় শিরায় শ্বাসে শ্বাসে থাকে, দুঃখ আমার নয়নে নয়নে  আমি অকারনে ভুল ভাবি তাকে। মানুষ হবার মন্ত্র দুঃখ  দুঃখের ভিতরে লুকানো সুখের দার।।

কভু যদি

 কভু যদি  খাদিজা বেগম  কভু যদি চলার পথে  চলেই আসে বৈশাখী ঝড়,  কভু যদি আপন মানুষ  পরের চেয়েও হয়ে যায় পর।। তবু তোমায় যত্ন করে  সামলে রেখো আপন হাতে, বিশ্বাসঘাতক যায় চলে যাক  কি আসে যায় এমন তাতে।  ঝড়ের মুখে না দাঁড়িয়ে  খুঁজে নিয়ো আশ্রয়ের ঘর।। সব সাওয়ালের হয়না জবাব  সব সমস্যার নেই সমাধান, তবু বিশ্বাস করো তুমি  ধৈর্যের মাঝেই আছে কল্যাণ।। পথ এখনো অনেক বাকি  যেতে হবে অনেক দূরে, কে হয়েছে খাঁটি সোনা  নিজেকে না পুড়ে পুড়ে। সোনার মুকুট গড়ার জন্য  দূর করে দাও আগুনের ডর।।

একাকিত্বের

 একাকিত্বের  খাদিজা বেগম  একাকিত্বের নৌকায় চড়ে  তোমার স্মৃতির সাগরে যাই ভেসে,  সঠিক ভেবেই ভুল করেছি  মনে প্রাণে তোমায় ভালোবেসে।। এই মন কাঁদে প্রাণো কাঁদে  যখন তখন চোখে অশ্রু আসে, তুমি আমায় ভুলে গেছো  তবুও মন তোমায় ভালোবাসে।  জানিনা তো কেমন করে খুন করেছো আমায় হেসে হেসে।। জনো স্রোতে পাইনা তোমায়  তোমাকে পাই আমার একাকিত্বে,  তুমি আজো জেগে আছো এক মুঠো রোদ হয়ে আমার চিত্তে।। আজ তুমি নেই আজ প্রেমও নেই  হৃদয় জুড়ে শুধু তোমার স্মৃতি,  জনম জনম বাসবে ভালো  বলেও কেন টানলে প্রেমের ইতি।  আজো তোমায় ভালোবেসে  ঘুরে বেড়াই তোমার স্মৃতির দেশে।।

ধর্ম নিয়ে লড়াই

 ধর্ম নিয়ে লড়াই  খাদিজা বেগম  ধর্ম নিয়ে লড়াই করা  মানুষগুলো কোনো ধর্ম বোঝে না,  ধর্মগ্রন্থ পড়ে শুধু  ওরা ধর্মগ্রন্থের অর্থ খোঁজে না।। হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিষ্টান  সকলে এক সৃষ্টি কর্তার সৃষ্টি, ধর্মের ব্যবসা করে যারা  তাদের নাইতো সত্য ন্যায়ের দৃষ্টি।  ধর্ম ছড়ায় জ্ঞানের আলো  জ্ঞান পাবে না সে যে মানুষ ভজে না।। মানব ধর্মের মূল উদ্দেশ্য  নৈতিকতা বজায় রেখে চলা,  শান্তি এবং শৃঙ্খলাকে  রক্ষা করে মুখের কথা বলা।। ধর্ম বোঝে যে মানুষে সে করে না অন্য মানুষ ঘৃণা,  মহান স্রষ্টার ভালবাসা কেউ পাবে না মানুষের প্রেম বিনা। মানুষ হতে পারবে না সে  যে নিজের রাগ লোভ-লালসা গুঁজে না।