Posts

Showing posts from June, 2024

যূথী ফুলের পুঁতি

 যূথী ফুলের পুঁতি  খাদিজা বেগম  যূথী ফুলের পুঁতি দিয়ে  মালা গেঁথে রেখেছি, যখন থেকে তোমায় আমি  আমার স্বপ্নে দেখেছি।। প্রেম তুলিতে তোমায় আঁকি  যত্ন করে প্রতিদিন, তোমার খুশী তোমার হাসি  সুখ রঙ্গেতে থাক রঙিন। এই হৃদয়ে তোমায় আমি  রানীর মত এঁকেছি।। যূথীর মত ঘ্রাণ ছাড়িয়ে  মন করেছ মাতাল মাতাল,  তোমার ঘ্রাণের পেছনে মন  ছুটে বেড়ায় সকাল বিকাল।। তুমি আমার যূথী বাগান  আমি তোমার যূথীর অলি, তোমার শীতল তাপদহে  মোমের মত আমি গলি। তোমার ঘ্রাণে মুগ্ধ হয়ে  এই মনে প্রেম মেখেছি।।  

বৃষ্টি ভেজা হাওয়া

 বৃষ্টি ভেজা হাওয়া  খাদিজা বেগম  বর্ষাকালে দিবানিশি  বৃষ্টি নামে ঝির ঝিরিয়ে, বৃষ্টি ভেজা হাওয়া লেগে  মনটা জাগে শির শিরিয়ে। জলের উপর বৃষ্টি হলে  জল মিশি যায় জল তরঙ্গে, বৃষ্টির তালে তাল মিলিয়ে  মন মিশে যায় মনের সঙ্গে। অবুঝ দেহ জেগে আছে  মিলনের স্বাদ বুকে নিয়ে।। বিজলির মত চমকে ওঠে  তোমারি রূপ দুটি চোখে, তোমায় ভেবে টেনে নিয়ে  বালিশ রাখি আমার বুকে।  একা একা থাকবো মলিন  তোমায় ছেড়ে আর কতদিন,  তুমি এসে ভালবাসে  এ জীবনটা করো রঙিন। শূন্য শূন্য এই হৃদয়টা  দাও ভরিয়ে আদর দিয়ে।।

মন ভিজিয়ে

 মন ভিজিয়ে  খাদিজা বেগম  মন ভিজিয়ে বাসবো ভালো  টাপুর টুপুর বৃষ্টিতে, মেঘের মত ভেসে যাবো  মিষ্টি মিষ্টি দৃষ্টিতে।। তোমার প্রেমের সুভস আসে  বৃষ্টি ভেজা হাওয়াতে, মন ভরে যায় কানায় কানায়  তোমায় কাছে পাওয়াতে। মন হয়ে যায় পাগল পাগল ঐ অপরূপ সৃষ্টিতে।। তোমার আমার দুটি দেহে একি মনের বসবাস, তুমি আমি ভিন্ন হলে  হয়ে যাবে সর্বনাশ।। মরুর বুকে জোয়ার ওঠে  তোমার মৃদু ছোঁয়াতে, দুঃখ গুলো দূর হয়ে যায়  ধরে রাখলে দুই হাতে। পিঁপড়ার মত মন ডুবে যায়  তোমার হাসির মিষ্টিতে।।

শেষ ঠিকানা

 শেষ ঠিকানা  খাদিজা বেগম  শত দেশে যতই ঘুরি  বাংলা আমার শেষ ঠিকানা, শত দেশে ঘুমাই যদিও  বাংলা আমার শেষ বিছানা।। বাংলার কোলে এসেছিলাম  কান্না নিয়ে পৃথিবীতে,  হাসতে হাসতে মিশে যাব  বাংলা মায়ের এই মাটিতে। বাংলার বোলে বাংলার কোলে  আমার সুখের শেষ আস্তানা।। দেশ, মাটি, মা এইতো আমার  বেঁচে থাকার মূল অবদান, দিতে হলে দেব আমি  দেশ মাতাকে প্রাণ বলি দান। নৈতিকতা সঙ্গী করে  এগিয়ে নেব এই বাংলাদেশ,  বাংলাদেশের জন্ম আমার  আহা ভাবতে লাগে যে বেশ। দেশের তরে স্বপ্ন দেখি  মেলে রাখি স্বপ্ন ডানা।।

জীবন নামের বৃক্ষ

 জীবন নামের বৃক্ষ  খাদিজা বেগম  জীবন নামের বৃক্ষ ডালে  মরণ নামের পাখির বাসা,  ওই বাসাটা ভেঙে গেলে  আর থাকে না বাঁচার আশা।। জীবন মরণ বসত করে  একি দেহ নামের খাঁচায়, ওরা যেন বন্ধু দুজন  দুজনারে দুজন বাঁচায়। একদিন ওদের যুদ্ধ হবে  সেদিন ভাঙবে মাটির খাঁচা।।   যেমন করে বসত করে  একি সাথে দিবারাত্রি, তেমনি একি পথের পথিক  জীবন কিংবা মরণ যাত্রি।। যেখানে যাও যেখানে রও  মরণ থেকে নাই তো নিস্তার, মরণ তোমার শ্বাস-নিঃশ্বাসে শিরায় শিরায় করছে বিস্তার। খাঁচা ভরা কিসের দেমাগ  যেই খাঁচা টার নাই ভরসা।।

বৃষ্টির বেশে

 বৃষ্টির বেশে  খাদিজা বেগম  ওগো) তুমি এসে বৃষ্টির বেশে  ভিজিয়ে দাও যখন আমায়, তখন) আমার খোপার চুল থাকেনা  থাকে না তো আমার খোপায়। এলোমেলো হয়ে যায় সব বৃষ্টির জলে খুলে খুলে, পাগলা হাওয়ায় পাগল হয়ে  হৃদয় নাচে দুলে দুলে। আর কমনে বুঝাই বল মন তোমাকে খুব কাছে চায়। মন বিজলীর মত যেন  ক্ষণে ক্ষণে চমকে ওঠে,  যখন আমার ঠোঁট লেগে যায়  বৃষ্টির দুটি ঠোঁটে ঠোঁটে। বৃষ্টির জলে শাড়ি ভেজে  আমার এই মন তো ভেজেনা, মন ভেজাতে চাইছি যাকে  সে তো আমার মন বোঝে না। কত নিশি চলে গেল  জেগে জেগে তার কল্পনায়।।

কি বুঝাচ্ছো

 কি বুঝাচ্ছো খাদিজা বেগম  কাকে তুমি কি বুঝাচ্ছো  আমার আমার চিৎকার করে, সারা জীবন থাকছ তুমি  পরের বাড়ি পরের ঘরে।। মালিক যখন বের করিবে  তখন তুমি কোথায় রবে? যাদের আপন ভাব তারা কেউ দেবে না জায়গা ভবে। ওই নামটাও অন্যের দেয়া  তোমায় ডাকে যে নাম ধরে।। অন্যে তোমায় জন্ম দিল  অন্যে তোমায় রাখলো গর্ভে, অন্যের কাছে যে ঋণ তোমার কভু না শোধ করতে পারবে!! এত ঋণী হয়েও তুমি  উঁচু গলায় বলো কথা,  কোথায় তোমার মনুষ্যত্ব  কোথায় তোমার নৈতিকতা? সময় থাকতে ভোগ ছড়িয়া  ত্যাগে ত্যাগ লও সব ভরে।।

অবসান

 অবসান  খাদিজা বেগম  শুধু তোমার জন্য কান্দে  কান্দে আমার অবুঝ প্রাণ, তোমায় পেলেই হবে আমার  সকল ব্যথার অবসান।। তুমি ছাড়া শূন্য লাগে  একলা লাগে নিজেকে, কাছে এসে ভালবাসে  পূর্ণতা দাও এ থেকে। সয়না প্রাণে এতো এতো  বিরহ আর অভিমান।। তুমি এলেই আসিবে জোয়ার  ভরে যাবে নদীর কূল, গুনগুনিয়ে গাইবে অলি  নানা রঙের ফুটবে ফুল।। তোমার ভেবে বাসর সাজাই  প্রতিটা দিন আনমনে, তোমার আশায় জেগে থাকি  ঘুম আসে না নয়নে‌। তুমি ছাড়া দুঃখ থেকে  আমি পাবো না গো ত্রাণ।।  

জীবন তরী

 জীবন তরী  খাদিজা বেগম  পরের খাচ্ছি পরের পরছি   থাকছি পরের বাড়িতে, আপন স্বপ্ন মাটি দিলাম  পরের মুখের ঝারিতে।। সকাল বিকাল রাত্রি দিয়েও  আমি পাইনি পরের মন, পরের সুরে সুর মিলিয়ে  শেষ করিলাম এই জীবন। পোষা স্বপ্ন রান্না করলাম  পরের বাড়ির হাঁড়িতে।। পরের তালে তাল মিলিয়ে  শেষ করেছি নিজের তাল, শেষ বেলাতে এসে আমি  জীবন যুদ্ধে বেসামাল।। নিজের বলে নাই কিছু আজ  দুই নয়নের জল ছাড়া, দুঃখের জলে ভেসে যাচ্ছি  পাই না খুঁজে কিনারা। ডুবো ডুবো জীবন তরী  আশা নাই এই তরীতে।।

সঙ্গী বীনা জীবন

 সঙ্গী বীনা জীবন  খাদিজা বেগম  একা একা তারা বীনা  জোৎস্না হীনা আকাশের চাঁদ, সঙ্গী বীনা জীবন তেমন  মেটে না তো জীবনের সাধ।। জ্যোৎস্না হয়ে এসো বন্ধু  জেগে থাকো আমার সাথে,  তারার মালা হয়ে এসো  ঝুলে থাকা এই গলাতে। সাথী হয়ে সাথে থেকো  বন্ধু হয়ে ধরো দুই হাত।। জল বিহনে ঢেউ খেলে না  মরুভূমি সাগরের মূল, ঝরে পড়ে মধুর ভারে ভোমর বীনা ফুটন্ত ফুল।। ওই কূল চায় ঢেউ এর পরে ঢেউ  ওই ফুল চায় প্রেম ভোমরার পরশ , এই মনটা চায় যদি তোমায়  তবে তাতে কেন হয় দোষ? সারা জীবন সাথে থেকো  যতটা দিন আছে হায়াত।।