Posts

Showing posts from January, 2023

বাবা বাবা

 বাবা খাদিজা বেগম  বাবা বাবা ও ও বাবা তোমায় ভুলে থাকা যায় না, স্মৃতির আগুন জ্বলছে বুকে  এখনো তো তা জুয়ার না। তোমায় ভুলে থাকা যায় না। আয়না দেখলে তোমায় দেখি হাত বাড়িয়ে আমি ধরি, অনেক কষ্ট দিয়েছি তাই  কেঁদে কেঁদে বলি সরি। অনুতপ্ত এই নয়নে আমার চোখের জল ফুরায় না।। তোমায় ভুলে থাকা যায় না। তুমি আমায় সুখে রেখে  সইছো সকল দুঃখের থাবা, মাফ করে দাও আমায় তুমি করিনি তো তোমার সেবা। দিনের পর দিন করছি আমি  একের পর এক নতুন বায়না।। তোমায় ভুলে থাকা যায় না। একটি বারো ভাবিনি তো বাবা তোমার কি প্রয়োজ? একটি বারো বুঝিনি তো  বাবা তুমি এত আপন। তুমি ছাড়া একলা আমি  এই দুনিয়ার আজ অচেনা।। তোমায় ভুলে থাকা যায় না।

এই পৃথিবী

 এই পৃথিবী  খাদিজা বেগম এই পৃথিবী তোমার সেবায়  তুমি শুধুই এর মেহমান, কেমন করে বুঝাই তোমায়  মানুষ তুমি খুব মূল্যবান। মাটির একটা প্যাকেট করা  তোমার ভিতর সোনা আত্মা, সেই সোনাটা কয়লা হবে  যদি বলো থাকো মিথ্যা। যত বলবে সত্য কথা  তত বাড়বে তোমার সম্মান। এমোনি এক বোকা মানুষ পরে আছো প্যাকেট নিয়ে, ভিতরে ধন খুব মূল্যবান  তা ফেলেছে সে হারিয়ে। প্যাকেটটারে যত্ন করে  এই প্যাকেটাই যেন তার প্রাণ।। আত্মা যাবে আত্মার জায়গায়  মাটির প্যাকেট ফেলে রেখে,  বোকা মানুষ কেউ শেখে না  আত্মার চলে যাওয়া দেখে। পৃথিবীটা পরিক্ষার হল এই পরীক্ষায় নাই কারো ত্রাণ। আত্মার যত্ন করো রে মন  তোমার আত্মার যত্ন করো, পাক পবিত্র আত্মা নিয়া এই পৃথিবী যেন ছাড়। সততাকে আঁকড়ে ধরো চর্চা করো কুরআনের জ্ঞান।।

ভালবাসবো

 ভালোবাসো খাদিজা বেগম ভালোবাসো ভালোবাসো  ভালোবাসো নিজেকে মন, ভালো থাকতে হলে তোমার  ভালোবাসা খুব প্রয়োজন। নিজের প্রতি যত্নশীল হও  নিজেকে দাও একটু সময়, দাম দিয়ে যা কেনা যায় না  করছো কেন তার অপচয়? অন্যের ভাবনায় দিন হলে শেষ  নিজের জন্য ভাববে কখন?? তোমার রাজ্যে তুমি রাজা  মনকে দিও না রাজত্ব, মনের গলাম হয়ে থাকলে  তোমার জীবন হবে ব্যর্থ। শক্ত হাতে লাগান ধরো  রাখতে হবে মন নিয়ন্ত্রণ।। চারিদিকে লোভ লালসার  ফাঁদ পেতেছে তোমার জন্য, অসাবধান হলেই তুমি হয়ে যাবে সত্য শূন্য। যার ভিতরে নাই সততা  সেজন বন্য পশুর মতন।।

না ঘুমিয়ে

 না ঘুমিয়ে খাদিজা বেগম  ছোট্ট একটা জীবন আমার তাই থাকতে চাই, না ঘুমিয়ে, জেগে থেকে কাজ করিবো ঘড়ির সাথে পাল্লা দিয়ে। ঘড়ির চেয়েও আরো দ্রুত  চলবো আমি অবিরত, চলার পথে ভাঙবো বাঁধা আমার সামনে পড়বে যত। কানায় কানায় পূর্ণ হব  শূন্য করে সবটা দিয়ে।। দেবর আছে অনেক কিছু কোথায় দেবো আমি ঢেলে? নেবার মতো দেখি না তো দিতাম কাগজ কলম পেলে। যাওয়ার সময় যেতে চাইনা  এতটুকু ফেরত নিয়ে।। কোন ক্লান্তি ছোঁয় না যেন  হয় না যেন কোনো অসুখ, সবার জন্য ভালোবাসায় ভরা থাকুক আমার এই বুক। শেষ করিবো আমার কর্ম  ন্যায়ের সাথে দায়িত্ব নিয়ে।।  

আমানত

 আমানত খাদিজা বেগম আমাদের এই জন্মভূমি  পূর্বপুরুষ এর আমান, জীবন দিয়ে রক্ষা করবো  হতে দেব না খেয়ানত। লাখো প্রানের দামে কেনা  লাল সবুজের এই পতাকা, অগণিত মা, বোনদের  সম্ভ্রমে কেনা এই স্বাধীনতা। দেশের ক্ষতি করবে যারা  তাদের উপর পরবে লালত।। সব বেলাতে ছাড় দিলেও  দেশের বেলায় দেব না ছাড়, দেশের ক্ষতি করে যারা  তাদের সাথে যুদ্ধ এইবার। দেশের শত্রু শেষ করিব  স্রষ্টার নামে নিলাম শপথ।। লোভ লালসা ভয় তাড়িয়ে গড়ব‌ জীবন ত্যাগে ত্যাগে, সত্যিকারের মানুষ হতে  স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস লাগে। নৈতিকতায় অটল থেকে  চলব সদা সততার পথ।।

আসার আগে

 আসার আগে খাদিজা বেগম  পৃথিবীতে আসার আগে  ছিলাম আসার সিরিয়ালে, যাবার জন্য নেই সিরিয়াল কি আছে যে এই কপালে।। কেউ মানে না কোন নিয়ম  এ যেন এক পাগল খানা, এইখানেতে সবাই কাঁদে  কেউ শোনে না কারো কান্না। যাবার কথা ভুলে গিয়ে  বন্দী সবাই মায়াজালে।। যতই যে চায় স্বাধীনতা ততই সে বন্দি থাকে, চোখ থাকিতে অন্ধ লোকে  কেউ চিনে না আপনাকে। ন্যায় অন্যায় বোধ ভুলিয়া  গা ভাসাইছে স্রোতের তালে।। টাকা খেকো প্রাণীগুলো  পাগল থাকে টাকার গন্ধে, মানুষগুলো খুব অসহায়  অমানুষদের টাকার দ্বন্দ্বে। মানুষ আছো কিনা মানুষ?  চেয়ে দেখো অন্তরালে।।

আমরা

 আমরা খাদিজা বেগম  আমরা বার বার আসবো না আর দায়িত্ব নিয়ে পৃথিবীতে, পারবো না আর মানুষেরে  ভালবেসে সেবা দিতে। আজ থেকে তাই করব না কেউ কাউকে ঘৃণা আর অপমান,  অটুট থাকবো নিজের দায়িত্বে যায় যদিও তাতে এই প্রাণ। অশ্লীল ভাষা রাখবো না আর  আমাদের এই জবানীতে ।। কারো ক্ষতি করবো না আর  আমাদের এই হাতে আর পায়, উপকারী কর্ম করে  সুখ ছড়াবো এই দুনিয়ায়। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে সমাজ ভরবো প্রেম প্রীতিতে।। একের দুঃখে অন্য জনা আমরা সদায় থাকবো তৈরি, ক্ষুদ্র স্বার্থ কেন্দ্র করে  কেউ হবো না কারো বৈরী। মিলেমিশে থাকবো আমরা  মানব জাতি সব জাতিতে।।

সূর্য

 সূর্যকে দেখাই পথ খাদিজা বেগম  সূর্য আমার পিছে থাকে  আমি তাকে দেখাই পথ, আমার সামনে ধসে পড়ে ভয়াবহ সব বিপদ। মরুর বুকে বয়ে চলা  আমি ক্ষিপ্ত জলের ঢেউ, আমায় ছাড়া ভয় করিনা  তাতে হোক না সে যে কেউ। সঠিক মতে অটল আমি মানি না ভুল ঐক্যমত।। আমার ভিতর আমার রাজ্য আমি আমার ঐশ্বর্য, নিঃস্ব হয়ে যাই কখনো  যখন হারাই সব ধৈর্য। সততাকে আকারে রাখব নিত্য করি এই শপথ।। অর্জন বলে নাই কিছু মোর বর্জন করি রোজ মিথ্যা, বীরের মতো যুদ্ধ করে  সদা করি লোভ হত্যা। চলেছি রোজ কোটি বছর  যা শুধুই এক ঘন্টার পথ।

ওত পেতেছে

 ওত পেতেছে খাদিজা বেগম  ওত পেতেছে সর্বত্র আজ  আত্মঘাতী প্রলোভন, সতর্ক হও তৈরি থেকো  লড়াই করা প্রয়োজন, চারিপাশে ঘিরে আছে  শত শত প্রলোভন, ফাঁদে ফেলার জন্য তোমায়  নিত্য নতুন আয়োজন। মাদক সেবন জীবন নাশের  জ্বলন্ত এক উদাহরণ।। আরো আছে জুয়া খেলা  সুদ, ঘুষ, যৌন হয়রানি, নিয়ন্ত্রণে রাখো মনটা  বিবেকে জাগাও এখনি। নিজে নিজেই হও নিজের  রক্ষাকারী দারোয়ান।। তুমি এখন অনেক বড়  অভিভাবক হও তোমার,  পাপ করিলে বইতে হবে  সারা জীবন হাহাকার। কর্মফল টা কেউ নেবে না  এটাই নিজের উপার্জন।। নিজের বিকাশ করতে হলে  দাঁড়াও রিপুর বিরুদ্ধে,  মূল্যবোধে দ্দীপ্ত হয়ে সতর্ক হও সকল যুদ্ধে।। প্রতিকূল ক্ষণ থাকে না তো  কারো জন্য আজীবন।।

তপ্ততাপে

 তপ্ততাপে খাদিজা বেগম  তপ্ততাপে তৃষাতুর মন  এই বৈশাখের দুপুরে, বৃষ্টি হয়ে মন ভেজালো  তোমার প্রেমের নুপুরে। কানায় কানায় মন ভরেছে  দেখার পরে তোমাকে, মনে হয়েছে শ্রাবণ ধরা  তপ্ত তাপের বৈশাখে। মন ডুবেছে ভাসেনা আর  ভালবাসার পুকুরে।। হঠাৎ করে ফুল ফুটেছে  তোমার রুপের ফাগুনে, দিনের বেলা চাঁদ উঠেছে পুড়ছি জোছনার আগুনে। পড়ছে তবু গাইছে এ মন  নাচছে তারই প্রেম সুরে।। যতই দেখি তাহার আঁখি  মন হয়ে যায় দিওয়ানা, জানিনা তার নাম ঠিকানা  সবই আমার অজানা। শুধু জানি সেই মুখটা খুব  মায়াবী আর আদুরে।।

দোর খুললেই

 দোর খুললেই খাদিজা বেগম  দোর খুলিলেই হবেনা ভোর যেথায় আছে চিন্তার কালো, চিন্তাতে আর চেতনায় আজ হতেই হবে তোমায় ভালো।। মুখের কথায় হয়না ভালো  ভালো হতে হবে কর্মে, যে করেনা কারো ক্ষতি  তাকেই মানুষ বলে ধর্মে। জ্বালো জ্বালো মনের ভিতর  মানবতারা প্রদীপ জ্বালো।। জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও  মনে পোষা লোভ লালসা, এই সমাজে ছড়িয়ে দাও  সবার প্রতি ভালবাসা। তুমি হবে সবার জন্য  নতুন দিনের আশার আলো।। এই সমাজে সেই তুমি আজ কোন কারণে হয়েছ ত্রাস, স্বাধীন মানুষ হয়েও কেন আজ হয়েছো ক্ষমতার দাস। বিবেক দিয়ে যাচাই করো তুমি মন্দ কিনা ভালো।।

মুক্তি সেনা

 মুক্তি সেনা খাদিজা বেগম  মুক্তি সেনা মুক্তি সেনা ডাক এসেছে যুদ্ধে যাবার, বাংলা মাকে মুক্ত করো  দুর্নীতির হাত থেকে এবার। হায়েনা এখন দেশের ভিতর দেশ দরদী বেশ ধরেছে, তলে তলে দেশের সম্পদ দল বেঁধে আজ লুট করেছে। সত্য নিয়ে জেগে ওঠো  সময় নেই আর বসে থাকার ।। শিক্ষা মোদের মেরুদন্ড  তাও দিয়েছে ভেঙে চুরে, দুর্নীতির ঐ কালো ছায়ায় অন্ধকার আজ দেশটা জুড়ে। ওঠ জেগে ওঠ সূর্য হয়ে  তাড়িয়ে দেয় সব অন্ধকার।। তোরা জাগলেই ধ্বংস হবে  ওদের সকল ষড়যন্ত্র, আসবে ফিরে দেশের মাঝে সত্যি কারের গণতন্ত্র। জাগো জাগো মুক্তি সেনা এখন সময় যুদ্ধ করার।।

ভোর হয়েছে

 ভোর হয়েছে খাদিজা বেগম  ভোর হয়েছে সেই তো কবে  আমার জন্ম হওয়ার আগে, তবু কেন ঘোর অন্ধকার  এতো আঁধার আঁধার লাগে। স্বাধীন দেশে জন্ম নিয়ে থাকবো কেন এখনো চুপ? ভয় ভীতি সব মাটি দিয়ে  দেখিয়ে দেবো বীরের স্বরুপ। জাগ্রত হও বীর বাঙালি ঐ শত্রুরা জাগার আগে।। দেশের পক্ষে দাঁড়িয়ে যাও  গোলা,বারুদ,গুলির মুখে, কোন আঘাত লাগেনা যে আমাদের এই দেশের বুকে। গড়বো এই দেশে নতুন করে  দুর্নীতির ঐ দেয়াল ভেঙে।। দুর্নীতির ওই গোন পোকা সব  কাষ্ট ধরে জ্বালিয়ে দাও, সম্মান নিয়ে বাঁচতে হলে  আগে দেশের সম্মান বাঁচাও সত্য ন্যায়ের হাতিয়ারে  ভাঙবো দেয়াল ভাগে ভাগে।।

অন্ধকারে চশমা

 অন্ধকারে চশমা খাদিজা বেগম  অন্ধকারে চশমা দিয়ে  লাভ হবে না চোখে, আলোকিত হতেই হবে  সবার আগে তোকে। তোর ভিতরে না জাগালে  সত্য ন্যায়ের আলো, দূর হবে না কোনদিনও  তোর হৃদয়ের কালো। তুই এক জনা অপরাধী  যতই ভালো বলুক লোকে।। তুই ভালো না তুই তো জানিস করিস না তা স্বীকার, স্বীকার করলে ফিরে আসতি করতি না পাপ তুই আর। সেজদায় গিয়ে কাঁদতিরে তুই  তোরই বাপের শোকে।। সত্যিকারের মানুষ হলে  মানুষে ভুল শুধরায়, অমানুষে না শুধরিয়ে খুঁজে ভুলের উপায়। এমন একদি আফসোস করবি  নিজের মাথা ঠোকে।।

অনুঢ়া মন

 অনুঢ়া মন খাদিজা বেগম  অনুঢ়া মন থাকবে কত তোর অপেক্ষায় অনুঢ়া আর? কি বলিলে বুঝবি রে তুই কত জ্বালা এই অনুঢ়ার! জোড়ায় জোড়ায় পাখি উড়ে একের পিছে অন্যে ঘোরে, তাই দেখিয়া মন মানে না  খুব বেশী আজ চাইছি তোরে। আমি তোরি হয়ে আছি  তুই কেন যে হওনা আমার? তোরে পাইলে পাওয়া হইতো  জোছনা ঝরা পূর্ণিমার চাঁদ, তোরে পাবার আশা নিয়া  করি আমি রোজ মোনাজাত। তোর পরশে জুড়াইয়া দে পুড়ে পুড়ে হৃদয় আঙ্গার।। কেমন করে বলবো তোরে  তুই ছাড়া মোর চলে নারে, আমার এ মন তোর কথা কয় তোরেই ডাকে বারে বারে। তোর অপেক্ষায় খুলেছে মন  ভালবাসার প্রণয় দ্বার।।

তোর প্রেমেতে

 তোর প্রেমেতে বিদ্রোহী মন  তোর প্রেমেতে বিদ্রোহী মন আমার কথা শোনে না, নারে না না আমার এ মন আমার কথা শোনে না। তোর ভাবনায় জেগে থাকে  ঘুমাতে দেয় না রাতে, রঙিন রঙিন স্বপ্ন দেখে  আমার এ মন তোর সাথে। তোর প্রেমেতে অবুঝ এ মন  বোঝালে বুঝ মানে না।। মন মাঝারে দোলনা পাতা  সেথায় দুলতে থাকিস তুই, বিদ্রোহী মন হয়না দমনা  যতই তারে জেলে থুই। কেমন করে দেবো ফাঁসি  জানি না রে জানি না।। মনের সাথে মরে যাব  বেঁচে থাকতে পারবো না, তুই যদি গো রাখিস ধরে  আমি তোরে ছাড়বো না। মন যারে চায় তারে ছাড়া  বাঁচতে আমি পারবো না।।

প্রেম পিড়াতে

 প্রেম পিড়াতে খাদিজা বেগম  প্রেম পিড়াতে পীড়িত মন  ভালোবাসার রোগ ভরা গায়, তারে ছাড়া বাঁচবো না আর  আমার দেহ মন যারে চায়। মন ভুলানো কথা বলে  এখন সে তা গেছে ভুলে, আমি চাইলেও মন ভোলে না  তারে মাথায় রাখে তুলে। তার কথাতে বিশ্বাস করে  আমার প্রাণটা এখন যায় যায়।। তার বিরহে পুড়ে পুড়ে  পুড়ে গেছে আমার হিয়া, তবুও তো নিল না খোঁজ একবারো সে ভুল করিয়া। কেউ বুঝবে না কষ্টের কথা  বুঝাবার নাই কোন উপায়।। তার প্রেমেতে প্রাণ বাঁধিয়া  ছটফটিয়ে আমি মরি, তার পাথরের মন টলে না  যতই হাতে পায়ে ধরি। গন্ধ নাইরে ধোয়া নাইরে জ্বলছে আগুন এই কলিজায়।।

কোথায় তুমি

 কোথায় তুমি খাদিজা বেগম কোথায় তুমি, তুমি কোথায়?  খুঁজে খুঁজে দিশেহারা, কোথায় তুমি, তুমি কোথায়?  দাও সারা দাও, দাও না সারা।। তোমার নামটি লইয়া লইয়া  কাঁদে আমার দুটি আঁখি, মনটা আমার উড়ে বেড়ায় তোমার খুঁজে হইয়া পাখি। ওগো তোমায় খুঁজে খুঁজে হলেম আমি পাগল পারা।। জানিনা কি জাদু জানো মনে মনে মনটা টানো, টেনে টেনে তোমার টানে  ঘরের বাহির করে আনো। এমন কেন ভালোবাসা  কেন এমন প্রেমের ধারা?? তোমার খোঁজে পথে পথে ঠিকানা হীন পথ চলেছি, জানিনা তো কেন এত তোমার প্রেমে খুব জ্বলেছি? যেথায় পড়ে চোখের দৃষ্টি  দেখি শুধুই এক চেহারা।।

তোমার খাঁচায়

 তোমার খাঁচায় খাদিজা বেগম  তোমার খাঁচায় পুষলে আমায় হইতাম তোমার পোষা ময়না, হাতে ধরে দেখলে আমার  হইতাম তোমার হাতের আয়না।। শীতের দিনে হইতাম আমি  তোমার গায়ের উষ্ণ চাদর, তোমার অঙ্গে অঙ্গে আমি  হইতাম মিষ্টি মধুর আদর। মনে মনে তোমার কথা  এই মুখেতে কিছুই কয়না।। তুমি যদি ভিজতে চাও হে আমি হইতাম প্রেমের বৃষ্টি, ঝড় ঝরাইয়া ঝরে পড়তাম  নতুন কিছু হতো সৃষ্টি। একলা জ্বলায় জ্বলি আমি  এই জ্বালাতো আমার সয়না।। কত কিছু হইবার আশা  আমি মনে মনে পুষি, তোমায় আমি দোষ দেবো না  আমি ভাগ্য দোষেই দুষি। এত করে চাই যাহারে সে তো আমায় কভু চায়না।।

জ্ঞানে জ্ঞানে

  জ্ঞানে জ্ঞানে খাদিজা বেগম  জ্ঞানে জ্ঞানে বিজ্ঞ যে লোক কাজের মাঝে পায় খুঁজে সুখ, তার কাজে নাই ছলচাতুরি  তার মনে নাই লোভের অসুখ। সততাতে সৎ মানুষটা মিথ্যা ছাড়া করে না ভয়, শত বিপদ অভাবেও তার শত তার নাই পরাজয়। কানায় কানায় সত্য ভরা সেই মানুষের পবিত্র মুখ।। ন্যায়ের পথের পথিক যে জন সে যাবে না অন্যায় পথে, দুই পথেরই পথিক যে জন  নিকৃষ্ট সে স্রষ্টার মতে। উৎকৃষ্ট যে হবে না সে  কখনো তো সত্য বিমুখ।। সত্যবাদী সত্য বলে  প্রয়োজনে থাকে সে চুপ, অকারনে বললে কথা  উঠবে ফুটে শয়তানি রুপ। লোভ লালসায় যন্ত্রণা হয় সত্যবাদীর সততাতেই সুখ।।

দূর্নীতি

 দূর্নীতি খাদিজা বেগম  ডানে বামে আজ দূর্নীতি সামনে পিছে আজ দূর্নীতি, দুর্নীতির ঐ জোয়ার উঠে   আজ ডুবাল সব সুনিতী। স্কুল, কলেজ, মন্দির, মসজিদ মাটে, ঘাটে, বাজারে আজ, কানায় কানায় ভরে আছে  উপচে পড়া দুর্নীতিবাজ। এই দুর্নীতির কারণে আজ  ধ্বংস হলো অর্থনীতি।। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড এই দুর্নীতিতে ভেঙ্গেছে তা, যতই নিচ্ছে শিক্ষা সনদ ততই বাড়ছে যে মূর্খতা। আরো বাড়ছে চাঁদাবাজি  গুম, খুন, ধর্ষণ, দমননীতি।। দুর্নীতি টা আজকে যেন  নীতি হলো এই সমাজে, সবখানেতে সভাপতি  হায়েনাদের দলটা বাজে। দলে দলে আজ দুর্নীতি  রাজনীতিতে আজ দুর্নীতি।।

ও নামাজি

 ও নামাজি খাদিজা বেগম ও নামাজি তোমার নামাজ  তুমি যাচাই কারো আজি, সত্যি কারের নামাজি কি নাকি তুমি একটা পাজি? সুদ খেওনা, ঘুষ খেওনা এটা স্রষ্টার কঠোর নিষেধ, কোথায় তোমার স্রষ্টাতে ভয়  হালাল হারাম এর ভেদাভেদ? একই মানুষ একিই সাথে হয় না পাজি আর নামাজি।। করছ কেন ছলচাতুরি অন্যজনকে ঠকাতে আজ? তোমার কাজের জন্য কেন  গুরুত্বহীন ফরজ নামাজ? অন্যের সম্পদ মেরে খেয়ে  লাভ হবে না হয়েও হাজী!! অন্যায় দেখেও যদি থাক লাশের মতো নিরবে চুপ, তবে তোমায় যাচাই কর  মানুষ নাকি মানুষের রূপ? মনের সাথে যুদ্ধ করে  হতেই হবে তোমায় গাজী।।

কুরআনের জ্ঞান

 কুরআনের জ্ঞান খাদিজা বেগম পাট করে নে পাঠ করে নে  বোকা মানুষ কুরআনের জ্ঞান, জ্ঞানের চেয়ে নাই কিছু আর  এই দুনিয়ার ধন মূল্যবান। পারেনা কেউ নিতে এই ধন  এই ধনের নেই কোন শরিক, ওই ধন আছে যার ভেতরে আলোকিত তার চারিদিক। এই ধনেরি ধনি যে জন দুঃখ তারে দিয়েছে ত্রাণ।। মরে গেলেও আলো হবে  তার অন্ধকার ঐ কবরে, শেষ বিচারে মুক্তি দেবে  রাখবে তারে খুব আদরে। থাকতে সময় পাঠ করে নে  পবিত্র ঐ কুরআনের জ্ঞান।। লোভ লালসা পিছে ছুটে  করো না কেউ জীবন ব্যর্থ, স্বার্থ ছাড়া বিফল হবে  তোমার পাপের পাপিয়া অর্থ। সেই সততার আয়না দেখো তুমি তোমার কবর স্থান। জ্ঞানী জন দেয় না ধোকা  করে না সে ছলচাতুরি, অন্যের সুখে সুখী সে জন  সে করে না বাহাদুরি। সদা সে জন ব্যস্ত থাকে  করে মুক্তির অনুসন্ধান।।

দামি মানুষ

 দামি মানুষ খাদিজা বেগম  তোমরা অনেক দামি মানুষ আমিও নই সস্তা মানুষ, তোমরা অনেক ব্যস্ত মানুষ  আমিও নই অলস মানুষ।   তোমরা অনেক জ্ঞানীগুণী  আমিও নই মূর্খ, বোকা, তোমরা অনেক অর্থে বড় আমিও নই ক্ষুদ্র থোকা। আমি লোভের উর্দ্ধে উঠে নৈতিকতায় গড়া মানুষ।। তোমরা অনেক পবিত্র জন  আমিও নই অপবিত্র, তোমরা অনেক চরিত্রবান আমিও নই কুচরিত্র। লালোসাতে লাগাম দিয়ে আমি ধৈর্যে গড়া মানুষ।। তোমরা অনেক বংশীয় লোক আমিও নই পরিচয়হীন, এই দেশ আমার জন্মভূমি আমি সন্তান তার চিরদিন। দেশের শত্রু আমার শত্রু সেই কাপুর যারা খায় ঘুষ।।

ব্যাক্তিগত দেয়াল

 ব্যক্তিগত দেয়াল  খাদিজা বেগম  তোমার আমার মাঝে এখন একটা ব্যক্তিগত দেয়াল, তাই তো এখন আমার প্রতি নাই আর আগের মত খেয়াল।। এই দেয়ালে ভাগ হয়েছে মন তার পরে ভাগ হবে বাড়ি, সেই ভাবনায় মন এখনি করে শুধু আহাজারি। আমার নাওটা ঘাটে বান্দা  ও তুমি কার নায় উড়াও পাল।। তখন তোমার পায়ের চিহ্ন  পড়বে না আর মোর বাড়িতে, তোমার জন্য হবে না আর  কোন রান্না মোর হাঁড়িতে। তুমি থাকবে সঙ্গি নিয়ে  আমার একলা দুঃখী কপাল।। আমরা দুজন ভিন্ন তখন  কেউ রাখবো না কারো খবর, তবু বহন করব বুকে  আমি তোমার স্মৃতির কবর। হয়তো কোন দিন বুঝবে না  আমি তোমার প্রেমের কাঙ্গাল।।

এই ফরিয়াদ

 এই ফরিয়াদ খাদিজা বেগম তুমি ছাড়া নাই কেহ নাই  আমার বন্ধুবান্ধব বলে, তুমি আমার সঙ্গের সাথী  তোমার সঙ্গে যাবো চলে। তুমি আমার হুকুমদাতা  মানি তোমার পরামর্শ, তোমার বন্ধু শ্রেষ্ঠ নবী এই জীবনে মোর আদর্শ। শায়তান আমার শত্রু লাগে   কুপরামর্শ দেয় কৌশলে।। আমি মানুষ তোমার গোলাম আমার, তোমার গোলামিতেই সুখ, নাই অভিযোগ নাই অভিমান  দাও যদিও অভাব, অসুখ। আমায় ছোট করো না সাই কারো কাছে বুদ্ধি বলে।। তোমার বানী অমূল্য ধন  আমি যেন তা না হারাই, কোনদিনও আমি যেন পাপের পথে পা না বাড়াই। এই ফরিয়াদ জানাই তোমায়  কৃতজ্ঞ দুই চোখের জলে।

দাবা খেলা

 দাবা খেলা খাদিজা বেগম  এই জীবনটা দাবা খেলা  ধ্বংস হয়ে যায় ভুল চালে, ভুল মানুষের সঙ্গী হয়ে  নাচিস না তুই আর ভুল তালে। সবাই তরে ছেড়ে গেলও  ছাড়বে না তোর কর্মফলে, আয় ফিরে আয় সঠিক পথে ভুলিস না তুই মিথ্যা ছলে। শেষ বিচারের ফেঁসে গেলে  শাস্তি হবে চিরকালে।। আর কাঁদাস না গরিব, দুঃখী  সহজ সরল মানুষগুলো, কখনো তো যায়না দেয়া  সৃষ্টিকর্তার চোখে ধুলো। তার সৃষ্টিকে কষ্ট দিলে শাস্তি মিলবে তোর কপালে।। যা হবার তাই হয়ে গেছে  ক্ষমা চেয়ে আয় ফিরে আয়, ক্ষমার দুয়ার আজো খোলা  ওরে পাপী তোর অপেক্ষায়। আর কবে তুই বুঝবি রে মন তুই ফেঁসেছো মিথ্যা জালে।।