Posts

তোমার ছবি

  খাদিজা বেগম তোমার ছবি যেন, শুধুই ছবি নয় এ যেন গো, আমার প্রেমের উপন্যাস, যতবার দেখি, ঠিক ততবার আমি  নিজেই ডাকে আনি, নিজের সর্বনাশ।। তোমার আঁখি যেন, শুধুই আঁখি নয় এ যেন গো, আমার ভালবাসার সিন্ধু, যতবারই তাকাই, ততবারই ডুবিয়া যাই তোমাতে ডুবে, আমাকে পাই না খুঁজে বন্ধু ‌। তোমার বুক যেন, শুধুই বুক নয় এ যেন গো, আমার প্রণয় ভরা আবাস, অনেক আদরে, ভালবাসার চাদরে আমায় তুমি, জড়িয়ে রেখ বারমাস।। তোমার বাহু যেন, শুধুই বাহু নয় এ যেন গো, আমার স্বপ্নে পাওয়া সুখ, যতবারই জড়াই, ততবারই ভুলিয়া যাই এ জীবনে জড়িয়ে থাকা সকল দুখ। তোমার মুখ যেন, শুধুই মুখ নয় এ যেন গো, আমার রংধনুর আকাশ, ঐ মুখের বাঁকা হাসিতে ছড়ায় যেন আমায় মাতাল করা মধুর সুবাস।। তোমার ওষ্ঠ যেন, শুধু ওষ্ঠ নয় এ যোনো গো, সর্গ সুখের স্থান, যেখানে নেমে, অবুঝ হয়েছি প্রেমে জুড়িয়েছি আমি, আমার দগ্ধ এ প্রাণ। তোমার দেহ যেন, শুধু দেহ নয় এ যেন আমায়, রক্ষা করার পাহাড়, যতবার এসেছে, আমার জীবনে ঝড় ততোবারই যে, সামনে দাঁড়িয়েছ তাহার। তুমি আমার কাছে নও তো, কোন শাজাহান, ইউসুফ, মজনু, কিংবা চন্ডিদাস আর দেবদাস, তুমি তো তারও চেয়ে, আরও বড় প...

হালচাল

২৪/০৮/২০১৯ (ক: নং -২) হালচাল খাদিজা বেগম ইঁদুর ভয়ে বিড়াল পালায় চোরের ভয়ে পালায় পুলিশ, এমন হালচাল দেখে ভাবি  কোথায় গিয়ে করব নালিশ।। মিঠা দেখে পিঁপড়া পালায় হরিণ দেখা পালায় বাঘে , এমন গল্প শুনিনি আর দেখিনি ও কভু আগে। চোর, ডাকাতের বড় গলা ধরলে করে ফিসফিস, মাজারে আর মন্দিরে যায়  সাধু ছদ্মবেশী ইবলিশ।। শিয়াল এখন মুরগি পালে তাই দেখিয়া আসে হাসি, অফিসে আর আদালতে সুদ, ঘুষের চাষ বারমাষি।। আদর্শবান পায় না সালাম সন্ত্রাসীদের করো কুর্নিশ,  তাই মানুষের ভিতর থেকে মানবতা হচ্ছে ফিনিশ। যৌতুক নিয়ে করে বিয়ে দেনমোহর না দিয়ে বরে, বউয়ের কাছে ঋণী হয়ে  মনুষ্যত্ব ধ্বংস করে। শুকনো পাতা ঝরে পড়ে বৃক্ষ মৃলে করে মালিশ, নোংরা কপট রশি দিয়ে ফাঁসি দিলো নির্মল সালিশ। 

বাসনার বাসর

 একদা এক বর বাসর ঘরে গিয়ে, বৌ, বৌ তোমার চরণ দুটি দাও এগিয়ে। চমকে গিয়ে বললো বৌ পাগল হলে নাকি? আরও কিযে বলতে লাগলো অন্যদের ডাকি। এমন সময় বরে চেপে ধরল মুখ, জড়াজড়ি করে দু'জনেই লাল টুকটুক। বউ ভাবে পাগল আর বর ভাবে পাগলি, ধরলাম না ছুঁই লাম না কেন এতো চিল্লাচিল্লি? কতো যে প্রশ্ন করে বরে মুখ ছাড়ে না,  তাই তো বউ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না। একটা সময় ক্লান্ত হয়ে দু'জনেই চুপ, চেয়ে দেখে একে অন্যের মায়াবী রুপ। তখনি হাত সরে ঐ রুপে মুগ্ধ হয়ে, ফের চিৎকার করে বৌ পাগলের ভয়ে। তড়িগড়ি করে বরেয  ওড়না দিয়ে, চঞ্চল বৌ টা সামলে নিলো মুখ বেঁধে নিয়ে। তবুও বৌ দৌড়ায় খাট থেকে লাফিয়ে, বর টাও তার পিছনে পড়লো ঝাঁপিয়ে ‌। দুই হাত জোড় করে বলে দরজায় দাঁড়িয়ে, আজ নয় এই রাতে কাল যেও তুমি বেড়িয়ে। বৌ কিছুতেই মানতে চায় না বরের কথা, মনে মনে বলে এই সময়টা যায় অযথা। কষ্ট নিয়ে বউ কান্দে যেন ফান্দে পরিয়া, সাথে কন্দে বড়ে কেনো করিয়াছি বিয়া। তারা একে কান্দে অন্যের দিকে চাহিয়া, বরে আটকালো দৃষ্টি রাঙা চরণে গিয়া। যবে চরণ পানে বারালো দুটি হাত, না, না, চরণ ছুইয়ো না হবে অপরাধ। এই বলিয়া বৌটা...

কেউ একজন আসবে

 খাদিজা বেগম মনে মনে ভেবে ছিলো মন, কেউ একজন আসবে, এ হৃদয় মোর জয় করে নিতে, এখন দেখি সেই ভাবনাটা ভুল, আসেনি জয় করতে, এসেছে, এ হৃদয় ভেঙ্গে দিতে। কতদিন আশায় ছিলাম, কেউ একজন এসে ভালবেসে , আদরে রাখবে ধরিয়া, এখন দেখি সেই আশা ভুল, সে তো স্বার্থের লোভে  পরিয়া, নিরবে গেলো সরিয়া। কতরাত এই স্বপ্ন দেখেছি, কেউ একজন এসে থাকবে পাশে, আজীবন রাখবে সুখে, এখন দেখি সেই স্বপ্নটা ভুল, সুখের বদলে দুঃখের শিক্ষা, জ্বালাইলো আমার বুকে। ভাবিনি তো এই হৃদয় হবে, তার আঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ, সে দেবে এতো বেদনা।  এতো বেশী ভালবাসি যারে, তবুও সে কাঁদায় আমারে, ও চোখ তুমি কেঁদনা।

আল্লাহ্

  খাদিজা বেগম আল্লাহ আল্লাহ ডাকছি তোমায় দাও সাড়া দাও তুমি কোথায়? জ্বলছে আগুন পুড়ছে হৃদয় সয় না আমার এই কলিজায়।। বাবা হারা এতিম আমি আমাকে দাও আশ্রয় তুমি, না পাই যদি তোমার আশ্রয় বাঁচবো না আর এই দুনিয়ায়।। বাবার স্মৃতি ঘুম নিয়েছে কেমন করে থাকবো বেঁচে? দয়া করে বাঁচাও আমায় তুমি ছাড়া আর নেই উপায়।। বুকের আগুন নিভিয়ে দাও ভালবেসে কাছে ঠাঁই দাও,

কাড়াকাড়ি

 খাদিজা বেগম নারীর শরীর পু্রুষে আর  ঐ পুরুষের শরীর নারী, একে অন্যে ভোগের জন্যে হায়েনার মতো কাড়াকাড়ি।। সতি নারীর পতি কেড়ে নিয়ে যায় পতিতা নারী, বন্য পুরুষ কেড়িয়া নেয়  সভ্য পুরুষের স্ত্রী।। এই সমাজে চলছে এখন ঘর ভাঙা নোংরা ছিনারী, ষড়যন্ত্রের জালে ফেঁসে সরল মানুষ আজ ফেরারী।। ভোগ বিলাসে ডুবে থেকে জ্ঞানীগুণী হয় আনাড়ী, মানব মাঝে তাই তো দেখি ধৈর্যহীন কুবৃত্তিধারী।। প্রেমের নামে চরিত্রটা ধ্বংস করে নরনারী, আপন ঘরে হয়ে ওঠে এক এক জনে অত্যাচারী।।

ও গো আল্লাহ্

খাদিজা বেগম ওগো আল্লাহ, আল্লাহ আমার আমি পাপি বান্দা তোমার, পাপ করেছি এতো বেশী হিসাব রাখার উপায় নেই তার ।। পাপে পাপে ভরেছে মন অঝোরে তাই ঝরে নয়ন, তোমার ক্ষমা চাই বারে বার তুমি ছাড়া কেউ নেই আমার।। তোমার দয়ার দুয়ার খোলো ক্ষমা করে আমায় তোলা, নেও তুলে নেও বান্দা তোমার তুমি ছাড়া গতি নেই আর।। আমি বড় অপরাধী তোমার ক্ষমা পেতে কাঁদী, তুমি বীনে আর কেউ নেই আর এই পাপিকে ক্ষমা করার।।