Posts

Showing posts from September, 2026

ঘুম নিয়েছ তুমি

 ঘুম নিয়েছ তুমি  খাদিজা বেগম  চোখের দেখায় মন নিয়েছো  হাতের ছোঁয়ায় ঘুম নিয়েছো তুমি,  তোমায় দেখলে জোয়ার আসে  না দেখিলে হৃদয় মরুভূমি।। তুমি তুমি তুমি আমার  নির্ঘুম রাতের স্বপ্নে দেখা পরী,  তুমি তুমি তুমি আমার  এই হৃদয়ে ভালোবাসার তরী। জীবন নদীর তুফান ভারী  তোমায় ছাড়া ডুবে যাব আমি।। তুমি থাকো চোখে চোখে  তোমায় দেখে শান্তি লাগে মনে,  হাতের মুঠোয় স্বর্গ মেলে  প্রিয় তুমি থাকলে আমার সনে।। ওই মায়াবী চোখের মায়ায়  বাঁধা পড়ে গেছে আমার জীবন, ভালোবেসে বেঁধে রেখো  তোমায় ছাড়া হবে আমার মরন। আমার কাছে তোমার চেয়ে  এই ভুবনে আর কিছু নাই দামি।।

ও কিশোরী

 কিশোরী  খাদিজা বেগম  ও কিশোরী কি যে করি  প্রথম দেখায় ঘুম হয়েছে সাবার,   এই বিশ্বাসে খুঁজে ফিরি  তোমার আমার দেখা হবে আবার।। ঘুরে ফিরে বর্ষা আসে  ভিজে ভিজে গাছের পাতা সবুজ, তুমি কেন আসো না গো  তোমার প্রেমে মন হয়েছে অবুঝ। দিনের পরে রাত্রি আসে  দুই নয়নে ঘুম আসে না আমার।। পূর্ণিমা রাত জোছনা ছড়ায়  আকাশের গায় মিটিমিটি তারা, মনে মনে মন তোমাকে  ডেকে ডেকে হলো দিশে হারা।। ও কিশোরী দাও সারা দাও  আমি তোমার প্রেমের জন্য পাগল, প্রেম পিপাসায় বুক ফেটে যায়  দাও আমাকে তোমার হাসির বাদল।  তোমার মনে মন মিশেছে  স্বপ্ন দেখি তোমার কাছে যাবার।।

বিষন্নতায়

 বিষন্নতায়  খাদিজা বেগম বিষন্নতায় মন ডুবে যায়  তোমায় যদি না পাই আমার পাশে,  ব্যথায় ব্যথায় পাঁজর ভাঙ্গে  দুই নয়নে অশ্রু নেমে আসে।। হৃদ মাঝারে পাই তোমারে  কেন আমার হাত বাড়ালে পাই না,  তোমাকে চাই ভিতর বাহির  তোমায় ছাড়া অন্য কিছু চাই না। তুমি আমার জীবন প্রিয়  তোমাকে মন অনেক ভালোবাসে।। তোমায় বিনা মূল্যহীনা  বেঁচে থাকার পাইনা খুজে মানে,  তুমি জীবন তুমি ভুবন  তুমি ছাড়া সুখ লাগেনা প্রাণে।। তুমি আমার আশ্রয় প্রশ্রয়  তুমি ছাড়া খুব নিরুপায় আমি, প্রিয় থেকেও তুমি প্রিয়  তুমি সবার চেয়ে বেশি দামি।  এই জীবনের সুখে দুঃখে  তোমাকে চাই আমার আরো কাছে ।।

পাও মোছাতে চাও

 পাও মোছাতে চাও  খাদিজা বেগম  আমি না হয় উর্মি হব  তুমি যদি ভেজাও তোমার পাও, আবার না হয় গামছা হব  যদি তোমার পাও মোছাতে চাও।।  তোমার চাওয়ার সাথে সাথে  আমি বদলে যাবো বারে বার,  তুমি পাশে না থাকিলে  বুকের ভেতর করে হাহাকার। আমি না হয় মাঝি হব  যদি তুমি হও গো আমার নাও।। তোমার তালে তাল মিলিয়ে  তোমার সুরে গাইবো আমি গান,  তুমি আমার জীবন প্রিয় তোমায় ছাড়া বাঁচেনা এই প্রাণ।। আমি না হয় অলি হব  তুমি যদি হওগো আমার ফুল,  তোমার কূলে থাকার জন্য  হারায় যদি হারাক আমার কূল। সব হারাতে রাজি আছি  যদি তোমার মনে আশ্রয় দাও।।

তৃষ্ণায়

 তৃষ্ণায়  খাদিজা বেগম  তোমাকে না দেখার তৃষ্ণায়  নয়ন মরুভূমি হয়ে যায়,  কোন ভাষাতে বোঝাই বল   মন তোমাকে কাছে পেতে চায়।। চোখে তৃষ্ণা বুকে তৃষ্ণা  তৃষ্ণায় তৃষ্ণায় ফেটে যাচ্ছে বুক,  তোমায় ছাড়া কোথাও নাই  কিছুতে নাই বিন্দু মাত্র সুখ। ছটফটিয়ে মন মরে যায়  শুধু তোমার ভালোবাসার দায়।। তৃষ্ণা জাগে শিরায় শিরায়  প্রেমের তৃষ্ণায় কাতর হলো মন,  শ্বাস-নিশ্বাসে তৃষ্ণা জাগে  তোমায় পাবার তৃষ্ণা সারাক্ষণ।। অঙ্গে অঙ্গে তৃষ্ণা আমার  তৃষ্ণায় অবস হয়ে আসে হাড়,  মৃত্যুর দুয়ার থেকে আমি  তোমার আশায় ফিরি বারে বার। তৃষ্ণার কষ্ট হারিয়ে যায়  এ মন যখন তোমার ছোঁয়া পায়।।

ভালবাসার আহ্বানে

 ভালোবাসার আহ্বানে  খাদিজা বেগ  ভালোবাসার আহ্বানে  এসেছিলাম ভালোবাসা পেতে,  আশায় আশায় চাষ করেছি  বীজ বনেছি ভালোবাসার ক্ষেতে।। অজানা এক ঝড় তুফানে  সেই চাষাবাদ ধ্বংস হলো শেষে,  ভালোবাসার বীজ গুলো সব  দুই নয়নের অশ্রুতে যায় ভেসে। তোমার প্রেমের আমন্ত্রণে  চেয়েছিলাম থাকবো আমি মেতে।। সকল চাওয়া পুর্ন হয় না  তাই তো তোমায় দোষ দেবো না আমি,  তোমায় আজো ভালোবাসি  সেই কথাটা জানে অন্তর্যামী।। তোমার কাছে আসতে গিয়ে  চলে গেলাম যোজন যোজন দূরে,  আজো তোমায় খুঁজে এই মন  পাখির মতন অজানাতে উড়ে।  কাছে আশায় ভয় লাগে খুব  কাছে এলেই হয় যে দূরে যেতে।।

হৃদয় ভাঙে গেছে

 হৃদয় ভাঙে গেছে  খাদিজা বেগম  আমার হৃদয় ভেঙ্গে গেছে  ঘা হয়েছে খুব গভীরে, নাই কি ভবে বিশ্বস্ত জন  নিষ্ঠুর প্রতারকের ভিড়ে।। কেন আমি বিশ্বাস করি  বারে বারে বিশ্বাসঘাতক,  নাকি আমার হিসেবে ভুল না কি ভুলে ভরা এই চোখ। যেন এই মন ধীরে ধীরে  মানুষ থেকে যাচ্ছে ফিরে।। কেন অন্যের হৃদয় ভাঙতে  মনব মনে জাগে না ভয়, কেন হিংস্র প্রাণীর চেয়ে  মানুষ বেশী ভয়ংকার হয়।। এত এত ক্ষত নিয়ে  বেঁচে থাকা হয়েছে দায়, শ্বাসে শ্বাসে কষ্ট লাগে  যেন আমার প্রাণ চলে যায়।  শুধু একবার যেতে পারলে ফিরব না আর মানব নীড়ে।।

কোরআনের বাণী

 কোরআনের বাণী  খাদিজা বেগম  রাজ্য চালায় মহারাজা  সেই রাজা কে চালান মহারানী,  নারীকে যে তুচ্ছ ভাবে  সেতো জানে না কোরআনের বাণী।। দুঃসাহসী নারীরা আজ  বিমান চালায় নীল আকাশের বুকে,  সেই নারী কে কেমন করে  কাপুরুষের দলে দিবে রুখে। নারীকে যে সম্মান করে  তারাই ভবে সত্যি কারের জ্ঞানী।। যে নারীরা রাষ্ট্র চালায়  তারা কেন চালাবে না গাড়ি, নারীর গর্ভে চড়ে এসে  কেমন করে হলে অহংকারী।। যার বিবেক টা অন্ধ বধির   সে দেখেনা নারীর মহৎ কর্ম, ধর্ম অন্ধ মানুষ ওরা  তাই বোঝে না সত্যিকারের ধর্ম। সম্মান দিলে সম্মান মেলে  এই কথাটা আমরা সবাই মানি।।

মোল্লার পকেটে

 মোল্লার পকেটে  খাদিজা বেগম  আল্লাহকে কেনার জন্য  যারা মোল্লার পকেটে দাও টাকা,  তাদের মাঝে নাইরে ঈমান  তাদের বিবেক-বুদ্ধির স্থান ফাঁকা।। কোরআন পড় নিজের হাতে  কোরআন বোঝো খুব মনোযোগ দিয়ে,  মাতৃভাষায় কোরআন পড় চিন্তা করো আয়াত গুলো নিয়ে। কোরআনের পথ সহজ সরল  নয় তো দুর্গম কঠিন আঁকাবাঁকা।। কোরআন শিল্প বাণিজ্য ময় জ্ঞান বিজ্ঞানের আলো ভরা খনি, এই কোরআনকে যে বুঝেছে  তার মত নাই পৃথিবীতে ধনী।। কোরআন পড় জীবন গড়  আর থেকো না মিথ্যার গোলাম হয়ে, সত্য রেখে মিথ্যা পথে যাচ্ছ কেন বলোনা কার ভয়ে। ধর্ম অন্ধ মানুষগুলোর  নয়ন দুটো লোভ লালসায় ঢাকা।।

একটি মৃত্যু

 একটি মৃত্যু  খাদিজা বেগম  একটি মৃত্যুর অপেক্ষাতে হাজারো দিন বেঁচে থাকতে পারি,  জানি নিশ্চিত মৃত্যু আসবে  আর বেশি দিন দেবে না সে আড়ি।। মৃত্যু দেখে খুশি মনে  আমি চলে যাবো মৃত্যুর সাথে,  সেই খুশিতে হয় তো আমার  অশ্রু আসবে দুটি আঁখি পাতে। আমি সেদিন প্রথম যাবো  আমার স্বপ্নে দেখা স্বপ্নিল বাড়ি ।। রাজকীয় সেই বাড়িতে  আমার ঘুমে কেউ করবে না ব্যাঘাত,  আমার দেহ মনের মাঝে  কেউ করবে না বিন্দুমাত্র আঘাত।। মৃত্যুর মাঝে পাবো আমি  আমার সত্যিকারের মানব জীবন,  সেই জীবনে নাই যন্ত্রণা  নাই পরীক্ষা নাই অপেক্ষা, মরন। সেখানে নাই অসুস্থতা  দুঃখ অভাব মূর্খের মহামারী।।

প্রেমের কথা বলে

 প্রেমের কথা বলে  খাদিজা বেগম ভালোবাসায় চকচকে চোখ  রাতের উজ্জ্বল তারার মত জ্বলে,  তাইতো যায় না প্রেম লুকানো ব্যবহারে প্রেমের কথা বলে।। ভালোবাসার দৃষ্টির কাছে  পারমাণবিক বোমা হার মানে,  চোখে চোখে ভাসে মায়া  ভালোবাসার ছোঁয়া লাগে প্রাণে। প্রিয়জনের দেখা পেতে  প্রেমিক নয়ন ঘোরে নানান ছলে।। ভালোবাসার সেই দৃষ্টিতে  ভিতর থেকে মন গলে যায় ধীরে,  ভালবাসার টানে টানে  প্রেমিক জনকে আসতেই হয় ফিরে।। মুখে বল যতই না না  প্রেম দেবে সায় চোখের ভাষায় ভাষায়, যতই থাকো দূরে সরে  মন আসবে মন পাবার আশায় আশায়। মন থেকে যায় মনের কাছে অভিমানে যদি চরণ চলে।।

প্রেমের নেশা

 প্রেমের নেশা  খাদিজা বেগম আমারো হয় প্রেমের নেশা  সঙ্গমের সাধ জাগে ঝরের বেগে,  উথাল পাতাল প্রেমের ঢেউয়ে  আমারো চোখ থাকে রাত্রি জেগে।। তাই বলে তো যারে তারে  আমি টেনে নেবো না এই বুকে,  আমার প্রিয় মানুষ যে জন  তার অপেক্ষায় মরব ধুঁকে ধুঁকে। প্রয়োজনে পুড়বে এ মন  তার বিরহের তীব্র আগুন লেগে।। রক্ত মাংসের মানুষ আমি  নই ফেরেস্তা নই সন্ন্যাসী সাধু,  আমার দেহের আমার মনের  ক্ষুধা তৃষ্ণা তাড়াবার নাই জাদু।। তবু আমার আবেগের ক্ষণ রাখতেই হবে আমার নিয়ন্ত্রণে,  প্রলোভনে সায় দেব না স্রেফ না বলি পাপের আমন্ত্রণে। যদি ভাঙ্গে বুকের পাঁজর তবু ভেসে যাবো না আবেগে।।

প্রেমের অনুতাপ

 প্রেমের অনুতাপ  খাদিজা বেগম  দুই নয়নে ঝরো ঝরো  ঝরে পড়ে প্রেমের অনুতাপ, অঙ্গে অঙ্গে আজো ভাসে  তোমার অঙ্গের রেখে যাওয়া ছাপ।। কাছে এসে দূর অজানায়  যাও হারিয়ে এটা কেমন প্রেম, সুখ গুলোকে লুফে নিয়ে  কষ্ট দিলে এটা কেমন নেম। স্রষ্টা ভুলে সৃষ্টির প্রেমে  অন্ধ হয়ে করেছিলাম পাপ।। আর চাইবো না ভালোবাসা  আর করবো না কারো প্রেমের আশ,  প্রেমে পড়ে সব হারিয়ে  পেলাম শুধু কান্না বারো মাস। আমি একা কলঙ্কিত  আমার ওপর আজ সকলের রোষ,  তুমি ধোয়া তুলসী পাতা  এই সমাজে তোমার নাইতো দোষ।  ভালোবাসা ভেবে আমি  দুহাত ভরে নিলাম অভিশাপ।।

তোমার মনে

 তোমার মনে  খাদিজা বেগম  তোমার মনে আমার এ মন  যখন গেল মিলে, অজানায় এক আনন্দ ঢেউ  জেগে উঠল দিলে।। তোমার আমার চার নয়নের  দৃষ্টি বিনিময়ে,  শিহরিত হলো দেহ  সব হারানোর ভয়ে। তুমি আমার এই কপালে  যত্নে লেখা ছিলে।। নদীর যেমন উর্মি থাকে  ফুলের থাকে অলি,  তেমনি তুমি জুরে আছো মনের অলিগলি।। ঝিনুক যেমন ডুবে থাকে  নীল সাগরের বুকে,  তেমনি আমায় দাও ডুবিয়ে  তোমার প্রেমের সুখে।  চলো প্রেমের তরী ভাসাই  শাপলা ফোটা ঝিলে।।

নিঃশ্বাস ভেবে

 নিঃশ্বাস ভেবে  খাদিজা বেগম  তোমায় আমার নিঃশ্বাস ভেবে  ছেড়ে দিলাম ফিরে আসার আশায়,  কেন তুমি আর এলে না  কি দোষ ছিল আমার ভালবাসায়।। কাছে এসে বলে যাও না  কেন তুমি আর আসোনি ফিরে, কোথায় আছো কেমন আছো তোমায় খুঁজি জনস্রোত এর ভিড়ে। তুমি আমার কাছে তাইতো  মনে মনে এই হৃদয়ে যা চায়।। ভালোবেসে কাছে এসে  কেন মারলে প্রতারণার ছুরি, কথা ছিল ভালবাসে তুমি আমি হবো বুড়ো বুড়ি।। ওয়াদা করে ভুলে গেছো  কাছে এসে চলে গেছো দূরে, আজো তোমায় মন ভুলিনি  মনে পড়ে দীর্ঘশ্বাসের সুরে।  তুমি ছাড়া পৃথিবীতে  আমি যেন বন্দী অগ্নি খাঁচায়।।

মানুষ ভেবে

 মানুষ ভেবে  খাদিজা বেগম  মানুষ ভেবে বিশ্বাস করে  বারে বারেই করে গেলাম ভুল, তাই বারেবার ভাঙছে হৃদয়  যেমন করে ভাঙ্গে নদীর কূল।। যেমন কূলের শত্রু হলো  নদীর বুকের আশ্রয় থাকা জলে, জল বোঝে না কৃতজ্ঞতা কুল ভেঙ্গে যায় ঢেউ খেলানোর ছলে। তেমনি করেই সে ভাঙ্গে মন  যে জন আমার মনের সুখের মূল।। আমি বারে বারেই ভাবি  এর পরে সে শুধরাবে তার দোষ, তবু তার কাজ বিষাক্ত খুব  সাপের মত করে সে ফোঁস ফোঁস।। ভাঙা ভাঙা হৃদয় আমার  রক্তমাখা এই হৃদয়ের ঘা, বুকটা ভরা এত ব্যাথা  ব্যথায় ব্যথায় বুক করে খাঁ খাঁ। না ফুটিতে ঝরে পড়ে  বারে বারে আমার আশার ফুল।।

চাওয়া-পাওয়া

 চাওয়া-পাওয়া খাদিজা বেগম  নিজের চাওয়া-পাওয়া মাঝে  দিবানিশি ডুবে থাকে যে জন,  সেই স্বার্থপর কেমন করে  দেখবে আমার ক্ষত বিক্ষত মন।। তার কাছে তার স্বার্থ আগে  সে বোঝেনা অনুভূতির মূল্য,  সে ভাবে সেই সবার সেরা  তার নয়নে নাই তার সমতুল্য। সে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত  হিসাব নেই তার কে পর আর কে আপন।। আমার কষ্টে কি আসে যায়  হিসাব করে শুধু নিজের সুখটা, তার নয়নে দেখে না সে  লাশের মত এই বিষন্ন মুখটা।। স্বভাবগত কারণে সে  চরিত্রহীন জীবন যাপন করে,  সেই মানুষের সঙ্গী হয়ে  আমার জীবন ধুঁকে ধুঁকে মরে। তার কারণে মন পুড়ে ছাই  অশ্রু সাগর বইছে আমার নয়ন।।

অপরাধের শাস্তি

 অপরাধের শাস্তি  খাদিজা বেগম  পরের অপরাধের শাস্তি  কভু যেন আপনাকে দিও না, যেমন কর্ম তেমনি ফল  পরের ভুলের বোঝা টেনে নিও না।। মাথা নষ্ট করো না আর  ভেবে ভেবে অন্য জনের চরিত্র,  অটুট থাকো নৈতিকতায়  সদা রাখো আপনাকে পবিত্র। বিশ্বাস কিংবা ভালোবাসা  তুমি কোন কিছুই ভিক্ষা চেয়ো না।। পৃথিবীতে জনে জনে  ভালোবাসা আর বিশ্বাসের অভাব, মানুষরূপী অমানুষের  পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট ময় স্বভাব।। বিশ্বাস রেখো কর্মফলে যার কর্মফল সেই তো একদিন পাবে, ন্যায় বিচারের আশায় আশায় তুমি শুধুই ধৈর্য ধরে যাবে। পর কখনো হয় না আপন  এই কথাটি তুমি ভুলে যেও না।।

চরিত্রহীন

 চরিত্রহীন  খাদিজা বেগম  চরিত্রহীন নির্লজ্জকে  লজ্জা দেবার নেই তো কোন পথ,  যখন তখন যেথায় সেথায়  বস্ত্র খোলা প্রাণী হয় না সৎ।। জ্ঞান পাপীকে জ্ঞানের আলোয়  আলোকিত করা যাবে না,  লেংটা বুদ্ধির বিবেকহীন কে  জ্ঞানী গুণীর মাঝে পাবে না। ওদের মুখে নীতি কথা  বুকের কানায় কানায় ভরা বদ।। ধর্মান্ধ আর কুশিক্ষিত  মানবজাতির জন্য শত্রু দল, ওদের মাঝে নাই তো ঈমান  স্বার্থের জন্য খায় কুকুরের মল।। ন্যায় অন্যায় এর ধার ধারে না  ওদের নাই তো কোন ধর্ম, দেশ,  অশ্লীলতায় ভরা জীবন  ওদের নীতি নৈতিকতা শেষ। যা খুশি তাই করে বেড়ায়  ওরা জানতে চায় না কারো মত।।

নির্ঘুম রাতের সাক্ষী

 নির্ঘুম রাতের সাক্ষী  খাদিজা বেগম আমার নির্ঘুম রাতের সাক্ষী  আমার সাথে জেগে থাকা অন্ধকার,  তোমার দেয়া কষ্টগুলো  আমার বুকের মাঝে করে হাহাকার।। আরো কত কষ্ট দেবে  আরো কত আমাকে রাত জাগাবে,  আরো কত টেনে হিছড়ে  ওই কবরের দিকে আমায় আগাবে। বিনা দোষে বিনা ভুলে  কেন আমি শাস্তি পাচ্ছি বারেবার।। কোন সে সুখের নেশায় ডুবে  তুমি আমায় ডুবিয়ে দেও অসুখে, বারে বারে কেন তুমি  প্রতারণার ছুরি মারো এই বুকে।। মনের ব্যথায় বুক জ্বলে যায়  শ্বাস চলে না ঘুম আসে না দুই চোখে, যন্ত্রণাতে সুখ চুষে খায় যেমন করে রক্ত চোষে খায় জোঁকে। কষ্টের খাঁচায় বন্দি আত্মা একদিন উড়ে যাবে ভেঙে বদ্ধ দ্বার।।

মাপা মাপি

 মাপা মাপি  খাদিজা বেগম  অন্যের সাথে কেন তুমি  তোমায় কর এত মাপা মাপি,  মৃত্যু অনিবার্য সত্য  তবে কিসের ভয়ে কাঁপা কাঁপি।। অন্যের সম্পদ অন্যের সম্মান  তুমি হতে পারবে না তার সমান,  তোমার মত শুধুই তুমি  তোমার কাজে রেখে যাও তার প্রমাণ। ভুল হলে মাফ করে দিও পাপ হলে হও গভীর অনুতাপী।। তোমার রঙে তুমি রঙিন  তুমি মহান তোমার জ্ঞানে গুনে,  মন খারাপের নাই তো কারণ  নিন্দুকের ওই নোংরা কথা শুনে।। তোমার আলোয় তুমি উজ্জ্বল  তোমার মাপেই তুমি তৈরি করা, তোমার জন্য যত্ন করে  তোমার স্রষ্টা গড়েছেন এই ধরা। সত্য ন্যায়ের পথ ছাড়ে যে  সেই মানুষেই মহা অভিশাপী।।

মনের ক্ষত

 মনের ক্ষত  খাদিজা বেগম  মনের ক্ষত এমন ক্ষত  দেখা যায় না ছোঁয়া যায় না তাকে,  দেহের ক্ষত হইলে পরে  কত শত ডাক্তার ওষুধ থাকে।। যে জন মনে বসত করে  সেই তো মনে তৈরি করে ক্ষত,  মনের ক্ষত দূর করিতে  ভালোবাসা লাগে অবিরত। এমন কাউকে মন দিও না  যে জন মনকে অবহেলায় রাখে।। যাকে তাকে ভালোবেসে  ঠাই দিওনা নিজের মনের ঘরে, অনাদরে অযতনে  মন মরে যায় ছটফট করে করে।। মনের মূল্য বোঝেনা যে  সেই তো হলো মানব রূপি শয়তান, তাই কারণে অকারণে  হরণ করে নেয় মানুষের সম্মান। মনকে সুস্থ রাখতে হলে  সায় দিও না সব মানুষের ডাকে।।

অশ্রু দেখে

 অশ্রু দেখে  খাদিজা বেগম  তোমার চোখে অশ্রু দেখে  জানিনা এই হৃদয় কেন কাঁদে,  তিলে তিলে মন ভেঙ্গে যায় অদৃশ্য এক গভীর অপরাধে।। কেমন করে ব্যথা দিলাম  কেন হলাম তোমার ব্যাথার কারণ,  কেন হলাম নিয়ন্ত্রণহীন  কেন আমার মন শোনেনি বারণ। তোমার অশ্রু দেখলে আমার  মন পড়ে যায় অগ্নি লাভার ফাঁদে।। তোমার মুখের হাসি দেখলে  হেসে ওঠে এই দেহ মন সবি, এই জীবনে তুমি আমার  রাতের চন্দ্র দিনের বেলার রবি।। তোমার হাসি রাখতে অটুট  আমি আমার প্রাণ বিলাতে রাজি, এমন করে আর কেঁদো না  তোমার জন্য প্রাণ ধরেছি বাজি। মারতে পারো বকতে পারো  যা খুশি তাই কর কান্না বাদে।।

দামি

 দামি  খাদিজা বেগম  তোমরা যারে বলছো দামি  আমি বলি তা পাগলামি। হীরা পান্না মনি মুক্তা  এসব ছাড়াও ভাল আছি আমি।। যে বাতাসে জীবন বাঁচে  সেই বাতাসের মূল্য জানো,  অমূল্য ওই পাপের বোঝা  কেন মাথায় নিয়ে টানো। কেমন হতো যদি নিতো  বাতাসের দাম অন্তর্যামী।। তোমরা যারে সুখ ভেবেছো আসলে তার মাঝে নাই সুখ, নৈতিকতায় আত্মতৃপ্তি  এ ছাড়া প্রাণ ভরা অসুখ।। নৈতিকতাই দামি সম্পদ  নৈতিকতাই সুখের মূলে,  নৈতিকতায় জীবন ভরো থাকো নৈতিকতার কূলে। সবার উপর মানুষের দাম  যে মানুষ হয় সত্যকামী।।

মেঘের মত মন

 মেঘের মত মন খাদিজা বেগম  মেঘের মত মন ভেসে যায়  তোমায় একটু কাছাকাছি পেলে, আপন মনে মন উরে যায়  ভালবাসার দুটি ডানা মেলে।। মন যারে চায় মনে মনে  সাধ্য আছে কার মন বেঁধে রাখে, মনে গাঁথা সেই মায়া মুখ  ভেসে ওঠে হাজার কাজের ফাঁকে। আপন মনে চায় প্রেমিক মন বন্দী হতে ভালোবাসার জেলে।। স্বাধীনতার মানে হয় না  আদর সোহাগ ভালোবাসা ছাড়া, যেমন জোছনা বিহনে চাঁদ  রাত বিহনে নীল আকাশের তারা।। ভালোবাসা ছাড়া জীবন  জল বিহনের মরা নদীর মত, স্রোত আসে না নাও বাসে না  কানায় কানায় নদীর বুকে ক্ষত। মনের আশা পূরণ হতো  তুমি আমার আপন হয়ে এলে।।

কষ্ট

 কষ্ট  খাদিজা বেগম  কষ্ট দেখে ভয় পেয়ো না  কষ্ট তোমায় নষ্ট করতে আসে নি,  সুখ পাবে না সেই মানুষে  যে মানুষে কষ্টের জলে ভাসে নি।। কষ্টের তলে সুখের খনি কষ্ট খুরে বের করে লও তুমি,  জলে জলে ফসল ফলে জল বিহনে জমি মরুভূমি। ফুলের মূলে বৃক্ষ থাকে  বৃক্ষ ছাড়া ফুল কখনো হাসে নি।। ভাটার পরেই জোয়ার আসে  তেমন করেই কষ্টের পরে আসে সুখ ,  আঁধার কেটে যাবার পরেই  ভেসে ওঠে পূব আকাশে আলোর মুখ।। শীতের শেষে ঝরবে পাতা  নতুন পাতা নিয়ে আসবে ফাগুনে,  খাঁটি হয় না কোন সোনা  না পুড়িলে কষ্ট নামের আগুনে। সুখের দেখা পেল না সে  যে মানুষে কষ্ট ভালো বাসে নি।।

ওজু মানে প্রতিশ্রুতি

 ওজু মানে প্রতিশ্রুতি  খাদিজা বেগম  ওজু মানে প্রতিশ্রুতি  এই হাত দিয়ে আর অন্যায় কাজ করবো না, এই হাত দিয়ে আর কখনো  আমি কাউকে অন্যায় ভাবে মারবো না।। ওজুতে মুখ ধোয়ার মানে  এই মুখে আর অশ্লীল মিথ্যা বলবো না,  দুটি চরণ ধোয়ার মানে  এই চরণে অন্যায় পথে চলবো না।  ওজুর পানি পবিত্র খুব  মরে গেলেও পবিত্রতা ছাড়ব না।। ওজুর এ জল জল শুধু নয়  অঙ্গ গুলো সঠিক রাখার ওয়াদা,  সঠিক অঙ্গের মানুষের মন আলোকিত পবিত্রময় খুব সাদা।। নয়ন ধোয়া মানে হলো  এই নয়নে দেখবো না আর পাপ কর্ম,  শান্তিরক্ষা করাই হলো  মানব জাতির অদ্বিতীয় এক ধর্ম। নিজের জীবন চলে গেলেও  কভু অন্যের ক্ষতি মানতে পারব না।।

পরিষ্কার

 পরিষ্কার  খাদিজা বেগম  হাত ধুয়েছো পা ধুয়েছো  শরীর ধুয়ে করেছো সব পরিষ্কার,  মনের মাঝে পাপের পাহাড়  কখনো কি তা করেছো আবিষ্কার।। চোখ দেখেছে কান শুনেছে  তবু তুমি রয়ে গেছো অজানা,  নিজের মতোই চলছো তুমি  শুনছো না তার আদেশ নিষেধ এক আনা। এত আলোর মাঝে থেকেও  কেন বাড়ছে তোমার পাপের অন্ধকার।। সাবান মাখো শ্যাম্পু মাখো  আরো মাখো কত শত সুগন্ধি। তবু আপন পাপের গন্ধে  মাতাল হয়ে তুমি করে যাও ফন্দি।। সাদা রঙের কাপড় পরে তুমি কেন কালো পথের যাত্রী দল,  কর্ম করার আগে ভাবো  সইতে পারবে কি তোমার এই কর্মফল।  এখনো তো সময় আছে  ধুয়ে মুছে ফেল তোমার অহংকার।।

ভাঙা হৃদয় গড়

 ভাঙা হৃদয় গড়  খাদিজা বেগম  মসজিদ গড় মন্দির গড়  ভাঙা হৃদয় গড় সবার আগে,  ওই হৃদয়ের রক্ত ঝরা আহাজারি শুনে স্রষ্টা জাগে।। স্রষ্টার কাছে যেতে হলে  মানব হৃদয় খোঁজার চেষ্টা করো,  অশ্লীল পথটা রেখে দিয়ে  শালীনতার সঠিক পথটি ধরো। অশ্লীলতায় হৃদয় ভাঙে  হৃদয় গড়তে শালীনতা লাগে।। হৃদয় ভাঙে রুক্ষ কথায়  হৃদয় ভাঙে মিথ্যা অপবাদে, হৃদয়ে হয় রক্তক্ষরণ  যখন ব্যাথায় ব্যাথায় হৃদয় কাঁদে।। হৃদয় চেনার চেষ্টা করো  হৃদয়কে দাও সবার চেয়ে মূল্য, হৃদয়টাকে দেখা যায় না  তবু কিছুই নাই তার সমতুল্য। কারো হৃদয় ভেঙ্গে চুরে  ভাগ করো না রক্ত ভেজা ভাগে।।

তোমায় চাইলাম

 তোমায় চাইলাম  খাদিজা বেগম  তোমায় চাইলাম সঙ্গী করে  কিন্তু আমার সঙ্গে হলো বাতাস,  খুব গোপনে চলে গেছো  তুমি আমায় মন করেছ হতাশ।। সেই হতাশা ধুয়ে দিতে  হঠাৎ করে ঝড়ে পড়লো বৃষ্টি,  বৃষ্টির শেষে দূর আকাশে   রংধনুতে আটকে গেল দৃষ্টি। যেন আমার মনের মাঝে  উঠলো জেগে একটা সুখের আবাস।। এখন দেখি তোমায় ছাড়াও  আমি ভালোভাবেই চলতে পারি,  বিশ্বাসঘাতক যায় চলে যাক  আমি তো আর যায়নি কাউকে ছাড়ি।। তোমায় আমার নিঃশ্বাস ভেবে  ভুল করেছি এতটা কাল ধরে,  এইতো আমি তোমায় ছাড়াই  বেঁচে আছি আজো যায়নি মরে। তোমার কাছে যা শিখেছি  তার কারণে তোমায় জানাই শাবাশ।।

না বলতে হয়

 না বলতে হয়  খাদিজা বেগম  স্বামী স্ত্রী যারা তাদের  না বলতে হয় পরকীয়ার বেলায়,  পরকীয়ায় হ্যাঁ বলা লোক  একদিন পিষ্ট হবে অবহেলায়।। পরকীয়ায় পা বাড়িয়ে  মানুষ হয়ে ওঠে বিশ্বাসঘাতক,  ভালোবাসার বিনিময়ে  প্রতারক হয় পরকীয়া দাতক। পবিত্রতার দাম জানে না  তাই গা ভাসায় পরকীয়ার মেলায়।। সত্য কভু গোপন রয় না  আলোর মত ছড়িয়ে যায় ধরায়,  যার ভিতরে নোংরা চিন্তা  সেইতো শুধু নোংরামিতে জরায়।। কুকুরে চায় পরিত্যাগ মল  হারামি চায় বারে বারে হারাম, ধর্ম যাকে হারাম বলে  হারামি পায় তার ভিতরেই আরাম। বিশ্বাসী মন ভেঙ্গে চুরে বিশ্বাসঘাতক বিশ্বাস নিয়ে খেলায়।।

ধর্মান্ধ

 ধর্মান্ধ   খাদিজা বেগম আজো ধর্মান্ধ দেখি  আমি দেখি মূর্খের মহামারি, ঘরে ঘরে বাড়ি বাড়ি দেখি নারী বিদ্বেষী ঐ সব আনাড়ি।। আজো ওদের ভিতর থেকে  কুত্তার মত লালা ঝরে পড়ে, নইলে ওরা বাল্যবিয়ের  পক্ষে নিজের মত মিলায় কি করে। রাষ্ট্রের আইন মানে না যে  সে চলে যাক আমার রাষ্ট্র ছাড়ি।। ধর্ম অন্ধ পশু গুলো  ধার্মিক সাজা দূর আরোগ্য ক্যান্সার, ওদের কাছে ভাল্লাগে না  সাহিত্য গান আনন্দময় ড্যান্সার।। ব্যভিচারে ধরা খেয়ে  যারে তারে দ্বিতীয় বউ বানায়, মিথ্যেবাদী বিশ্বাসঘাত নিজের স্বার্থে হাদিস কোরআন জানায়।  জ্ঞান বিজ্ঞানের কথা রেখে  নারীর বিষয় করে বাড়াবাড়ি।।

নাম জানি না

 নাম জানি না  খাদিজা বেগম  আমি আমার নাম জানি না  লোকে ডাকে আমায় টোকাই, কোথায় আমার পিতা মাতা  কেঁদে কেঁদে খুঁজে বেড়াই।। সুতা ছেড়া ঘুড়ির মত কেউ টানে না আমায় কাছে, আমার কেহ নাই দুনিয়ায়  সবার জন্য সবাই আছে। আঁস্তাকুড়ের কুকুর বিড়াল  ওদের সাথে রাতে ঘুমাই।। আস্তাকুড়ে আঁস্তাকুড়ে  খুঁজে খুঁজে খাবার খাচ্ছি,  হে দয়াময় দাও বলে দাও  কেন এত কষ্ট পাচ্ছি??  আমি একটা অবুঝ শিশু  কেন আমার পেটেও শিশু,  ওহে সভ্য সমাজ বলো  বলার জন্য নাই কি কিছু? তোমরা মানুষ কিনা শয়তান  একবার কর যাচাই বাছাই।।

পাক কালেমা

 পাক কালেমা  খাদিজা বেগম  মুখে মুখে পাক কালেমা   পড়ে তোমার এমন হলো কি লাভ? চিন্তা করে দেখো তুমি  তোমার মাঝে আজো পশুর স্বভাব।।  লোক দেখানো নামাজ পড়ো  তাই তো মুখে অশ্লীল কথা বলো,  উপোস থাকার রোজা থাকো  তাই বারেবার অন্যায় পথেই চলো। চিন্তা করে দেখরে মন  লোক ঠকানো পাপ পাবে কি না মাপ।। বারে বারে হ্বজ করিলে  তুমি হয়তো হয়ে যাবে হাজী, কেউ না জানুক তুমি জানো  তুমি কত বড় একটা পাজি।। হালাল হারাম না ভাবিয়া  পকেট ভরো অন্যের টাকা নিয়া।  ধ্বংসের খেলা খেলছো তুমি  হাসো যদি কাউকে কষ্ট দিয়া। স্রষ্টার গুণে গুণান্বিত  হওয়ার চেষ্টায় ধুয়ে মুছে যায় পাপ।।

শেষ প্রেম হবে

 শেষ প্রেম হবে  খাদিজা বেগম  তুমি আমার শেষ প্রেম হবে  সারা জীবন পাশাপাশি রবে,  তোমায় আপন করে পেলে  অন্য কিছু চাইবো না এই ভবে।। প্রথম ডাবের পানির মতন  প্রথম সেই প্রেম হঠাৎ গেল পরে,  ধীরে ধীরে কাছে এসে ধীরে ধীরে সে গিয়েছে সরে। সে আমাকে ভুলে গেছে  আমি কেন মনে রাখব তবে।। ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে  ভুল করেছি প্রথম প্রেমের বেলায়,  বেশি ভালোবাসতে গিয়ে  শিকার হলাম বেশি অবহেলায়।। পরিপক্ক এই জীবনে  আমি চলব আমার কথা রেখে,  তপ্ত রোদে ঝর বৃষ্টিতে  ছাতার মত তোমায় রাখবো ঢেকে। আমি থাকবো তোমার আশায় তোমার আমার আবারো প্রেম হবে।।

শরীর চায়

 শরীর চায়  খাদিজা বেগম  এই শরীর চায় তোমার শরীর  এই মনে চায় তোমার ঐ মন,  প্রতি অঙ্গ কেঁদে কেঁদে  তোমার অঙ্গের চায় আমন্ত্রণ।। মেঘলা দিনে কিংবা রাতে শীত বসন্ত গ্রীষ্ম বর্ষায়, কাছাকাছি থাকো তুমি  সব ঋতুতে মন চায় তোমায়। খুব সকালে নয়ন খুলেই  তোমায় খোঁজে আমার নয়ন।। তুমি কেন প্রেম বোঝনা  প্রেম বিহনে প্রাণ বাঁচে না,  ভালোবাসা ছাড়া কভু  পাখি গায় না ফুল হাসেনা।। ওই মনে এই মন জড়িয়ে  তুমি ছুঁয়ে থাকো আমায়,  যেমন করে গাছ জড়িয়ে  গাছের সাথে থাকে লতায়। তোমার একটু মিষ্টি ছোঁয়ায়  হৃদয়ে বয় সুখের প্লাবন।।

প্রবল তৃষ্ণা

 প্রবল তৃষ্ণা  খাদিজা বেগম  তোমার ঠোঁটের পাপড়ি দেখে  আমার ঠোঁটে প্রবল তৃষ্ণা জাগে,  ঠোঁট পেতে চাই ঠোঁটের ছোঁয়া  এমন চাওয়া ছিল না তো আগে।। তোমার হাতের আঙ্গুল যখন  ছুঁয়ে দিল আমার আঙ্গুলগুলো,  ভালোবাসার ঝড় তুফানে  উড়ে গেল জমানো সব ধুলো।  এই মন যেন মুক্ত পাখির  ডানা মত হালকা হালকা লাগে।। চলো উড়ে যাই আকাশে  ভেসে বেড়াই নীল সমুদ্রের জলে, তোমায় দেখে মন খুশিতে  নেচে ওঠে একেই কি প্রেম বলে।। তুমি আমার মনের তৃপ্তি  তুমি আমার হৃদয়ের সুখ শান্তি,  তোমার ছোঁয়ায় দূর হয়ে যায়  এই জীবনে দুঃখ কষ্ট ক্লান্তি। তুমি এলে বৃষ্টি নামে   সুখ ছড়িয়ে ফুল ফোটে মন বাগে।।

ভূমিকম্পের মত নাড়ায়

 ভূমিকম্পের মত নাড়ায় খাদিজা বেগম  তোমার ছোঁয়ায় আমার মন কে  ভূমিকম্পের মত নাড়ায়,  তোমার প্রেমে অস্থির এ মন স্থির থাকতে দেয় না আমায়।। তোমার ঠোঁটের মিষ্টি হাসি  পরমাণু শক্তিকে হার মানায়,  তাই তো আমি হার মেনেছি  শুধু তোমার ভালোবাসায়। তোমার ভাবনায় বিভোর হয়ে  ডুবে থাকি তোমার পাড়ায়।। আমার এ মন মনে মনে  জোট বেঁধেছে তোমার মনের সনে,  হাওয়ায় হাওয়ায় ফুলের সৌরভ কোকিলের গান ফাগুন বনে বনে।। মায়া ভরা দুই নয়নের  মায়ায় মায়ায় ডুবে গেলাম আমি,  আজ মনে হয় পৃথিবীতে  তুমি ছাড়া আর কিছু নাই দামি। তাইতো তোমায় পাবার জন্য  বারে বারে মন থেকে মন বাড়ায়।।

প্রথম প্রথম

 প্রথম প্রথম  খাদিজা বেগম  প্রথম প্রথম প্রেমে পড়লে  অকারনে ভয় ভয় লাগে,  ভয় কাটিয়ে মনে প্রাণে  ভালোবাসার তৃষ্ণা জাগে।। প্রেমের চিঠি খোদাই করে  লেখা থাকে চোখের পাতায়,  ভালোবাসা ফুটে ওঠে  না বলা সব কথায় কথায়। প্রথম প্রেমের পরশে সব  দুঃখ গুলো দৌড়ে ভাগে।। হৃদয় ছিল মরুভূমি  তোমায় দেখেই জোয়ার উঠলো, দাবানলে পোড়া মনে  তোমার ছোঁয়ায় পুষ্প ফুটলো।। তোমায় পেয়ে প্রাণ পেয়েছি  তুমি যেন আমার জান্নাত, তোমায় ছাড়া চাইনা আমি এই ভুবনে কোন হায়াত।  আজ মনে হয় কেন তোমায়  আমার করে পাইনি আগে।।

কেন প্রেমে পরলাম

 কেন প্রেমে পারলাম  খাদিজা বেগম  কেন প্রেমে পরলাম আমি  কেন ভালোবাসলাম তোমায়,  এখন আমার মন পুড়ে যায়  প্রেম হারানো ব্যথায় ব্যথায়।। তোমার দেয়া ব্যথাগুলো  অশ্রু হয়ে ঝরে পড়ে,  তবুও আমি চেয়ে থাকি  তোমার স্মৃতির সেই পথ ধরে। আজো তোমার পদচিহ্ন  আমার মনের পাড়ায় পাড়ায়।। তুমি ছিলে হৃদয়ের প্রেম  সুখ জাগানো জাদুর কাঠি,  সেই তুমি আজ কই হারালে আমায় দিয়ে জ্যান্ত মাটি।। তোমায় আমি প্রাণ ভেবেছি  তবু আমায় ছেড়ে দিলে, এখন আমায় মৃত্যুরা খায়  সকাল বিকাল গিলে গিলে। প্রেম কেন হয় ধূপের মত  ঘ্রাণ ছড়িয়ে সে পুড়ে যায়।।

কথা

 কথা  খাদিজা বেগম  দাবানলের চেয়েও অমানুষের  মুখের কথায় আগুন বেশি থাকে,  দাবানলে বোন পুড়ে যায়  অকথায় মন পুড়ে যায় কেউ দেখেনা তাকে।। কথা বলার আগে ভাবো  ভেবেচিন্তে পরে কথা বলো, কেন কটু কথা বলো অকারনে কথায় কথায় জ্বলো। ভালো কথার ভালোবাসায়  দূরের মানুষ কাছে টেনে রাখে।। মন্দ কথার গন্ধে গন্ধে  কাছের মানুষ যায় চলে যায় দূরে,  মন্দ কথার তীব্র তাপে  দিবানিশি বুকের ভেতর পুড়ে।। সাপের চেয়েও বিষ বেশি রয়  মন্দ লোকের মুখের কথায় কথায়, মন্দ থেকে দূরে থাকো  নইলে জীবন ভরবে ব্যথায় ব্যথায়। মানুষরূপী বিষাক্ত সাপ  ছোবল মারে কথার ফাঁকে ফাঁকে।।

শূন্য করো

 শূন্য করো খাদিজা বেগম  শূণ্য করো শূণ্য করো মন ভরা সব রাগ জেদ আমি আমি ভাব, তবেই তোমার পাপিষ্ট মন নবজাতক শিশুর মতন হবে ছাফ।। ভরা যায় না পূর্ণ তাতে  যে মন ভরা কানায় কানায় পাপে, পাপিষ্ট মন খালি করো অশ্রুর অনুতাপে অনুতাপে। আমার আমার অহংকারী ভাবে তোমার জীবন হয়ে যাবে অভিশাপ।। লোভ লালসা কাম বাসনা  ত্যাগে ত্যাগে জীবন করো উপভোগ, লোভে কামে তাল মিলালে  মনে মনে বেড়ে যাবে মনের রোগ।। ভাটায় ভাটায় শূন্য হলেই  ফিরে আসে দূষণ মুক্ত পূর্ণতা, ভাটার স্রোতের মত করে  বারে বারে প্রয়োজন হয় শূন্যতা।।  শূন্যের পরেই পূর্ণ হবে  শূন্য কর ওই মনের সব গোপন পাপ।।

সবাই ঘুমিয়ে যায়

 সবাই ঘুমিয়ে যায়  খাদিজা বেগম  যখন সবাই ঘুমিয়ে যায়  মন বাড়িয়ে আমি খুঁজি তোমায়, দিনের সকল অনুভূতি প্রকাশ করি রাতের নীরবতায়।। আমি জানি তুমিও তো  আমায় খোঁজো আমার চেয়েও বেশি,  আমায় দেখা দাও না তবু  ছুয়ে থাক আমার মাংসপেশি। তাইতো আমার মাটির দেহ  আজো উষ্ণ তোমার সেই উষ্ণতায়।। রাত্রি তুমি দিনও তুমি  তোমার আশ্রয় এক আশ্রিতা আমি, তুমি এক ও অদ্বিতীয়  এই অন্তরে তুমি অন্তর্যামী।। চোখের দেখা নয়তো বড়  তাইতো তোমায় চোখ দেখে না কভু,  তুমি বড় থেকেও বড়  তুমি অসীম ক্ষমতাবান প্রভু। নমনীয় করে দিও  যত নমনীয় থাকি সেজদায়।।

আমার স্বামী

 আমার স্বামী  খাদিজা বেগম  তুমি শুধু আমার স্বামী  তুমি আমার প্রেমিক হতে পারোনি,  তাইতো এত ত্রুটি ধরো আর অভিযোগ করাও আজো ছাড়োনি।। তুমি আমার প্রেমিক হলে  রাখতে আমায় তোমার ঐ হৃদ পকটে, দূরে ঠেলে দিলেও তোমায়  তুমি থাকতে আমার মনের নিকটে। আমায় কত কাঁদিয়েছো চোখের জলে স্বাক্ষরিত ধরণী।। প্রেম বোঝেনা লাভ কিংবা লস প্রেমিক তো সুখ দুঃখ কষ্ট বোঝে না,  প্রেমিক শুধু প্রেমিকা চায়  তার প্রেমিকা ছাড়া কিছু খোঁজে না।। তুমি যদি প্রেমিক হতে  আমি হতাম তোমার শান্ত প্রেমিকা,  তুমি আছ চোখের কাছে  তবু যেন রয়ে গেছো অদেখা।  ত্রুটি ধরতে এতই ব্যস্ত  মন মরেছে তাও খেয়াল করনি।।

আমি চাইনি

 আমি চাইনি  খাদিজা বেগম  আমি চাইনি তুমি আমায়  ভালোবেসে আমার কাছেই থাকো,  আমি শুধু চেয়েছিলাম  তুমি আমায় তোমার কাছেই রাখো।। আমি চাইনি তোমার যত্ন  তোমার আদর তোমার ভালোবাসা,  তোমায় আমি বাসবো ভালো  আমার শুধু এটাই ছিল আশা।  আমি চাইনি তুমি আমার   ক্ষত জাগায় একটু মলম মাখো।। চেয়েছিলাম তোমার সাথে  দিন কাটাবো রাত কাটাবো আমি,  আমার চাওয়ার মূল্য দাও নি   তবু তুমি আমার কাছে দামি।। সেই তুমি আজ ভালোবাসা  চেয়ে চেয়ে কাঁদো দ্বারে দ্বারে, সেই আমি আজ তোমার স্মৃতির  অশ্রুতে চোখ ভিজাই বারে বারে। এই ছিল কি ভাগ্য লেখন  অসময়ে কেন আমায় ডাকো??

দিন থেকে রাতে

 দিন থেকে রাতে  খাদিজা বেগম  দিন থেকে রাতে রাত থেকে দিনে  এভাবে চলেছে জীবন আমার,  মাঝে মাঝে দেখি দিনের আলোতে রাতের চেয়েও অন্ধকার।। দিন কেটে যায় ব্যস্ততায়  কখনো কখনো রাত কাটে ভেবে, যত্নে গড়ানো স্বপ্ন আমার  চোখের সামনে জ্বলে আর নেবে। নীরবে নীরবে আরো কত আমি  সয়ে যাবো রোজ এই অবিচার।। জন্ম থেকেই দুঃখ আমার  সাথে সাথে থাকে চির সাথী হয়ে, তবুও বোকার মত কেন আমি  পালাতে চাইছি দুঃখের ভয়ে।। দুঃখ আমার এই শরীরের  শিরায় শিরায় শ্বাসে শ্বাসে থাকে, দুঃখ আমার নয়নে নয়নে  আমি অকারনে ভুল ভাবি তাকে। মানুষ হবার মন্ত্র দুঃখ  দুঃখের ভিতরে লুকানো সুখের দার।।

কভু যদি

 কভু যদি  খাদিজা বেগম  কভু যদি চলার পথে  চলেই আসে বৈশাখী ঝড়,  কভু যদি আপন মানুষ  পরের চেয়েও হয়ে যায় পর।। তবু তোমায় যত্ন করে  সামলে রেখো আপন হাতে, বিশ্বাসঘাতক যায় চলে যাক  কি আসে যায় এমন তাতে।  ঝড়ের মুখে না দাঁড়িয়ে  খুঁজে নিয়ো আশ্রয়ের ঘর।। সব সাওয়ালের হয়না জবাব  সব সমস্যার নেই সমাধান, তবু বিশ্বাস করো তুমি  ধৈর্যের মাঝেই আছে কল্যাণ।। পথ এখনো অনেক বাকি  যেতে হবে অনেক দূরে, কে হয়েছে খাঁটি সোনা  নিজেকে না পুড়ে পুড়ে। সোনার মুকুট গড়ার জন্য  দূর করে দাও আগুনের ডর।।

একাকিত্বের

 একাকিত্বের  খাদিজা বেগম  একাকিত্বের নৌকায় চড়ে  তোমার স্মৃতির সাগরে যাই ভেসে,  সঠিক ভেবেই ভুল করেছি  মনে প্রাণে তোমায় ভালোবেসে।। এই মন কাঁদে প্রাণো কাঁদে  যখন তখন চোখে অশ্রু আসে, তুমি আমায় ভুলে গেছো  তবুও মন তোমায় ভালোবাসে।  জানিনা তো কেমন করে খুন করেছো আমায় হেসে হেসে।। জনো স্রোতে পাইনা তোমায়  তোমাকে পাই আমার একাকিত্বে,  তুমি আজো জেগে আছো এক মুঠো রোদ হয়ে আমার চিত্তে।। আজ তুমি নেই আজ প্রেমও নেই  হৃদয় জুড়ে শুধু তোমার স্মৃতি,  জনম জনম বাসবে ভালো  বলেও কেন টানলে প্রেমের ইতি।  আজো তোমায় ভালোবেসে  ঘুরে বেড়াই তোমার স্মৃতির দেশে।।

ধর্ম নিয়ে লড়াই

 ধর্ম নিয়ে লড়াই  খাদিজা বেগম  ধর্ম নিয়ে লড়াই করা  মানুষগুলো কোনো ধর্ম বোঝে না,  ধর্মগ্রন্থ পড়ে শুধু  ওরা ধর্মগ্রন্থের অর্থ খোঁজে না।। হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিষ্টান  সকলে এক সৃষ্টি কর্তার সৃষ্টি, ধর্মের ব্যবসা করে যারা  তাদের নাইতো সত্য ন্যায়ের দৃষ্টি।  ধর্ম ছড়ায় জ্ঞানের আলো  জ্ঞান পাবে না সে যে মানুষ ভজে না।। মানব ধর্মের মূল উদ্দেশ্য  নৈতিকতা বজায় রেখে চলা,  শান্তি এবং শৃঙ্খলাকে  রক্ষা করে মুখের কথা বলা।। ধর্ম বোঝে যে মানুষে সে করে না অন্য মানুষ ঘৃণা,  মহান স্রষ্টার ভালবাসা কেউ পাবে না মানুষের প্রেম বিনা। মানুষ হতে পারবে না সে  যে নিজের রাগ লোভ-লালসা গুঁজে না।